৫ কোটি টাকা ঘুস না পেয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসিকে ক্লোজ করলেন নারায়নগঞ্জের এসপি হারুন!
দেশে নির্বাচন চলাকালে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া কোনো বদলী করা যায় না। কিন্তু সেটাই ভঙ্গ করে ওসি বদলী করে ফেললেন নারায়ণগঞ্জের নতুন এসপি হারুন অর রশিদ। গত বুধবার রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনিরকে প্রত্যাহার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। এটা রেগুলার বদলী নয়, এটাচ করা য়েছে মাত্র। তবে ঝামেলা এড়াতে নিউজ করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়ে এ বদলী। কিন্তু এটা সত্যি নয়।
নতুন ওসি হিসেবে যোগদান করেছেন আব্দুল হক। তিনি আড়াইহাজার থানায় কর্মরত ছিলেন। এক মাস আগে আড়াইহাজার থেকে আব্দুল হককে প্রত্যাহার করে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ে রাখা হয়। এক্ষণে রূপগঞ্জ থানায় দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
ওসি বদলী নিয়ে জানা গেছে চ্যাঞ্চল্যকর খবর! গত ২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের নতুন এসপি হিসাবে হারুন অর রশিদ যোগদান করেই তার আওতাধীন ৫ ওসি দেখা করলে এসপি তাদের বলেন, প্রত্যেকে ৫ কোটি করে নগদ টাকা জমা দিবে ৭ দিনের ভেতর। নইলে পোষ্টিং। চার ওসি নির্ধারিত সময়ে মধ্যে ৫ কোটি টাকা করে জমা দিলেও ব্যর্থ হন রূপগঞ্জ থানার ওসি মনিরুজ্জামান। এসপি তাকে ডেকে বকা ঝকা করেন। ওসি মনির বলেন, স্যার, আমাকে আর ৭টা দিন সময় দেন, আমি চেষ্টা করে দেখি। এখন ইলেকশনের সময়, তাই টাকা ওঠানো কঠিন। এসপি হারুন তখন বলেন, অন্যরা পারলে তুমি কেনো পারবে না। যাও, তোমাকে দিয়ে হবে না। দিন নষ্ট করে আমার লাভ কি? সাথে সাথে ওসি মনিরকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করে আব্দুল হককে আড়াইহাজারে পোস্টিং দেন হারুন। এটি জায়েজ করার জন্য ওসি মনিরের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ তৈরি করে ইলেকশন কমিশনকে অবহিত করে রাখেন হারুন। কয়েকটা সাংবাদিক ডেকে প্রচার করে দেন, ইলেকশন কমিশনের নির্দেশে ওসির বদলী। তাসলে তা সত্য নয়। এ প্রসঙ্গে ওসি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, আমি চেষ্টা করেছি রূপগঞ্জ থেকে মাদক, সন্ত্রাসসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে এসপি হারুন অর রশিদ ডিএমপিতে এডিসি হিসাবে কর্মরত থাকাকালে বিএনপির চীফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে আহত করে আলোচনায় আসেন। এরপরে আর তাকে পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরে তিনি গাজিপুরের এসপি (যা পুলিশ বিভাগের সবচেয়ে লোভনীয় পদ) পদ হাসিল করেন। টানা চার বছর সে দায়িত্বে থেকে তার দুর্নীতির পরিমান ৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে জানিয়েছেন পুলিশ বিভাগে কর্মরত তার সহকর্মীরা। তার স্ত্রীর ১৫৩২ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা যুক্তরাষ্ট্রে আটক হয়েছে মর্মে খবর প্রকাশিত হয়। আমেরিকাতে রয়েছে তার কয়েকটি আলিশান বাড়ি। এ ছাড়া হারুন গাজিপুরে ১৬৩ বিঘা জমি কিনেছেন। কিছু দিন আগে তাকে গাজিপুর থেকে প্রত্যাহার করে নরসিংদিতে পদায়ন করা হলে তাকে নিতে রাজী হয়নি রেঞ্জ ডিআইজি। কয়েকমাস ডিএমপিতে পোস্ট ছাড়া এটাচ থাকার পরে নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে নারায়নগঞ্জের এসপি আনিসের বদলী হলে ভাগ্য খোলে মহা দুর্নীতিবাজ হারুনের।
তবে রূপগঞ্জের ওসি বদলীর বিষয়টি তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে কেঁচো খুড়তে সাপ- হারুনের ২৫ কোটি টাকা চাঁদা তোলাার কাহিনী।
