ক্ষমতাসীনরা রাতেই ৩০-৪০ শতাংশ ভোট নৌকা প্রতীকে সিল মেরে বাক্সে রাখছে: বিএনপি

শনিবার দিবাগত রাত ১০টায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রিজভী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শোনা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীনরা রাতেই ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে বাক্সে রাখছে। এজন্যই ধানের শীষের অনেক প্রার্থীকে তাদের নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী ক্যাডার’রা।
এদিকে, ঢাকা-৫, জামালপুর-৩, কিশোরগঞ্জ-৪, নেত্রকোণা-৩, ফরিদপুর-৩, ফরিদপুর-১ ও জয়পুরহাটের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সিল মারছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, কোনভাবেই আওয়ামী লীগ তার বিজয়ের অঙ্ক মেলাতে পারছে না। তাই রাতের অন্ধকারে ব্যালটে সীল মেরে ভোট ডাকাতি শুরু করেছে। এদের কাপুরুষোচিত কাজে ভয় পাবেন না। মনে রাখবেন, “ভয় পেলেই শেষ, আর ভয়কে জয় করলে আমরাই বাংলাদেশ”। জেগে উঠুন। গ্রামবাসীকে জাগান। ভোট চুরি ঠেকান। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত। প্রয়োজনে হারিকেন ও টর্চ লাইট নিয়ে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে অবস্থান করুন ভোট চুরি ঠেকাতে। জয় আমাদের হবেই ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন,
ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাসের বাসা একরকম অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তাঁর বাসার ভিতর থেকে কোন নেতাকর্মী বের হতে পারছে না। বের হলেই তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মহানগর:
বিএনপ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাসা ঘিরে রেখেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় দুইজন বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কুমিল্লা-১০
ধানের শীষের প্রার্থী কারাবন্দী মনিরুল হক চৌধুরীর নির্বাচন সমন্বয়কারী ৭/৮ জন নেতাকর্মীকে প্রার্থীর বাড়ী থেকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। তার মেয়ের গাড়ী থেকে প্রয়োজনীয় কাগজ ও স্টিকার নিয়ে গেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচনী এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তান্ডব অব্যাহত রেখেছে। এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। সেখানে ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে।
কুমিল্লা-৩
বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী কে এম মজিবুল হক এর বাসার সামনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অবস্থান নিয়েছে। বাসায় ঢোকা ও বেরুবার সময় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট আনিসুর রহমান, স্বাধীন সোহেল ও আলামীনকে প্রার্থীর বাসায় ঢোকার সময় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্বাচনী এলাকায় প্রত্যেক নেতাকর্মীর বাসায় বাসায় অভিযান চালিয়ে গণহারে বিএনপি নেতাকর্মী ও ধানের শীষের সমর্থকদের গ্রেফতার করছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
যশোর-৩
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ধানের শীষের প্রার্থী। তার বাড়ি পুলিশ র্যাব ঘিরে রেখেছে। বাড়িতে হানা দিয়ে দলের বেশ কিছু নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। অমিতের নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী ক্যাডারদের দ্বারা অনেক কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে সিল মারা শুরু হয়েছে।
বরগুনা জেলা:
বরগুনা জেলাধীন বামনা থানার সদরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে আওয়ামী ক্যাডার’রা মহড়া দিচ্ছে।
ঠাকুরগাঁ-১ (সদর)
গিলাবাড়ী সরকারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, রুহিয়া সালেহিয়া আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র ও সবুজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে সিল মারছে আওয়ামী ক্যাডার’রা,
পঞ্চগড়-২
এই আসনের দুটি উপজেলা দেবিগঞ্জ ও বোদার দু’জন ইউএনও প্রিজাইডিং অফিসারদের বলছে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে বাক্সে ভর্তি করতে হবে।
ঢাকা-১৩
মোহাম্মদপুর বাঁশবাড়ীতে আওয়ামী লীগ নেতা রাজিব এর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় ভোট কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে সিল মারা হচ্ছে।
কক্সবাজার
চকোরিয়া থেকে দুরবর্তী চরণদ্বীপ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, পালাকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারা চলছে।
ঢাকা-৮
ইতোমধ্যে ফকিরাপুল কেন্দ্রে, শিক্ষাশিবির স্কুল কেন্দ্রে এবং দ্বীপ শিখা ভোটকেন্দ্রে ইতোমধ্যে নৌকা প্রতীকে সিল মারা শেষ হয়েছে।
ঢাকা-৯
নবীয়াবাদ মাদ্রাসা কেন্দ্র, কম্বাইন্ড কিন্ডারগার্টেন কেন্দ্র, মাদারটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, এস আর এ মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রগুলোতে ইতোমধ্যে নৌকা প্রতীকে সিল মারা সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা বৌদ্ধরাজি ভোটকেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে ইতোমধ্যে সিল মারা শেষ হয়েছে।
নরসিংদী
মনোহরদী বেলাবো ভোটকেন্দ্র দখল করে আওয়ামী ক্যাডারদের দ্বারা নৌকা প্রতীকে সিল মারা হিড়িক চলছে। প্রায় ৪০ শতাংশ ব্যালট পেপারে সিল মারা হয়ে গেছে।
সিরাজগঞ্জ-২
সয়দাবাদ ইউপি সারুটিয়া ও খোকসাবাড়ি, চন্দ্রকোনা, বানিয়াগাতি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে সিল মারছে আওয়ামী ক্যাডার’রা।
হবিগঞ্জ-১
উক্ত আসনে কাজীরগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও আওয়ামী লীগ নেতা খালিদ মোশাররফ প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারকে বলে যে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তো আমরা জিততে পারবো না, সুতরাং আমাদের ছেলেরা আসবে, তাদেরকে নৌকা প্রতীকে সিল মারার সুযোগ করে দিবেন।
কুমিল্লা-১
পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির আহম্মদের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালিয়ে সব কিছু ভাংচুর করে এবং তার ঘরে ঢুকে তার একমাত্র মেয়ে সাবরিনা মনির অন্তরার সাথে দুর্ব্যবহার করে আওয়ামী হায়েনার দল।
ঢাকা-১৬
পুলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য তাদের বাসায় বাসায় পুলিশ ও আওয়ামী যৌথ ভাবে হুমকি দিচ্ছে যে, পুলিং এজেন্টদের না পেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করা হবে। আর যে এজেন্ট হবে তার রক্ষা নাই।
দারুস সালাম থানার ওসি সেলিমুজ্জামান দিয়েছে রাতেই ৩০ শতাংশ ভোট দিয়ে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার জন্য প্রিজাইডিং অফিসারদের চাপ দিচ্ছে।
চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জে ও মতলবেও রাতেই আওয়ামী ক্যাডার’রা ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করছে।
মুন্সিগঞ্জ সদরে ধানের শীষের এজেন্টদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, ব্যাপক মারধর করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন কেন্দ্রে স্থানীয় ওসি’র সহযোগিতায় ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হচ্ছে।
কিছুক্ষণ আগে ঢাকা-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জানিয়েছেন-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে যুবলীগ-ছাত্রলীগের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সীল মারছে। রাতেই নাকি ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হবে।
কুষ্টিয়া-৪
বিভিন্ন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও ক্যাডাদের ব্যালট পেপারে সিল মারার ধুম পড়েছে। কুমারখালী থানাধীন মনোহরপুর সঃপ্রাঃবিঃ ভোটকেন্দ্রে সিল মারা চলছে। কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের কয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সিল মারা চলছে। খলিসা দহ ভোটকেন্দ্রেও সিল মারা হচ্ছে। বানিয়াপাড়া সঃপ্রাঃবিঃ ভোট কেন্দ্রে এখন ব্যালট পেপারে নৌকা প্রার্থীর পক্ষে সিল মারার উৎসব চলছে। চারিদিকে ব্যালট পেপারে সিল মারার জন্য আওয়ামী লীগে টিম বেরিয়েছে।
চাঁদপুর
চাঁদপুর সদরে ৬০/৭০টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপারে সিল মারা চলছে। থানার চর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মুক্তার গাজির বাড়ি ঘিরে রেখেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
নরসিংদী সদরে বিভিন্ন কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে সিল মারছে আওয়ামী লীগ ক্যাডার’রা।
