বেনজিরকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মহা ক্যাচালে হাসিনা

গুরুতর মানবাধিকার লংঘনের দায়ে মার্কিন স্যাংশনপ্রাপ্ত আইজিপি বেনজিরকে নিয়ে মহা ব্যস্ত হয়ে উঠেছে হাসিনা ও ভারত। তারা মনে করছে, বেনজিরকে যেকোনো ভাবে জাতিসংঘে পাঠাতে পারলে সেটা তাদের একটা বিজয় হবে, এবং ভেঙে পড়া মনোবল জাগাতে পারবে!

এই লক্ষে তারা জাতিসংঘের পুলিশ সম্মেলনে বেনজিরকে পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষে মার্কিন রাষ্টদূতের সাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের বৈঠকের পরিণতিও ব্যর্থ হয়েছে। আইজিপি বেনজিরকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।

এ অবস্থায় শেখ হাসিনা সরকার নতুন চালাকির আশ্রয় নিয়েছে। আর তা হলো- সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তার নিজের সফরে আইন ভঙ্গ করে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা দলের অগ্রবর্তী দলের প্রধান হিসাবে বেনজিরকে নমিনেশন দিয়ে তার ভিসা চেয়ে পূণরায় চিঠি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে এবং স্টেইট ডিপার্টমেন্টে। অথচ দেশের আইন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্ব এসএসএফের। তাতে পুলিশ প্রধানকে নেয়ার কোনো সুযোগ নাই। অথচ বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী গো ধরেছেন, বেনজিরকে ভিসা না দিলে তিনি নিজেও জাতিসংঘে যাবেন না। এভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্যাংশনকে চ্যালেঞ্জ করতে চাইছে। আর এই শিশসুলভ আবদারে ভারত কূটনৈতিক লবিয়িংয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট, মানবাধিকার বিষয়ক সিনেট কমিটি সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলি বসে নেই, তারা যা করার করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরাও জয়েন্ট ক্যাম্পেন নিয়ে আগাচ্ছে।

জাতিসংঘে বিএনপি মহাসচিবের হাই-পাওয়ার বৈঠক অনুষ্ঠিত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল (পলিটিক্যাল) মিরোস্লাভ জেনকার সহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের হেডকোয়ার্টারে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এ বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হুমাযূন কবির এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল।

বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট সংকট, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যায় কারাবাস ও বিচারহীনতা, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামীলীগ সরকারে গুম খুন গ্রেফতার এবং রাজনৈতিক নিবর্তন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিএনপি মহাসচিব বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট সংকট নিরসনে জাতিসংঘের সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ করে এর আগে ২০১৩ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে তারানকো মিশনের ধারাবাহিতায় সম্ভাব্য করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। শিঘ্রই এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সাথে জাতিসংঘ কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে বৈঠকসূত্রে জানা গেছে। জাতিসংঘে আমন্ত্রণ এবং এ বৈঠকের জন্য মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে ধন্যবাদ জানান বিএনপি মহাসচিব।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষে রাজনীতি বিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিরোস্লাভ জেনকার কিছু দিন আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে জাতিসংঘে সফরের জন্য আমন্ত্রণ পাঠিয়েছিলেন। তবে জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস জরুরী কাজে ঘানায় থাকায় তার পক্ষে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল তার ৪ জন উর্ধতন কর্মকর্তা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল জাতিসংঘ সদর দফতরে পৌছানোর সাথে সাথে পলিটিক্যাল উইংয়ের কর্মকর্তারা এস্কর্ট করে নিয়ে যান এবং বৈঠক শেষে গাড়িতে পৌছে দেন।