সংসদ ভবনের ইতিহাসে ইলেক্ট্রিসিটি ফেইলিউরের কারনে কখনও সংসদ অধিবেশন বন্ধ হওয়ার নজির নাই। কিন্তু আজ হয়েছে! আর সেটা মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বানিক্যটের এক ধমকে হয়েছে। খবর গোয়েন্দা সুত্রের।
জান গেছে, আজকের সন্ধ্যায় সংসদের অধিবেশনের ইভিএমসহ আরপিও সংশোধনীর মারাত্মক কিছু সংশোধনী পাশ করার কথা ছিল। কিন্তু এ খবর যুক্তরাষ্ট্রের কানে চলে যায়। আর তাই রাষ্ট্রদূত বার্নিক্যাট জরুরী ছুটে যান হাসিনার কাছে। কথা ছিল সংসদে বৈঠক হবে। কিন্তু বৈঠকটি হয় গণভবনে। রাষ্ট্রদূত বার্নিক্যাট ঐরূপ কোনো সংশোধনী আনতে সংসদনেতাকে নিষেধ করেন। এমনকি এনিয়ে হুমকিও দেন। অবশেষে হাসিনা বাধ্য হন অধিবেশন থামাতে। উপায়ান্তর না দেখে তড়িঘড়ি করে সংসদের বিদ্যুৎলাইন বন্ধ করে দিয়ে প্রচার করা হয়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারনে সংসদ অধিবেশন বন্ধ।
নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে সংসদ অধিবেশন চলার পনের মিনিট যেতেই হঠাৎ বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয়া হয়। সেই অবস্থাতেই অধিবেশন শুরু হয়। পরে বিদ্যুৎ থাকলেও সংসদে লাইন কাজ করছিল না। বলা হয়, লাইন দিলেই কেটে যাচ্ছিল! এরপর ঘণ্টা খানেক অধিবেশন চালিয়ে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া সংসদের সব কাজ স্থগিত করে বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত বৈঠক মুলতবি করেন। বিদ্যুৎ না থাকায় সংসদের বেশিরভাগ রুম অন্ধকারে ছেয়ে যায়। সংসদের চিফ হুইপ ও ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ের কয়েকটি রুম ঘুরে দেখা গেছে তারা মোবাইলের লাইন দিয়ে জরুরি কাজ করছেন। সন্ধ্যা ৭টায়ও সংসদের বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হয়নি বলে জানা গেছে। যদিও সংসদের বিরাট বড় জেনারেটর রয়েছে!
রহস্যজনক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে দায়িত্বশীলরা একেকজন একেক কথা বলেছেন। এ বিষয়ে পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘আমাদের সংসদ চলে মেঘনা ঘাটের ৪০০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎগ্রিডের মাধ্যমে। কিন্তু সেখানে কারিগরি সমস্যা দেখা দেয়ায় সংসদের বিদ্যুৎ বন্ধ রয়েছে। এজন্য সংসদের অধিবেশন মুলতবি করা হয়েছে।’অথচ সংসদের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তা আসলেও সংসদের লাইন দেয়া যাচ্ছিল না। বার বার কেটে যাচ্ছিল। এজন্য এখন আর লাইন দেয়ার সাহস পাচ্ছেন না কর্মকর্তারা। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে লাইন দেয়া হবে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ জানতে চাইলে সংসদ ভবনসহ রাজধানীর একাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারি সরকারি সংস্থা ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান জানান, খবর শুনে তিনি সংসদ ভবন এলাকায় যাচ্ছেন। কি কারণে বিভ্রাট হয়েছে তা এখন তিনি বলতে পারছেন না।
নজিরবিহীন ঘটনা।