‘হাসিনা খতম হবে; লাশও খুঁজে পাওয়া যাবে না’ : ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান

কানাডা প্রতিনিধি

বাংলাদেশের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সময় শেষ, তার লাশও খুঁজে পাওয়া যাবে না- এমনই কঠিন কঠোর মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান! অথচ এক সময় র্যাবে থাকতে এই জিয়াউলই ছিলেন হাসিনার বিশ্বস্ত, এবং শত শত খুন গুমের হোতা। সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পুত্র জয়, ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের রাষ্ট্রবিরোধী নানা গোপন নির্দেশ, দুর্নীতির প্রমান সম্বলিত টেলিকথপোকথনের রেকর্ড এখন ব্রিগেডিয়ার জিয়ার হাতে। মূলত হাসিনার প্রাণ ভোমরা জিয়ার কব্জায়!

দীর্ঘ সাত বছর ধরে শেখ হাসিনার সরকারের জন্য তার কৃত খুন-গুম-অনিয়ম কর্মকান্ডের ব্যাক-আপ হিসাবে নিজের সেফ কাস্টডিতে রেখে দিয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার জিয়া। কিন্তু বন্ধুদের নিয়ে মদের আসরে বেসামাল অবস্থায় গল্পে গল্পে সেটা তার মুখ ফস্কে বের হয়ে গেলে এক কান দু’কান হয়ে পৌছে যায় শেখ হাসিনার কানে। এরপরে শেখ হাসিনাও সতর্ক হয়ে যান। জিয়ার ব্যাপরে পরিষ্কার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন- ‘ওর কাজ শেষ, তাই সাফ করে ফেলো’- এমন নির্দেশ দেন। মোটকথা, সাক্ষ্য প্রমান মুছে ফেলতে ব্রিগেডিয়ার জিয়াকে হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছেন, এমন খবর পাওয়ার পরে জিয়াউল আহসান পালিয়ে গেছে কানাডায়। যদিও বছরখানেক আগে জিয়া একবার কানাডা চলে গিয়েছিলেন, তবে পরে আবার ফিরে আসলেও সেনাবাহিনী তাকে গ্রহন করতে রাজী হয়নি।

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আমিনুলকে গুম করার মূল কারিগর ছিলেন র্যাবের পরিচালক এই জিয়া। বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদকেও উঠিয়ে নিয়ে কয়েক মাস গুম করে রাখে এই জিয়াই। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের হেফাজত গণহত্যার অপারেশন ইনচার্জ ছিলেন কর্নেল জিয়া, টেলিভিশন সাক্ষাতকারে তিনি তা নিজেই স্বীকার করেছেন। সৌদি কূটনীতিক খালাফ আলী হত্যা, সাংবাদিক জুটি সাগর-রুনির হত্যাকান্ড এবং নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডারের ঘটনার সাথে সাংঘাতিকভাবে জড়িত ছিলেন কর্নেল জিয়াউল হাসান। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিএনপির ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচি বানচাল করতে এবং বিরোধী দল নিধনের মূল হাতিয়ার ছিল এই জিয়া।

জিয়াউলে আহসানের কর্নেল/ব্রিগেডিয়ার হিসাবে ৭ বছর র্যাবে অবস্খানকালে দেশজুড়ে বিরোধী দলের হাজারো নেতাকর্মী হত্যা/গুমের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক গুম ও খুনে তিনি যেমন সরাসরি নেতৃত্ব দিতেন, তেমনি মাঠের কাজও তত্ত্বাবধান করতেন। এনিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখি শুরু হলে সেখান থেকে সরিয়ে তাকে পাঠানো হয় ডিজিএফআইতে, পরে এনএসআইতে দেয়া হয়। এরি মাঝে তাকে ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি হয় এবং সর্বশেষে বসানো হয় টেলিফোন আড়ি পাতার সংস্খা এনটিএমসির প্রধান হিসাবে। ২০১৬ সালের মার্চে এনটিএমসিতে বসার পরে ব্রিগেডিয়ার জিয়া বিরোধী রাজনীতিকের গুরুত্বপূর্ন সব টেলিফোন ও অনলাইন যোগাযোগে আড়ি পাতার অধিকার লাভ করে, এবং সরকারকে সরবরাহ করে থাকতেন। তবে জিয়াউল আহসান যতখানি না শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত, তারও চেয়ে বেশী ছিলেন অনুগত ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর অনুগত।

ব্রিগেডিয়ার জিয়ার কাছে শেখ হাসিনার গোপন অডিও রেকর্ড আছে, এবং তা প্রকাশ হয়ে পড়তে পারে, এমন খবর জানার পরে তাকে নিয়ে সন্দেহ বেড়ে যায় শেখ হাসিনার। এর পরেই তাকে ক্রস ফায়ার বা গাড়ি এক্সিডেন্ট করে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তাকে খেয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে- ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মারফত এমন নিশ্চিত খবর পাওয়ার পরে সিদ্ধান্ত নিতে আর দেরী করেনি ব্রিগেডিয়ার জিয়া। র-য়ের সাহায্য নিয়ে গত সপ্তাহে সপরিবারে ভারত হয়ে পৌছে গেছেন কানাডায়। আপাতত অন্টারিও প্রদেশে মিনহাজের বাসায় উঠলেও সহসাই নিজের বাড়িতে উঠবেন। নিরাপত্তার কারনে ঘন ঘন ফোন নম্বর বদলাচ্ছেন। অচিরেই খুব গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হবে তার। এরপরে শেখ হাসিনার অনেক চ্যাঞ্চল্যকর অডিও ক্লিপ অনলাইনে আসবে। হাসিনার পতন এমন ভাবে হবে যে তার লাশও হয়ত খুঁজে পাওয়া যাবে না, মন্তব্য ব্রিগেডিয়ার জিয়ার।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.