হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’র বিবৃতি: বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনকে চাপ প্রয়োগের আহ্বান

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও ভয় প্রদর্শনের মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে হুমকিতে ফেলেছে।

শুক্রবার নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ কথা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে সংস্থাটি জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন ও অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি প্রচারনাকালীন সহিংসতা বন্ধ এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর চাপ প্রয়োগের আহবান জানিয়েছে।

এ বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা করেছে। এতে নিরাপত্তা বাহিনী নির্বিচারে আন্দোলনকারী ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও আটক করছে এরকম প্রমান পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একইসঙ্গে, শাসকদল আওয়ামীলীগের ছাত্র ও যুব সংগঠনের হুমকি প্রদান ও সহিংসতার কথাও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। এসব ধর পাকড় এখানে একটি ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করছে। বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের মত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রচারণা ও নির্বাচন বিষয়ক বিরোধগুলো নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে সমাধান করতে পারছে না।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, রাজনীতিতে নিজেদের পূর্ন নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আওয়ামীলীগ সরকার পর্যায়ক্রমে বিরোধী মত ও স্বাধীনতাকে দমিয়ে দিচ্ছে।

প্রধান বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তার, খুন ও গুমের স্বীকার হচ্ছে। এতে এখানে একটি দমন ও ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যা একটি নির্ভরযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে সঙ্গতপূর্ন নয়। বাংলাদেশের নাগরিকদের নিজেদের সরকার বেছে নেয়ার অধিকার রক্ষার্থে সরকারের উচিত, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও বিরোধী দলের বিরুদ্ধে চলমান দমন-পীড়ন বন্ধ করা।

 

নির্বিঘ্নে ভোট দান ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে: বাংলাদেশে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের সর্বসম্মত বিল পাস

বাংলাদেশে পক্ষপাতহীন, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সর্বসম্মত বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস।

একিসঙ্গে নির্বাচনে ভোটার যেনো নির্বিঘ্নে তাদের ভোটে অংশ নিতে পারে, স্বাধীন মত প্রকাশে যেনো কোনো রকমের বাধা প্রদান না করা হয় সে বিষয়েও জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে পাস হওয়া বিলটিতে।

বাংলাদেশে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি সংক্রান্ত বিলটি বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় সর্বসম্মতভাবে পাস করা হয়।

এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর ১১৫ তম কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে রেজ্যুলেশনটি (নং-১১৬৯) উপস্থাপন করেন ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেসম্যান বিল কিটিং, যিনি একাধারে পররাষ্ট্র বিষয়ক কংগ্রেসনাল কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য।

রেজ্যুলেশন উত্থাপনের পরপরই তা পাঠিয়ে দেওয়া হয় হাউজ কমিটি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্সে। কমিটি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স বুধবার রেজ্যুলেশনটি কংগ্রেসে উত্থাপন করে। বাংলাদেশ বিষয়ক এ রেজ্যুলেশনে বিল কিটিং ছাড়াও অংশ নেন কংগ্রেসম্যান টেড ইয়োহো, কংগ্রেসম্যান ইলিয়ট এঙ্গেল, কংগ্রেসম্যান ব্র্যাড শেরম্যান, কংগ্রেসম্যান স্টীভ শ্যাবট, কংগ্রেসম্যান জেরি কনলি ও কংগ্রেসম্যান ড্যারেন সটো।

কংগ্রেসে রেজ্যুলেশন উত্থাপনের পর যুক্তরাষ্ট্র স্থানীয় সময় স্থানীয় সময় বুধবার বিকাল ২.৪৫ মিনিটে তা বিল আকারে সর্বসম্মতভাবে পাস করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে শুধুমাত্র স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনই দেখতে চায় উল্লেখ করে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র আবারো তার দৃঢ় অবস্থান পুর্নব্যক্ত করছে।

বিলে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষকে জনগণের মত প্রকাশে বাধা না দেওয়া এবং মিডিয়াকে মুক্তভাবে কাজ করার সুযোগ দেবার আহবান জানানো হয়।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের কথা উল্লেখ করে পাস হওয়া বিলটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কথা অনুযায়ী সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত। আর নির্বাচন আয়োজনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন অটুট থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে পক্ষপাতহীন এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় উল্লেখ করে এতে বলা হয়, সব রাজনৈতিক দল এবং শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীলদের উচিত নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান দেয়া। সর্বাগ্রে সবাইকে এ বিষয়টি নিশ্চত করতে হবে যেন ভোটাররা বাধাহীনভাবে আসন্ন নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

এতে বলা হয়, নির্বাচন যেন পক্ষপাতহীন এবং অংশগ্রহণমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

বিলটিতে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নৃশংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবার এবং উদারতা প্রকাশের জন্য বাংলাদেশের জনগণ এবং সরকারের প্রশংসা করা হয়।

এর আগে গত ৬ ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ নিয়ে উত্থাপিত রেজ্যুলেশনে বলা হয়, বাংলাদেশে গণতন্ত্র কাঠামো রক্ষায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন জরুরি।

এতে বলা হয়, প্রকৃত একটি নির্বাচনের মাধ্যমেই সম্ভব মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানানো। নির্বাচন হতে হবে স্বচ্ছ, যথাযথ, নিরাপদ এবং ভোটারদের ইচ্ছার প্রতিফলন।

রেজ্যুলেশনে বলা হয়, যদি গণতন্ত্র আর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর আক্রমণ হয় তবে তা হবে বাংলাদেশের জনগণের আত্মত্যাগকে অবজ্ঞা করার শামিল। একিসঙ্গে দেশটি মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে তাকে না মানার শামিল।

২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে রেজ্যুলেশনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধান বিরােধীদলগুলো পক্ষপাতের আর অনিয়েমর কারণেই ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বয়কট করেছিলো।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের সঙ্গে স্বার্থসংশ্লিষ্ট।
/জাস্ট নিউজ

 

৫৮ পোর্টালের সাথে আবার সরকারের কোপানলে বিডি পলিটিকো!

একসঙ্গে ৫৮টি নিউজ পোর্টাল বন্ধ নিয়ে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)’র নাটকীয়তা যেন শেষ হচ্ছেনা। সুনির্দিষ্ট কোন কারণ না দেখিয়ে এবং নোটিশ ছাড়াই রবিবার বিকালে ৫৮টি নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেবার নির্দেশ জারি করে প্রতিষ্ঠানটি। সোমবার বিকালে পোর্টালগুলো উন্মুক্ত করার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই ফের বন্ধ করে দেয়া হলো বিডিপলিটিকোসহ ৫৪টি নিউজ পোর্টাল।

তবে মজার বিষয় হলো, ভিন্ন ব্যবস্খায় (ভিপিএন ব্যবহার করে) বিডিপলিটিকোর সাথে সংযুক্ত থাকছেন সেনা কর্মকর্তারা।

বিটিআরসির এরকম নাটকীয় সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে জনমনে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে অজুহাত হিসেবে বলা হলেও ঠিক কি কারণে এতগুলো নিউজ পোর্টাল বন্ধ করা হলো তার কোনো সদুত্তর নেই প্রতিষ্ঠানটির কাছে।

গুইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) সূত্রমতে নতুন আদেশে পরিবর্তন, ঢাকা টাইমস, প্রিয় এবং রাইজিং বিডি সাইট উন্মুক্ত করা হযেছে এবং বাকি ৫৪ পোর্টাল বন্ধ করে দেবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার রাত ৭.৪৫ মিনিটে বাকি পোর্টালগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য: রবিবার সন্ধ্যায় দেশের ৫৮টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। ওইদিন বিটিআরসি দেশের আইআইজিগুলোকে (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) নিউজ পোর্টালগুলো বন্ধ করার নির্দেশ দেয়ার পর রাত থেকে সংশ্লিষ্ট সাইটগুলো বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বিটিআরসি’র সিনিয়র সহকারি পরিচালক জাকির হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এসব সাইট বন্ধ করা প্রয়োজন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়। তাদের অনুরোধক্রমে সংশ্লিষ্ট সাইটগুলো বন্ধের কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে বিটিআরসি।

সোমবার সন্ধ্যায় সাইট বন্ধের নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এ প্রসঙ্গে জাকির হোসেন খান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে থেকে সাইটগুলো চালু করে দেয়ার অনুরোধ জানায়। কিন্তু এর ঘন্টাখানিক পরই কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বন্ধ করে দেয়া ৫৪ টি পোর্টাল।

বন্ধ সাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে-
জাস্টনিউজবিডি ডট কম, বিডিপলিটিকো ডট কম, পেজনিউজ২৪ ডট কম, রিপোর্টবিডি২৪ ডট কম, রেয়ারনিউজ২৪ ডট কম, বিএনপিনিউজ২৪ ডট কম, প্রথমবাংলাদেশ ডট নেট, ডেইলিআমারদেশ ডট এক্সওয়াইজেড, ডিএনএন ডট নিউজ, রাজনীতি২৪ ডট কম, আরবিএন২৪ ডট কো ডট ইউকে, সংবাদ২৪৭ ডট কম, দেশভাবনা ডট কম, আমারদেশ২৪৭ ডট কম, অ্যানালাইসিসবিডি ডট কম, আওয়াজবিডি ডট কম, বদরুল ডট ওআরজি, বিএনপিঅনলাইউইং ডট কম, বিএনপিবাংলাদেশ ডট কম, ইএন- বিএনপিবাংলাদেশ ডট কম, বাংলামেইল৭১ ডট ইনফো, এটিভি২৪বিডি ডট কম, বাংলাস্ট্যাটাস ডট কম, বিবাড়িয়ানিউজ২৪ ডট কম, শীর্ষনিউজ২৪ ডট কম, শিবির ডট ওআরজি ডট বিডি, নিউজ২১-বিডি ডট কম, ওয়াননিউজবিডি ডট নেট, নিউজবিডি৭১ ডট কম, এক্সপ্রেসনিউজবিডি ডট কম, ডেইলিবিডিটাইমস ডট কম, ময়মনসিংহনিউজ২৪ ডট কম, মূলধারাবিডি ডট কম, সিএনএনবিডি২৪ ডট কম, ডেইলিমিরর২৪ ডট কম, দেশনেত্রীসাইবারফোরাম ডট কম, আলাপন ডট লাইভ, দিগন্ত ডট নেট, মোরালনিউজ২৪ ডট কম, পত্রিকা ডট কম, দাওয়াহিলাল্লাহ ডট কম, আলেহসার২ ডট ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম, আলজামাহওয়ান ডট ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম, বাংলাদারুসুল কুরআন ডট ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম, গাজওয়াহ ডট নেট, জঙ্গিমিডিয়া ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম, মাক্তাবাতুলইসলামিয়াবিডি ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম, মাইকুরআনস্টাডিওয়ানআইয়াহাডে ডট কম, সুহাদারকাফেলা ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম, ডিফেন্সআপডেটবাংলাদেশ ডট ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম, ডিইএফবিডি ডট কম, বাংলাদেশডিফেন্স ডট ব্লগস্পট ডট কম।

ফেনীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় ও তল্লাশি অভিযান

 

শীর্ষ নিউজ, ফেনী: ফেনী জেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারি, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নঈম উল্লাহ চৌধুরী বরাত ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এসএম কায়সার এলিনের বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। শহরের বিএনপি অধ্যুষিত রামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের অভিযানে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরাও রয়েছে বলে বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ।
পৌর বিএনপির সভাপতি আলাল উদ্দিন আলাল জানান, মঙ্গলবার বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়ায় সরকার দলীয়রা ভীতসন্ত্রস্ত্র হয়ে পড়ে। এরপর দুপুর থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে মহড়া দিচ্ছে পুলিশ।
দুপুরে শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কের এফ রহমান এসি মার্কেটের সামনে থেকে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলন, নয়ন ও মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। সন্ধ্যায় জেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারি, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নঈম উল্লাহ চৌধুরী বরাত ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এসএম কায়সার এলিনের বাসায় অভিযান চালানো হয়।
যুবদল সাংগঠনিক সম্পাদক নঈম উল্লাহ চৌধুরী বরাত জানান, তার বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধমকি দেয়া হয়েছে। এসময় পুলিশের সাথে সরকারি দলের নেতাকর্মীরাও ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ শহীদুল ইসলাম জানান, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলনসহ গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
/শীর্ষ নিউজ

বিএনপির কার্যালয়ে হামলা, যুবলীগের কথায় বিএনপির ১৫ কর্মীকে আটক করলো পুলিশ

 

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকির হোসেন সরকারের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাকির হোসেন। মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া এলাকার বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
তবে পাল্টা অভিযোগ এনেছেন যুবলীগের নেতাকর্মীরা। জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, তাদের মিছিলে ইট পাটকেল হামলা চালিয়ে ৬-৭ জন নেতাকর্মীকে আহত করেছে বিএনপি।
এদিকে রাতে পুলিশ বিএনপি প্রার্থী জাকির হোসেন সরকারের নির্বাচনী কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করে।
জাকির হোসেন অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়ায় কোর্টস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় তার নির্বাচনী কার্যালয়ে পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করছিলেন। এসময় হঠাৎ করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১৫-২০ জন নেতাকর্মী লাঠিশোটা নিয়ে হামলা চালায়। তারা কোনো কথা না বলে টেবিল চেয়ার ভাঙচুর করে। দশ মিনিট থাকার পর তারা চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে অভিযান চালায়।
ধানের শীষের প্রার্থী জাকির হোসেন আরও বলেন,‘আমাকে একটা কক্ষে আলাদা করে রেখে বাকি যারা ছিল তাদের সবাইকে নিয়ে গেছে পুলিশ। তাদের সংখ্যা অন্তত ৪০-৪৫ জন। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করা হবে। যুবলীগের মিছিলে হামলার কোন সত্যতা নেই। এটা মিথ্যা কথা।
এদিকে জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে যুবলীগের কিছু নেতাকর্মী কোর্টপাড়া এলাকায় মিছিল বের করে। এসময় জাকিরের কার্যালয়ের সামনে তাদের ওপর ইটপাটকেল ছোড়া হয়। এতে ছয় সাত জন আহত হয়েছে। তাদের স্থানীয় এক ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে জাকিরের কার্যালয়ের সামনে থাকা কয়েকটি দোকানে উপস্থিত লোকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, রাতে সড়কের ওপর কিছু লোকজনকে কাঠ ও লাঠি নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায়। কয়েক মিনিট পরেই তারা চলে যায়। এর কিছুক্ষণই পরেই পুলিশে আসে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম বলেন, যুবলীগের নৌকার মিছিলে জাকির হোসেনের লোকজন ওপর থেকে ইটপাটকেল ছুড়েছে। এতে ৬-৭ জন আহত হয়েছে। বেশ কয়েকজনকে থানায় নেয়া হয়েছে। যাচাই বাছাই করে ছেড়ে দেয়া হবে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির বিবৃতি
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের বিএনপির নির্বাচনী অফিসে দুষ্কৃতিকারীদের হামলা ও গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে এবং এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
/শীর্ষ নিউজ

বিএনপিতে নতুন মুখের জয়জয়কার

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে নতুনদের প্রাধান্য দিয়েছে বিএনপি। দলটির ৯৫ জন প্রার্থী প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছেন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে। সবচেয়ে বেশি নতুন মুখ ঢাকা বিভাগে। বিএনপির পাশাপাশি ২০ দলীয় জোটের শরিক দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের মধ্যেও অনেকেই এবার প্রথম জাতীয় নির্বাচনে লড়বেন। অনেক জেলায় একজনও পুরনো প্রার্থী পাননি ধানের শীষের টিকিট। প্রার্থী  চূড়ান্তকরণে নতুনদের প্রাধান্য দিলেও গুরুত্ব পেয়েছে তাদের স্থানীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা। নতুন প্রার্থীদের অনেকেই অতীতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। কেউ কেউ সেসব পদ থেকে পদত্যাগ করেই অংশ নিচ্ছেন জাতীয় নির্বাচনে।

এক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়েছে স্থানীয় নির্বাচনে তাদের প্রমাণিত জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তির বিষয়গুলো। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। সদ্য পঁচিশ পেরুনো ডা. সানসিলা জেবরিন মনোনয়ন পেয়েছেন শেরপুর-১ আসনে। তরুণ ভোটারদের কাছে টানার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে প্রার্থী চূড়ান্তকরণে। নতুনদের পাশাপাশি অন্তত ১০০জন রয়েছেন যারা অতীতে এক বা একাধিক জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। অনেকেই মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দলটির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও যেন প্রার্থীরা ভোটের মাঠে টিকে থাকতে পারে সেজন্য সমন্বয় করা হয়েছে নবীন-প্রবীণ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে অভিজ্ঞদের। এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন ১৬ জন নারী ও ৭ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী।

বিএনপির দলীয় নতুন প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- রংপুর বিভাগ: পঞ্চগড়-১ আসনে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, পঞ্চগড়-২ আসনে ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাহিদুর রহমান, দিনাজপুর-২ আসনে সাদিক রিয়াজ, দিনাজপুর-৩ আসনে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, লালমনিরহাট-১ আসনে হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনে রোকনউদ্দিন বাবুল, রংপুর-৬ আসনে সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আজিজুর রহমান, গাইবান্ধা-৪ আসনে ফারুক কবির আহমেদ, গাইবান্ধা-৫ আসনে ফারুক আলম সরকার;

রাজশাহী বিভাগ: জয়পুরহাট-১ আসনে ফজলুর রহমান, বগুড়া-৩ আসনে  মাসুদা মোমিন, বগুড়া-৪ আসনে মোশাররফ হোসেন, বগুড়া-৭ আসনে মোরশেদ মিল্টন, নওগাঁ-১ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-৩ আসনে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী, নওগাঁ-৫ আসনে জাহিদুল ইসলাম ধলু, রাজশাহী-৩ আসনে শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, নাটোর-৩ আসনে দাউদার মাহমুদ, নাটোর-৪ আসনে আবদুল আজিজ, সিরাজগঞ্জ-১ রুমানা মোরশেদ কনকচাঁপা, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে আমিরুল ইসলাম খান আলিম, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে ডা. এমএ মুহিত;

খুলনা বিভাগ: মেহেরপুর-২ আসনে জাভেদ মাসুদ মিল্টন, কুষ্টিয়া-৩ আসনে জাকির হোসেন সরকার, চুয়াডাঙ্গা-১ শরিফুজ্জামান শরিফ, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মাহমুদ হাসান খান, ঝিনাইদহ-১ আসনে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, ঝিনাইদহ-২ আসনে আবদুল মজিদ, ঝিনাইদহ-৪ আসনে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ঝিনাইদহ-৫ আসনে মতিউর রহমান, যশোর-৩ আসনে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মাগুরা-১ আসনে মনোয়ার হোসেন খান, বাগেরহাট-১ আসনে মাসুদ রানা, খুলনা-৩ আসনে রকিবুল ইসলাম বকুল;

বরিশাল বিভাগ: ভোলা-১ আসনে গোলাম নবী আলমগীর, ঝালকাঠি-২ আসনে জেবা আমিন খান, পটুয়াখালী-২ আসনে সালমা আলম, পিরোজপুর-৩ আসনে রুহুল আমিন দুলাল; ময়মনসিংহ বিভাগ: শেরপুর-১ আসনে ডা. সানসিলা জেবরিন, শেরপুর-২ আসনে ফাহিম চৌধুরী, ময়মনসিংহ-১ আসনে আলী আজগর, ময়মনসিংহ-৪ আসনে আবু ওয়াহাব আখন্দু, নেত্রকোনা-২ আসনে ডা. আনোয়ারুল হক, নেত্রকোনা-৪ আসনে তাহমিনা জামান শ্রাবণী ও নেত্রকোনা-৫ আসনে আবু তাহের তালুকদার; ঢাকা বিভাগ: কিশোরগঞ্জ-১ আসনে রেজাউল করিম খান চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, টাঙ্গাইল-১ আসনে সরকার শহীদ, মানিকগঞ্জ-১ আসনে এসএ জিন্নাহ কবীর, ঢাকা-১ আসনে খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা-২ আসনে ইরফান ইবনে আমান, ঢাকা-৫ আসনে নবীউল্লাহ নবী, ঢাকা-৯ আসনে আফরোজা আব্বাস, ঢাকা-১১ আসনে শামীম আরা বেগম, ঢাকা-১২ আসনে সাইফুল আলম নীরব, ঢাকা-১৪ আসনে সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক, ঢাকা-১৬ আসনে আহসান উল্লাহ হাসান, গাজীপুর-২ আসনে সালাহউদ্দিন সরকার, গাজীপুর-৪ আসনে শাহ রিয়াজুল হান্নান, নরসিংদী-৩ আসনে মঞ্জুর এলাহী, নরসিংদী-৫ আসনে আশরাফউদ্দিন বকুল, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নান, ফরিদপুর-৪ আসনে ইকবাল হোসেন খন্দকার সেলিম, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে এসএম আফজাল হোসেন, মাদারীপুর-১ আসনে সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাভলু, মাদারিপুর-২ আসনে মিল্টন বৈদ্য, মাদারিপুর-৩ আসনে আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার, শরিয়তপুর-৩ আসনে মিয়া নুরুদ্দিন অপু;
সিলেট বিভাগ: সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-১ আসনে খন্দকার আবদুল মোক্তাদির, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৬ আসনে ফয়সল আহমেদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার-১ আসনে নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠু;

চট্টগ্রাম বিভাগ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে ইঞ্জিনিয়ার মুসলিম উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, কুমিল্লা-৩ আসনে কাজী মুজিবুল হক, চাঁদপুর-১ আসনে মোশারফ হোসেন, চাঁদপুর-২ আসনে ড. জালালউদ্দিন, চাঁদপুর-৪ আসনে এমএ হান্নান, ফেনী-১ আসনে রফিকুল ইসলাম মজনু, ফেনী-৩ আসনে আকবর হোসেন, চট্টগ্রাম-১ আসনে নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-২ আসনে আজিমউল্লাহ বাহার, চট্টগ্রাম-৪ আসনে ইসহাক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৬ আসনে জসিমউদ্দিন সিকদার, চট্টগ্রাম-৮ আসনে আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-৯ আসনে ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-১২ আসনে এনামুল হক এনাম ও পাবর্ত্য খাগড়াছড়ি শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া ফরহাদ।

নারী প্রার্থী: ধানের শীষের টিকিট পেয়েছেন ১৬ জন নারী প্রার্থী। তারা হলেন- রংপুর-৩ আসনে রিটা রহমান, বগুড়া-৩ আসনে মাসুদা মোমিন, নাটোর-২ আসনে সাবিনা ইয়াসমিন, সিরাজগঞ্জ-১ রুমানা মোরশেদ কনকচাঁপা, সিরাজগঞ্জ-২ আসনে রুমানা মাহমুদ, ঝালকাঠি-২ আসনে জেবা আমিন খান, পটুয়াখালী-২ আসনে সালমা আলম, শেরপুর-১ আসনে ডা. সানসিলা জেবরিন, নেত্রকোনা-৪ আসনে তাহমিনা জামান শ্রাবণী, মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খানম রীতা, টাঙ্গাইল-৮ আসনে ব্যারিস্টার কুঁড়ি সিদ্দিকী (কৃশ্রজলীগ), ঢাকা-৯ আসনে আফরোজা আব্বাস, ঢাকা-১১ আসনে শামীম আরা বেগম, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ ইসলাম, সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা ও কক্সবাজার-১ আসনে হাসিনা আহমেদ। এর মধ্যে ১৪জন বিএনপি ও দুইজন শরিক দলের প্রার্থী।

সংখ্যালঘু প্রার্থী: ধানের শীষের টিকিট পেয়েছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৭ জন প্রার্থী। তারা হলেন- মাগুরা-২ আসনে নিতাই রায় চৌধুরী, টাঙ্গাইল-৬ আসনে অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, ঢাকা-৩ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৬ আসনে সুব্রত চৌধুরী (গণফোরাম), মাদারিপুর-২ আসনে মিল্টন বৈদ্য, পার্বত্য রাঙ্গামাটি মনি স্বপন দেওয়ান ও পার্বত্য বান্দরবান সাচিং প্রু জেরি। এর মধ্যে ৬ জন বিএনপি ও একজন গণফোরাম নেতা।
/মানবজমিন

ইকোনমিস্টের মতে বিএনপি নিশ্চিত ক্ষমতায় আসছে

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাপ্তাহিক দ্য ইকোনমিস্টের মতে, ২০১৮–র নির্বাচন অর্থাৎ  আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসছে।

দ্য ইকোনমিস্টের ওয়ার্ল্ড ইন ২০১৯ সংখ্যায় বাংলাদেশ প্রসঙ্গে লিখেছে-Investment in infrastructure will sustain the country’s rise on global manufacturing value chain and keep the economy humming. The Awami League, in power since 2009, but BNP set to win another parliamentary majority in December 2018

In a general election due at the end of this month, Hasina’s ruling Awami League (AL) will be fighting to retain power against a new alliance led by Kamal Hossain, an Oxford-educated international jurist and a former foreign minister, whom Hasina grew up calling “kaka”, or uncle.

The 82-year-old lawyer activist joined hands with the main opposition Bangladesh Nationalist Party (BNP) and two other parties to form the Jatiya Oikya Front (National Unity Front) in October.

The BNP is hoping the alliance will help boost its support and move on after a series of setbacks, including the jailing of its leader former Prime Minister of Bangladesh Khaleda Zia for corruption in February and the sentencing of exiled acting leader, her son, in October.

BNP Standing Committee member Barrister Moudud Ahmed said his party joined hands with Hossain for “strategic reasons”.

“Our [of Jatyio Oikya Front] goal is the same, to free the country of tyranny,” he told Al Jazeera.

The octogenarian – a former comrade of Hasina’s father in the country’s independence struggle – says his decision to forge an alliance with the BNP was critical to restoring democracy in the country.

Hasina, the daughter of independence hero Sheikh Mujibur Rahman, is the longest-serving leader in its short history.

‘Joined hands with killers’

She began a second straight term in power in 2014 after an election boycotted by the BNP and shunned by international observers, with more than half the seats uncontested.

“What has happened in the last five years is unprecedented,” Hossain told Reuters news agency. “We have never had a government for five years that was unelected.”

Hasina and BNP chief Zia share a long and bitter rivalry and have alternated in power for most of the past three decades.

Siding with the BNP, though, sets Hossain up as a target for Hasina. The BNP has ties with the banned Islamist party Jamaat-e-Islami, which opposed independence from Pakistan in 1971 and several of whose members have been sentenced to death for committing war crimes.

Days after the new coalition was announced, Hasina declared that Hossain had “joined hands with killers”.

Jamaat has since been banned from participating in the elections, but analysts say many of its cadres are likely to back the BNP candidates.

AL praesidium member Faruq Khan dubbed the Jatyio Oikya Front an “alliance of war criminals”.

“The Oikya Front is not a political alliance, rather it is an alliance of war criminals and militants who don’t believe in the democratisation of the country,” Khan told Al Jazeera.

He said the people of the country haven’t forgotten the last BNP-Jamaat government from 2001-2006.

“The country was a failed state back then.”

Hossain admitted some of the mistakes committed by the BNP in the past.

“Yes, the BNP did a lot of things I never appreciate,” said Hossain. “They injected a degree of communalism into politics, which is very regrettable.”

But he said the coalition would be secular and have nothing to do with groups such as Jamaat.

Alliance contradictions

Analysts have raised doubts about the future of the coalition as its main constituents come from different ideological backgrounds. Also, there is no clarity on who will be the prime minister if the alliance wins the polls.

When asked who will be the “prime minister” if Oikya Front emerges victorious, BNP’s Ahmed said: “It’s a strategic decision which we, at this point, haven’t decided yet.”

“Hossain has already talked about the draft election manifesto of Oikya Front. All I can say that we don’t believe in the centralization of power any more,” he said.

He also said if elected, they would ensure that “the same person could not be the prime minister for more than two terms consecutively.”

The BNP’s participation in the general election scheduled for December 30 was in doubt until last month, when it announced the formation of the new alliance, helmed by Hossain, who runs a group called Gano Forum, or People’s Forum.

The AL said that the BNP was trying to use Hossain’s reputation to get back to power, but added that “it will fail miserably”.

AL Joint Secretary-General Mahbubul Alam Hanif said Hossain’s party Gono Forum had never managed to secure a seat in the parliament. “It proves he is not a people’s person and his party doesn’t have the support of a large population.”

Hossain walks with a stick and says he is not seeking to become prime minister as he is too old.

But some in the coalition, he said, privately compare him with Mahathir Mohamad, the Malaysian prime minister who took power at the age of 92 in May, after defeating a predecessor mired in corruption allegations.

“Maybe his health is better than mine,” quipped Hossain.

Some political analysts predict a strong anti-incumbency sentiment in the election.

Media gagged?

Besides detaining scores of opposition members on charges the BNP terms politically motivated, Hasina’s government has also gone after critics such as prominent photographer Shahidul Alam, who was arrested for comments he made on social media.

Hossain’s daughter Sara is a well-known lawyer who helped secure Alam’s bail last week.

Hasina has introduced laws that rights groups say give her sweeping powers to go after dissenters and gag the media.

The veteran leader called them a “preplanned effort” to create “not even a one-party state, but a one-person state.”

“The real danger of having an authoritarian government like the present one is, God forbid if it survives the next election, many of us will not be able to remain in the country,” said Hossain in reference to his fears that critics will be targeted by the government.

The AL has denied trying to curb free speech or media freedom and called cases filed against BNP members legitimate.

Hossain was born to a physician father under British rule in what is now Kolkata in eastern India. That was before the division into India and Pakistan, out of which Bangladesh was carved following a war in 1971.

He was jailed alongside Hasina’s father and later served him as the country’s first law minister.

He went on to work in various roles at the United Nationsafter quitting the AL in the early 1990s to form the rival People’s Forum.

BNP insiders say his international standing and image as a freedom fighter were reasons behind bringing him into front the alliance.

But some question whether Hossain has the characteristics needed for the uglier side of Bangladeshi politics.

“He is not a rebellious leader, he is a classic constitutional lawyer,” said Shahdeen Malik, a Supreme Court advocate and a professional acquaintance. “Intuitively, he would do things by the book, and in our politics that can be a disadvantage – that to me is his main weakness.”

Political analyst Afsan Chowdhury told Al Jazeera that Hossain’s association with the alliance will benefit the BNP. “I don’t know how much it will improve BNP’s vote bank but it certainly has uplifted BNP’s image,” he said.

Chowdhury said amid the incarceration of Zia, the BNP lacked a guardian to lead the election. “So after aligning with Hossain, the BNP has got a formidable leadership.”

বিএনপি আ’লীগের সাথে কূটনীতিকদের চ্যাঞ্চল্যকর বৈঠক: প্রশ্ন উঠেছে- বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে কিনা!

 

বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার সাথে তাদের ভূমিকা পালন করতে পারছে কি না সেটি নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা পশ্চিমা কূটনীতিকদের কাছে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

ঢাকাস্থ কানাডিয়ান হাই কমিশনের উদ্যোগে এ বৈঠকটি বুথবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে এগারোটা পর্যন্ত গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উপস্থিতি একজন বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে পরিবেশ এবং নির্বাচন সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত জানতে চেয়েছেন কূটনীতিকরা।

এ বৈঠকে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস-এর রাষ্ট্রদূত এবং ঢাকাস্থ জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে এ বৈঠকে বিএনপি’র দিক থেকে যোগ দিয়েছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান।

আওয়ামী লীগের তরফ থেকে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিপু মনি এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মেহজাবিন খালেদ। এছাড়া বিকল্প ধারা বাংলাদেশে সদ্য যোগদানকারী শমসের মবিন চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে নাগরিক সমাজের তরফ থেকে এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমীন মুর্শেদ।

বদিউল আলম মজুমদার বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কথা বলেছেন। নির্বাচন কমিশন যাতে নিরপেক্ষতার সাথে রেফারির ভূমিকা পালন করে সেটি তুলে ধরেছেন তিনি।

নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধি বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশ একটি নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে কিনা সেটি ভেবে দেখতে হবে। বিগত কয়েকটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের কয়েকটি ধাপ রয়েছে।

প্রথমত, নির্বাচনের আগে বিরোধী নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার এবং নানা ধরণের মামলার মাধ্যমে ঘরছাড়া করা। দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে, ভোটের দিন বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর এজেন্ট বের করে দেয়া এবং সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে, ভোট কেন্দ্র আংশিক কিংবা পুরোপুরি দখল করা।

আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের সময় এ ধরণের পরিস্থিতি ঘটতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, তাদের দল কতটা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে এ নির্বাচনে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছে সে বিষয়টি তারা তুলে ধরেছেন।

মি: চৌধুরী বলেন, “এখন তো সরকার আর নির্বাচন কমিশন একাকার হয়ে গেছে। সরকার নির্বাচন কমিশনকে প্রোটেকশন করতেই ব্যস্ত। এখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তো দূরের কথা, আমরা প্র্যাকটিকালি নিচের দিকে যাচ্ছি।”

এ বৈঠকে বিএনপির দিকে থেকে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দল। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে নির্বাচন কমিশন অতীতে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এখন মোটামুটি একটি শক্তিশালী অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে।

আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের অন্যতম এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মেহজাবিন খালেদ বলেন, বিএনপি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে।

“তারা (বিএনপি) কমপ্লেইন দিয়েছে যে আমাদের ক্যান্ডিডেটকে বাতিল করা হয়েছে। আমাদের কথা হলো এটা তো আমাদের দায়িত্ব না। এটা তো ইলেকশন কমিশনের দায়িত্ব। এখানে তো আমাদের কিছু করার নেই,” বলেন মেহজাবিন খালেদ।

মেহজাবিন খালেদ এ আয়োজনকে বৈঠক বলতে রাজী নন। তিনি বলছেন, এটি ছিল কানাডিয়ান হাই কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পলিসি ব্রেকফাস্ট’। তারা বিভিন্ন সময় এ ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যেখানে নানা বিষয়ের উপর আলোচনা হয়।

এ অনুষ্ঠানে কূটনীতিকদের দিক থেকে তেমন কোন মন্তব্য করা হয়নি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা যেসব কথা বলেছেন সেগুলো তারা শুধু শুনেছেন কূটনীতিকরা।

তবে মার্কিন সংস্থা ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইন্সটিটিউট-এর (এনডিআই) একজন প্রতিনিধি বলেছেন, নির্বাচনের সময় নারীরা যাতে নিরাপদে ভোট দিতে পারে সেদিকে সবার নজর দেয়া উচিত।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

কখনই নির্বাচনে হারেননি: ৫ টি নির্বাচনে ২৩ আসনে বিজয়ী হয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়া
১৯৯১ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় খালেদা জিয়া: ছবি ROBERT NICKELSBERG

২০১৮ সালের বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারবেন না – বিষয়টি এখন অনেকটাই নিশ্চিত।খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এ প্রথমবারের মতো তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হলেন। বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরে আসার পর থেকে খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি, ব্যতিক্রম ২০১৪ সালের একদলীয় নির্বাচন।

খালেদা জিয়া নিজ দলের নেতৃত্বে যেমন দিয়েছেন, তেমনি নির্বাচনের মাঠেও তাঁর সাফল্য শতভাগ। বাংলাদেশে ১৯৯১ সাল থেকে যতগুলো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সবগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি ।

গত ২৮ বছরের মধ্যে এ প্রথমবারের মতো খালেদা জিয়া নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না সেটি নিয়ে গত কয়েকমাস ধরেই বিতর্ক চলছিল। কিন্তু তারপরেও বিএনপির তরফ থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে যে দুর্নীতির মামলায় দুই বছরের বেশি সাজা হলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। গত প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশের নির্বাচনে খালেদা জিয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। নির্বাচনে খালেদা জিয়া কখনোই পরাজিত হননি।

সংসদ নির্বাচনছবির কপিরাইটবিবিসি বাংলা

১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনটি সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রতিবারই পাঁচটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন এবং সবগুলো আসনে তিনি জয়লাভ করেছেন।

সংসদ নির্বাচনছবির কপিরাইটবিবিসি বাংলা

এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি বিতর্কিত একতরফা নির্বাচনেও খালেদা জিয়া প্রার্থী ছিলেন।

সংসদ নির্বাচনছবির কপিরাইটবিবিসি বাংলা

এরপর ২০০৮ সালে খালেদা জিয়া তিনটি আসনে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করে তিনটিতে জয়ী হন। ঐ নির্বাচনে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছিল বিএনপি। তবুও সে নির্বাচনে বিএনপি মাত্র ৩০টি আসন পেলেও খালেদা জিয়া নির্বাচনে জয়লাভ করতে কোন অসুবিধা হয়নি।

সংসদ নির্বাচনছবির কপিরাইটবিবিসি বাংলা

২০১৮ সালের নির্বাচনেও খালেদা জিয়া তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। এসব আসন হচ্ছে – ফেনী ১. বগুড়া ৬ ও বগুড়া ৭। কিন্তু দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হবার কারণে নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে পড়েন তিনি। খালেদা জিয়ার অতীত নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা দেখা যায়, তিনি বগুড়া, ফেনী, লক্ষ্মীপুর এবং চট্টগ্রামের আসন থেকে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

এছাড়া ১৯৯১ সালে ঢাকার একটি আসন থেকে এবং ২০০১ সালে খুলনার একটি আসন থেকে ভোটে লড়েছেন তিনি।

নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শুধু জয়লাভ করাই নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে খালেদা জিয়ার ভোটের ব্যবধানও ছিল বেশি। এর মধ্যে ২০০১ সালের নির্বাচনে ভোটের ব্যবধান ছিল বেশি।

মোট ৫টি সংসদ নির্বাচনে ২৩ টি আসনে বিজয়ী হয়ে, কোথাও কখনও না হেরে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন।

অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বি শেখ হাসিনা ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ঢাকার দু’টি আসনে এমনকি নিজের জেলা গোপলগঞ্জেও বিএনপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।
————-
সূত্র: বিবিসি

 

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে যে কৌশলের খেলায় জিতল বিএনপি

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বিএনপির কৌশলের জয় হয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে বিএনপি নেতারা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন এবং রিটার্নিং অফিসারদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ আনছেন। কিন্তু বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমন আশঙ্কাই তাঁরা করেছিলেন। নির্বাচনে বিএনপি ৬৯৬ জন প্রার্থী দেওয়া নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রতীক বরাদ্দে বিএনপির কোন্দল বাড়বে। আওয়ামী লীগ এই প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করেছে। কিন্তু বিএনপি জানতো, এরকম একটি পরিস্থিতি হবে।

বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম, শেষ পর্যন্ত যেন ‘ধানের শীষ’ প্রতীক দেওয়ার মতো অন্তত একজন প্রার্থী থাকে। ঢাকা-১ আসন এবং চট্টগ্রাম-৮ ছাড়া সব আসনেই বিএনপির কেউ না কেউ টিকে গেছে। ঢাকা-১ আসনে বিএনপি দু’জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। এরা হলেন, খন্দকার আবু আশফাক এবং ফাহিমা হোসেন জুবলী। অবশ্য এই আসনের বর্তমান এমপি সালমা ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

তিনি বিএনপিতে যেতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। আর চট্টগ্রাম-৮ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন শুধু মোর্শেদ খান। ঢাকা-২ আসনে আমানউল্লাহ আমানের মনোনয়ন যে বাতিল হবে, তা আপিল বিভাগের আদেশের পরেই নিশ্চিত হয়ে যায়। এখানে আমান তাঁর ছেলে ইফরান ইবনে আমানকেও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ান। ফলে এই আসনটিতে বিএনপির কোনো ক্ষতি হয়নি। ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির অধ্যক্ষ সেলিম বাদ পড়েছেন। এই আসনে নবী উল্লাহ নবীই ছিলেন বিএনপির মূল প্রার্থী।

তিনি টিকে গেছে। ঢাকা-৬ থেকে সাদেক হোসেন খোকার ছেলে বাদ পড়লেও, সেখানে কাজী আবুল বাশার বিকল্প প্রার্থী ছিলেন এবং তাঁর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। ঢাকা-৯ তেও মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর মনোনয়ন বাতিল হলেও বিকল্প প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিবের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। চট্টগ্রাম-৫ এ মীর নাসির উদ্দিনের আসনেও বিএনপি তিনজনকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেন। এদের মধ্যে মীর নাসির এবং তাঁর ছেলে মীর হেলালের মনোনয়ন বাতিল হলেও ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

বগুড়া-৭ আসনেও বিএনপি তিনজন প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেয়। বেগম জিয়ার মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির মধ্যে সংশয় ছিল, দ্বিতীয় প্রার্থী মোরশেদ মিল্টনের ওপরও তারা ভরসা রাখতে পারেননি। দুজনই মনোনয়নই বাতিল হয়েছে। ওই আসনে তৃতীয় বিকল্প প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। তিনি সরকার বাদল।

বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূলত দুই কারণে বিএনপির একাধিক প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। প্রথমত, বিএনপি জানতো দণ্ড, ঋণ খেলাপি ইত্যাদি কারণে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হতে পারে। সেজন্য প্রায় সব আসনেই বিএনপি বিকল্প প্রার্থী রেখেছিল।

দ্বিতীয়ত, এর ফলে বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থীর শঙ্কা দূর হলো। মনোনয়ন বাছাইয়ের পর এখন কেন্দ্র থেকে যাঁকে ধানের শীর্ষ প্রতীক দেওয়া হবে, একমাত্র তিনিই নির্বাচন করতে পারবেন। বাকীদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কোনো আইনগত সুযোগ থাকবে না। ফলে, বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে খুবই কম। তাই বলাই যায়, কৌশলের খেলায় প্রথম দফায় বিএনপি জিতে গেল।

1 2 3 4 5