কেন গোয়েন্দা প্রধান সামরিক অফিসার ও আইজিপিদের শাস্তি হলো?

শেখনিউজ রিপোর্টঃ
মর্মান্তিক ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনাকালে এনএসআই এর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম হাসপাতালের অপারেশন টেবিলে এবং অন্য এনএসআই প্রধান মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার ডিজিএফআই-তে থাকলেও তাদের কেন মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং তৎকালীন এনএসআই-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এনাম চৌধুরী বা ডিজিএফআই প্রধান কেন গ্রেপ্তারই হন নাই, শাস্তিতো দূরের কথা। আর কেনই বা বিভিন্ন মেয়াদে পুলিশের সাবেক ৩জন প্রধানকে অন্যান্য মেয়াদে শাস্তি দেয়া হলো? বিষয়টি নিয়ে গোপন এক অনুসন্ধানমুলক প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। 

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের কয়েকদিন আগে থেকেই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহিমের পাইলসের সমস্যা জটিল আকার ধারন করায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং যথারীতি তার অপারেশনও হয়। এ সময় এনএসআই-তে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেন ডিরেক্টর এক্সটারনাল ব্রি জেনারেল এনাম চৌধুরী। তার সময়েই গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। যথারীতি তিনি আগের দিনও গোয়েন্দা রিপোর্ট পান; কিন্তু সেই রিপোর্ট কোথায় সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা তো করাই হয়নি; তাকে বরং প্রাইজ পোস্টিং দিয়ে লন্ডন হাইকমিশনে পাঠানো হয় পরবর্তীতে। এমনকি ফিল্ড রিপোর্টের দায়িত্ব যে সকল অফিসারদের ছিল তাদেরও জিজ্ঞেস করা হয় নাই।

ঠিক একই অবস্থা মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দারের বেলায়। তিনি ডিজিএফআইতে থাকাকালে ছিলেন একটি ব্রাঞ্চের ডিরেক্টর হিসেবে, তিনি তার প্রধানকে রিপোর্ট করেছিলেন কি না, বা রিপোর্ট করা তার দায়িত্ব ছিল কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হয়নি। বরং ভারতের চক্ষুশূল হওয়ার কারনে এই দুই সামরিক অফিসারকে ১০ ট্রাক অস্ত্রের মামলার মত করেই মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

যদিও এই ব্রি জেনারেল রহিম সরকার প্রধানের বিনা অনুমতিতে গোপনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার তদন্ত শুরু করেছিলেন, কিন্তু মন্ত্রী বাবর ও তার এনএসআই-র অন্যান্য কিছু সহকর্মীর অসহযোগিতায় তার মিশন একদম শেষ পর্যায়ে ভণ্ডুল করে দেয়া হয়।  এমনকি তার চাকুরীটি পর্যন্ত এক্সটেনশন  করা হয় নাই।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল নাসিম সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টা চালানোর সময়ে ঢাকাস্থ ৪৬ ব্রিগেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহিম উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং জেনারেল নাসিমকে আটক করে রেখেছিলেন। অনেকেই এই ঘটনার পাল্টা হিসেব হিসেবে এই শাস্তিকে মনে করে থাকেন।

তবে কোন কোন মহলের মতে সেনাবাহিনীর অফিসারদের সতর্ক বার্তা দিতে যেমন এই দণ্ডাদেশ, তেমনি যারা এখন আওয়ামী সরকারের হয়ে কাজ করছে পুলিশ ও প্রতিরক্ষা বাহিনীতে তাদের জানান দেয়া যে, যেকোন মুল্যে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে নইলে আজকে যেমন ভুয়া অজুহাতে শাস্তি হয়েছে, আগামীতে বর্তমানের পুলিশ বা সেনা অফিসারদের শাস্তি দিতে আগামীর সরকারদের (যদি আওয়ামী না থাকে) কোন মিথ্যা অজুহাত খাঁড়াও করতে হবে না। তাই সবাই যেন সতর্কভাবে সরকারকে টিকিয়ে রাখে।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.