যেকোন মূল্যে নিজেদের প্রভাবকে স্থায়ী করতে বর্তমান সরকারের বিকল্প নেই উল্লেখ করে মিডিয়ায় আওয়ামীলীগ সরকারের গুণকীর্তন করতে সংশ্লিষ্ট সম্পাদক, বার্তা সম্পাদকদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, যুগান্তর, ডেইলি স্টার, সমকাল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে মিডিয়া হাউসে রীতিমতো আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। আর এদিকে গত বৃহস্পতিবার আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ১৫০ কোটি টাকা পাওয়ার পর গত শুক্রবার এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় ওইসব পত্রিকার সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদকরা।
জানা যায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগ সরকারকে যেকোন মূল্যে সরকারে রাখতে ইতোমধ্যে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা করে সম্মানী পেয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, যুগান্তর, ডেইলি স্টার, সমকাল সম্পাদকরা। এসব দৈনিকের বার্তা সম্পাদকরা পেয়েছেন ৫ কোটি করে। গত বৃহস্পতিবার একশত পঞ্চাশ কোটি টাকা বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, যুগান্তর, ডেইলি স্টার, সমকাল সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদকদের স্ত্রী, সন্তানদের ব্যাংক একাউন্টে যোগ হয়েছে বলে আওয়ামীলীগের এক দায়িত্বশীল নেতা জানান।
মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, সোনালী ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক এর মোট ২৫ টি একাউন্টে ১৫০ কোটি টাকা যোগ হয়েছে বলে একটি বিশ্বস্ত সূত্র দাবি করেছে। ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য অনুসারে কিছু কিছু একাউন্টে এসব টাকা জমা দেয়ার ক্ষেত্রে রেস্ট্রিকটেড করা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদস্থ একজন ডাইরেক্টরের নির্দেশে টাকাগুলো জমা নেয়া হয়। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক এর এক শাখার সংশ্লিষ্ট ম্যানেজার লেনদেনে অসামঞ্জস্যতা লক্ষ করে টাকা জমা না নিতে সংশ্লিস্ট অফিসারকে নির্দেশ দিলে উত্তেজনা হয়ে টাকা জমাকারী একজন ব্যাক্তি কোথাও ফোন দেন। ফোন দেয়ার ১০ মিনিট পরেই ওই শাখা ব্যবস্থাপকের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি ফোন আসে। আর তিনিও টাকা জমা নিতে বাধ্য হন।
সূত্রের দাবি, সরকারের পক্ষে অনেক আগে থেকেই কাজ করে আসছে বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, যুগান্তর, ডেইলি স্টার, সমকাল মিডিয়া হাউসের সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদকরা। অঘোষিত এক চুক্তির মাধ্যমে তারা আওয়ামীলীগ সরকারের গুন কীর্তণ এতদিন পর্দার আড়ালে করে আসলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমানে চালাচ্ছে প্রকাশ্যে। আর তাদের পাওনা বুঝিয়ে দিতেই আওয়ামীলীগ সরকার তাদের শেষ সময়ে সম্পাদকদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেন।
/বিডি ফ্যাক্টস চেক
