সিলেটে ঐক্যফ্রন্টের মহাসমাবেশে নেতাদের ঘোষণা- হাসিনার অধীনে নিবার্চন নয়: সুষ্ঠু নির্বাচন এবং ক্ষমতায় যাওয়ার প্রত্যয় নেতাদের

24 Oct, 2018
আগের রাতে নেতাকমীের্দর গ্রেপ্তার, সমাবেশস্থলে আসার পথে বাধা সত্তে¡ও সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রথম সমাবেশ শান্তিপূণর্ভাবে শেষ হয়েছে। সমাবেশে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সিলেট থেকে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হলো বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বলেছেন, কোনোভাবে শেখ হাসিনার অধীনে জাতীয় নিবার্চন হতে পারে না। এ জন্য সুষ্ঠু নিবার্চন আর ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন তারা। ঐক্যবদ্ধ এই আন্দোলন পুণ্যভূমি সিলেট থেকে যাত্রা শুরু করল।
বুধবার বেলা দুইটায় সিলেট নগরের রেজিস্টারি মাঠে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ শুরু হয়। শেষ হয় সন্ধ্যায়। সমাবেশ করতে পুলিশের অনুমতি না দেয়া, আগের রাতে গ্রেপ্তার অভিযান এবং সমাবেশের দিন সকালে আওয়ামী লীগের পাল্টা কমর্সূচির কারণে উৎকণ্ঠা ছিল। সেই সঙ্গে সিলেট শহরের সঙ্গে যাতায়াতে যাত্রীবাহী বাসে ছিল নজরদারি। সমাবেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়।
বিএনপি, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সিলেটে প্রথম সাংগঠনিক সমাবেশ করেছে। এই সমাবেশের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত সব আয়োজনের পেছনে ছিল ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক বিএনপি। সমাবেশের শুরু থেকে দলটির নেতাকর্মীদের কণ্ঠে ‘খালেদা জিয়া, মুক্তি চাই, তারেক রহমান-জিন্দাবাদ’ স্লোগান ছিল। মঞ্চে বক্তাদের কণ্ঠেও ছিল খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি। ব্যতিক্রম ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
বুধবার দুপুর ২ টা থেকে সিলেটের তালতলা ভিআইপি রোডের পাশে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় মাঠে আয়োজিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ শেষ হয়েছে বিকাল সোয়া পাঁচটার দিকে। সমাবেশে ঐক্যফ্রন্টের প্রায় সব নেতাদের কণ্ঠে ছিল, কারাবন্দি খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ। বক্তারা বলেছেন, দেশ থেকে গণতন্ত্র হারিয়ে গেছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন শুরু হয়েছে সিলেট থেকে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন লড়াই শুরু হলো বলেও তারা বলেন।
ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ। তারা বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর গণতন্ত্র উদ্ধারের সংগ্রাম করতে হচ্ছে, এটি বেদনাদায়ক। এজন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে আগামীতে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। উপস্থিত জনতাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় দেশের মানুষকে সংবিধান অনুসারে মালিকানা ফেরত দেবে। বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করা হবে। পাশাপাশি সরকারের উদ্দেশ্যে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের দাবি, আগামী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সরকারকে পদত্যাগ করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে। যে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করতে হবে ম্যাজেস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে।
অনুষ্ঠিত এ সমাবেশ নিয়ে শুরু থেকে নানা ধরনের অনিশ্চয়তা ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি দিয়ে বাতিল করে ফের অনুমতি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বুধবার সমাবেশের আগের রাত থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছিল নানামুখী তৎপরতা। নেতারা সমাবেশের বক্তব্যেও অভিযোগ করেছেন, নানা ধরনের নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে সমাবেশকে কেন্দ্র করে।
বুধবার দুপুরে পৌনে দুটার দিকে সভাপতিত্ব করতে মাঠে প্রবেশ করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সমর্থকদের একটি মিছিল নিয়ে সমাবেশে আসেন। এরপর একের পর এক মিছিল আসতে থাকে, মিছিলে স্লোগান খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে। সমাবেশ চত্বরের আশেপাশের সব ভবনে ঝোলানো হয় খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের ছবি সংবলিত ব্যানার। সমাবেশে আসা শ্রোতাদের হাতে-হাতে বিএনপির দলীয় নেতাদের ছবি। একই চিত্র ছিল মঞ্চেও। অর্ধেক মঞ্চ দখল করে রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও সিলেট বিভাগের নেতারা। এছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, জেএসডি, নাগরিক ঐক্যসহ ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা মঞ্চে বসেন।

সিলেটে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ড. কামাল হোসেন
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘‘আমরা সাত দফা দিয়েছি। কীভাবে দেশের মানুষ তা পুনরুদ্ধার করবে। সংবিধানে লেখা আছে, জনগণ এই দেশের মালিক। কিন্তু আপনার কি মালিকের ভূমিকা রাখতে পেরেছেন? এই মালিকানা পুনরুদ্ধার করতে হলে জনগণের ঐক্য অপরিহার্য। দলীয় ঐক্য নয়, জাতীয় ঐক্য। দেশের সবাইকে এই সাত দফার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। বলতে হবে, ‘যে আমরা ক্ষমতার মালিক। আমাদের কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছে। সুষ্ঠু, সত্যিকার অর্থে নির্বাচন না হলে মানুষ তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।’ তাই, আমাদের এক নম্বর দাবি হলো অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন চাই।’’ এসময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘হারানো গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করা সহজ না। শক্তভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই অধিকার ফিরিয়ে আনবো। সাত দফার সঙ্গে আরও অনেককে যুক্ত করছি। অবশ্যই আমরা অধিকার ফিরে পাবো। কোটি-কোটি মানুষ জীবন দিয়ে স্বাধীনতা এনেছিলেন, স্বাধীন দেশের মালিক হলো জনগণ। জনগণের মালিক হলেও প্রকৃত অর্থে আমরা স্বাধীন থাকি না। সেই অবস্থা থেকে মুক্ত হতে হবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল জনগণ ক্ষমতার মালিক হবে।’
দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে কামাল হোসেন বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা আবার দেশের মালিক হবো। এই দেশ, এই রাষ্ট্র আমাদের নিয়ন্ত্রণে আনবো। যে লক্ষ্যগুলো এখনও উপেক্ষিত, মানুষের সার্বিক উন্নতি, সবার মধ্যে সমতা, সবার উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, এই সব থেকে মানুষ বঞ্চিত।’
সমাবেশে কামাল হোসেন প্রশ্ন করেন, ‘খালি উন্নয়ন-উন্নয়ন-উন্নয়ন। কার উন্নয়ন? (তিনি স্বজোরে প্রশ্ন রাখেন) সব মানুষের উন্নয়ন, নাকি কতিপয় মানুষের উন্নয়ন? যারা কোটি টাকা পাচার করে, তাদের উন্নয়ন? কাদের উন্নয়ন? মুষ্টিমেয় মানুষ, যারা আমাদের নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের উন্নয়ন নয়। আমরা চাই উন্নয়ন ষোল কোটি মানুষের।’ তিনি বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ হই। ইনশাল্লাহ ক্ষমতার মালিক আমরা হবো। এই দেশকে আমরা সবাই মিলে অগ্রগতির দিকে নিয়ে যাবো। যেন সবাই সব অধিকার ভোগ করতে পারে।’

ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
প্রধান বক্তার বক্তব্যে জনতার উদ্দেশ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। আজকের সমাবেশে এই বিপুল মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, এই দেশের মানুষ গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে চায়। আন্দোলনের জন্য ত্যাগ করতে প্রস্তুত। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবো, ইনশাল্লাহ।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজ নতুন লড়াই শুরু হলো। এই লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে গণতন্ত্র। তারেক রহমানসহ সব সাজাপ্রাপ্তদের মুক্ত করতে হবে।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের লক্ষ্য সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য গণতন্ত্র পুণরুদ্ধার করা, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনা। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশে একটি কল্যাণধর্মী রাষ্ট্র নির্মাণ করা।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজকের সমাবেশের মধ্য দিয়ে জনগণের জয় শুরু হয়েছে।’ তফসিলের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তির দাবি জানান মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার আগেই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে হবে।’ সিলেট থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যাত্রা শুরু হলো বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সিলেটে ঐক্যফ্রন্টের জনসভা
ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘সরকারের সময়ে সংঘটিত প্রতিটি দুর্নীতির হিসাব নেবো। শ্বেতপত্র তৈরি করবো। আমেরিকা, মালয়েশিয়ায় সরকারের লোকেরা সম্পদ জমিয়েছে। এর হিসাব নেওয়া হবে।’
জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘সময় নেই, আন্দোলনে নামতে হবে। দেশ ডাকাতের হাতে পড়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঠে নামতে হবে। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সিলেটে কোটি-কোটি মানুষের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’
সরকারের উসকানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রব বলেন, ‘আর একজন কর্মীকে গ্রেফতার করা হলে সারাদেশে ঐক্যফ্রন্ট মাঠে নামবে।’
ফ্রন্টের অন্যতম নেতা, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘নির্বাচনের সিডিউল দেওয়ার আগে আমাদের সঙ্গে কথা বলুন। যদি না বলেন, তাহলে আমরা জানি কীভাবে নামাতে হয়। আমরা সেই পথেই নামবো।’ তিনি বলেন, ‘এক স্বাধীনতাবিরোধীরা ছাড়া সবাই এই ফ্রন্টে যোগ দেবে। তখন সারাদেশ বনাম এই সরকার হবে।’
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এজন্য আইনের সংস্কার করতে হবে। কামাল হোসেন, মইনুল হোসেন এটা ভালো করতে পারবেন।’
গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘আজকে থেকে সরকারের ভাটার দিন শুরু হলো।’
জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, ‘সারা পৃথিবীর সব সরকার, সব দল শান্তি চায়। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী চান সহিংসতা। সরকার উসকানি দিয়ে সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে চায়।’

ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ
বিএনপিময় সমাবেশ
সমাবেশে যত স্লোগান ছিল, এর মধ্যে সবটাই বরাদ্দ ছিল খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে। যদিও উচ্চারিত হয়নি সিলেটের জনপ্রিয় নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর নাম। ব্যানার-ফেস্টুনে তার সন্ধান দাবি করা হলেও বক্তারা এ নিয়ে কথা বলেননি।
বক্তাদের মধ্যে ড. কামাল হোসেন নিজে থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন প্রসঙ্গে কোনও কথা বলেননি। বক্তব্যের একেবারে শেষে পেছনে থেকে কারও উৎসাহে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির বিষয়টি সাত দফার মধ্যে আছে।’ এরপরই তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
ফ্রন্টের অন্যতম নেতা, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘দেশে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে, লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার হচ্ছে। এসব নিয়ে সরকারের কোনও মাথাব্যথা নেই। অথচ মাত্র ২ কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দলের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে।’ খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘একটা স্যাঁতস্যাঁতে দোতলা ঘরে তাকে বিনা চিকিৎসায় রেখে দেওয়া হয়েছিল। অনেক চেষ্টায় তাকে পিজি হাসপাতালে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) নেওয়া হলেও পছন্দের চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। মূলত বিনা চিকিৎসায় খালেদা জিয়াকে মেরে ফেলার চেষ্টা করছেন শেখ হাসিনা।’
জাতীয় ঐক্যের অন্যতম নেতা সুলতান মো. মনসুর বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই।’
জেএসডি নেতা তানিয়া রব বলেন, ‘আজ সমাবেশে আসতে নেতাকর্মীদের পথে পথে বাধা দেওয়া হয়েছে।’ তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন।
সমাবেশের দিন বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে যখন কামাল হোসেন লাল পাজেরো গাড়িতে করে মাঠে প্রবেশ করেন, তখনও উপস্থিত নেতাকর্মীদের কণ্ঠে ছিল খালেদা জিয়ার নামে স্লোগান।

মহাসমাবেশের একাংশ
বুধবার বিকাল সোয়া পাঁচটার দিকে সমাবেশ শেষ হয়। বিকাল ৫টার মধ্যে সমাবেশ শেষ করতে প্রশাসনের শর্ত থাকায় নেতাদের মধ্যে তাড়াহুড়ো লক্ষ করা গেছে। সিনিয়র প্রায় সব নেতাই তাদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করেছেন।
সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, মো. শাজাহান, উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন এবং সিলেট বিভাগের দলীয় নেতা কলিমউদ্দিন আহমেদ মিলন, দিলদার হোসেন সেলিম, জি কে গউছ, আবদুল কাহের চৌধুরী শামীম, আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকি, আলী আহমেদ, আজমল বখত সাদেক উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বিএনপি নেতা ফরহাদ হালিম ডোনার, বিলকিস জাহান শিরিন, সানাউল্লাহ মিয়া, শিরিন সুলতানা, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, নাজিম উদ্দিন আলম, শামীমুর রহমান শামীম, এমএম শাহিন, সুজাত আলী, ইশতিয়াক হোসেন, জাসাসের হেলাল খান, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদারও ছিলেন।
সমাবেশের সঞ্চালনা যখন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহমদ আলীর হাতে, পেছন থেকে তদারকির দায়িত্ব নিয়েছেন মো. শাজাহান। মঞ্চে চেয়ার গোছানোতেও বিএনপি নেতাদের ভূমিকাই ছিল একচ্ছত্র। মঞ্চ নির্মাণ, প্রচার, স্লোগান, উপস্থিতি—সব মিলিয়ে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিএনপির সমাবেশ হয়েছে সিলেটে। ফ্রন্টের আগামী কর্মসূচি আয়োজিত হবে চট্টগ্রামে ও রাজশাহীতে।
