পল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের হটাতে পুলিশী হামলা: লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, গুলি, পুলিশের গাড়ি অগ্নিসংযোগ করে হেলমেটলীগ!

গত তিন দিন ধরে বিএনপি কেন্দ্রীয় অফিস থেকে সংসদ নির্বাচনের দলীয় ফরম বিতরন উপলক্ষে লাখ লাখ মানুষের জনসমাগম ঘটে। গতকাল ছিল সবচেয়ে বেশি জনসমাগম। কয়েক লাখ মানুষের উপস্থিতি দেখে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন লীগনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গোয়েন্দা সংস্থা ও দলীয় সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশনা দেন বিএনপি অফিসের সামনের মানুষের ভীড় কমাতে। এ নিয়ে বিডিপলিটিকো গতকাল রিপোর্ট পরিবেশন করে।

আজ বুধবার বিএনপি অফিসের সামনে লোক বাড়তে থাকলে প্রথমে বেলা ১১টার দিকে লাঠি চার্জ করে। অজুহাত হিসাবে বলা হয় নির্বাচন কমিশনের চিঠি। অথচ একই কাজে আওয়ামীলীগ সামনে (একটি আবাসিক এলাকার মধ্যে) হাতি ঘোড়া ভেঁপু বাজিয়ে তান্ডব করে। অথচ নির্বাচন কমিশন তখন টু শব্দটিও করেনি। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন পরিসআর পক্ষদুষ্ট আচরণ করছে।

Image.jpeg

পরবর্তীতে দুপুর ১টার দিকে বেশ কিছু হেলমেট পরিহিত বহিরাগত লোকজন নিয়ে কয়েক’শ পুলিশ বিএনপির সমাবেশে ঢুকে পড়ে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপর। আক্রান্ত লোকজন দৌড়ে এবং রাম্তায় শুয়ে পড়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরে পুলিশ সরে যায়। কিন্তু জনতার প্রতিরোধ চলাকালে পুলিশের সাথে যাওয়া হেলমেট পড়া লোকগুলি সেখানে পার্ক করা গাড়িগুলি ভাঙতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশের দু’টি ভ্যানে অগ্নি সংযোগ করে হেলমেট পড়া কিছু ছেলে। পরে দেখা যায় ঐ লোকগুলি ছাত্রলীগের ক্যাডার। এদের একজন গুলশান ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক অপু, যিনি পুলিশের গাড়িতে আগুণ লাগায়। পল্টনে সংঘটিত পুলিশী হামলা ও গাড়িপোড়ানোর তান্ডব কয়েকটি টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করে।

Image_1.jpeg

পরবর্তীতে দেখা যায়, সরকারী টেলিভিশন বিটিভির ক্যামেরাম্যানও সেখানে মজুদ ছিল। অথচ এসব বিষয় বিটিভি এড়িয়ে চলে আসছিল। হঠাৎ করে বিটিভির উপস্থিতিকে কথিত নাশকতার শুটিং হিসাবে প্রতীয়মাণ হয়। ঘটনার পরে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায় যেসব যুবক গাড়ি ভাঙচুর এবং পুলিশের গাড়ি পুড়িয়েছিল, তারা হেলমেট পড়ে পুলিশের সাথেই ঢুকেছিল। জানা যায়, পুলিশ সাধারণত আক্রমনস্থলের আশেপাশে তাদের গাড়ি পার্ক করে না। তবে এক্ষেত্রে তারা গাড়ি সেখানে রাখে, অতপর গাড়িগুলিতে যাখ আগুণ দেয়া হয়, তখন পুলিশ কোনো বাধা প্রদান করেনি। এথেকে প্রতীয়মান হয় যে, পুলিশ খুব পরিকল্পিতভাবে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করায়, তাদের সাথে আনা লোক দিয়ে গাড়িগুলি পোড়ায়। তাছাড়া সেখানে কর্মরত গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, সরকারী দলের ক্যাডাররা মাথায় হেলমেট পড়ে গাড়ি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে। হেলমেট বাহিনীর হামলার ধরনের সাথে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের উপর বর্বরভাবে হামলে পরা হেলমেট বাহিনীর মিল রয়েছে। সে হামলায় কেউ গ্রেফতার হয়নি  হয়নি কোন বিচার।

Image_3.jpeg

ঘটনার পর পর বিএনিপি অফিস থেকে সংবাদ সম্মেলন করে বলা হয়, গাড়ি পোড়ানো বা ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির নেতকর্মীরা জড়িত নয়। বরং ছাত্রলীগ ও হেলমেট লীগ দায়ী। বিকালে নির্বাচন কমিশনের সাথে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠককালে পল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর পুলিশী হামলা এবং ছাত্রলীগ কর্মীদের দ্বারা গাড়িপোড়ানোর ঘটনা অবহিত করে বিচার দাবী করা হয়।Image_4.jpeg

Image_6.jpeg

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.