মানবাধিকার লংঘনের দায়ে বাংলাদেশ সরকারের মনোনীত ডিফেন্স এটাশের নিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের অসম্মতি!

বাংলাদেশে গুম খুন ভয়াবহ মানবাধিকার লংঘনের দায়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট খুব কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলকে ডিফেন্স এটাশে হিসাবে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে পদায়নের প্রস্তাব দিলে স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে জানানো হয়- ঐ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘনের সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাই তাকে যুক্তরাষ্ট্র ঐ পদে গ্রহন করবে না। বিষয়টি বাংলাদেশ সরকার এবং সেনাবাহিনীর জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে!

২০১৭ সালের মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কান্ট্রি রিপোর্টে বাংলাদেশ সরকারে বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ড নিয়ে ব্যাপক তথ্য তুলে ধরা হয় এবং বিভিন্ন বাহিনী নির্যাতন ও মানবাধিকার লংঘন করেও পার পেয়ে যায় মন্তব্য করা হয়েছে।

কেবল যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনই নয়, জাতিসংঘ সদর দফতর জানতে পেরেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনেক কর্মকর্তা র‌্যাব এবং বিভিন্ন অবস্থানে থেকে খুন, গুম ও মানবাধিকার লংঘনে জড়িত থাকার পরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দলে যোগ দিয়ে তাদের অপরাধ লুকানোর চেষ্টা করে। এসংক্রান্তে একাধিক লিখিত অভিযোগের পরে শান্তিরক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেস্ক থেকে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া র‌্যাবের বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড নিয়ে সুইডিস রেডিওর দীর্ঘ প্রতিবেদনের পরে বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ফলে মানবাধিকার লংঘনের নানা অভিযোগে বাংলাদেশের পুলিশের সাথে সাথে সেনাবাহিনীকেও শান্তিরক্ষা বাহিনীতে নিয়োগের ওপরে নিষেধাজ্ঞায় আওতার আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া মানবাধিকার লংঘনের দায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে নিয়োগ বন্ধ করে তদস্থলে ভারতীয়দের কোটা বাড়ানোর জন্য ভারত সরকার অনেক আগে থেকে জাতিসংঘে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.