দরবেশের দেশে !
| বলাই চাঁদ মুখোপাধ্যায়, জার্মানি থেকে |
প্রায় দশ বছর ধরে বাংলাদেশীদের জীবন এক ঠক, বাটপার, সরকারী তহবিল তছরুপকারী, দেশের ব্যাংকের অর্থ মেরে দেওয়া বিষয়টি একজনের নিদের্শনায় নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসবে।
যার নাম বলতে চাচ্ছি তা সবার কাছে সহজেই অনুমেয়। তিনি হলেন সালমান ফজলুর রহমান, যাকে সবাই চিনে সালমান এফ রহমান(৬৭) বা দরবেশ নামে। তাঁর জন্ম ২৩ মে ১৯৫১ সালে দোহার, ঢাকায়, ১৯৭১ এ করাচি (পাকিস্তান) পড়াশুনা করেছেন। বর্তমানে বেসরকারি খাতের উন্নয়নের বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের হয়ে কাজ করছেন।বেইজিং ভিত্তিক হুরুন গবাল ২০১৭ সালের হিসেবে বিশ্বের বিলিয়নিয়ার রেঙ্কে ১৬৮৫ নাম্বারে আছেন তিনি।
এই দরবেশ তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট দুইটি সরকারী ব্যাংকের গত ১০ বছরে পুনঃ তফসিলিকরণ করা হয়েছে প্রায় ৩৫ বার । এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের পুনঃ তফসিলিকরণ হয়েছে ১৮ বার আর অগ্রণী ব্যাংকের পুনঃ তফসিলিকরণ করা হয়েছে ১৭ বার । এ ভাবে চলতে থাকলে সরকারপন্থী লোকজন ব্যাংকিং সেক্টরকে টাকা শূণ্য করে দেবে । সুতরাং দেশের এক সাধারণ নাগরিকের জীবন কেমন হতে পারে সেটা নিয়েও অনেকেরই প্রশ্ন থাকতে পারে !

এ ক্ষয়ে যাওয়া জীবন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আগামী দিনে বেঁচে থাকতে পারবে কি না তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে ! কারণ, ন্যূনতম সম্বলে বেঁচে থাকতে গেলেও সীমিত আয়ের টাকার প্রয়োজন পরে। আমাদের আয়ের উৎসগুলো দিন দিন কমে আসছে, ব্যবসা কমে যাওয়া, শেয়ার বাজারে ধস,অযথা চাকুরী থেকে ছাঁটাই, চাকুরীর সুযোগ কমে যাওয়া আর নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া কোনভাবেই দেশের মূল্যস্ফিতি ইন্ডেক্সে দেখা যায় না। সেখানেও চলেছে আমলা -মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ। আমরা দিন দিন দ্ররিদ থেকে দরিদ্রতর হয়ে পড়েছি। এই দুবির্ষ্য অবস্থায় সেই ঠক আর বাটপার লোকটাকে এ সরকারের রাষ্ট্র যন্ত্র থেকে কি আমরা কোন ভাবেই সরাতে পারবো না! কারণ তার একটা রাজনৈতিক দল আছে -সেই দলটা আগামী পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবে। বর্তমান রাষ্ট্রের যে প্রধানমন্ত্রী ও তার দল নানাভাবে সেই দরবেশ মানে সালমান এফ রহমানের ওপর নির্ভরশীল। এ দেশের ব্যবসা আওয়ামী লীগের হাতে রাখতে হলে প্রধানমন্ত্রীকে দরবেশের ওপরই একশত ভাগ নির্ভরশীল হতে হবে।
এভাবে দেশের প্রায় প্রত্যেকটি সেক্টরের ও প্রশাসনে হাত করে প্রধানমন্ত্রী মহা ফুর্তিতে রয়েছে বা না হলে বর্তমান এ বিশাল ভোট জালিয়াতি জায়েজ করতে কিভাবে ব্যবস্থা নেবে তা নিয়েও চিন্তায় থাকতো। আবার এ দীর্ঘ দশ বছরে এমন কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কাল থেকে আমরা মানে সাধারণ জনগণ একটা ঘোরের মধ্যে আছি, জানি না এ ঘোর কখন কাটবে, কবে আমাদের মুক্তি মিলবে। কোন ধরনের ঘোর মধ্যে থাকা অবস্থায় কিভাবে আস্তে আস্তে জনগনের ক্রয় ক্ষমতাটা একটু একটু করে কেড়ে নিচ্ছে এ সরকার। যারা দুর্নীতি করে তাদের আঁড়াল করার বিষয়ে ব্যবস্থাপক হিসেবে দাঁড়িয়েছে দেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের কাপড় ধোলাই প্রকল্প। এ কমিশন দলীয় স্বার্থ দেখে যাচ্ছে। এ ধোলাই প্রক্রিয়ায় প্রায় প্রতিটা আওয়ামী লীগ নেতা শুদ্ব হয়ে বের হয়ে যাচ্ছে ।
প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধ ডজন বাড়ি আছে । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্ণাঢ্য এলাকায় রয়েছে আলিশান প্যালেস সমতুল্য বিলাস বহুল বাড়ী। দেশের প্রত্যেকটি বড় উন্নয়ণ প্রকল্পে কমিশন পায় জয় ও আর তার খালা রেহানা। তাদের প্রত্যেক্ষ মদদে আমলা -মন্ত্রী বা ব্যাংকের পরিচালকরা নানাভাবে প্রভাব খাটিয়ে কুক্ষিগত করে রেখেছে এ প্রশাসনকে। প্রশাসনকে কুক্ষিগত করে রাখার ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রেখেছে দরবেশের । অন্য কেউ এ প্রভাব খাটাতে পারে না।কারো কথা বলার হিম্মত নাই কারন বাংলাদেশের নিরীহ মানুষ এখন দরবেশের দেশে বসবাস করছে । দেশের শেয়ার বাজারের প্রত্যেকটি কেলেঙ্কারি সাথে এই দরবেশের নাম উঠে এসেছে। এ সব বিরাট কেলেঙ্কারীর আজ অবধি কোন বিচার হয়নি। আর এ সরকার থাকতে কোনদিন সেই বিচারটা হবে না-এটা সবারই জানা আছে । ইলেকশনের পর আওয়ামী লীগ সরকার দেশের শেয়ার বাজারে আবারো বুঁদবুদ তৈরি করে রেখেছে। সেই বুঁদবুদ কখন ফেটে যায় তা কেউ বলতে পারবে না। আমাদের দেশের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা নিঃস্ব থেকে নিঃস্বই হয়ে যাবে।
গত ৩০ শে ডিসেম্বর জালিয়াতি ভোটের পর সরকারের ক্যাবিনেট গঠন করতে দরবেশ সালমান এফ রহমানের অবদান আছে । খোদ অর্থ মন্ত্রী দরবেশের সাথে সক্ষতা রয়েছে ,তাই মন্ত্রীত্ব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অর্থ মন্ত্রী সারা দিন দরবেশের বাসায় বসে ছিল। অর্থ মন্ত্রী নিজেও অবশ্য দেশের শেয়ার বাজারের যত কেলেঙ্কারি আছে তারও কুশিলব । ইব্রাহিম খালেদের শেয়ার বাজারের রিপোর্টে তার নামটা উঠে এসেছে ।অর্থাৎ আমরা এক বাক্যে বলতে পারি : শেয়ার বাজারের চোর হচ্ছে এখন মন্ত্রী । পরিকল্পনা মন্ত্রী থেকে এখন অর্থ মন্ত্রী হয়েছে । দেশের সর্বোচ্চ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চোর মন্ত্রীর অবস্থান আমাদের আর্থিক ও সামাজিক জীবনকে আরো দুর্বল করে দিয়েছে । আর অন্যদিকে এ মন্ত্রী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের থাকা অবস্থায় বাংলাদেশের একটা ভঙ্গুর উন্নয়নকে চোখে দেখাতে বাংলাদেশের ডাটা ম্যানুপুলেশন করে গেছে । বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা যদি একটু ড্যাটা গুলো বিশ্লেষন করেন তাহলে বুঝতে বাকি থাকবে না আসলে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ডাটা দিয়ে কি হচ্ছে আর কি দেখানো হচ্ছে বিশ্ববাসীকে । বাংলাদেশ মধ্যম আয়ে যাবার ক্ষেত্রে সেই ম্যানুপুলেশন করা ড্যাটার অবদানটাও কি মিথ্যা ? পৃথিবীর কেউ তা অস্বীকার করতে পারবে না।
দরবেশের যত ঋণ :
দরবেশের বেক্সিমকো গ্রূপের সাথে সরকারের সম্পর্কের কারণে সরকারী ও বেসরকারী ব্যাংক গুলো কেউ কোন কিছু করতে পারে না । দরবেশের এ গ্রূপের অর্থশক্তি দিয়ে রাজনৈতিক শক্তি মোকাবিলা করে যাচ্ছে । আর এখন আওয়ামী সরকারের এমপি হওয়ায় দরবেশের বেক্সিমকো একটি দানবে রূপ নিয়েছে ,কে ঠেকাবে এ দানবকে ? সরকারের সাথে একটা সমান্তরাল সরকার চালাচ্ছে -কেউ কোন কিছু বলার নাই – দরবেশের দেশে আছি বলে কথা !
দরবেশের বেক্সিমকো গ্রূপের মোট ঋণ প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা । ৯টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এসব ঋণ নিয়েছে। এ ঋণগুলোর পুনঃ তফসিলিকরণের সময়কাল গত বছর জুন মাসে । কিছু বেনামি ঋণের দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। আরও কিছু বেনামি ঋণ রয়েছে সেগুলো এখনও চূড়ান্ত ভাবে শনাক্ত হয়নি।
সোনালী ব্যাংক : বেক্সিমকো গ্রূপের তিন কোম্পানির মোট ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেডের ১ হাজার ২৭০ কোটি টাকা, বেক্সিমকো সিনথেটিকের ১৩১ কোটি টাকা এবং জিএমজি এয়ারলাইন্সের ১৩২ কোটি টাকা।

এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেড ও বেক্সিমকো সিনথেটিকের ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছিল। গত মার্চে সেগুলো নবায়ন করা হয়েছে। ২৫ কোটি টাকা ডাউন পেমেন্ট বাবদ জমা দেয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে কিস্তির টাকা জমা দেয়ার কথা। ওই সময়ের মধ্যে আরো ১১ কোটি টাকা কিস্তি বাবদ জমা দিয়েছে। এর আগে একাধিকবার খেলাপি হয়েছিল। এবার নিয়ে ১৮ দফা গ্রূপের ঋণ নবায়ন করা হয়েছে। প্রতি দফা নবায়নের ক্ষেত্রে নিয়েছে বিশেষ মওকুফ বা ছাড়। এসব ঋণের উৎপত্তি ১৯৯৬ সালে। প্রথমে মাত্র ২৫ কোটি টাকার সিসি ও এলসি ঋণ ছিল। জিএমজি এয়ারলাইন্স খেলাপি প্রতিষ্ঠান। এটি বেক্সিমকো গ্রূপের হলেও ব্যাংকে এটিকে গ্রূপভূক্ত কোম্পানি হিসাবে দেখানো হয়নি।
দীর্ঘ এ সময়ে মূল ঋণ পরিশোধ না করে বিভিন্ন সময় কিছু ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বারবার ঋণ নবায়ন এবং ঋণসীমা বাড়ানো ও নতুন ঋণ দেয়ার কারণে এ অংক বেড়েছে। এর মধ্যে বেক্সিমকো সিনথেটিক লোকসানি প্রতিষ্ঠান। শেয়ারবাজারে তালিকাভূক্ত এ কোম্পানি দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগকারীদেরকে কোন লভ্যাংশ দেয়নি। জিএমজি এলারলাইন্সের কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
জনতা ব্যাংক : বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ ২৯৬৪ কোটি টাকা। ঋণ পরিশোধ না করে শুধু ঋণ সীমা বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে গত আগস্টে বেক্সিমকো গ্রূপের প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো এলপিজি কোম্পানির নামে ৪৭৫ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ৭ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে।
গ্রূপের আবেদনের ভিত্তিতে জনতা ব্যাংকের পর্ষদ প্রথমে বেক্সিমকো গ্রূপের ওই কোম্পানির নামে ৪৫০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করে। পরে বিষয়টি জেনে বেক্সিমকো গ্রূপের পক্ষ থেকে প্রবল আপত্তি করা হয়। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, গ্রূপের জন্য ৪৭৫ কোটি টাকারই ঋণ লাগবে। পরের পর্ষদ সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহা কোন আলোচনা না করেই ঋণটি পাশ করে দেন। এ বিষয়ে কয়েকজন পরিচালক আপত্তি করলেও সেগুলো আমলে নেয়া হয়নি। বরং চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ বিষয়ে পর্ষদ সভায় আর কোন আলোচনার প্রয়োজন নেই।
এদিকে সামলান এফ রহমানের ছেলের নামে রয়েছে এই এলএনজি কোম্পানিটি। এর বিপরীতে বেক্সিমকো গ্রূপের মালিকানাধীন ৬০ বিঘা জমি ও বেক্সিমকো গ্রূপের একটি কোম্পানির ৯০ শতাংশ শেয়ার ব্যাংকে জামানত হিসাবে বন্ধক রাখা হয়েছে। তারপরও এটাকে বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ হিসাবে দেখানো হয়নি। দেখানো হয়েছে একটি স্বাধীন কোম্পানি হিসাবে। এ কোম্পানির ঋণ বেক্সিমকো গ্রূপের হিসাবে দেখানো হলে একক ঋণ হিসাবে তাদের ঋণের অংক বেড়ে যাবে। এতে জনতা ব্যাংক আইনগত জটিলতার মুখোমুখি হবে। সেটা এড়াতে তারা বেক্সিমকো এলএনজিকে বেক্সিমকোর গ্রূপভুক্ত কোম্পানি করেনি।
অগ্রণী ব্যাংক : বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ ১ হাজার ৭২ কোটি টাকা। তাদের মূল ঋণ ছিল ৮০১ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত এক টাকাও পরিশোধ করেনি। ইতিমধ্যে তাদের ঋণ ১৭ দফা নবায়ন করা হয়েছে। প্রতি দফায় দেয়া হয়েছে বিশেষ ছাড়। বেক্সিমকো হোল্ডিংসের ৫৩০ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ২৩০ কোটি টাকা মওকুফ করা হয়েছে। বাকি ৩০০ কোটি টাকা গ্রূপের বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতে সমন্বয় করা হয়েছে।
রূপালী ব্যাংক : বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ ৮৭১ কোটি টাকা। মূল ঋণ ছিল ৬৩১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সময় মতো টাকা পরিশোধ না করায় ধীরে ধীরে তা বেড়েই চলেছে। গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে।

বেসরকারী এবি ব্যাংক : এবি ব্যাংকে বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণের পরিমাণ ৮২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেডের ৬৫০ কোটি টাকা, নিউ ঢাকা জুট লিমিটেডের ৯২ কোটি টাকা, ইন্টারন্যাশনাল নিটওয়্যার লিমিটেডের ৮৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে নিউ ঢাকা জুট লিমিটেড গিরিধারী লাল মোদীর মালিকানাধীন একটি কোম্পানি। ওই কোম্পানির নামে ঋণ নিয়ে তা বেক্সিমকো গ্রূপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইন্ডিপেন্ডেড টিভির একাউন্টে স্থানান্তর হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এটি ধরা পড়ার পর এই ঋণের দায় বেক্সিমকো গ্রূপ স্বীকার করে নিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়্যার লিমিটেডের নামে নেয়া ঋণও বেক্সিমকো গ্রূপ ব্যবহার করে। পরে এই ঋণের দায়ও বেক্সিমকো গ্রূপ স্বীকার করে নিয়েছে।
ন্যাশনাল ব্যাংক : বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ ৮৩৯ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে মূল ঋণ ছিল ৪৭৭ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে তা গিয়ে ঠেকে প্রায় ৭৩৯ কোটি টাকায়। কোনো টাকা সময় মতো পরিশোধ না করায় বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮৩৯ কোটি টাকায়। এর মধ্যে জিএমজি এয়ারলাইন্সের ঋণ রয়েছে ৩৪৩ কোটি টাকা। কোম্পানির কার্যক্রম ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।
এক্সিম ব্যাংক : বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেডের নামে ৩৩৩ কোটি টাকা। বাকি ২৬৭ কোটি টাকা বেক্সিমকো গ্রূপের বেনামি ঋণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে এ ঘটনা প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হয়েছে। পরবর্তী তদন্ত চলছে। গ্রূপের মূল ঋণ ছিল ২৩৩ কোটি টাকা। এক্সিম ব্যাংকে বেক্সিমকোর প্রায় হাজার কোটি টাকার ঋণ আছে।
ব্যাংক এশিয়া : বেক্সিমকো গ্রূপের মূল ঋণ ছিল ৩০ কোটি টাকা। কিস্তি পরিশোধের সময় শেষ হলেও বকেয়া ২৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এর বাইরে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বেক্সিমকো গ্রূপের নামে ছোট আকারের ঋণ রয়েছে। ইষ্টার্ণ ব্যাংকেও বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ রয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংসের মিসাইল হচ্ছে এ দরবেশ ! স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের অর্থয়ানে এ ধরনের আরো বেশ কিছু দরবেশ আছে ,যাদের কাছে দেশ ,জাতি বা দেশপ্রেম বলতে কোনো কিছু নাই। তারা দেশকে রক্ত চোষা ড্রাকুলার মতো তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাদের কাছে গোটা দেশ ও জাতি জিম্মি হয়ে পড়েছে। সাংবাদিকদের নুন্যতম বাক স্বাধীনতা নাই। কে কথা বলবে ? কে সত্য কথা তুলে ধরবে ? দরবেশের দেশে কার এতো বড় হিম্মত ?
