সোহরাওয়ার্দী থেকে চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক: আসতে পারে দীর্ঘ অবরোধের ঘোষণা

06 Nov, 2018
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজকের জনসভা থেকে চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক দেবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সাত দফা আদায়ে তারা সরকারকে সময় বেঁধে দেবেন। বুধবার পর্যন্ত অর্থাৎ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব দাবি মেনে নিতে হবে। অন্যথায় হরতাল-অবরোধ-লংমার্চ-নির্বাচন কমিশন ঘেরাও’র মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। জোট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এরই মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, এ জনসভা থেকে বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
কোন ধরনের কর্মসূচি দেয়া হতে পারে – এমন প্রশ্নে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা সুলতান মুহাম্মদ মনসুর চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, সরকারকে দাবি মানতে হবে। তাই বড় ধরনের কর্মসূচি আসবে। তবে হরতাল, অবরোধের মতো কোনো কর্মসূচি কি আসতে পারে – এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো কর্মসূচি আসবে বলে মনে হয় না। ড. কামাল হোসেন যেখানে আছেন সেখানে এ ধরনের কোনো কর্মসূচি আসবে না। আপনারা আগামীকালই সব জানতে পারবেন। তবে ব্যতিক্রমী কর্মসূচিই আসবে।’
এরই মধ্যে সোমবার ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছেন কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি, বঙ্গবীর খ্যাত কাদের সিদ্দিকী। তিনি ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আজ থেকে সকল মেধা, সাহস, শক্তি নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে থাকব৷ একাত্তরে ইয়াহিয়া খান যেভাবে আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল তেমনিভাবে আজকের স্বৈরাচারকেও আত্মসমর্পণ করতে হবে।’
একই মঞ্চে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা আ স ম আব্দুর রব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমাদের দাবি মেনে নিতে হবে। আপনাদের পায়ের তলায় মাটি নাই। কিসের ইভিএম? ভোট চুরির জন্য? ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচন করতে চাইলে দাবি মানতে হবে। আর যদি নির্বাচন না করতে চান এবং দেশকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে চান, তাহলে সকল দায় সরকারকে নিতে হবে।’
এ সময় কাদের সিদ্দিকীর হাত ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা দুই ভাই এক হয়েছি। একসাথে লড়াই করব আমরা৷ এই লড়াই গণতন্ত্রের লড়াই৷ এই লড়াই চলবে।’
রব বলেন, ‘আমরা ঢাকায় জনসভা করব। দেশের সব বিভাগ, জেলায় যাব। মানুষকে নিয়ে লড়াই করব।’
এর কিছুদিন আগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক প্রশ্নের জবাবে চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেছিলেন, ‘সংলাপে সমাধান না আসলে এমন কঠোর আন্দোলন দেয়া হবে যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকবে না সরকারের।’
এসব বক্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে, ঐক্যফ্রন্ট লংমার্চ-রোডমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে। এমনকি দীর্ঘ অবরোধেরও ঘোষণা দিতে পারে৷
জনসভাকে ঘিরে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি। দুপুর ২টায় সভার মূল কাজ শুরু হবে। সন্ধ্যা ৬টার আগেই শেষ হবে জনসভা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ এ জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। প্রথমবারের মতো মঞ্চে উঠবেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।
জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান চাই। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে বসতে চেয়েছি। প্রথম দফা সংলাপে আমাদের দাবি বাস্তবায়িত না হওয়ায় আবারও বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছি। আশা করছি, দ্বিতীয় দফার সংলাপে আমাদের দাবির পুরোটা বাস্তবায়িত হবে। এবার ব্যর্থ হলে এর দায় প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের আগে কোনো তফসিল ঘোষণা করা চলবে না। যদি নির্বাচন কমিশন একতরফাভাবে তফসিল ঘোষণা করে, এর পরিণতি ভালো হবে না।’ আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘দাবি মেনে না নেয়া হলে সোহরাওয়ার্দীর জনসভা থেকে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করব।’
