সকল প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে অবশেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ!

দিনভর নানা নাটকীয়তা শেষে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপি, গণ ফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জাসদ (রব) জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে। তবে এ প্রকৃয়ায় বাদ পড়ে ডা. বি চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা। আর এ খবরে গোটা রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয় নতুন ঢেউ। কুটনৈতিক পাড়া নড়ে চড়ে বসে, উত্তরপাড়া ও সচিবালয়ে ঐক্য নিয়ে আগ্রহ বেড়ে যায়।

ঐক্য গঠন নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে চলা বৈঠক, টেবিল টক, সমঝোতা, দাবী নামা তৈরী ইত্যাদি চলতে থাকে। কিন্তু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আর হচ্ছিল না। মূলত বিকল্প ধারার নেতা মাহি বি চৌধুরী কতৃক নতুন নতুন শর্ত আরোপ করে বিএনপির সাথে এই ঐক্য গঠনে বাধা দেয়া হয় এবং সময় ক্ষেপণ চলছিল। বিকল্প ধারা দাবী তোলে, নির্বাচনে বিজয়ী হলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে, নির্বাচনে বিএনপিকে ১৫০ আসন ছাড়তে হবে, এবং সেই সাথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পূর্শবর্ত হিসাবে বিএনপির নিজস্ব ২০ দলীয় জোট থেকে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দিতে হবে। কিন্তু এ বিষয়ে অন্যান্য দল, বিশেষ করে ড. কামাল হোসেন, আসম রব, এবং মাহমুদুর রহমান মান্না একটি সহনীয় অবস্থান গ্রহন করেন। কিন্তু বিকল্প ধারা এমনভাবে বাড়াবাড়ি করতে থাকে, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, তারা হয় ঐক্য করতে দিবেনা, অথবা দীর্ঘসূত্রিতায় ফেলে ঐক্যের কার্যকারিতা নষ্ট করতে তৎপর। আর এটা যে বর্তমান সরকারের স্বার্থে করছে, তা নানান মাধ্যমে প্রচারিত হতে থাকে।

গোয়েন্দা সুত্রের খবর মতে, আ’লীগ সরকারের দেয়া ভিওআইপি ব্যবসা থেকে মাহি বি চৌধুরী প্রতি মাসে নগদ পান ৮ কোটি টাকা, তাতে লাভ লোকসান যাই হোক না কেনো। অর্থাৎ বছরে তার ফিক্সড ইনকাম ১০০ কোটি টাকা। খালাত বোন শমীর স্বামী আরাফাতের সাথে ছ’শ কোটি টাকার ব্যবসা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পুত্র জয় টোপ দিয়েছেন, ঐক্যজোট থামিয়ে দেয়ার ইনাম হিসাবে দু’টো টেলিভিশন কেন্দ্রের মালিকানা দেয়া হবে, আরও পাবে নগদ ক্যাশ। গোয়েন্দারা মাহিকে চাপ দেয়, যেকোনো মুল্যে ঐক্য ভাঙতে হবে। তাছাড়া মাহির নারীঘটিত কেলেঙ্কারীর বহু অডিও ভিডিও প্রমানাদি রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে। এছাড়াও বিকল্প ধারার সেক্রেটারী মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকান্ডের তথ্যপ্রমান সরকারের হাতে রয়েছে। হাজার কোটি টাকার ঋনখেলাপী মান্নানকে দুদকে ডাকা হয়েছে। সরকারের কথা না শুনলে তার জেলে যাওয়া, ব্যবসা হারানো সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এ অবস্থায় গত ১১ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের বাসভবনে ঐক্য গঠনের চুড়ান্ত সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঐদিনই রাজধানীর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হঠাৎ ঘিরে ফেলে গোয়েন্দা পুলিশ, ঐক্যের অন্যতম সমন্বয়কারী ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরীর আটক করার চেষ্টা করা হয়। ডা. জাফরউল্লাহকে আটক না করলেও স্থগিত হয়ে যায় কামাল হোসেনের বাসভবনের মিটিং। পরিবর্তে রাতে আ স ম আবদুর রবের বাসায় ঐক্যজোটের লিয়াঁজো কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিদ্ধান্ত হয়, শনিবারে ড. কামাল হোসেনের বাসায় ঐক্যজোটের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এদিন কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসভবনে বৈঠকে যোগ দিতে আসেন বি চৌধুরি। এই বৈঠক নিয়ে এসব দলের মধ্যে দিনভর নানা গুঞ্জন চলতে থাকে। ঐক্যের একাধিক নেতা সকাল থেকেই এ বৈঠক নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। কিন্তু বাসভবনে বৈঠকের আগেই ‍ড. কামাল হোসেন চলে যান তার মতিঝিলের অফিসে। এর পেছনে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসনের মেসেজ, লন্ডন থেকে আসা ফোন মেসেজ, মান্না এবং ব্যরিষ্টার মাইনুল হোসেনের তৎপরতা ক্রিয়াশীল ছিল বলে সূত্রে প্রকাশ। কামাল হোসেনের চেম্বারে বিএনপি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জাসদ (রব) নেতারা বৈঠকে বসে ৭ দফা দাবী ও ১১ লক্ষ স্থির করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন। সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আনু্ষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। অবশেষে এই ঐক্য থেকে বাদ পড়েন বি চৌধুরী এবং তার পুত্র মাহি।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.