ঢাকা এলাকার বিরোধী মতামতের লোকজনকে লাশ বানিয়ে ডাম্পিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসপি শাহ মিজান শাফিউর রহমান

বিসিএস ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা ঢাকা জেলার এসপি শাহ মিজান শাফিউর রহমান। প্রথম দৃষ্টিতে নম্র ও শান্ত স্বভাবের মনে হলেও বাস্তবে তিনি অত্যন্ত গোঁয়ার ও নিষ্ঠুর টাইপের। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে তিনি ছিলেন ছাত্রলীগের অত্যন্ত সক্রিয় ক্যাডার। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের গোপন কিলিং গুলোর মাস্টার প্লানিং তিনিই করতেন বলে জনশ্রুতি আছে।

ভেড়ার চামড়ায় নেকড়ে হয়ে শাফিউর বিএনপির সময়ে চট্টগ্রাম মেট্রো এলাকায় জোনাল এসির দায়িত্ব পান এবং নিজেকে বিএনপি-পন্থী হিসেবে উপস্থাপন করেন। কিন্তু মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মেয়র নির্বাচিত করা ও পরবর্তীতে তৎকালীন মেয়র মীর নাসির এর সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে স্থানীয় পত্রিকার পাতায় শিরোনাম হন তিনি।

লক্ষ্মীপুর জেলায় এসপি থাকাকালে তিনি বিরোধী দল, বিশেষ করে বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যা, গুম ও পংগু করে দেন। গুম ও খুনের উদ্দেশ্যে এসময় তিনি ডিবি’র কিছু বিশ্বস্ত পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে একটি টিম তৈরি করেন। কেবল বিএনপি ও জামাতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেই তিনি খড়গহস্ত ছিলেন, তা নয়, তিনি বাকশাল মতবাদের বিরুদ্ধচারী সকল শ্রেণীর মানুষের বিরুদ্ধে অসংখ্য ভুয়া মামলা তৈরি করে ব্যাপক অত্যাচার করেন।

লক্ষীপুরে থাকাকালে প্রধান বিচারপতির সাথে বেয়াদবি ও অসংগত আচরণ করার ঘটনায় পত্রপত্রিকায় সমালোচনার ঢেউ ওঠে। শাহ মিজানের উদ্ভট ও দাম্ভিক আচরণের কারণে সরকার তাকে লক্ষীপুর থেকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়।

ডিআইজি হাসানুল হায়দারের ভাবশিষ্য এই পুলিশ কর্মকর্তা লক্ষ্মীপুর জেলায় বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের দলনের পুরস্কার হিসাবে ঢাকা জেলার এসপি হিসাবে পোস্টিং পান।

ঢাকা জেলায় যোগদানের পর তিনি নিজে থেকে লাশ ডাম্পিং এর দায়িত্ব নেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিরোধী মতামতের লোকজনকে তুলে এনে শাহ মিজানের দায়িত্বে দেওয়া হয়। শাহ মিজান তার টিমকে দিয়ে সেসব লাশ প্রত্যন্ত বিল, নদী, খাল ও ব্রীজের ধারে ডাম্পিং এর ন্যায় বিশ্বস্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। জানা যায়, মতিঝিলে হেফাজতের সমাবেশের লোমহর্ষক খুনের ঘটনায় লাশগুলো তার দায়িত্বে ডাম্পিং করা হয়েছে। সারা বছর পত্রিকার পাতায় ঢাকা জেলার বিভিন্ন স্থানে যে বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া যায় এটি এসপি শাফিউরের কৃতিত্ব। চারিত্রিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ় ও ভয়ংকর হওয়ায় তিনি এই বিশেষ কাজটি দক্ষতার সাথে করে প্রায় তিন বছর ধরে এই জেলায় এসপি হিসাবে আছেন।

পুলিশ বাহিনীতে দলীয় ক্যাডারদের রিক্রুট করার মিশনে শাহ মিজানের অবদান সবার মুখে মুখে। এই একই কাজে এসপি হাবিবুর রহমানের (বর্তমানে ডিআইজি প্রশাসন) ফেলে আসা সকল রেকর্ড শাহ মিজান ইতিমধ্যেই ব্রেক করেছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে তিনি বাকশালের মতো চরম পন্থায় দীক্ষা লাভ করেন। সরকারী চাকুরী করেও তিনি প্রকাশ্যে বাকশালের মতো অগণতান্ত্রিক ও নিপীড়নমূলক চিন্তা-চেতনার পক্ষে কথা বলেন। তার ফেসবুক পেজে বাকশাল মতবাদের স্বপক্ষে নিজের অবস্থান সংক্রান্তে বেশ কয়েকটি স্ট্যাটাস আছে। শাহ মিজানের বড় ভাই নাটোরে এ বছর জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের এমপি পদপ্রার্থী।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.