লাশ প্যাকেট করায় ওস্তাদ রাজশাহীর এসপি শহিদুল্লাহ!
২৪ বিসিএস পুলিশের মো. শহিদুল্লাহ রাজশাহী জেলায় এস পি হিসাবে পদায়ন হওয়ার আগে চট্টগ্রাম জেলায় কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার বস ছিল হাফিজ আক্তার, যিনি এখন আরএমপি কমিশনার। বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের নিপীড়ন করার কাজে দু’জনের ক্রেজি মনোভাব ও বোঝাপড়া ছিল চরম, সে অবস্থায় উত্তরবঙ্গ ঠান্ডা করতে তাদের চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহী এলাকায় আগমন।
চাকরিতে নবীন হলেও গায়েবী মামলা তৈরির কাজে শহিদুল্লাহ সিদ্ধহস্ত। চট্টগ্রামে থাকাকালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিরোধীদল ও মতের লোকজনকে মেরে প্যাকেট করা লাশ নদীতে, সমুদ্রে, নাকি পাহাড়ি জংগলে ডাম্পিং করা হবে, তা হাফিজ ও শহিদুল্লার যৌথ আলাপ ও উদ্যোগে বাস্তবায়ন করতেন!
বাস্তবতা হলো চিটাগাং এর আগের সেট-আপ এখন পুরাটাই দেশের উত্তর জনপদ রাজশাহীতে। রাজশাহী জেলায় পদায়নের পরপরই শহিদুল্লাহ একটা কন্সটেবল রিক্রুটমেন্ট পায়। জীবনের প্রথম রিক্রুটমেন্ট হওয়ার কারণে তিনি লোভ সামলাতে পারেননি। ফলে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে একটি ইনকোয়ারি টিম গঠিত হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হয়, কিন্তু টাকা ও পলিটিক্যাল লবিং এবং হাফিজ আক্তারের সাহায্য নিয়ে সে যাত্রায় পার পেয়ে যান শহিদুল্লাহ।
এসপি শহিদুল্লাহ অত্যন্ত বিকৃত ও আগ্রাসী মানসিকতার অফিসার। গুম ও খুনের পাশাপাশি তিনি তার একটি বিশেষ টিমকে দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের হাতে নেশাদ্রব্য ধরিয়ে দিয়ে গ্রেফতার ও হাতে-পায়ে গুলি করে পংগু করে দিচ্ছেন। গত জুন/১৮ মাসের দিকে বাগমারা থানার বিএনপি’র এক কর্মীকে সে তার বিশেষ টিম দিয়ে রাতের আধারে দুই পায়ে গুলি করিয়ে পংগু করান। ফায়ারিং জায়েজ করার জন্য রাজনৈতিক ঐ কর্মীর হাতে মাদক ধরিয়ে দেওয়া হয়। নতুন এই কৌশল প্রয়োগ করে রাজশাহী এলাকায় বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের সারা জীবনের মতো পংগু বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইলেকশনে মহাজোটের প্রার্থী লিটনকে জোর করে জিতিয়ে আনার জন্য পুলিশের যে ছোট গ্রুপ কাজ করেছিল তার অন্যতম সদস্য ছিল শহিদুল্লাহ। বাকী সদস্যরা ছিল গোপালগঞ্জের সন্তান ১৭ ব্যাচের ডিআইজি হাবিবুর রহমান, আরএমপি কমিশনার হাফিজ আক্তার ও ১৮ ব্যাচের এডিশনাল ডিআইজি আসাদুজ্জামান। এরা মেয়র প্রার্থী লিটনের সাথে গোপন বৈঠক করে এবং জিতিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিশাল অংকের টাকা উৎকোচ নেয়। এসময় তারা নতুন কৌশল নেয়। রাজশাহী শহরের বিএনপি’র এক্টিভ নেতা-কর্মীদেরকে খুঁজে বের করে ভোটের আগে থেকে বাইরের জেলাগুলোতে থানা হাজত ও গোপন স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ভোটের পর টাকার বিনিময়ে কাউকে কাউকে ছেড়ে দেওয়া হয়, বাকীদেরকে পেন্ডিং ভুতুড়ে মামলায় কোর্টে পাঠানো হয়।
সাবেক এসপি আলমগীরের সময় জেলার পুলিশ লাইনের গেটটি প্রায় কোটি টাকায় নির্মাণ করা হয়েছিল। কিছুদিন আগে থেকে নবনির্মিত গেটটি আবারও ভেংগে ফেলা হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় নতুন এই গেটটি সুদর্শন করানোর কথা বলে পুলিশ হেড কোয়ার্টার থেকে থেকে শহীদুল্লাহ দেড় কোটি টাকা আনিয়েছেন। বিভিন্ন থানার বাউন্ডারি ওয়াল ও গেট মেরামতের নামেও কয়েক কোটি টাকা নিয়ে এসেছেন তিনি। এসব টাকা বরাদ্দ পেতে সহায়তা করেছেন পুলিশের বহুল আলোচিত-সমালোচিত ১৭ ব্যাচের এডিশনাল ডিআইজি গাজী মোজাম্মেল হক। গাজী মোজাম্মেল বিএনপি’র আমলে শুরু হওয়া পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোশাইটি (POHS) প্রজেক্টের দেখাশুনার দায়িত্ব নিয়ে গত ১৩ বছরে কিছুই করেননি। এই প্রজেক্টটির উন্নয়নের নামে তিনি শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন পুলিশ অফিসারদের পকেট থেকে। পূর্বাচলের পাশে এখন তার “আনন্দ হাউজিং প্রজেক্ট” নামে একটি হাউজিং, শত বিঘা জমি ও প্লট রয়েছে।
এসপি শহিদুল্লাহ তার সাথে থাকা এডিশনাল এসপি সুমিত চৌধুরীকে সব ব্যাপারে লাই দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। সুমিতের মাদকাসক্তি, ফোর্স ও অফিসারদের সাথে দুর্বিনীত আচরণ, ব্যাপক ঘুষ ও দুর্নীতি দেখেও না দেখার ভান করতেন শহিদুল্লাহ। কয়েক মাস আগে জমে থাকা এসব অভিযোগে সুমিত চৌধুরীকে নৌ পুলিশে বদলি করা হয়। সুমিত চৌধুরী প্রকাশ্যে নিজেকে ভাররে গোয়েন্দা সংস্খা র-এর এজেন্ট হিসাবে পরিচয় দেন।
