সাইফুল আবেদীন- ৩য় পর্ব: টিনেজ প্রণয় নাকি শিশু নির্যাতন?
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
মাত্র ১৯ বছরের একটা বালিকা দেশের সবচেয়ে শক্তিমান গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানের গার্লফ্রেন্ড! কল্পনা করা যায়? হ্যা, ঠিক ধরেছেন। নানজীবা খান। গেলো বছর উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন। সাদামাটা ব্যাংকার পরিবারের এই টিনেজার মেয়েটির এতই প্রভাব যে তাকে খুব সহজেই খুঁজে পাওয়া সম্ভব অনলাইনে। নিজ কন্যার চাইতে ৬/৭ বছরের কনিষ্ঠ এই নানজীবা সাইফুল আবেদীনের গার্লফ্রেন্ড হয়ে ইতোমধ্যে হাতিয়ে নিয়েছে নানান সুযোগ সুবিধা।
আরিরাং এভিয়েশনে ট্রেইনি পাইলট হলেও নানজীবার ঝোক নাটক ও সিনেমা নির্মানে। ক্যামব্রিয়ান কলেজে পড়াকালে সেলুলয়েড জগত এবং উত্তরপাড়ার লোকদের সাথে তার যোগাযোগ ঘটে। সেনা কর্মকর্তা সাইফুল আবেদীনের সাথে পরিচয় থেকে সম্পর্কে গড়ায়। তাকে নিয়ে হোটেল রেস্তরা, এমনকি রেস্ট হাউজে সময় কাটান সাইফুল। বিনিময়ে নানজীবা পেয়ে যায় ক্যারিয়ার গড়ার ওপরে ওঠার সিড়ি। একে একে চ্যানেল আইয়ে প্রেজেন্টার, বিডি নিউজ-২৪ সংবাদকর্মীর যায়গা করে নেয়। বিটিভিতে এঙ্করিংও জুটে যায়। বর্তমানে উপস্থাপনা, রেডিওর আরজে ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছে নানজীবা। ব্রিটিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারে ব্রান্ড এম্বেসেডর, টিভি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অর্ধশতাধিক ভিআইপির। ইউনিসেফেও পার্টটাইম এসাইনমেন্ট জোগাড় করে দিয়েছেন প্রভাবশালী ডিজি মাহেদয়। এছাড়া মিডিয়া জগতে বড় বড় আর্টিস্টদের কাছে জায়গা হয়েছে। ইতেমধ্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে নানজীবার বইয়ের অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে শ্রীবৃদ্ধি করতে দেখা গেছে। গানও করে নানজীবা- চিরকুট ব্রান্ডের গান, সুমির গান, জলের গানে গলা মেলায়।
পুত্র কন্যা এবং সুন্দরী স্ত্রী ক্যামেলিয়াকে নিয়ে আবেদীনের পারিবারিক জীবন দৃশ্যত সুখের হলেও পর নারী ছাড়া তিনি একদম চলতে পারেন না। একমাত্র কন্যা কারিবু নর্থ সাউথ থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে গ্রাজুয়েশন করে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে গিয়ে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার অশবার্নে প্রবাসী হয়েছে, সম্প্রতি নতুন এক বাচ্চা জন্ম নিযেছে। সেই বাচ্চা দেখতে সপরিবারে আমেরিকা ঘুরে এসেছে আবেদীন পবিবার। কন্যার এহেন দশার পরেও আবেদীন তার পুরানা খাসলত ছাড়তে পারেনি, নিজ কন্যার চেয়ে ৫/৭ বছরের বাচ্চা মেয়ের সাথে বৈসাদৃশ্য প্রণয় শিশু নির্যাতনের কাতারে পড়ে বলে অনেকে মনে করেন। স্ত্রী ক্যামেলিয়ার কানে এসব খবর পৌছলেও মানইজ্জতের ভয়ে নিরব থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তাছাড়া বেশিরভাগ বিষয়কে ‘সরকারী কাজ’ বলে চিালিয়ে দিয়ে অনলা্লাইন চ্যাটিং এবং ফোনালাপের মাধ্যমে নিত্য নতুন বান্ধবী জোগাড় করা এই ক্ষমতাধর লোকটির হবি। এ কাজের জন্য অনেকগুলো ভুয়া ফেসবুক একাউন্ট খুলে নিয়েছেন। একটা খুলেন তো আরেকটা বন্ধ করেন। ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, লন্ডনের মোবাইল চালান সরকারী খরচে। আর এসব মোবাইল ও ফেসবুক দিয়ে চলে তার লীলা খেলা। অবশ্য তার ধারণা তিনি মনিটরিংয়ের বাইরে। বাস্তবে তা নয়, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স তার সবকিছু মনিটর করেছে। তার চ্যাটিং লগ সেভ করা হয়েছে। হয়ত কখনও পৌছে যেতে পারে পাঠকের কাছে।
বিডি পলিটিকোর প্রথম রিপোর্ট করার পরে আবেদীন খবর পেয়ে সতর্ক হয়ে যান। যেসব আইডি দিয়ে নানজীবা সহ অন্য গার্লফ্রেন্ডদের সাথে সংযুক্ত ছিলেন, তার কয়েকটি ইতোমধ্যেই বন্ধ করে দিয়েছেন। দু’টো টেলিফোন নম্বরও বদলে ফেলেছেন। কিন্তু নতুনগুলোর ডিটেইলস হাতে আসতে আর কতক্ষণ?
