২১ আগস্ট বোমা হামলার ঘটনায় বিএনপি নয়, বরং আওয়ামীলীগই যে জড়িত তার প্রমান দিলেন তারেক রহমান

।।বিশেষ প্রতিনিধি।।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান তার দলের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, আমাদের দল কখনোই ঘৃণ্য হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেনা। বিশ্বাস করেনা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে। ২১ আগস্ট বোমা হামলার নৃশংস ঘটনার সঙ্গে তৎকালীন বিএনপি সরকার কিংবা বিএনপি’র কেউ জড়িত নয়। জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। কেন জড়িত নয় এর অনেকগুলো সুনির্দিষ্ট কারণ এবং প্রমাণ রয়েছে। এই হামলার কারণগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় এই হামলার সঙ্গে ঐ সময়ের আওয়ামীলীগের সম্পর্ক রয়েছে। তবে শুধুমাত্র শেখ হাসিনার হিংসা চরিতার্থ করার জন্য গভীর নীলনক্সা ও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আমাকে জড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, সমগ্র জাতি প্রত্যাশা করেন ন্যায় বিচার। জনগণ প্রত্যাশা করে এই মামলায় কোনো ফরমায়েশি রায় ঘোষিত হবে না।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় লন্ডন থেকে দেশবাসীর উদ্দ্যেশ্যে দেয়া এক ভাষণে তারেক রহমান তুলে ধরেছেন কিভাবে জাতীয়তাবাদী শক্তি, শহীদ প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও এখন তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্র চলছে। কিভাবে ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে তাদের ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচারের টার্গেটে পরিণত করেছে। কিভাবে তারা এখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী মানুষকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্রে মদমত্ত। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে কিভাবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে শেখ হাসিনার হিংসা চরিতার্থ করার জন্য জড়ানো হয়েছে।

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তারেক রহমান দৃঢতার সাথে বলেন, ২১ আগস্টের হামলার সঙ্গে আমাকে এবং বিএনপিকে জড়ানো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক। কারণ ওই জনসভার হামলা থেকে বিএনপি’র কিছুই পাওয়ার নেই। যার কারণ বিএনপি তখন ক্ষমতায়। আওয়ামী লীগের মতো একটি দলের সমাবেশে হামলা চালিয়ে বিএনপি কেন নিজেই নিজের সরকারকে অস্থিতিশীল করবে? তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আইন আদালতকে ব্যবহার করে যাই করুক বা যাই বলুক তথ্য উপাত্ত এবং বাস্তবতা প্রমাণ করে এই জঘন্য হত্যাকান্ডের সঙ্গে বিএনপি’র কোনো পর্যায়ের কেউ জড়িত নয়। আপনারা নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জেনেছেন এ মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তিত হওয়ার সাথে সাথে সাথে সমানভাবে তদন্ত প্রতিবেদন পরিবর্তিত হয়েছে। ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে অবসরপ্রাপ্ত একজনকে চাকরিতে পুনর্বহাল করে একুশে আগস্ট মামলার তদন্ত দায়িত্ব প্রদান করে। তাকে দিয়ে এই মামলার বিচার চলা অবস্থায় পুনরায় তদন্ত করা হয়। তিনি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে নতুন করে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে এবং সেখানে জড়ানো হয় আমার নাম। শুধুমাত্র একজন ব্যক্তিকে ১০০ দিনের বেশি সময় রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে তার মুখ থেকে বের করা হয় আমার নাম। পরবর্তীতে ঐ ব্যক্তিটি আদালতে গিয়ে নিজেই তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আবেদন করে আদালতকে জানায়- তাকে নির্মম নির্যাতন করে তার মুখ দিয়ে আমার নাম বলানো হয়েছে। আপনারা আরো আশ্চর্য হবেন, যে ব্যক্তির মুখ থেকে আমার নাম বের করে আমাকে একুশে আগস্ট মামলায় জড়ানো হয়েছে, ইতিমধ্যে অন্য একটি মামলায় সেই ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। এটি কি আপনাদের কাছে কোন একটি স্বাভাবিক ঘটনা মনে হয়?

তারেক রহমান বলেন, আমার মা এবং বাবার মতো আমিও দেশ, জাতি এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত রেখেছি। আপনারা জানেন রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী বিএনপিকে সুসংগঠিত করার জন্য সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের কাছে ছুটে গিয়েছি। কাজ করতে গিয়ে দলের সকল পর্যায়ের নেতা- কর্মী এবং শুভাকাঙ্খীদের আকণ্ঠ সাহায্য ও সহযোগিতা পেয়েছি। আপনারা জানেন বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতিকে চিরতরে উচ্ছেদ এবং মুছে ফেলার সর্বশেষ অংশ হিসাবে ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আমাকে এবং তৎকালীন সরকারের বেশকিছু উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর কর্মকর্তাকে জড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র পক্ষ থেকে আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই- আমাদের দল কখনোই এভাবে ঘৃণ্য হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেনা। এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে তৎকালীন সরকার কিংবা বিএনপি’র কেউ জড়িত নয়। কেন জড়িত নয় এর অনেকগুলো সুনির্দিষ্ট কারণ এবং প্রমাণ রয়েছে। আমি এখানে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করতে চাই সুনির্দিষ্টভাবে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ অবগত আছেন ২০০৪ সালের ২১ শে আগস্ট পুলিশ প্রশাসন রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগের জনসভা জনসভার অনুমতি দেয়। জনসভার দিন এবং তার আগের দিন পুলিশ প্রশাসন যথানিয়মে মুক্তাঙ্গনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল। ২১ শে আগস্ট মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগের জনসভার খবর সে সময়ের সকল পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। এমনকি মুক্তাঙ্গনে সমাবেশে লোকজনও আসতে শুরু করেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই কে কেন কার আদেশে কি উদ্দেশ্যে পুলিশ প্রশাসনকে না জানিয়ে মুক্তাঙ্গন থেকে সমাবেশের স্থান হঠাৎ করে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। কেন সরিয়ে নেয়া হয়েছিল? শেষ মুহূর্তে সমাবেশের স্থান পরিবর্তন কার পরামর্শে করেছিল, তা আজ পর্যন্ত জনগণকে জানতে দেয়া হয়নি। জনগণ তা জানতে চায়। তিনি বলেন, এ মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের জবানবন্দি উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। সেই সকল খবর থেকে আমরা দেখতে পাই এবং জানতে পাই যে, আওয়ামী লীগের জনসভায় হামলা পরিকল্পনা সাজাতে এবং কিছু কিছু জঙ্গি সংগঠনের নেতারা আগে থেকেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিল। তাহলে কেমন করে ওইসব জঙ্গি সংগঠনের লোকেরা আগেই জেনেছিল সমাবেশ মুক্তাঙ্গনে নয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে?

তারেক রহমান বলেন, এমন একটি পরিস্থিতিতে এই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালত রায় দেয়ার তারিখ নির্ধারণ করলেও এর আগেই শেখ হাসিনা এবং তার দলের নেতাকর্মীরা মামলার রায় আগাম বলে দিচ্ছে। হয়তো দেখা যাবে, রায় ঘোষণার দিন বিচারক আওয়ামী লীগ সরকারের তৈরি করা পূর্বনির্ধারিত রায়টি পড়ছেন। এমন ধারণা করার কারণ হচ্ছে, আমার মা বেগম খালেদা জিয়ার মামলার বিচারের নামে প্রহসন থেকে। অনেক আগেই এই সরকারের নেতাকর্মীরা সেই মিথ্যা মামলার রায় ঘোষণা করে দিয়েছে। আর নির্দিষ্ট বিচারক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দেয়া রায় যথানিয়মে পড়ে দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময় আমরা দেখেছি, সাবেক প্রধান বিচারপতির রায় সরকারের পছন্দ না হওয়ায় তাকে জোর করে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও আমার বিরুদ্ধে একটি মামলার রায় সরকারের মনঃপুত না হওয়ায় ওই বিচারককে দেশ ছাড়া করা হয়েছে। সুতরাং অতীতের বাস্তবতায় বলা যায় ২১শে আগস্ট মামলার রায়ের দিন আগের মতোই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রায় শুনবে জনগণ। যেটাকে আমরা বলতে পারি ফরমায়েশি রায়। এই রায়কে পুঁজি করে বর্তমান ব্যাংক-ডাকাত সরকার হয়তো আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে আমার বিরুদ্ধে তাদের চলমান অপপ্রচারের মাত্রা আরেকটু বাড়িয়ে দিবে!

তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্র ও সমাজে ন্যায়বিচার নেই বলেই মিথ্যা মামলায় ৮ মাসের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে দিনের পর দিন আদালতে হাজির হয়েছেন। বিচারকদের সীমাবদ্ধতা জানা সত্ত্বেও তিনি বিচার বিভাগের মর্যাদাকে খাটো হতে দেননি। তবে জনগণ বিশ্বাস করে তার প্রতি বিচারের নামে করা হয়েছে অবিচার। যে মামলার রায়ের দোহাই দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে সে মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। তাহলে এখনও কোন্ মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা হয়েছে, প্রশ্ন জনগনের?

বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসকে দীর্ঘ করতে যেভাবে আদালতকে ব্যবহার করে ডজন ডজন মামলা হাজির করে তাকে আটক করে রাখা হয়েছে, এতে শেখ হাসিনার হিংসা চরিতার্থ হলেও বিচার বিভাগের প্রতি মর্যাদা মোটেও বাড়ছে না। আইনের শাসন প্রতিফলিত হচ্ছে না, বরং প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে প্রতিহিংসার রাজনীতি। তবে আমি এবং আমার মা বেগম খালেদা জিয়া এবং আমার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। অতীতেও করিনি, এখনো না এবং ভবিষ্যতেও না। তিনি বলেন,বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র মৌলিক দর্শন হচ্ছে দেশের সকল মত ও পথের মানুষকে সাথে নিয়ে সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতিটি নেতাকর্মীর জন্য গর্বের বিষয় হচ্ছে তার অনুসৃত অর্থনৈতিক দর্শনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পৃথিবীর মানচিত্রে একটি সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছেছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শনকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে একটি রাজনৈতিক দল লাগাতার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে সেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। ষড়যন্ত্রকারীদের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জাতি সঠিক পথ খুঁজে পেয়েছিল। জনগণ সাফল্য ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। ফলে ষড়যন্ত্রকারীদের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন আমার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ষড়যন্ত্রকারীরা আমাকেও তাদের ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচারের টার্গেটে পরিণত করেছে। তারা এখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী মানুষকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কখনো লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে, আবার কখনো ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে। স্বাধীনতার পর থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং এবং তার পরিবারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করতে অপচেষ্টায় লিপ্ত তারা। দেশ এবং জনগণের জন্য কাজ করতে গিয়ে আমার পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জীবন দিয়েছিলেন। আর মা প্রচন্ড শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও স্বৈরাচারের কারাগারে বন্দি।

তারেক রহমান দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, চলার পথে আমার আস্থা বিশ্বাস আল্লাহর উপরে। আমার বাবা, মা, আমার আদর্শ এবং দেশের জনগণ আমার রাজনৈতিক শক্তি। দেশ এবং জনগণের জন্য কাজ করতে গিয়ে আমার বাবা জীবন দিয়েছেন এবং আমার মা এই বয়সেও কারা নির্যাতন ভোগ করছেন। আমিও দেশ এবং জনগণের স্বার্থে যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় প্রস্তুত। দেশ এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করতে গেলে বিপদ আসবেই। সে কারণেই আমি দেশ এবং জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করেছি। জীবনের ভয় করলে আমার বাবা স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পারতেন না।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন থেকে আমার মা সরে গেলে আজকে তাঁকে আর কারা নির্যাতন ভোগ করতে হতো না। সুতরাং সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই ইনশাআল্লাহ আমি এগিয়ে যাব। আমার দল এগিয়ে যাবে। এগিয়ে যাবে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী শক্তি। এগিয়ে যাবে দেশ এবং দেশের জনগণ। তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে সকল শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে সফল করার আহবান জানিয়ে বলেন, ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদের হবেই।

আমার দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মী সমর্থকদের কাছে আমার আহ্বান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখুন। এই সংকটময় মুহুর্ত ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করুন। বিচক্ষণতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিন। কারো পাতা ফাঁদে পা দিবেন না। আমাদের ঐক্য বিনষ্ট বিনষ্ট করতে এবং আবার আমাদের বিশ্বাসে চিড় ধরাতে নানা রকম ফাঁদ পাতা হয়েছে। তাই আমাদেরকে সাহস এবং সতর্কতার সাথে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রস্তুত থাকতে হবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির স্লোগান দিতে দিতে নেতার মৃত্যু

ঐক্য না হলেও বসে থাকবে না বিএনপি

হাসিনাকে খালেদা- “দেখতে এসেছেন খুশি হয়েছি, চলে গেলে আরও খুশি হই”……সংলাপ শেষ!

৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, দিবাগত মধ্য রাত! অবশ্য ক্যলেন্ডারে তখন ৮ তারিখ। রাজধানী ঢাকার লোকেরা যখন ঘুমাতে যাবার আয়োজন করছিল, হঠাৎ ত্রস্ত ব্যস্ত হয়ে ওঠে একটি নির্দিষ্ট রুটের সড়ক। গণভবন থেকে নাজিমুদ্দিন রোড। ঠিক যেনো কত কালের চেনা। তিন স্তরের নিরাপত্তায় ঢেকে ফেলা হলো পুরো সড়ক। নাজিমউদ্দিন রোডের আশেপাশের সিকিউরিটি বাড়ানো হলো। গাড়ি ঘোড়া মানুষ জন সব সরিয়ে দেয়া হয় রাস্তা থেকে। রাতভর অনলাইনে গুজব ছড়িয়ে পড়ে- নাজিমুদ্দিন রোডে বন্দী খালেদা জিয়া ভীষন অসুস্থ, তাকে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে! এ নিয়ে বিএনপির নেতা কর্মী শুভাকাঙ্খিরা ব্যস্ত শঙ্কিত হয়ে খোঁজ খবর নিতে থাকে। এক পর্যায়ে কেন্দ্রিয় অফিসে অবস্থানরত সিনিয়র যুগ্মমহাসচিবের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়- খালেদা জিয়া সুস্থই আছেন। পরে অবশ্য রাত তিন টার দিকে নাজিমউদ্দিন রোডের বাড়তি নিরাপত্তা শিথিল হয়ে যায়। তখনই একটি সূত্র জানিয়েছিল, ওটা ছিল ভিভিআইপি মানের নিরাপত্তা। ঐ রাতে কারাগারে ঢুকেছিলেন (বিনাভোটের) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দু’সপ্তাহের খোঁজ খবরের পরে নিশ্চিতভাবে জানা গেলো- ঘটনা সত্য। ঐ ৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত গভীর রাতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নাজিমুদ্দিন রোডের কারাগারে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

সুত্র জানায় শেখ, হাসিনা দেখা করে বেগম খালেদা জিয়াকে প্রস্তাব ‍দিয়েছিলেন- ‘আসেন, একসাথে সিস্টেম করে ইলেকশন করি। আপনারে ১২০ সিট দিব। নইলে তো ওরা নিয়া যাবে, তাতে আপনার আমার দুজনেরই লস। তারেককে ২১ আগস্ট মামলায় খালাস দিব। আপনি মুক্তি পাবেন। সম্মানের সাথে থাকবেন!’

বেগম জিয়া  বলেন, “আপনাকে ধন্যবাদ। দেখতে এসেছেন তাতে খুশি হয়েছি, চলে গেলে আরও খুশি হই!”

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে আইনজীবীদের পদযাত্রা, আল্টিমেটাম

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা করেছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুয়ায়ী মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনজীবী আন্দোলন’ ব্যানারে আইনজীবীরা স্মারকলিপি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রঙ্গণ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিমুখে রওয়ানা দেন। দুপুর সোয়া ২টার দিকে পদযাত্রাটি সুপ্রিম কোর্ট মাজার গেটে পৌঁছালে পুলিশ গেট বন্ধ করে দেয়। পরে আইনজীবীরা সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।

সমাবেশে আইনজীবীরা বলেন, আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবী আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেয়ার আশ্বাস দিলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি তুলে দেন আইনজীবীরা। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা বলেন, পুলিশ দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। আইনজীবীরা রাজপথে নেমেছে। আন্দোলন এখন আর আদালত অঙ্গনে নয়, রাজপথে করতে হবে।

তিনি বলেন, একজন অসুস্থ আসামির বিচারের জন্য কারাগারে আদালত স্থাপন করা কোনো নজির নেই। অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। তা না করা হলে, তার জীবন বিপন্ন হলে দায় সরকারকে নিতে হবে।

খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, যখন কারাগারে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার অভাবে হাত পা অবশ হয়ে যাচ্ছে তখন মনে হচ্ছে সরকারে যারা আছে তাদের মাথা অবশ হয়ে গেছে। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হলেও প্রশাসন ও বিচার বিভাগ চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়নি। বর্তমান সরকারের সঙ্গে স্বৈরশাসকের পার্থক্য কি? তিনি বলেন, আইনজীবীরা রাস্তায় নেমেছে। প্রয়োজনে প্রধামন্ত্রীর দফতরের সামনেও যাবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবিএম ওয়ালিউর রহমান খান, সংগঠনের সদস্য সচিব এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা, মো. মনির হোসেন, আনিছুর রহমান খান, আইয়ুব আলী আশ্রাফী, আনজুমান আরা বেগম মুন্নি, মাসুদুল আলম দোহা, ওয়াসিল উদ্দিন বাবু, নাজমুল হোসেন, আবদুস সাত্তার, মো. মহীদ উদ্দিন, শফিউর রহমান শফি প্রমুখ।

আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন, ডাক আসা মাত্র ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে -লন্ডনের সমাবেশে তারেক রহমান


।। বিশেষ সংবাদদাতা।।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে আন্দোলনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহনের জন্য উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেছেন- আপনারা স্ব স্ব অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিন। ডাক দেয়ার সময় চলে আসছে। ডাকের জন্য অপেক্ষা করুন। ডাক আসামাত্র বাংলাদেশের সাধারন মানুষকে নিয়ে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। ইনশাআল্লাহ সময়মত ডাক আসবে। সেই ডাক আসা পর্যন্ত স্ব স্ব অবস্থান থেকে প্রস্তুতি গ্রহন করুন। কোন কিছুতে বিভ্রান্ত হবেন না। আমাদের লক্ষ্য আন্দোলনের মাধ্যমে জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের এখন মুলমন্ত্র হবে- ‘যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি এগিয়ে যাও তবে তুমি বাংলাদেশ’। বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এই আহবান জানান। সোমবার পূর্ব লন্ডনের হাইস্ট্রীট নর্থ এর দ্যা রয়্যাল রিজেন্সী হোটেলে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারের ভীতি, প্ররোচণা কিংবা কোনো প্রকারের ফাঁদে পা না দিতে নেতা-কর্মীসহ সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, মনে রাখবেন বাংলাদেশের মানুষের ঐক্য ভাঙ্গার জন্য এই অবৈধ সরকার, দুষ্কৃতিকারী সরকার সকল রকমের চেষ্টা করবে। তারা খুন-গুম, নিখোঁজ করার মাধ্যমে ভয় দেখানোর চেষ্টা করবে। তারা অর্থ ঘুষ দিয়ে চেষ্টা করবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য। তারা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার জোর করে খবর ছাপানোর মাধ্যমে বিভ্রান্তির চেষ্টা করবে। কাজেই সব কিছু সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে, কোন কিছুতেই বিভ্রান্ত হলে চলবে না। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে অবৈধ, অগণতান্ত্রিক এবং লুটেরা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে নতুবা সন্ত্রাসী সরকার দেশের মাটি পর্যন্ত খুলে নিয়ে বিক্রি করে দিবে। জনগণের দেশ জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনতে হবে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, অনেক হয়েছে, আজ এখানেই এদেরকে রুখে দিতে হবে। জনগণের দেশ জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনতে হবে। এটা আমাদের দায়িত্ব। আর এজন্য দরকার ঐক্য। সে ঐক্য হলো সমাজের সকল স্তরের মানুষের ঐক্য।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি। আর তা হলো আগামীতে আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের সরকার, যেই সরকার বাংলাদেশের জনগণ দ্বারা সঠিকভাবে নির্বাচিত হবে, জনগণের মাধ্যমে গঠিত হবে- সে সরকার হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নীতিমালায় প্রতিষ্ঠিত। এজন্য স্ব স্ব অবস্থান থেকে ডাক আসা পর্যন্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করুণ। বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া শিশু-কিশোরদের সাম্প্রতিক সড়ক আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা শুধু নিরাপদ সড়ক চাইনা, নিরাপদ সড়ক তো থাকবেই, তবে আমরা সবাই চাই নিরাপদ বাংলাদেশ। তিনি বলেন বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে সকল দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীরা আছেন, দরীয নেতাকর্মীরা আছেন, প্রতিটি পেশার মানুষদের বলবো, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, গৃহবধু, তরুণী-তরুণ, ছাত্র-ছাত্রী সবাইকে বলবো- দেশ বাঁচাতে সবাই এগিয়ে আসুন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, যারা বিএনপির রাজনীতি করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে লালন করেন তারা আজ এমন অবস্থায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছেন যখন আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। যাকে দেখে কোটি কোটি মানুষ এসে বিএনপিতে ভীড়েছে, তিনি আজ কাছে নেই, জুলুমের কারাগারে বন্দী। দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হলে মন শক্ত রাখতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকার নয়াপল্টন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, লাখো মানুষের এই সমাবেশ একটি বার্তা দিয়ে গেছে বিএনপির কাছে। তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে গেছে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে দেশের অন্যান্য সংগঠনগুলোকে এক কাতারে আসার আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির পাশপাশি আরো কিছু দল জাতীয় ঐক্যর ডাক দিয়েছেন। যারা এ ঐক্যের ডাক দিয়েছেন দেশের গণতন্ত্র, সংবিধান রক্ষা, মুক্তিযুদ্ধে আপনাদের অনেক রকমের অবদান রয়েছে। দেশ আজ অপশাসনের কবলে পড়েছে। বিএনপির লাখো লাখো নেতা-কর্মী এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করে গণতন্ত্র রক্ষার যে আন্দোলন তিনি শুরু করেছেন তাকে বেগবান করতে। তাদের সহযোগিতা করার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আহবান জানচ্ছি।

জাতির জন্য এক বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজন মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশের জন্য প্রয়োজন বৃহত্তর এক ঐক্যের। এটা শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়। ন্যায় এবং সাম্যের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য। দেশে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা বাংলাদেশের আদালত নয় বরং আওয়ামী লীগের আদালতে পরিণত হয়েছে। কোর্টের রায়ের আগেই সরকারী দলের নেতারা রায় বলে দিচ্ছে। প্রধান বিচারপতিকে ধাক্কা দিয়ে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে এই সরকার। কিছু অপ্রিয় কথা বলার কারণেই তাকে হেনস্থা করা হয়েছে। তিনি এখন আমেরিকায় রাজনৈতিক আশ্রয় চাইছেন। লুটেরা সরকার রাষ্ট্রীয় রিজার্ভ, ব্যাংকের টাকা, পাথর, সোনা ডাকাতি করছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশ এভাবে চলতে পারে না। এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে আমি একটি বৃহৎ ঐক্যের আহবান জানাবো। বাংলাদেশের প্রতিটি পেশার মানুষ, ছাত্র, গৃহবৃধু, চিকিৎসক, শ্রমিকসহ সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন এ অবৈধ দখলদার লুটেরা সরকারের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা গায়েব হয়েছে, ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে এটা হয়েছে। এ টাকা জনগণের টাকা। দুঃখের বিষয় সেই টাকা দিয়ে বিদেশের মাটিতে জুয়া খেলা হচ্ছে! সরকারের কাছের লোক বেসিক ব্যাংকের টাকা লুট করেছে। বিএনপির সময় কি এরকম খবর আপনারা কেউ পত্রিকায় দেখেছেন? এরা শুধু টাকা নয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা সোনা তামা হয়ে গেছে। এ সরকার দেশটাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। কয়লা, পাথর গায়েব হয়ে যাচ্ছে, কদিন পর মাটি খুলে বিক্রি করে দিবে। সীমান্তের ফেলানি হত্যাকান্ডের মতো দৃশ্য বিএনপির শাসনামলে দেখা যায়নি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ অবৈধ সরকারের সময় ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম এবং দিনারের মতো নেতাদের গুম করা হয়েছে। বিএনপির আরেক নেতা সালাহউদ্দিনকে ভারতের সীমান্তে ফেলা আসা হয়েছে। আওয়ামী লীগের এ পর্যায়ের কোনো নেতাকে কি বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে গুম করেছে? না করেনি। এই হচ্ছে বিএনপি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য।

জনগণ যেন ঐক্যবদ্ধ না হতে পারে সে জন্য খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেছে সরকার মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, আজকে আমাদের প্রিয় নেত্রী, কোটি মানুষের জনপ্রিয় নেত্রীকে জোর করে জেলে আটকে রেখেছে সরকার। তিনি জনগণের জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচন, ভোটের অধিকার, আর জবাবদিহিতার সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। মানুষ যাতে খালেদা জিয়ার পেছনে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে, সে জন্য তাঁকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এ কথা বলার সময় উপস্থিত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী- “মুক্তি চাই, মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই”, “জেলের তালা ভাঙেবাে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবো” শ্লোগানে সভাস্থল প্রকম্পিত করে তোলে। সরকারের দমন-নিপীড়নের কড়া সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, এ অবৈধ সরকার শুধুু খালেদা জিয়াকে বন্দি করে ক্ষান্ত হয়নি, বিএনপির হাজারাে নেতা-কর্মী আটকে রেখেছে। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আজ আমাদের মাঝে শহীদ জিয়া নেই কিন্তু তাঁর আদর্শের লক্ষ-লক্ষ সৈনিক আছে। খালেদা জিয়া বন্দি থাকলেও তাঁর নির্দেশনা আমাদের সঙ্গে আছে। তাঁর লক্ষ-কোটি সৈনিক দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে। তারা বার বার খালেদা জিয়া এবং বিএনপিকে দেশের দায়িত্ব দিয়েছে।

বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহীদুল আলমের গ্রেফতারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শুধু বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জেলে নয় বরং যে মানুষটিই অপশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে হয় তাকে গুম-খুন, না হয় জেলে পোরা হয়েছে। কদিন আগে শহীদুল আলম নামের এক ফটো সাংবাদিককে কিভাবে আটক করেছে সরকার তা সবাই দেখেছেন। সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সোচ্চার হবার আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আজ যেন সাংবাদিকদের হাত বাঁধা। এত নির্যাতন সহ্য করে বিএনপি হাজারো নেতা-কর্মী যদি মানুষের জন্য লড়তে পারে, আপনারা কেন পারবেন না? আজ যদি আপনারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে না দাঁড়ান, তাহলে কাল তা পারবেন না। এসরকার আপনাদের কলমও কেড়ে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, কিভাবে একটা দেশকে ধ্বংস করতে তা আওয়ামী লীগ জানে। আর তা রংহেডেড হাসিনার কাছ থেকে শিখতে হবে। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে, দেশ স্বাধীন হবার পর যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রতিটি নির্বাচন ছিলো বিতর্কিত। বিনাভোটের এই দখলদার লুটেরা সরকারের হাত থেকে জাতি আজ মুক্তি চায়।

https://www.facebook.com/tareq.zia/videos/1897554643658726/

ছাত্রদলে আওয়ামী অনুপ্রবেশকারী :  নজরদারিতে কতিপয় ছাত্রনেতা!

বিশেষ প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির কিছু নেতাকে দলের বিশেষ নজরদারিতে আনা হয়েছে। আওয়ামী অনুপ্রবেশকারী বা অবৈধ হাসিনা  সরকারের এজেন্ট হিসাবে তারা কাজ করছে কিনা সে বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি রাখা হয়েছে। বিগত আন্দোলন সংগ্রামে তাদের ভুমিকা এবং আগামীতে তাদের কর্মকান্ডের অপর ভিত্তি করে দল থেকে পুরস্কার, তিরস্কার কিংবা বহিস্কার আদেশ আসতে পারে।

শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের চারপাশের গন্ডি যত ছোট হয়ে আসছে ততই অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য তারা মরিয়া হয়ে উঠছে। প্রতিনিয়ত নানা কুটকৌশল ও চক্রান্তের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। চাইছে বিএনপির মধ্যে ভাঙ্গন বা অস্থিরতা তৈরী করে বিএনপিকে দুর্বল করতে। প্রাথমিকভাবে বেছে নিয়েছে বিএনপির ভ্যানগার্ড খ্যাত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে।  বিশেষকরে করে গত ১ সেপ্টেম্বর কোন রকম পুর্বপ্রস্তুতি বা প্রচারণা ছাড়া দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বা দেশনায়ক তারেক রহমানের বিনা অনুপস্থিতিতে পল্টনের জনসমাবেশ যে জনসমুদ্রে পরিনত হয়েছে তাতেই হাসিনা সরকারের হৃদপিন্ডের রক্ত হীম হয়ে গিয়েছে। অবস্থা বেগতিক দেখে মরিয়া হয়ে উঠছে আওয়ামীলীগ ও তাদের দোসররা। এরই ধারাবাহিকতায় পল্টনের জনসভায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারির বক্তব্যের সময় কতিপয় ছাত্রদল নেতার মঞ্চে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, পরদিন পার্টি অফিসে রিজভী আহমেদের রুমে হট্টগোল এবং আল্টিমেটাম দেয়া- এসব সরকারের মদদে হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নুতন করে অভি-নীরু সৃষ্টি হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

জানা গেছে, বিশেষ নজরদারিতে যে সকল নাম এসেছে, তাদের অন্যতম হচ্ছেন ছাত্রদলের সহ সভাপতি নাজমুল হাসান, আব্দুল ওহাব, যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, নুরুল হুদা বাবু, আবুল হাসান, শামছুল আলম রানা, সহ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিম, আজিজুল হক পাটুয়ারী, ক্রীড়া সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ, সহ অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো. শামীম ইকবাল খান, সদস্য মোমিনুর রহমান মালিতা প্রমুখ।

বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের অনেকের মতে রাজনীতির বাস্তবতা ও পরিস্থিতি না বুঝে ছাত্রদলের যে সকল ছাত্রনেতা প্রকাশ্যে আল্টিমেটাম দিতে পারে, তারা আর যাই হোক দলের শুভাকাঙ্খি নয়। তারা নিজ স্বার্থে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইছে। তারা বিএনপির নয়, শেখ হাসিনার এজেন্ডা বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। এরূপ উপদান পাওয়া গেলে প্রয়োজনে এখনি তাদেরকে দল থেকে বহিস্কার করে আগামী আন্দোলন সংগ্রামের জন্য দলের ঐক্য অটুট রাখা প্রয়োজন।

আবার অন্য অনেক নেতার মতে, ছাত্রদলের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী নেতাদের আরেকটু সময় দেয়া উচিত। কারন তারাও আমাদেরই সন্তান। তারা অবশ্যই নিজেদের কৃতকর্মের জন্য ভুল বুঝতে পারবে এবং পার্টি অফিসে বেয়াদবির জন্য অনুতপ্ত হবে। আর যদি তা না করে যদি নিজেদেরকে তারা সকল কিছুর উর্ধে মনে করে, তাহলে বুঝতে হবে অবশ্যই তাদের পেছনে অন্য কোনো অপশক্তি রয়েছে। এ অবস্থায় দ্রুততার সাথে তাদেরকে হাসিনার পেইড এজেন্ট হিসাবে বিবেচনায় এনে দল থেকে বহিস্কার করা উচিত।

তবে বাস্তবতা হচ্ছে, খুবই গুরুত্বের সাথে বিশৃঙ্খলার বিষয়টি বিচার বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে- অতীতে এসকল ছাত্রনেতা কে কতটি মামলা খেয়েছে, কে কতবার জেলে গিয়েছে এবং দলের প্রয়োজনে কে কতটুকু কি ভুমিকা পালন করেছে। তার আলোকে আল্টিমেটামকারীদের ভুমিকা এবং তাদের পেছনে কারা মদদ দিচ্ছে, এ সবকিছু বিবেচনায় এনে দল দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে, এবং সে পদক্ষেপ দৃষ্টান্তমূলক হবে বলে দলের একটি সূত্র জানিয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বিএনপির জনসভা জনসমুদ্র

মহাসমাবেশ থেকে চার দাবী-
– তফসিলের আগেই সরকারের পদত্যাগ,
– খালেদা জিয়ার মুক্তি,
– নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন,
– নির্বাচনে সেনা মোতায়েন

নয়াপল্টনে আয়োজিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হলো। আশেপাশের সব এলাকা ছিল লাখ লাখ নেতা কর্মীর পদভারে প্রকম্পিত।
সমাবেশ থেকে বৃহত্তর ঐক্যের ডাক দিয়েছে বিএনপি। সমাবেশে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ডাক দিয়ে বলেছেন, ‘এখন আর বিভেদ নয়, গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশ রক্ষায় বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আমাদের বুকের ওপর যে দুঃশাসন চেপে বসেছে তাদেরকে পরাজিত করতে হবে।’ বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে আয়োজিত জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে তফসিল ঘোষণার আগেই শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি। শনিবার বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত বিশাল জনসভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই দাবি জানান। সমাবেশে বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি দিতে হবে এবং তফসিল ঘোষণার আগেই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। জাতীয় সংসদকে ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে এবং নির্বাচনের সময় সামরিক বাহিনীকে দায়িত্ব দিতে হবে।

সভা শুরুর আগেই সকাল থেকে দলের নেতাকর্মীরা নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেয়। লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। সমাবেশ শুরুর আগে দুপুর ১২টার মধ্যেই সমাবেশ স্থল কানায় কানায় ভরপুর হয়ে যায়। ১২টার পর থেকে আশপাশের এলাকায় জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। দুপুরের আগেই ফকিরের পুল থেকে শুরু করে কাকরাইল পর্যন্ত লম্বা সড়কটি যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সমাবেশ শুরুর আগেই নয়াপল্টনে জনতার ঢল নামে। এ সময় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির সমাবেশে নেতাকর্মীদের বিপুল উপস্থিতি সমাবেশের সীমানা পেরিয়ে যায়। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সীমানা ছাড়িয়ে সমাবেশ ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের এলাকায়। নয়াপল্টনসহ আশপাশের অলিগলিতেও অবস্থান নেয় হাজার হাজার নেতা-কর্মী। এছাড়া পল্টন মোড় থেকে কাকরাইল মোড়, সেগুনবাগিচাসহ অলিগলি ভরে যায় নেতা-কর্মী সাধারণ মানুষের অংশগ্রহনে। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ব্যানার হাতে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকের মিছিলে মিছিলে সমাবেশ জনসমুদ্রে রূপ নেয়। নেতা-কর্মীরা ‘আমার নেত্রী, আমার মা, বন্দি থাকতে দেবো না’, ‘খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে। কেউ কেউ ব্যান্ড বাজান, দলীয় সঙ্গীত গান। সকাল থেকেই মিছিলে মিছিলে সমাবেশে স্থলে যোগ দেয় হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। ঢাকার আশপাশের জেলা গাজীপুর, নরসিংদী, মানকিগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্নস্থান থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা জনসভায় যোগ দেন। :  বেলা আড়াইটার দিকে নয়াপল্টন ও তার আশেপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কাকরাইল মোড় থেকে শান্তিনগর এলাকা, পুরানা পল্টন, ফকিরেরপুল মোড় থেকে মতিঝিল এলাকা,  দৈনিক বাংলা মোড়, বিজয়নগর এলাকা, সেগুনবাগিচা এলাকা, রাজারবাগ এলাকাতেও নেতাকর্মীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। সমাবেশ ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, সেনা মোতায়েন করতে হবে। এ ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না, জনগণ হতে দেবে না।

খালেদা জিয়াসহ কারাগারে থাকা বিএনপির নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা বাতিল করতে হবে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ফখরুল বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তাঁকে সাজা দিতে চাইছে। রায়ের আগে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলে দিচ্ছেন, এ মামলায় তারেক রহমানের সাজা হবে। তাহলে কি আপনারা আগেই গণভবনে রায় লিখে রেখেছেন। মনে রাখবেন, কোনো ষড়যন্ত্রের রায় দেশের জণগন মেনে নিবে না।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় আতঙ্কে থাকে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মনে করে এই যে বিএনপি আইলো, এই যে তারেক রহমান আইলো।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারে সরকারের পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের মধ্যে এখন বিএনপিভীতি কাজ করছে। এই ভীতি থেকে বাঁচার জন্য তারা ইভিএম নিয়ে আসছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, আজ আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, সব রাজনৈতিক দল, সংগঠনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। জনগণের দাবি আদায় করতে হবে। অপশাসনকে পরাজিত করতে হবে। জাতিকে মুক্তি দিতে হবে।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মহাসচিব বলেন, আমাদের আজ বুকে সাহস নিয়ে, বুকে বল নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আজকের জনসমুদ্র প্রমাণ করেছে আজ বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বুকের রক্ত দিতে হবে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, দেশকে মুক্ত করতে হবে। যারা দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছে, তাদের রক্ত ছুয়ে শপথ নিতে হবে আমরা দেশের গণতন্ত্রকে মুক্ত করব, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব।

জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। জনসভায় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি করেছিল। জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক শূন্যতা দূর করতে বিএনপি গঠন করেছিলেন। আওয়ামী লীগ বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ১৯৭৪ সালে দেশে দুর্ভিক্ষ তৈরি করে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বানিয়েছিল, আর জিয়াউর রহমান দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছিলেন। সে জন্য আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ভয় পায়, জিয়া পরিবারকে ভয় পায়। বিএনপির প্রবীণ নেতা মোশাররফ হোসেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে বলেন, আপনারা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে অতীতের কথা ভুলে নিরপেক্ষ হয়ে যান। জনগণের পক্ষে অবস্থান নিন। কোনো একটি দলের হয়ে কাজ করবেন না।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস-চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী, আলতাব হোসেন চৌধুরী, জয়নুল আবদিন, বেগম সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, তৈয়মুর আলম খন্দকার, ফরহাদ হালীম ডোনার, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মাসুদ আহমেদ তালুকদার, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবি এম মোশাররফ হোসেন, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম, আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, কামরুল ইসলাম সজল, মো: মতিন, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা: দেওয়ান মো: সালাউদ্দীন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, সহ-সভাপতি নবী উল্লাহ নবী, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরীন খান, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোর্তাজুল করিম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, সহ-সভাপতি গোলাম সরোয়ার, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর ও দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু প্রমুখ।

 

ছবিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মহাসমাবেশ 

আজ শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জনসভা জনসমুদ্রে রূপান্তরিত হয়েছে। ছবিতে দেখুন সমাবেশে উপস্থিতির খণ্ডচিত্র। 

 

 

 

Image may contain: one or more people, crowd, stadium and outdoor
Image may contain: one or more people, crowd and outdoor
Image may contain: one or more people, crowd and outdoor
Image may contain: one or more people and outdoor

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Image may contain: one or more people, crowd and outdoor
Image may contain: one or more people, crowd and outdoor
Image may contain: one or more people, crowd and outdoor

বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশ জুড়ে উদ্দীপনা

আজ ১ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৭৮ সালের এই দিনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশ ও জাতির ঐতিহাসিক প্রয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি রাজনৈতিক দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। যে দলের অনুসারীরা হবেন বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, ধর্মীয় মূল্যবোধের ধারক-বাহক, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত সৎ ব্যক্তিত্ব ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণায় অনুপ্রাণিত। তিনি নিজেও এসব গুণের অধিকারী ছিলেন। জিয়াউর রহমানের বিএনপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে শুরু হয় উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি।

৪০ বছরের জীবনে চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে বিএনপি। বিশেষে করে বর্তমান দখলদার অবৈধ সরকারের প্রতিহিংসা ও রাজনৈতিক শত্রুতায় দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারমান তারেক রহমানও লন্ডনে নির্বাসনে। দলীয় নেতাকর্মীরা জেল জুলুম হুলিয়ায় আক্রান্ত। প্রতিটা নেতাকর্মীর নামে মামলা, কারও কারও নামে ২/৩ শ করে মামলা।

৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাণী দিয়েছেন। দিবসটি পালনে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি পালন করছে। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও মিডিয়া ক্রোড়পত্র প্রকাশসহ বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ১ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১০টায়  শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। আজ পল্টনে পার্টি অফিসের সামনে জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানস্থ চেয়ারপারসনের কার্যালয়সহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। আগামীকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনা সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও দেশের বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখবেন। এছাড়াও সারাদেশে মহানগর, জেলা, থানা-উপজেলা, পৌরসভা ও সকল ইউনিটে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি যথাযথভাবে পালন করছে।

জনসভা নিয়ে বিএনপিতে সাজ সাজ রব, ব্যাপক উদ্দীপনা

৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রাজপথে নামছে দলটি। রাজধানীতে ব্যাপক শোডাউন করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে রাজধানী থেকে মফস্বল সর্বত্র সাজ সাজ রব দেখা গেছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই দলীয় কার্যালয়ের সামনে ইতোমেধ্যেই জড়ো হয়েছেন। শুধু রাজধানীই নয়, ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকেও নেতাকর্মীরা সমাবেশে অংশ নিয়েছেন।

দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার দুপুর ২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা করবে দলটি। জানা গেছে, অন্য সমাবেশ থেকে এবারের সমাবেশে একটু ভিন্ন চিত্র দেখাতে চায় বিএনপি। প্রস্তুতিও সেরকমেরই। কারণ, আওয়ামী লীগের টানা প্রায় ১০ বছরের শাসনামলে এবারই প্রথম জনসভার অনুমতি চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনুমতি দেয়া হয়েছে বিএনপিকে। অন্যসময় নানা অযুহাতে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি, আবার কোনো কোনো সময় অনুমতি দেয়া হলেও তাতে নানা শর্তারোপ করা হয়েছিল। কিন্তু এবারই শর্তহীন জনসভা করার সুযোগ পেলো রাজপথের এই বিরোধী দল।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজপথে সক্রিয় থাকার মধ্যেই দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে রাজপথে সোচ্চার থাকবে দলটি। একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে বাধ্য করতে নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করবে বিএনপি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন নয়াপল্টনের সমাবেশ থেকে নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি দ্রুত মেনে নিতে সরকারকে আলটিমেটাম দেয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, অক্টোবরকে টার্গেট করে চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন থেকে দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নামবেন। এদিন সারা দেশে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। রাজধানীতে জনসভায় নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমাগম করার নির্দেশ রয়েছে হাইকমান্ডের। এজন্য ঢাকার আশপাশের জেলার নেতাদের ফোনে জনসভায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে উপস্থিত থাকার কথা কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে।

 

1 2