অবশেষে মাঠে গড়াচ্ছে রাজনীতি

দ্রুত বদলাচ্ছে রাজনীতির হাওয়া। অনেকটা চার দেয়ালে বন্দি রাজনীতি ক্রমে মাঠে গড়াচ্ছে। সরব হচ্ছে ভোট আর জোটের রাজনীতি। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে বড় দলগুলো। বড় দলের সহযোগী হতে চায় এমন দলগুলোও তৎপর নিজেদের অবস্থান জানান দিতে। গত কয়েক বছর ধরে মাঠের রাজনীতিতে চলা ভাটা কাটছে অক্টোবর থেকেই। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ইতিমধ্যে মাঠের কর্মসূচি শুরু করেছে। বাম দলগুলোর জোটের কর্মসূচি শুরু হয়েছে আরো আগেই।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ও যুক্তফ্রন্ট বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ার কর্মসূচি দিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অভিন্ন দাবি নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার। তফসিল ঘোষণার আগে সরকারের পদত্যাগ ও সংসদ ভেঙে দেয়ার দাবিও প্রায় অভিন্ন। এসব দাবি আর ইস্যুতে বৃহত্তর কর্মসূচির চিন্তা করছে দলগুলো। ঐক্য প্রক্রিয়া ঠিকঠাকমতো এগোলে চলতি মাস থেকে এক মঞ্চ থেকে কর্মসূচি আসতে পারে। টানা তৃতীয় বারের মতো ক্ষমতায় যেতে আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোট কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমেছে। বিগত সময়ে উন্নয়নের ফিরিস্তি নিয়ে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে ছুটছেন নেতারা। লক্ষ্য একটাই, মানুষের মন জয়। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন সতর্ক থাকতে।

আত্মতুষ্টিতে ভুগতে থাকলে পতন অনিবার্য এমন বার্তাও দিয়েছেন নেতাকর্মীদের। জনগণের সামনে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে তিনি নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপর আরো আগে থেকে। গতকাল থেকে আনুষ্ঠানিক গণসংযোগে নেমেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে তৃণমূল পর্যন্ত। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে এই গণসংযোগ কর্মসূচির লক্ষ্য সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মানুষের সামনে তুলে ধরা। বিরোধী জোটের রাজনৈতিক কর্মসূচির বিপরীতে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়ার লক্ষ্যও রয়েছে। আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি মাঠের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে ১৪ দল। ঐক্য প্রক্রিয়ার নামে যেকোনো ষড়যন্ত্র মাঠেই মোকাবিলার ঘোষণা দিয়েছেন ১৪ দলের নেতারা। যদিও ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা বলছেন, ১৪ দলের এমন বক্তব্য গণতন্ত্রের ভাষা নয়। ১৪ দলের পক্ষ থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকায় মহাসমাবেশের প্রস্তুতিও রয়েছে ক্ষমতাসীন জোটের।

৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন, সংসদ ভেঙে দেয়াসহ ৫ দফা দাবি মানতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। গত ২২শে সেপ্টেম্বর রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চের নাগরিক সমাবেশ থেকে দেয়া আল্টিমেটামের সময় শেষ হয়েছে রোববার। গতকাল জোটের পক্ষ থেকে একই দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৭ই অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হবে। বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের প্রক্রিয়ায় যুক্ত যুক্তফ্রন্টের তিন দলও আলাদা কর্মসূচি পালন করছে। দলগুলোর কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সরকার ও বিরোধী জোটের বাইরে স্বতন্ত্র অবস্থানে থেকে কর্মসূচি পালন করছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। আট দলের এ জোট ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি পালন করছে। বিরোধী জোটের সঙ্গে একমঞ্চে না এলেও এ জোটের লক্ষ্য এবং দাবি অভিন্ন। বাম জোটও তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, সরকারের পদত্যাগ এবং আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকারের ফায়সালা চায়। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবিও রয়েছে এ জোটের। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি নিয়ে সম্প্রতি ইসি ঘেরাও কর্মসূচি পণ্ড হয়েছে পুলিশের বাধায়।

সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি রয়েছে সিদ্ধান্তহীনতায়। সুযোগের অপেক্ষায় থাকা জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচনে সরকারের পক্ষে থাকবেন নাকি বিরোধী জোটের দিকে ঝুঁকবেন এই প্রশ্ন দলের নেতাকর্মীদের মুখেই। তারাও জানেন না নির্বাচন নিয়ে জাপার অবস্থান কি। দুটানায় থাকলেও নানা কর্মসূচিতে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে তৎপর রয়েছে জাপা। অসুস্থতা নিয়েও জাপা চেয়ারম্যান অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন কর্মসূচিতে। যাচ্ছেন জেলা সফরে। দলটির সূত্র জানিয়েছে, অক্টোবরে দলীয় কর্মসূচি আরো জোরদার করা হবে। আপাতত একক কর্মসূচি নিয়েই মাঠে থাকবে জাপা। তবে জোটগত নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হলে কর্মসূচিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। সব মিলিয়ে নির্বাচন সামনে রেখে অক্টোবর থেকেই সরগরম হচ্ছে রাজনীতির মাঠ। উত্তপ্ত হচ্ছে মাঠের রাজনীতি।

গণসংযোগে আওয়ামী লীগ: জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল থেকে গণসংযোগ শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। রাজধানীর ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন কেন্দ্রীয় নেতারা। গতকাল চারটি পৃথক টিম রাজধানীর পৃথক এলাকায় গণসংযোগ করে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এ কর্মসূচি বিস্তৃত হবে। ঢাকায় কর্মসূচিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এ ছাড়াও বিরোধী জোটের কর্মসূচি থেকে নতুন কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। গণসংযোগ কর্মসূচিতে মূলত সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি দলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারও এগিয়ে রাখতে চান নেতারা। দলীয় সূত্র জানায়, বিরোধী জোট যাতে এককভাবে মাঠ দখলে না রাখতে পারে সেজন্য ঢাকাসহ বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলও নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ১৪ দলের কর্মিসভা থেকে বিভাগীয় কর্মিসভা করার ঘোষণা দেন ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৯ই অক্টোবর রাজশাহী, ১০ই অক্টোবর নাটোর ও ১৩ই অক্টোবর খুলনা সমাবেশ করা হবে। এ ছাড়া ঢাকায় মহাসমাবেশ করারও ঘোষণা দেয়া হয়।

বিএনপির কর্মসূচি: দীর্ঘ দিন পর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করে উজ্জীবিত বিএনপি। রোববারের এ সমাবেশ থেকে দলের সাত দফা কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। এ সাত দফা দাবি আদায়ে দুই দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে অক্টোবরে ধাপে ধাপে কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল সব জেলা শহরে সমাবেশ ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হবে। পরের দিন বিভাগীয় শহরে সমাবেশ ও বিভাগীয় কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হবে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে আপাতত দলগত কর্মসূচি দেয়া হলেও সামনে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য হলে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি আসতে পারে। গত ১লা সেপ্টেম্বর নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশ করে বিএনপি। এ সমাবেশে ব্যাপক লোক সমাগম হয়। রোববারের জনসভায়ও দলের নেতাকর্মীদের বিপুল উপস্থিতি ছিল। সম্প্রতি বিভিন্ন সভা, সমাবেশ থেকে বিএনপির নেতারা মাঠের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের বলে আসছেন।

ঐক্য প্রক্রিয়ার নতুন কর্মসূচি: নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঐক্য প্রক্রিয়া। এ দাবিতে আগামী রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিকাল চারটায় এ মানববন্ধন হবে। গত ২২শে সেপ্টেম্বর মহানগর নাট্যমঞ্চে ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশ থেকে সরকারের দাবি মানতে ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে পাঁচ দফা দাবি না মানলে ১লা অক্টোবর থেকে কর্মসূচি দেয়ার কথা বলা হয় ওই সমাবেশের ঘোষণায়। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলন থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেন ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক আ ব ম মোস্তফা আমীন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও গণফোরাম নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে একই দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে যুক্তফ্রন্ট। সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রফেসর একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা, আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি ও মাহমুদুর রহমান মান্না নেত্বাধীন নাগরিক ঐক্য পৃথক কর্মসূচি দিয়ে মাঠে রয়েছে। এ দলগুলোর কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নিচ্ছেন। ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ার যে চেষ্টা চলছে চলতি মাসেই এর সফলতা আসতে পারে বলে নেতারা মনে করছেন। এজন্য বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। কয়েক দিনের মধ্যেই বৃহত্তর ঐক্যের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে দলগুলোর প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন হবে বলে নেতারা জানিয়েছেন। এ কমিটির মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের দাবি ও লক্ষ্য চূড়ান্ত করে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা জানিয়েছেন, অভিন্ন দাবিতে এক মঞ্চ থেকেই সামনে কর্মসূচি পালন করা হবে।
/মানবজমিন

সিনহার বই বাংলাদেশে মেকি গণতন্ত্রের মুখোশ খুলে দিয়েছে: জামায়েতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা ভুল হবে: মাইলাম

বদু কাকা সমাচার: পুত্রের লোভে ছিটকে পড়তে পারেন রাজনীতি থেকে!

এভাবে একটা রাষ্ট্র চলতে পারে না : ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন

কমিশনকে পাশ কাটিয়ে সিইসি-সচিব বেঅাইনী আঁতাতে চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন: চার কমিশনারের লিখিত আপত্তি!

হাসিনাকে খালেদা- “দেখতে এসেছেন খুশি হয়েছি, চলে গেলে আরও খুশি হই”……সংলাপ শেষ!

৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, দিবাগত মধ্য রাত! অবশ্য ক্যলেন্ডারে তখন ৮ তারিখ। রাজধানী ঢাকার লোকেরা যখন ঘুমাতে যাবার আয়োজন করছিল, হঠাৎ ত্রস্ত ব্যস্ত হয়ে ওঠে একটি নির্দিষ্ট রুটের সড়ক। গণভবন থেকে নাজিমুদ্দিন রোড। ঠিক যেনো কত কালের চেনা। তিন স্তরের নিরাপত্তায় ঢেকে ফেলা হলো পুরো সড়ক। নাজিমউদ্দিন রোডের আশেপাশের সিকিউরিটি বাড়ানো হলো। গাড়ি ঘোড়া মানুষ জন সব সরিয়ে দেয়া হয় রাস্তা থেকে। রাতভর অনলাইনে গুজব ছড়িয়ে পড়ে- নাজিমুদ্দিন রোডে বন্দী খালেদা জিয়া ভীষন অসুস্থ, তাকে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে! এ নিয়ে বিএনপির নেতা কর্মী শুভাকাঙ্খিরা ব্যস্ত শঙ্কিত হয়ে খোঁজ খবর নিতে থাকে। এক পর্যায়ে কেন্দ্রিয় অফিসে অবস্থানরত সিনিয়র যুগ্মমহাসচিবের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়- খালেদা জিয়া সুস্থই আছেন। পরে অবশ্য রাত তিন টার দিকে নাজিমউদ্দিন রোডের বাড়তি নিরাপত্তা শিথিল হয়ে যায়। তখনই একটি সূত্র জানিয়েছিল, ওটা ছিল ভিভিআইপি মানের নিরাপত্তা। ঐ রাতে কারাগারে ঢুকেছিলেন (বিনাভোটের) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দু’সপ্তাহের খোঁজ খবরের পরে নিশ্চিতভাবে জানা গেলো- ঘটনা সত্য। ঐ ৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত গভীর রাতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নাজিমুদ্দিন রোডের কারাগারে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

সুত্র জানায় শেখ, হাসিনা দেখা করে বেগম খালেদা জিয়াকে প্রস্তাব ‍দিয়েছিলেন- ‘আসেন, একসাথে সিস্টেম করে ইলেকশন করি। আপনারে ১২০ সিট দিব। নইলে তো ওরা নিয়া যাবে, তাতে আপনার আমার দুজনেরই লস। তারেককে ২১ আগস্ট মামলায় খালাস দিব। আপনি মুক্তি পাবেন। সম্মানের সাথে থাকবেন!’

বেগম জিয়া  বলেন, “আপনাকে ধন্যবাদ। দেখতে এসেছেন তাতে খুশি হয়েছি, চলে গেলে আরও খুশি হই!”

২০০৯-২০১৮ঃ বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে গুমরাজ্যে!

ষোড়শ সংশোধনীর রায় সরকারের পক্ষে দিতে প্রধান বিচারপতি সিনহাকে চাপ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা: ক্ষমতার অপব্যবহার ও শপথ লংঘন!

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিজের পক্ষে নিতে ক্ষমতার অপব্যহার করেছিলেন শেখ হাসিনা। সদ্য প্রকশিত বিচারপতি সিনহার লিখিত পুস্তক “A Broken Dream Rule of Law Human Rights and Democracy’ এর ৪৩২ পাতা থেকে ৪৪২ পাতায় তা ্উল্লেখ করেছেন যার সংক্ষিপ্ত রূপ এমন-
১ জুলাই ২০১৭ রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার মোবাইল নম্বরে ফোন করে তাঁকে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে বঙ্গভবনে চায়ের দাওয়াত দেন। পরেরদিন আবার সামরিক সচিব আবারও খুদেবার্তা দিয়ে প্রধান বিচারপতিকে তা মনে করিয়ে দেন। সাধারনত প্রধান বিচারপতিকে এভাবে কোনো দাওয়াত করা সভ্যতা ও রেওয়াজ বহির্ভুত। বরং রেজিষ্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে দেয়া হয়। নির্ধারিত দিনে বঙ্গভবনে গেলে প্রধান বিচারপতিকে সামরিক সচিবের কক্ষে প্রায় ৪৫ মিনিট বসিয়ে রেখে শেষে রাষ্ট্রপতির কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রপতির সাথে প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, এটর্নী জেনারেল উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধানের ১৬তম সংশোধনীর আপীল নিয়ে কথা বলেন, এবং প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করেন মামলার রায় সরকারের পক্ষে দিতে। বিচারপতি সিনহা তা দিতে অস্বীকার করেন, কেননা সংবিধানে ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে অধঃস্তন আদালতের প্রশাসন সুপ্রীম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ অনুযায়ী পরিচালনা করারর নির্দেশনা রয়েছে। এসব কথায় শেখ হাসিনা রেগে ওঠেন এবং বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে একগাদা অভিযোগ তুলে তাকে পদত্যাগ করতে বলেন। সিনহাও জানান, তিনি পদত্যাগ করবেন না, এবং শেষ দিন অবধি তিনি শপথের উপরে থাকবেন। প্রায় তিন ঘন্টা বৈঠক ব্যর্থতা ও হতাশা নিয়ে শেষ হয়। সরকার প্রধান ও অন্যান্যদের অসদ্ব্যবহারে বিচারপতি সিনহা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং প্রায় অচেতন অবস্থায় বাসায় ফিরেন। রাতে নির্ঘুম কাটান।

পরের দিন সকালে ৩ জুলাই ২০১৭, সংবিধানের ১৬তম সংশোধনী নিয়ে সরকারের আপীলের রায় ঘোষণা করার কথা। যদিও আপীল বিভাগের ৬ বিচারপতিই আগে ধারণা দিয়েছিলেন যে, তারা সবাই আপীল খারিজ করে দিবেন। তদুপরি সরকারের নানামুখি চেষ্টাতে বিচারপতি সিনহার মনে সন্দেহ হয় যে, বাকী বিচারপতিদেরকে সরকার তাদের পক্ষে নিয়ে থাকতে পারে। তাই কোর্ট বসার আগেই প্রধান বিচারপতি বাকী ৬ আপীল বিচারপতির সাথে ইনফরমাল বৈঠকে বসেন। আলোচনা করে দেখতে পান যে, সরকারের নানাবিধ গোপন তৎপরতার ফলে বিচারপতিদের মধ্যে বেশীরভাগ আপিল মঞ্জুর করার পক্ষে (অর্থাৎ সরকারের উদ্দেশ্য পূরণের) চলে গেছে। তাদের মধ্যে বিচারপতি ওয়াহহাব মিয়া, নাজমুন আরা সুলতানা এবং মীর্জা হায়দার আপীল নাকচের পক্ষে, অন্যদিকে বিচারপতি মাহমুদ হোসেন আপীল গ্রহনের পক্ষে, তার সাথে মীর্জা হায়দারও আছেন তার সাথে। অন্যদিকে বিচারপতি ইমান আলী দু’দিকে মাঝামাঝি অবস্থানে। তখন বিচারপতি সিনহা এক এক করে মীর্জা হায়দার, মাহমুদ হোসেন, এবং ইমান আলীকে নসিহত করতে লাগলেন- এই ষোড়শ সংশোধনী বহাল থাকলে দেশের বিচার বিভাগ পুরোটা চলে যাবে সরকারের অধীনে, ফলে বিচার ব্যবস্থা বলতে আর কিছু থাকবে না, এ নিয়ে বিচারপতিদের ভূমিকার স্মরণ করিয়ে দেন। একে একে এরা সবাই আপীল নাকচের পক্ষে চলে আসেন। সকাল সাড়ে দশটার পরে আপীল বিভাগের কোর্ট বসে। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা ষোড়শ সংশোধনী সংক্রান্ত আপীল বিভাগের রায় ঘোষনা করেন এক বাক্যে- “সর্বসম্মত ভাবে আপিল নাকচ করা হলো!” সেদিন ছিল সোমবার, কেবিনেট মিটিং ডে। ষোড়শ সংশোধনী নাকচ হওয়ার খবর পেয়ে শেখ হাসিনার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে!

তারপরে সেখান থেকে শুরু হয় যুদ্ধ, যাতে অস্ত্রের মুখে দেশত্যাগ ও পদত্যাগ করতে হয় বিচারপতি সিনহাকে। তবে নৈতিকভাবে পরাজয় ঘটে শেখ হাসিনার।

অস্ত্রের মুখে ডিজিএফআই ছুটি, দেশত্যাগ, ও পদত্যাগ করিয়েছিল- নিজে স্বীকার করে বিডিপলিটিকোর সংবাদ সত্য প্রমান করলেন বিচারপতি সিনহা!

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পরে সরকারের তীব্র প্রতিক্রিয়া উদ্ভুত জটিলতায় শেখ হাসিনার নির্দেশে সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ও কয়েকজন জেনারেল মিলে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে অস্ত্রের মুখে জোর করে  ‍ছুটিতে পাঠানো হয়, পরে তাকে আর দেশে ঢুকতে না দিয়ে বিদেশ থেকেই বেআইনীভাবে পদত্যাগ করানো হয়। ঐ ঘটনা নিয়ে বিডি পলিটিকো ধারাবাহিকভাগে সে সব খবরাদি প্রকাশ করে। কিন্তু সরকারী নিয়ন্ত্রনের কারনে দেশীয় কোনো মাধ্যমই তা স্বীকার করেনি।

বিডিপলিটিকো তখন লিখেছিল, “গত ২ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সিনহাকে কুপোকাত করতে তাঁর ওপর অস্ত্রশস্ত্র সহ চড়াও হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হোসেইন, ডিজি ডিজিএফআই মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন, রংপুর এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোঃ মাসুদ রাজ্জাক, ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার শায়েখ সহ আরও কিছু কর্মকর্তা। এরা খোলা অস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়ে প্রধান বিচারপতি সিহার কক্ষে। তারা অস্ত্রের মুখে প্রধান বিচারপতি সিনহাকে জিম্মি করে পদত্যাগ পত্রে সই করতে বলে। রাজী না হওয়ায় ক্ষেপে যায় জেনারেল আকবর। গালাগালি শুরু করে, এক পর্যায়ে কয়েকটা থাপ্পড় বসিয়ে দেন প্রধান বিচারপতির গালে মুখে মাথায়, শেষে লাত্থি দিয়ে ফেলে দেন চেয়ার থেকে নিচে। তাদের এই তান্ডবের পুরো সময়টা উপস্থিত ছিলেন আইন সচিব জহিরুল হক ওরফে পিস্তল দুলাল। পরে প্রধান বিচারপতির একমাসের ছুটির কাগজ বানিয়ে সই করে বেরিয়ে যায় আকবর বাহিনী। সেই কাগজ দিয়েই বিচারপতি সিনহাকে জোর করে বিদেশে পাঠিয়ে দেয় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।”

ঘটনার প্রায় এক বছর পরে আজ প্রকাশ হওয়া বিচারপতি সিনহা তার লিখিত পুস্তক “A Broken Dream: Rule of Law, Human Rights and Democracy”- এর মুখবন্ধে তিনি সেই সব ঘটনাবলী প্রকাশ করেছেন শোভন ভাষায়। আর এভাবেই বিডি পলিটিকোর খবরাদি কনফার্ম করলেন বিচারপতি সিনহা। তিনি লিখেছেন- “Following the appellate decision, on September 13 the parliament passed a resolution calling for legal steps to nullify the Supreme Court verdict. Prime Minister and other members of her party and ministers blasted me for going against the parliament. Cabinet members including the Law Minister began smearing me alleging misconduct and corruption. While I remained confined at my official residence and lawyers and judges were prevented to visit me, media were told that I am unwell and have sought medical leave. Various ministers said I will go abroad on medical leave. On October 14, 2017, as I was compelled to leave the country, I tried to clear the air in a public statement that I am neither unwell nor am I leaving the country for good. I was hoping that my physical absence combined with Court’s regular vacation will allow the situation to calm down and good sense will prevail; that the government will understand that the essence of the Verdict – upholding the independence of judiciary – is beneficial to the nation and the state. Finally, in the face of intimidation and threats to my family and friends by the country’s military intelligence agency called the Directorate General of the Defense Forces Intelligence (DGDFI), I submitted resignation from abroad.

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে আইনজীবীদের পদযাত্রা, আল্টিমেটাম

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা করেছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুয়ায়ী মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনজীবী আন্দোলন’ ব্যানারে আইনজীবীরা স্মারকলিপি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রঙ্গণ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে রওয়ানা দেন। দুপুর সোয়া ২টার দিকে পদযাত্রাটি সুপ্রিম কোর্ট মাজার গেটে পৌঁছালে পুলিশ গেট বন্ধ করে দেয়। পরে আইনজীবীরা সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।

সমাবেশে আইনজীবীরা বলেন, আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবী আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেয়ার আশ্বাস দিলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি তুলে দেন আইনজীবীরা। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা বলেন, পুলিশ দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। আইনজীবীরা রাজপথে নেমেছে। আন্দোলন এখন আর আদালত অঙ্গনে নয়, রাজপথে করতে হবে।

তিনি বলেন, একজন অসুস্থ আসামির বিচারের জন্য কারাগারে আদালত স্থাপন করা কোনো নজির নেই। অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। তা না করা হলে, তার জীবন বিপন্ন হলে দায় সরকারকে নিতে হবে।

খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, যখন কারাগারে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার অভাবে হাত পা অবশ হয়ে যাচ্ছে তখন মনে হচ্ছে সরকারে যারা আছে তাদের মাথা অবশ হয়ে গেছে। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হলেও প্রশাসন ও বিচার বিভাগ চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়নি। বর্তমান সরকারের সঙ্গে স্বৈরশাসকের পার্থক্য কি? তিনি বলেন, আইনজীবীরা রাস্তায় নেমেছে। প্রয়োজনে প্রধামন্ত্রীর দফতরের সামনেও যাবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবিএম ওয়ালিউর রহমান খান, সংগঠনের সদস্য সচিব এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা, মো. মনির হোসেন, আনিছুর রহমান খান, আইয়ুব আলী আশ্রাফী, আনজুমান আরা বেগম মুন্নি, মাসুদুল আলম দোহা, ওয়াসিল উদ্দিন বাবু, নাজমুল হোসেন, আবদুস সাত্তার, মো. মহীদ উদ্দিন, শফিউর রহমান শফি প্রমুখ।

1 2 3 4 5 6 26