ভোটের সমালোচনার পর বাংলাদেশ নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন যুক্তরাষ্ট্রের
এসএএম রিপোর্ট, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯শেয়ার করুন FacebookTwitter
বাংলাদেশের ৩০ ডিসেম্বরের সাধারন নির্বাচন আয়োজন নিয়ে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে জোরালো অভিন্ন স্বার্থ দেখতে পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কথাই ভাবছে।
পাশ্চাত্যের সাথে মোটামুটিভাবে ইতিবাচক সহযোগিতা রক্ষাকারী উদার মুসলিম জনসাধারণ-সংবলিত বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে বাংলাদেশের। অবশ্য এই সম্পর্ক এতটা ঘনিষ্ঠ নয় যা ওয়াশিংটনকে ব্যাপক সুবিধা দেবে।
শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে অবিশ্বাস্যভাবে ২৮৮টিতে জয়ী হয়েছে। আর বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া (তিনি কয়েক দশক ধরে তার তিক্ত শত্রু হিসেবে রয়েছেন) যেসব অভিযোগে কারাবন্দি রয়েছেন, বিরোধীরা বলছেন সেগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে সংবাদপত্র নতুন বিধিনিষেধে নিয়ন্ত্রিত।
নির্বাচনের আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর উদ্বেগ প্রকাশ করে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের রাশ টেনে ধরার অভিযোগ করে অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করার পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিল।
নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেখ হাসিনার সাফল্য কামনা করে একটি চিঠি দিলেও তিনি মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করার প্রতি প্রতিশ্রুতি নতুন করে ব্যক্ত করার অনুরোধ করেন বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ইসলামপন্থীদের প্রতি তীব্র বৈরী শেখ হাসিনা জামায়াতে ইসলামীর ওপর প্রবল দমন অভিযান পরিচালনা করেছেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার অভিযোগে দলটির ৫ নেতার ফাঁসি পর্যন্ত কার্যকর করেছেন।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে আশ্রয় দিয়ে সঙ্কটটিকে আরো বড় আঞ্চলিক মাত্রায় নিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রেখে তিনি ওয়াশিংটনের প্রশংসা অর্জন করেছেন। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত নৃশংসতাকে জাতি নির্মূল বলে অভিহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
উইড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কলার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র এসোসিয়েট মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, বাংলাদেশ কার্যত একদলীয় স্বৈরতান্ত্রিক দেশে পরিণত হয়েছে। তবে এই দেশটির কার্যকারিতা অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মানানসই।
তিনি বলেন, মূল কথা হলো, শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্র দরকারি অংশীদার মনে করে। তিনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে খুবই কঠোর, তিনি বেশ লক্ষণীয় মাত্রায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছেন।

তিনি বলেন, আমি মনে করি এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র তাকে একজন সমর্থক বিবেচনা করে এবং বাংলাদেশের খুবই গোলযোগপূর্ণ অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী মনে করে। তবে বাংলাদেশ সরকার নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সেইসাথে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করেনি।
সমালোচনার সীমিত সুযোগ
উন্মুক্ত, যুক্তরাষ্ট্র-বান্ধব ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশটির সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলেছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার মতো উচ্চ পর্যায়ের অবকাঠামো চুক্তিও করেনি চীনের সাথে।
বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হচ্ছে আঞ্চলিক শক্তি ও উদীয়মান মার্কিন মিত্র ভারত। দেশটি শেখ হাসিনার কট্টর সমর্থক। ফলে বিকল্প থেকে থাকলেও ওয়াশিংটনের সামনে অন্য কিছু করার সুযোগ খুব কম। তবে বিরোধী দল আশা করছে, মার্কিন সমালোচনা ফল দেবে।
