একটি প্রমাদ সংশোধনী: পিলখানা ষড়যন্ত্রে জড়িত ৪৪ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্নেল শামস সঠিক আবিস্কার!

বাংলাদেশ সেনাবাহীনির বর্তমান ব্রিগেডিয়ার শামসুল আলম চৌধুরী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৪ লং কোর্সের অফিসার। ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় যারা ভিতর থেকে ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তার অন্যতম ছিলেন বিডিআরের ৪৪ রাইফেল’এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেনেন্ট কর্নেল শামস। এই ৪৪ রাইফেলের সৈনিকরাই পিলখানায় সেদিন প্রথম বিদ্রোহ করে এবং মূল হত্যাযজ্ঞ চালায়। পিলখানায় দরবার হলে আটক শতাধিক অফিসারের মধ্যে শামসও একজন ছিলেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে পরে অক্ষত অবস্খায় ফিরে আসেন। উদ্ধার হওয়ার পরে তার মুখে সন্দেহজনক কথাবার্তা শুনে সেনাঅফিসাররা ধারনা করেছিলেন, শামস বিদ্রোহের খবর আগেই জানত। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শামসের কাজে খুশি হয়ে তাকে পদোন্নতি দিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের পোস্টিং শেষ করে তাকে পাঠানো হয় ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে কাভার পোস্টিংয়ে- মিনিষ্টার কনস্যুলার পদে কর্মরত ছিলেন চার বছর। পাসপোর্ট ভিসা কেলেঙ্কারী করে অবৈধ অর্থ আয়, এমনকি স্থানীয় বাংলাদেশীদের ব্যবসায়ীদের সাথে আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। ওয়াশিংটনে থাকাকালে প্রবাসী ব্যবসায়ীদেরকে বাংলাদেশে ব্যবসা পাইয়ে দিবে (বিশেষ করে আইটি খাতের) বলে অনেকের ব্যবসার শেয়ার হোল্ডার হন। তার ক্ষমতার উৎস হিসাবে দাবী করেন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে, তিনি নাকি তার ভার্জিনিয়ার বাড়িতে যাওয়া আসা করেন। পার্টনারশীপ থেকে কোনো ব্যবসায়ীকে ব্যবসা থেকে আউট করতে চাইলে শেষে তারা নিজেদের ক্ষতি স্বীকার করেও শামসের হাত থেকে মুক্তি নেন। শামস নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে ওয়াশিংটন থেকে দেশে ফিরতে চাননি। প্রচুর অর্থ খরচ করে আমেরিকায় এডযাস্ট হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বিদেশ পোস্টিং শেষ করে এসে ব্রিগেডিয়ার পদোন্নতি, এবং এনএসআইতে পোস্টিং। এখানেও বিরোধী দলের নেতাকর্মী অত্যাচার নির্যাতনের সাথে জড়িত হয়ে পড়েন শামস।

তবে এতকাল ধরে একটি ভুল তথ্য প্রচার হয়েছিল, আর তা হচ্ছে- এই বিডিআরের ৪৪ রাইফেলসের শামস হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল ব্রিগেডিয়ার শামসুজ্জামানকে, যিনি ১৩ লংকোর্সের অফিসার। এর মূল কারন ছিল ব্রিগেডিয়ার শামসুজ্জামান এবং কর্নেল শামসুল আলম চৌধুরী দু’জনে একই সময়ে ওয়াশিংটন দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। দু’জনেই ‘শামস’ লিখতেন। তবে ১৩ লংয়ের শামস ছিলেন ব্রিগেডিয়ার এবং মিলিটারী এটাশে হওয়ার কারনে- বেশি এক্সপোজড! অন্যদিকে ১৪ লংয়ের শামস ছিলেন কর্নেল, ডিজিএফআইর কাভার পোস্টিংয়ে মিনিস্টার কনস্যুলার। তিনি থাকতেন সিভিলে। কর্নেল শামস তার সামরিক র‌্যাংক পরিচয় উল্লেখ করতেন না, ফলে অনেকে তাকে সিভিলিয়ান অফিসার হিসাবে ভ্রম করতো। তেমনই ভ্রমাত্মকভাবে অনেকেই ১৪ লংয়ের শামসের দায় ১৩ লংয়ের শামস এর উপর চাপিয়ে দিয়ে বসে আছেন। ১৩ লংয়ের শামসুজ্জামান এখন মেজর জেনারেল।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.