ষোড়শ সংশোধনীর রায় সরকারের পক্ষে দিতে প্রধান বিচারপতি সিনহাকে চাপ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা: ক্ষমতার অপব্যবহার ও শপথ লংঘন!

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিজের পক্ষে নিতে ক্ষমতার অপব্যহার করেছিলেন শেখ হাসিনা। সদ্য প্রকশিত বিচারপতি সিনহার লিখিত পুস্তক “A Broken Dream Rule of Law Human Rights and Democracy’ এর ৪৩২ পাতা থেকে ৪৪২ পাতায় তা ্উল্লেখ করেছেন যার সংক্ষিপ্ত রূপ এমন-
১ জুলাই ২০১৭ রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার মোবাইল নম্বরে ফোন করে তাঁকে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে বঙ্গভবনে চায়ের দাওয়াত দেন। পরেরদিন আবার সামরিক সচিব আবারও খুদেবার্তা দিয়ে প্রধান বিচারপতিকে তা মনে করিয়ে দেন। সাধারনত প্রধান বিচারপতিকে এভাবে কোনো দাওয়াত করা সভ্যতা ও রেওয়াজ বহির্ভুত। বরং রেজিষ্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে দেয়া হয়। নির্ধারিত দিনে বঙ্গভবনে গেলে প্রধান বিচারপতিকে সামরিক সচিবের কক্ষে প্রায় ৪৫ মিনিট বসিয়ে রেখে শেষে রাষ্ট্রপতির কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রপতির সাথে প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, এটর্নী জেনারেল উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধানের ১৬তম সংশোধনীর আপীল নিয়ে কথা বলেন, এবং প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করেন মামলার রায় সরকারের পক্ষে দিতে। বিচারপতি সিনহা তা দিতে অস্বীকার করেন, কেননা সংবিধানে ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে অধঃস্তন আদালতের প্রশাসন সুপ্রীম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ অনুযায়ী পরিচালনা করারর নির্দেশনা রয়েছে। এসব কথায় শেখ হাসিনা রেগে ওঠেন এবং বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে একগাদা অভিযোগ তুলে তাকে পদত্যাগ করতে বলেন। সিনহাও জানান, তিনি পদত্যাগ করবেন না, এবং শেষ দিন অবধি তিনি শপথের উপরে থাকবেন। প্রায় তিন ঘন্টা বৈঠক ব্যর্থতা ও হতাশা নিয়ে শেষ হয়। সরকার প্রধান ও অন্যান্যদের অসদ্ব্যবহারে বিচারপতি সিনহা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং প্রায় অচেতন অবস্থায় বাসায় ফিরেন। রাতে নির্ঘুম কাটান।

পরের দিন সকালে ৩ জুলাই ২০১৭, সংবিধানের ১৬তম সংশোধনী নিয়ে সরকারের আপীলের রায় ঘোষণা করার কথা। যদিও আপীল বিভাগের ৬ বিচারপতিই আগে ধারণা দিয়েছিলেন যে, তারা সবাই আপীল খারিজ করে দিবেন। তদুপরি সরকারের নানামুখি চেষ্টাতে বিচারপতি সিনহার মনে সন্দেহ হয় যে, বাকী বিচারপতিদেরকে সরকার তাদের পক্ষে নিয়ে থাকতে পারে। তাই কোর্ট বসার আগেই প্রধান বিচারপতি বাকী ৬ আপীল বিচারপতির সাথে ইনফরমাল বৈঠকে বসেন। আলোচনা করে দেখতে পান যে, সরকারের নানাবিধ গোপন তৎপরতার ফলে বিচারপতিদের মধ্যে বেশীরভাগ আপিল মঞ্জুর করার পক্ষে (অর্থাৎ সরকারের উদ্দেশ্য পূরণের) চলে গেছে। তাদের মধ্যে বিচারপতি ওয়াহহাব মিয়া, নাজমুন আরা সুলতানা এবং মীর্জা হায়দার আপীল নাকচের পক্ষে, অন্যদিকে বিচারপতি মাহমুদ হোসেন আপীল গ্রহনের পক্ষে, তার সাথে মীর্জা হায়দারও আছেন তার সাথে। অন্যদিকে বিচারপতি ইমান আলী দু’দিকে মাঝামাঝি অবস্থানে। তখন বিচারপতি সিনহা এক এক করে মীর্জা হায়দার, মাহমুদ হোসেন, এবং ইমান আলীকে নসিহত করতে লাগলেন- এই ষোড়শ সংশোধনী বহাল থাকলে দেশের বিচার বিভাগ পুরোটা চলে যাবে সরকারের অধীনে, ফলে বিচার ব্যবস্থা বলতে আর কিছু থাকবে না, এ নিয়ে বিচারপতিদের ভূমিকার স্মরণ করিয়ে দেন। একে একে এরা সবাই আপীল নাকচের পক্ষে চলে আসেন। সকাল সাড়ে দশটার পরে আপীল বিভাগের কোর্ট বসে। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা ষোড়শ সংশোধনী সংক্রান্ত আপীল বিভাগের রায় ঘোষনা করেন এক বাক্যে- “সর্বসম্মত ভাবে আপিল নাকচ করা হলো!” সেদিন ছিল সোমবার, কেবিনেট মিটিং ডে। ষোড়শ সংশোধনী নাকচ হওয়ার খবর পেয়ে শেখ হাসিনার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে!

তারপরে সেখান থেকে শুরু হয় যুদ্ধ, যাতে অস্ত্রের মুখে দেশত্যাগ ও পদত্যাগ করতে হয় বিচারপতি সিনহাকে। তবে নৈতিকভাবে পরাজয় ঘটে শেখ হাসিনার।

অস্ত্রের মুখে ডিজিএফআই ছুটি, দেশত্যাগ, ও পদত্যাগ করিয়েছিল- নিজে স্বীকার করে বিডিপলিটিকোর সংবাদ সত্য প্রমান করলেন বিচারপতি সিনহা!

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পরে সরকারের তীব্র প্রতিক্রিয়া উদ্ভুত জটিলতায় শেখ হাসিনার নির্দেশে সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ও কয়েকজন জেনারেল মিলে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে অস্ত্রের মুখে জোর করে  ‍ছুটিতে পাঠানো হয়, পরে তাকে আর দেশে ঢুকতে না দিয়ে বিদেশ থেকেই বেআইনীভাবে পদত্যাগ করানো হয়। ঐ ঘটনা নিয়ে বিডি পলিটিকো ধারাবাহিকভাগে সে সব খবরাদি প্রকাশ করে। কিন্তু সরকারী নিয়ন্ত্রনের কারনে দেশীয় কোনো মাধ্যমই তা স্বীকার করেনি।

বিডিপলিটিকো তখন লিখেছিল, “গত ২ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সিনহাকে কুপোকাত করতে তাঁর ওপর অস্ত্রশস্ত্র সহ চড়াও হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হোসেইন, ডিজি ডিজিএফআই মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন, রংপুর এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোঃ মাসুদ রাজ্জাক, ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার শায়েখ সহ আরও কিছু কর্মকর্তা। এরা খোলা অস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়ে প্রধান বিচারপতি সিহার কক্ষে। তারা অস্ত্রের মুখে প্রধান বিচারপতি সিনহাকে জিম্মি করে পদত্যাগ পত্রে সই করতে বলে। রাজী না হওয়ায় ক্ষেপে যায় জেনারেল আকবর। গালাগালি শুরু করে, এক পর্যায়ে কয়েকটা থাপ্পড় বসিয়ে দেন প্রধান বিচারপতির গালে মুখে মাথায়, শেষে লাত্থি দিয়ে ফেলে দেন চেয়ার থেকে নিচে। তাদের এই তান্ডবের পুরো সময়টা উপস্থিত ছিলেন আইন সচিব জহিরুল হক ওরফে পিস্তল দুলাল। পরে প্রধান বিচারপতির একমাসের ছুটির কাগজ বানিয়ে সই করে বেরিয়ে যায় আকবর বাহিনী। সেই কাগজ দিয়েই বিচারপতি সিনহাকে জোর করে বিদেশে পাঠিয়ে দেয় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।”

ঘটনার প্রায় এক বছর পরে আজ প্রকাশ হওয়া বিচারপতি সিনহা তার লিখিত পুস্তক “A Broken Dream: Rule of Law, Human Rights and Democracy”- এর মুখবন্ধে তিনি সেই সব ঘটনাবলী প্রকাশ করেছেন শোভন ভাষায়। আর এভাবেই বিডি পলিটিকোর খবরাদি কনফার্ম করলেন বিচারপতি সিনহা। তিনি লিখেছেন- “Following the appellate decision, on September 13 the parliament passed a resolution calling for legal steps to nullify the Supreme Court verdict. Prime Minister and other members of her party and ministers blasted me for going against the parliament. Cabinet members including the Law Minister began smearing me alleging misconduct and corruption. While I remained confined at my official residence and lawyers and judges were prevented to visit me, media were told that I am unwell and have sought medical leave. Various ministers said I will go abroad on medical leave. On October 14, 2017, as I was compelled to leave the country, I tried to clear the air in a public statement that I am neither unwell nor am I leaving the country for good. I was hoping that my physical absence combined with Court’s regular vacation will allow the situation to calm down and good sense will prevail; that the government will understand that the essence of the Verdict – upholding the independence of judiciary – is beneficial to the nation and the state. Finally, in the face of intimidation and threats to my family and friends by the country’s military intelligence agency called the Directorate General of the Defense Forces Intelligence (DGDFI), I submitted resignation from abroad.

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা

নেতৃত্বের ব্যর্থতা সত্ত্বেও সুপ্রীম কোর্ট বারে বিএনপির বিশাল বিজয়: উচ্ছাস এবং সংশয়!

সুপ্রিম কোর্ট বারে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরে দু’জনের আলাপ-
বেগম জিয়ার মামলা সংক্রান্ত কাজের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে একটা প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করছে। স্মৃতি বলে, বিগত ২৫/৩০ বছর আইনজীবী সমিতি, বার কাউন্সিল এবং সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিল সব সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দখলেই ছিল, সব সময়ই তারা নির্বাচিত হয়েছেন। এমনকি আওয়ামী লীগের গত দশ বছরের শাসনকালেও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরাই বারবার নির্বাচিত হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
প্রশ্ন হচ্ছে-
১/ এর ফলে বিএনপিপন্থী বা বিএনপি কিংবা বিএনপি’র সমমনা দলের কি কি উপকার হয়েছে?
২/ বার কাউন্সিল কি আইসিটি মামলায় টবি ক্যাডম্যানকে মামলা পরিচালনা করার অনুমতি দিয়েছিল? (সেই বার কাউন্সিলে কিন্তু বিএনপি-জামায়াত সমর্থিতরাই নির্বাচিত ছিলেন) । এই বার কাউন্সিল কি লর্ড কার্লাইলকে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে মামলা পরিচালনার অনুমতি দেবে?
৩/ বার কাউন্সিল কি সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আদালত থেকে কোন রায় আনতে পেরেছে?
৪/ বাংলাদেশের আদালতে যে ন্যায় বিচার পাওয়া যায় না এবং আদালতগুলো যে সরকারের নির্দেশ নগ্নভাবে পালন করছে, সেই বিষয়গুলো কি বার কাউন্সিলের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে পেরেছেন?
 

জবাবঃ
বার সমিতি এবং বার কাউন্সিল দুটো আলাদা বিষয়।
দেশে আ্ইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বা বিচার বিভাগের প্রতি জনগনের আশা আকাঙ্খার পূরনের লক্ষে সর্বোচ্চ আদালতের বার  সমিতির যে গুরু দায়িত্ব পালনের কথা ছিল, সাম্প্রতিককালে তা পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপারসনের মামলায় উচ্চ আদালত থেকে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি এই বার সমিতি। বরং তাদের কাছ থেকে যে ধরণের কর্মসূচি এবং সিরিয়াস কিছু আশা করেছিল দেশের মানুষ, লজ্জাকরভাবে তা করতে ব্যর্থ হয়েছে বার সমিতির নেতারা। অথচ তাদের উপরে আস্থা রেখে বার বার ভোট দেয় সাধারন ভোটাররা।
বার সমিতির ব্যর্থতার নানাবিধ কারনের মধ্যে অন্যতম হলো নেতারা তাদের কোটারি স্বার্থ ত্যাগ করে ক্যাচালে সাহসী হয়নি।
বারের নেতাদের অনেক ধরনের ব্যবসা আছে। এর মধ্যে জামিনের কোটা একটা বিরাট বিষয়। তাছাড়া জজদের সাথে ইন্টারনাল এরঞ্জমেন্ট আছে। এসব বাদ দিয়ে দলের জন্য কিছু করতে যাবে কেনো?
নির্বাচনে কেউ কেউ কোটি টাকার বেশি খর্চ করে। এর ১০/২০ গুণ তুলে নেয় তারা। সরকারের অনুগত প্রধান বিচারপতি বা দলবাজ বিচারকদের সাথে লাগতে গিয়ে তারা এসব সুযোগ নষ্ট করবে নাকি?
আইনজীবী ভবন বরাদ্দ নিয়ে তারা ব্যাপক দুর্নীতি করেছে, তা নিয়ে সাধারণের মধ্যে অনেক ক্ষোভ ছিল। অনেক জাতীয়তাবাদী ত্যাগী আইনজীবীকে তারা রুম দেয় নাই। কিন্তু পয়সা নিয়ে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের ভালো ভালো রুম দিয়েছে। তারপরও এবার তাদেরকে ভোট দিয়েছে! ভাবা যায়?
 

অন্য দিকে কাউন্সিলে পদাধিকারবলে সভাপতি এটর্নি জেনারেল। মাহবুবে আলমের সময়ে বিদেশী ল’ইয়ার সুযোগ দিবে – এটা আশা করা বৃথা! তাছাড়া গতবারের বার কাউন্সিল তো রীতিমত ডাকাতি করে নিয়েছে হাসিনা। এসব বিষয়ে যে ধরনের রোল প্লে করা দরকার ছিল বার সমিতি তা দেখাতে পুরোপুরি ব্যর্থ ছিল।
তাহলে এই বিজয়ে আমাদের এত উচ্ছাসের কি আছে ভাই? 😞
ভাইরে তারপরেও নির্বাচন বলে কথা। কাজ না দেখাতে পারুক, এটলিস্ট মুখ রক্ষার চেষ্টা আর কি। বিপক্ষ দল জিতলে তো জমিনে শেয়ায়ে ফেলত। অন্তত তা থেকে পিঠ রক্ষা আর কি।
তবে আইনের শাসন থাকলে বা হাসিনার স্বৈরশাসন না হলে চেহারা ভিন্ন থাকত। জয়নাল খোকনকেই তো এরেস্ট থেকে বাঁচতে নানা কিছু করতে হয়েছে। এটা একটা সার্বিক দুরাবস্থা।
এখানে যদি ঠিক মত লীডারশিপ থাকত, যেমন মাইনুল হোসেন বা কামাল হোসেন টাইপের, তাহলে এই অঙ্গন থেকে পটপরিবর্তন করে ফেলত।
৫৪ ভোটে সভাপতি বিজয়- যাস্ট কানের কাছ দিয়ে গেছে! তবুও ১০-৪ ঐতিহাসিক বিজয় আইনিজীবিদের ক্ষোভ এবং গণবিপ্লবের আলামত। এত ব্যর্থতার পরেও আইনজীবিরা তাদের উপর আস্থা রেখেছেন। এবারে এই সেন্টিমেন্ট ক্যাশ করতে পারলে হয়। লীড দেয়ার সময়- দেখানোর সময় এবার।

 

সুপ্রিমকোর্ট বার নির্বাচন: সভাপতি সম্পাদকসহ বিএনপিপন্থীদের নিরঙ্কুশ বিজয়

দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নীল প্যানেল সভাপতি-সম্পাদকসহ ১০টি পদে নিরঙ্কুশ বিজয়ী হয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল সহ-সম্পাদকসহ বাকি চারটি পদে জয়লাভ করেছে।

সভাপতি পদে নীল প্যানেলের অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন আবারও বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাদা প্যানেলের ইউসুফ হোসেন হুমায়ন। সাধারণ সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ৪৪১ ভোট বেশি পেয়ে টানা ষষ্ঠ বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাদা প্যানেলের এসকে মো. মোরসেদ।

বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি পদে ড. মো. গোলাম রহমান ভুইয়া, এম গোলাম মোস্তফা, কোষাধ্যক্ষ নাসরিন আক্তার, সহ-সম্পাদক কাজী জয়নুল আবেদীন, সদস্য পদে মাহফুজ বিন ইউসুফ, সাইফুর আলম মাহমুদ, মো. আহসান উল্লাহ ও মোহাম্মদ মেহদী হাসান বিজয়ী হয়েছেন।

অপরদিকে সাদা প্যানেল থেকে সহ-সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, সদস্য ব্যারিস্টার আশরাফুল হাদী, শাহানা ও শেখ মোহাম্মদ মাজু মিয়া জয়লাভ করেছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ ওয়াই মশিউজ্জামান।

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলানায়তনে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হয়। ৪৫টি বুথে ভোটগ্রহণ হয়। মাঝখানে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে প্রতিদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে।

মোট ৬ হাজার ১৫২ জন ভোটারের মধ্যে প্রথম দিন ২ হাজার ৬০৯ জন আইনজীবী। তাঁদের ভোট দেন। বাকিরা ভোট দেন দ্বিতীয় দিন।

সুপ্রিম কোর্ট বারের কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদের মধ্যে সাতটি সম্পাদকীয় ও সাতটি নির্বাহী সদস্যের পদ।

/শীর্ষনিউজ

 

প্রেসক্লাবে অস্ত্র উঁচিয়ে গোয়েন্দা পুলিশদের গ্রেফতার অভিযান সুুপ্রিম কোর্টের দিকনির্দেশনার লঙ্ঘন

ওই গ্রেপ্তারের ঘটনায় বাংলাদেশ বনাম ব্লাস্টের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক ঐতিহাসিক রায়ে দেওয়া দিকনির্দেশনার লঙ্ঘন ঘটেছে। রায়ে বলা আছে, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো কর্মকর্তা তাঁর পরিচয় প্রকাশ করবেন এবং যদি দাবি করা হয়, তাহলে গ্রেপ্তার ব্যক্তি বা গ্রেপ্তারের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে তিনি তাঁর পরিচয়পত্র প্রদর্শন করবেন।’

গত মঙ্গলবার ডিবির প্রেসক্লাব অভিযানে পরিচয়পত্র দূরে থাক, উপস্থিত সাংবাদিকেরা আতঙ্কিত হয়ে ভাবতে বসেছিলেন, এই অস্ত্রধারীরা কারা? নাশকতাকারী ভেবে অনেকে চিৎকার শুরু করলে তাঁরা বলেছেন ‘আমরা পুলিশ’। পুলিশের সাবেক আইজি নূর মোহাম্মদ প্রথম আলোর কাছে স্বীকার করেছেন, ‘অপ্রীতিকর অবস্থা এড়াতে মানুষকে অবশ্যই অস্ত্রধারীর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত করাতে হবে।’ একটি ডিবি টিম একজন রাজনৈতিক নেতাকে কর্মসূচির ভেতর থেকে গ্রেপ্তারে কেন অনাবশ্যক শক্তি প্রদর্শন করল, সে বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন ও বিস্ময় দেখা দিলেও তার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। জানা গেছে,শফিউল বারী বাবু  ৯০টির বেশি ‘রাজনৈতিক’ মামলার আসামি, দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। পুলিশ এত দিন যাঁকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হলো, তাঁকে এবার প্রেসক্লাবে পেয়ে এভাবে শোরগোল ফেলে ধরার দরকার পড়ল কেন?

ওই গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইনের বহুবিধ লঙ্ঘন ঘটেছে। ১৯৯৮ সালে শেখ হাসিনার প্রথম শাসনামলে ডিবি সদস্যদের হাতে শামীম রেজা রুবেল হত্যাকাণ্ড ঝড় তুলেছিল। তখন আওয়ামী লীগ সরকার বিচারপতি হাবিবুর রহমান খানের নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন করেছিল। সেই কমিশনের আলোকেই দুই বছর আগে আপিল বিভাগ গ্রেপ্তার ও রিমান্ড সম্পর্কে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।

প্রেসক্লাব থেকে সাদাপোশাকে ডিবির অভিযান সেই বিচার বিভাগীয় কমিশনের কথাই স্মরণ করিয়ে দেবে। বিচারপতি হাবিবুর রহমান খান কমিশনের সুপারিশের অনেকটা বাস্তবায়ন করেছিল আওয়ামী লীগ। খান কমিশন তার সুপারিশে বলেছিল, গ্রেপ্তারের পর গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে কী কারণে এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, পুলিশ তা নিয়ে লুকোচুরির আশ্রয় নেবে না। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নিকটাত্মীয়কে তা জানাতে হবে অথবা তাঁর মনোনীত আইনজীবীকে সংবাদ দেবে। ব্লাস্টের মামলায় ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের বরাতে ২০০৩ সালে হাইকোর্টের গাইডলাইনে বলা ছিল, গ্রেপ্তারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হবে। বারীকে গ্রেপ্তারের ১১ ঘণ্টা পরে বারীর স্ত্রী প্রথম আলোকে বলেছেন, পুলিশের তরফে কেউ তাঁদের সঙ্গে কথা বলেননি।

ফোনে তিনি পুলিশ কর্মকর্তা মি. দীপককে পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি জানাননি ঠিক কোন মামলায় তাঁকে ধরা হয়েছে।

খান কমিশন এটাও বলেছিল, ‘যদিও ধৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটবর্তী হাকিমের কাছে পাঠানোর বিধান আছে, তবু স্থান-কালভেদে অধিক সময় থানাহাজতে রাখার প্রয়োজন না থাকলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।’ দুপুর ১২টার দিকে ধরার পরে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করার কোনো চেষ্টা ছিল বলে জানা যায়নি।

ব্লাস্ট মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা, বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২৪ মে ২০১৬ তারিখে দেওয়া রায়ে বলেছিলেন, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ যখন কেবল অত্যন্ত দরকারি হয়ে পড়বে এবং তাদের কর্তব্য পালনে প্রয়োজনের সীমা পর্যন্ত তারা শক্তি প্রয়োগ করতে পারে।’

প্রেসক্লাবের ঘটনা থেকে প্রতীয়মান, সরকার বা পুলিশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা সম্পর্কে উদাসীন, এটা সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোকে অবহিত করানো দরকার। এতে বলা আছে, ‘কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কোনো ধরনের উসকানি কিংবা কোনো ধরনের নির্যাতন বা বেদনাদায়ক কিছু হতে দেওয়া সহ্য করবে না কিংবা অন্য কোনো প্রকারের নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তি কিংবা কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উচ্চতর আদেশ প্রয়োগ করবে না কিংবা একটি যুদ্ধ বা একটি যুদ্ধের হুমকি, জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বা অন্য কোনো জরুরি অবস্থার (পাবলিক ইমার্জেন্সি) মতো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিকে নির্যাতন কিংবা অন্যান্য নিষ্ঠুরতা, অমানবিক কিংবা অবমাননাকর আচরণ কিংবা শাস্তিদানের যৌক্তিকতা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।’

১৯৯৮ সালে খান কমিশনের নির্দেশনা শুধরে ২০১৬ সালের রায়ে যা লেখা হয়েছিল, তার বিচ্যুতি প্রমাণিত বলা যায়। কারণ এতে বলা আছে, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন সদস্য কর্মকর্তা কাউকে গ্রেপ্তার করার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কিন্তু অনধিক ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের স্থান, সময় এবং অন্তরীণ রাখার স্থান সম্পর্কে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নিকটতম আত্মীয়কে এবং তেমন আত্মীয়ের অনুপস্থিতিতে গ্রেপ্তার ব্যক্তির সুপারিশমতে তাঁর কোনো বন্ধুকে অবহিত করবেন।’ এমনকি এ কথাও বলা আছে, ‘বাসা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হলে তাঁর নিকটাত্মীয়কে এক ঘণ্টার মধ্যে টেলিফোন বা বিশেষ বার্তাবাহক মারফত বিষয়টি জানাতে হবে। শফিউল বারীকে গ্রেপ্তারের পর এটা তামিল হয়নি। ডিবির ওই টিম এটা জানত কি না, সেটাও একটা প্রশ্ন বটে। তবে না জানাটা দাবি করা হবে দোষণীয়।

বারীর স্ত্রী বলেছেন, তাঁকে বা তাঁদের আইনজীবীদের বারীর সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। অথচ সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, ‘আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি যদি ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তাহলে তাঁর পছন্দ অনুযায়ী একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের কিংবা তাঁর কোনো নিকটাত্মীয়র সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করবেন।’

 সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে যথাবিহিত ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। নির্বাচনী বছরটিতে মনে হচ্ছে ওই নির্দেশনা পালন করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কুম্ভকর্ণদের ঘুম ভাঙাতে পুনরায় বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপ দরকার পড়বে।

সিনহার পথে বিচারপতি ওয়াহ্হাব- পদত্যাগ করেননি- অঘোষিত হাউজ এরেস্ট!

অবৈধ  শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষ থেকে যদিও বলা হয়েছে বিচারপ তি ওয়াহ্হাব মিয়া পদত্যাগ করেছেন। আসলে তা সত্যি নয়। মূলতঃ বিচারপতি সিনহার ভাগ্যই বরণ করতে যাচ্ছেন ওয়াহ্হাব।

বিচারপতি সিনহা পদত্যাগ করেছেন সরকার দাবী করলেও আসলে তা সত্যি ছিল না। তিনি কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। বরং ঐ কৌশল অবলম্বন করে তাকে দেশে ফিরতে না দিয়ে অবশেষে স্বাভাবিক অবসরে পাঠানো হয় ৩১ জানুয়ারি। বিচারপতি ওয়াহবের কপালেও তাই জুটেছে। তিনিও পদত্যাগ করেননি। তার নামে একটা পদত্যাগপত্র দেখানো হয়েছে, সেটা আসলে তার সই নয়। বরং তাকে গৃহে অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে। তাঁর নামে কথিত পদত্যাগপত্রও সিনহার নামে বানোয়াট পদত্যাগপত্রের মত গেজেট হবে না। তবে তাঁকে এজলাসে বসতে দেয়া হবে না, সুপ্রিম কোর্টের জাজ তালিকায় নামও থাকবে না। মেয়াদ শেষে নভেম্বরে তার স্বাভাবিক অবসর হতে পারে বিচারপতি ওয়াহ্হাবের।

গত  ‍শুক্রবার ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসাবে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নাম প্রকাশ করে বঙ্গভবন। এর আগের রাতে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সাথে কুমন্ত্রণা করে আসে। পরের দিন শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি অফিসে যান। সরকারের কাছে খবর আসতে থাকে আপিল বিভাগের চার বিচারপতি অনাস্থা জানাতে পারেন সদ্য ঘোষিত প্রধান বিচারপতি মাহমুদ হোসেনকে। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ২২ আগস্টের রায় প্রকাশ হতে পারে।  এরপরেই ঘটতে থাকে নানান নাটকীয় ঘটনা। বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ২২ আগস্টের রায় থেকে তার নাম প্রত্যাহার করে নেন। ফলে ঐ সময়ের মধ্যে রায় সংশোধন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ঐ সময়ে আইন সচিব পিস্তল দুলালের কর্মকান্ড শুরু হয়ে যায়। সিনহার উপরে ব্যবহার করা পদ্ধতিতে বিচারপতি ওয়াহাব পদত্যাগ করেছেন ব্রেকিং খবর  প্রচার হতে থাকে। পরে মিডিয়াতে ছেড়ে দেয়া হয় তিন লাইনের একটি বানোয়াট পদত্যাপত্র, যার মধ্যে দশটা বানান ভুল, এমনকি সুপ্রিমকোর্ট, আপিল বিভাগ, মহাত্মন, বিশ্বস্ত এরকম সাধারণ বানানগুলো সঠিক ছিলো না।  রাত পৌনে দশটায় বিচারপতি ওয়াহাব বাসায় ফিরে যান। এরপর রমনা থানার ওসির নেতৃত্বে এসআই আজাদ সহ প্রচুর পুলিশ গিয়ে বিচারপতির ওয়াহ্হাবের বাসায় ঢুকে তল্লাশি চালায়। ল্যাপটপ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন দলিল তুলে নিয়ে যায়। চাপ প্রয়োগ করে কিছু কাগজপত্রে সই করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। বিচারপতি মাহমুদ হোসেনের শপথ গ্রহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেন ওয়াহহাব মিঞা এমন আশংকায় তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হয় শনিবার শপথ শেষ না হওয়া পর্যন্ত। তবে বন্দি দশা শিথিল করা হলেও তার বাসায় আজও কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি।  তিনি বাড়ির ভেতরেও নজরদারীতে আছেন- কোথাও কথা বলতে পারছেন না। আইনজীবি ও সাংবাদিকরা গিয়ে বিচারপতি ওহাবকে অন্তরীণ অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে পারেন।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের সর্বজ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা শেখ হাসিনার সরকার কতৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও অনেক গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে রায় ও মত দেন। যার ফলে আওয়ামীলীগ সরকারকে অনেক বিপদে পড়তে হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচন অনু্ষ্ঠানের সরকারী আগ্রহকে নাকচ করেছিলেন বিচারপতি ওয়াহাব। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্খাকে সংবিধান সম্মত হিসাবে ঘোষণা করেন এবং বাংলাদেশের বিরোধপূর্ন রাজনীাততে এই ব্যবস্থাই গ্রহনযোগ্য বলে মত দিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়াও জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদন্ড দিতে সরকার যখন মরিয়া হয়ে ওঠে, তখন বিচারপতি ওয়াহাব তাকে দিয়েছিলেন খালাস। ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়ের পরে বিচারপতি সিনহাকে নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার পরে ২২ আগস্ট আপিল বিভাগের বাকী পাঁচ বিচারপতির সঙ্গে  দেয়া রায়ে বর্তমান বিনাভোটের  সংসদ ও সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করেন বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিয়া। সেই রায় প্রকাশ ও বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের সাথে বিরোধের জের ধরে তাঁকে সিনহার ভাগ্য বরণ করতে হয়।

প্রধান বিচারপতির নিয়োগ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা: মাহমুদ হোসেনের নিয়োগ অবৈধ? বিচারপতি ওয়াহ্হাব পদত্যাগ করেননি। !

এ যেনো ছোটগল্পের মত- শেষ হইয়াও হইল না শেষ! বিচারপতি এসকে সিনহার পরে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিয়াকে বাদ দিয়ে পরবর্তী বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। আগামী কাল শনিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা।

কিন্তু আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬তম সংশোধনীর রায় প্রকাশের পরে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের এই নিয়োগ অবৈধ। আজ রাতেই হয়ত এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট সকলে কাজ করছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে টিভিতে ব্রেকিং নিউজ দিয়ে জানানো হয়েছে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ করেছেন। সূত্র জানাচ্ছে, আসলে তিনি পদত্যাগ করেননি। কার্য  হাসিলের লক্ষে এটা অবৈধ সরকারের মিথ্যা প্রচারণা। মূলত, আদালত ঘোষিত হাসিনার অবৈধ সরকার টিকিয়ে রাখতে কলকৌশল মাত্র। খুব সহসাই বিস্তারিত জানা যাবে।