নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নাই, হয় নির্বাচন পিছান, নইলে পদত্যাগ করুন- ওয়াশিংটনের বার্তা নিয়ে ইসির সঙ্গে জরুরি বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে চরম সংঘাতময় মুহুর্তে সিইসি নূরুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার। সাক্ষাতে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ অনুপস্থিত। তাই নির্বাচন এক মাস সরিয়ে পরিবেশ ঠিক করতে পরামর্শ দেন। সিইসি এতে রাজী না হয়ে আর্গুমেন্ট শুরু করলে তখন বলা হয় তবে আপনি সরে দাড়ান! খবর ইসি সূত্রের।

গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা প্রচার-প্রচারণায় যে সব ‘নেতিবাচক কর্মকাণ্ড’ হয়েছে তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভোটের দিনে অধিক মাত্রার সহিংসতার আশঙ্কা করছে। এ জন্য এখনই ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। সহিংসতার আশঙ্কায় ওয়াশিংটনের বার্তা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন ঢাকায় নব নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। বৈঠক শেষে তিনি উপস্থিত গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি বলেন, প্রচার-প্রচারণায় যে সহিংসতা হয়েছে তাতে অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন। সংখ্যালঘু এবং নারী প্রার্থীরাও আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন। যা সত্যিই উদ্বেগের।

এ নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তা-ও উল্লেখ করে মার্কিন দূত বলেন, ভোটের দিনে সহিংস পরিস্থিতি ঠেকাতে এখনই ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আমরা আহ্বান জানিয়েছি।

এ নিয়ে আলোচনা করতে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে জরুরি সাক্ষাৎ চেয়েছিলেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, সিইসি মিস্টার হুদার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

সেখানে অন্য কমিশনাররাও ছিলেন। মার্কিন দূত বলেন, তার দেশ বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন দেখতে চায়। তারা চায় সবাই নির্বিঘেœ ভোট দিক। ভোটারদের নির্বিঘেœ-নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া এবং ভোটে জনমতের সত্যিকারের প্রতিফলন দেখতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বাংলাদেশের বন্ধু-উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থা-সংগঠনের যে আকাঙ্খা সেটি পূণর্ব্যক্ত করে মার্কিন দূত বলেন, আমরা আশা করি ৩০শে ডিসেম্বর বাংলাদেশের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। সবাই ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তার পছন্দের প্রার্থীর পক্ষেই ভোট দিবে। সে যে দল বা মতের হোক না কেন। শান্তিপূর্ণভাবে সবাই সবার অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। যে কোন গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে। সবার জন্য সমান অধিকার থাকবে। সভা-সমাবেশ, মিছিল, মিটিংয়ে সবার অধিকার থাকবে।
রবার্ট মিলার বলেন, এখন পর্যন্ত যে সহিংসতা হয়েছে তাতে তারা উদ্বিগ্ন। ভোটের দিন অধিক মাত্রায় সহিংসতার আশঙ্কা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য ব্যবস্থা নিতে ইসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রবার্ট মিলার বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আমরা বলেছি যুক্তরাষ্ট্র গত দুই সপ্তাহের নির্বাচনী সংহিসতা নিয়ে অবগত আছে। বড় বড় নেতারাসহ সংখ্যালঘুরা সহিংসতায় আক্রান্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, অধিকাংশ বড় নেতারাই বিরোধী দলের। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য সহিংসতা প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা কী জানতে এসেছিলাম। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের মানুষের কাছে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক দেখতে চায়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, জাতিসংঘের (ইউএন) মহাসচিব একটা বিবৃতি দিয়েছেন। সেই দাবি আমাদেরও। তিনি বলেছেন- নির্বাচনের আগে ও পরে সকল অংশীজনের কাছে তিনি সহিংসতামুক্ত শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বলেছেন। যেন সংখ্যালঘুসহ সকল বাংলাদেশি ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। সুশীল সমাজ, পর্যবেক্ষকরা যেন সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.