বড়পুকুরিয়া কয়লা লোপাটে মন্ত্রী-এমপিরাও জড়িত। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করেই ১ লাখ টন কয়লা আমদানির সিদ্ধান্ত!
26 Aug, 2018
তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা লোপাটের সাথে শুধুমাত্র কর্মকর্তারা জড়িত নয়, এর সাথে মন্ত্রী-এমপি ও উপদেষ্টারাও জড়িত। তাদেরও বিচার করতে হবে।
তিনি রোববার দুপুরে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ফুলবাড়ী গণআন্দোলনের একযুগ ‘ফুলবাড়ী ট্রাজেডি দিবস’ উপলক্ষে তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, তদন্তের নামে অতীতের মতো যদি কয়লা লোপাটের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয় তাহলে গণআন্দোলনের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহিৃত করে গণআদালতে তাদের বিচার করা হবে।
তিনি বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লা লুণ্ঠনের ঘটনা নতুন নয়। সারাদেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় যে লুটপাট চলছে, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা লুণ্ঠন তারই একটি অংশ।
আনু মুহাম্মদ বলেন, শুধু কয়লা লুণ্ঠন হয়নি, ব্যাংক থেকে টাকা লুণ্ঠন, দেশের বিভিন্ন স্বার্থ চুক্তির মাধ্যমে বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়ে কমিশন বাণিজ্য চলছে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায়।
তিনি বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে আজ সুন্দরবনকে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। তাই বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ আজ হুমকির মুখে। এই জাতীয় সম্পদ রক্ষা করতে হলে ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট যেভাবে ফুলবাড়ীতে গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিল, এখন সারাদেশে সেই গণআন্দোলন গড়ে উঠার প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছে।
‘বড়পুকুরিয়ায় খনির কয়লা গায়েবের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হবে না’: প্রতিমন্ত্রী
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনি থেকে প্রায় দেড় লাখ টন কয়লা ‘গায়েবের’ ঘটনায় গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দিলেও তা প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘আমরা তদন্তের দুটি রিপোর্ট পেয়ে গেছি ইতিমধ্যে। কারা কারা জড়িত এবং কীভাবে হয়েছে বা কীভাবে করতে যাচ্ছে সেটা রিপোর্ট জেনেছি। তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। আমরা আগেই বলেছি কোরো রকম দুর্নীতিকে আমরা প্রশ্রয় দেব না।’
১ লাখ টন কয়লা আমদানির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত: প্রতিমন্ত্রী

একলাখ টন কয়লা আমদানির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।এজন্য টেন্ডার হয়ে গেছে। রোববার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিমিয় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। দিনাজপুরের কয়লা খনি প্রসঙ্গে এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘খনিতে যেকোনো সমস্যা হতে পারে। আপদকালীন মজুদ হিসেবে এই কয়লা আনা হচ্ছে।’ কোন দেশ থেকে কয়লা আনা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনও ঠিক হয়নি। টেন্ডার দিয়েছি। পরে জানা যাবে কোন দেশ থেকে আনা হবে।’ তবে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, ভারত থেকেই এই কয়লা আমদানির তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার।
