সর্বকালের সর্বনিম্ন দামে কোরবানীর চামড়া কেনা হয়েছে: এতিম হতদরিদ্রদের ঠকিয়ে এ কেমন ব্যবসা?
প্রতি বছর বাংলাদেশে ১ কোটির বেশী গরুছাগল কোরবানী দেয়া হয়। এর চামড়া কোথায় যায়? এটা গরীবের হক। কোরবানীদাতা চামড়াবিক্রির অর্থ ভোগ করতে পারেনা, তাই কোরবানীর চামড়ার যায় এতিম ও দরিদ্রদের কাছে। অথচ সেই গরীবের হক চামড়ার দাম এবার নামিয়ে আনছে তিনভাগের এক ভাগে!
এটা কেমন করে হলো? ২০১২ সাল পর্যন্ত লবন দেয়া কাঁচা চামড়ার সরকার নির্ধারিত দাম ছিল প্রতি বর্গফুট ৯৫-১০০ টাকা। অথচ এবারে সেই এক বর্গফুট চামড়ার দাম পেয়েছে ৩০-৩৫ টাকা। এই সেক্টর সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামীর আন্দোলনের সাথে জড়িত কওমী মাদ্রাসা এতিমখানার শিশুদের শায়েস্তা করতেই শেখ হাসিনার সরকার চামড়ার দাম কমিয়ে এই ব্যবস্থা নিয়েছে। হিসাব বলছে, ২০১৩ সাল থেকে সরকারীভাবে চামড়ার দাম প্রতি বছর ১০-১৫ টাকা করে কমাতে কমাতে এই অবস্থায় এনে ঠেকিয়েছে। কারন প্রায় ৯০-৯৫ ভাগ কোরবানীর চামড়ার যায় কওমী মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে। মুলত এই কোরবানীর চামড়া বিক্রির টাকাই তাদের আয়ের প্রধান উৎস।
সেই কোরবানীর চামড়া নিয়ে রাম-বাম সরকার, ট্যানারী মালিক, ও ফড়িয়াদের জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রজেক্টে হাজার টাকার চামড়া এবার টানারীগুলো কিনেছে ২/৩ শ’ টাকায়! একদিকে হাসিনার সরকার দাম কমিয়ে অর্ধেক করেছে, তার উপরে ট্যানারী মালিকরা সিন্ডিকেট করে আরও অর্ধেক দামের বেশী দাম দিতে চায় না। যেহেতু কাচা চামড়া সংরক্ষনের কোনো ব্যবস্থা নাই, তাই মালিকদের দামেই বিক্রি করতে হয়। স্বল্প দামের ফলে মাঝখানের ছোট ব্যবসায়ীরা কিছু ক্ষতিগ্রস্থ হলেও চুড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কওমী মাদ্রাসাগুলো এবং এতিম শিশুরা! লক্ষণীয়, ৬৫ লাখ কোরবানীর সব গরুর চামড়ার দাম গড়ে যদি ৫০০ টাকা করেও ধরা হয়, তাহলে মূল্য দাঁড়ায় ৩২৫ কোটি টাকা। যদিও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কাচা চামড়া খাত থেকে বাংলাদেশের রফতানি আয় ছিল সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার মত।
ওহে ট্যানারীঅলারা, ওহে মানুষ। লাখ লাখ টাকা খর্চ করে কিসের কোরবানী দিলে, কিসের ব্যবসা করছ? মনের শয়তানী তো কোরবানী দিতে পারলে না!!
Facebook Comments
