বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা
ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ
সারা বিশ্ব তো বটেই, শুধু এশিয়া প্যাসিফিকেও বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার অবস্থান নিচের দিকে। বাংলাদেশের ওভারওল স্কোর ৫৩,২ এবং ১১৩ টি জরিপ কৃত দেশের মধ্যে অবস্থান ৮৩ তম।
সূচকের চারটি প্রধান স্তম্ভ-
১। খাদ্য সাশ্রয়যোগ্যতা
২। প্রাপ্যতা
৩। খাদ্যের গুণগত মান এবং সুরক্ষা।
৪। জাতীয় সম্পদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
এগুলোকে খুব ভালো, ভালো , মাঝারি, দুর্বল ও রিস্কি এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
খাদ্য সাশ্রয়যোগ্যতায় ৬০,৪ পেয়ে বাংলাদেশ ভালো করেছে। খাদ্য প্রাপ্যতায় ৫৮,৮ এর স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ মাঝারি অবস্থায় আছে।

তবে সূচকের অন্য স্তম্ভ্য খাদ্যের গুণগত মান এবং সুরক্ষায় বাংলাদেশের পারফরম্যান্স অতি নিন্মমান, স্কোর মাত্র ৩০.৬। পাশাপাশি আছে “জাতীয় সম্পদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা” নামক আরেকটি স্তম্ভ, বাংলাদেশ এখানে মাঝামাঝি ৫০,২ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বে ৮৩ তম স্থানে আছে।
বিপরীতে আমরা যদি পশ্চিম আফ্রিকার দেশ দেশ ঘানার সাথে তুলনা করি, তাহলে দেখতে পাই যে, ঘানার স্কোর গুলো নিন্নরূপ।ঘানার ওভারওল স্কোর ৬২,৮। ১১৩ দেশের মধ্যে ৫৯ তম।
১। খাদ্য সাশ্রয়যোগ্যতা > ৬৬,৩
২। প্রাপ্যতা >> ৬১,৭
৩। খাদ্যের গুণগত মান এবং সুরক্ষা। >> ৫৭,১
৪। জাতীয় সম্পদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা>> ৫৩

নিজেকে বৈশ্বিক উন্নয়নের রোল মডেল দাবী করা বাংলাদেশের স্কোর সবক্ষেত্রেই ঘানার চেয়ে পিছিয়ে!
বাংলাদেশের প্রধান প্রধান ঝুঁকির দিকঃ
খাদ্যের গুণগত মান এবং সুরক্ষা বিভাগের খাবার গ্রহণের বৈচিত্র, মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট এবং প্রটিন কোয়ালিটি এই তিনটি বিষয়ে বাংলাদেশ ঝুঁকি পুর্ণ অবস্থায় আছে।
প্রোটিন কোয়ালিটিতে বিশ্বের গড় স্কোর যেখানে ৪৭, সেখানে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ৪.৭।
২০১৯ এর সূচকে খাদ্য সাশ্রয়যোগ্যতায় বাংলাদেশ ভালো করেছে। কিন্তু ২০১৯ শেষ দিকে এসে বেশ কিছু খাদ্য পণ্যের মুল্য বৃদ্ধি পাওয়ায়, কিছু কিছু খাদ্য পণ্য প্রাপ্যতায় কিছুটা জঞ্জাল তৈরি হয়েছে বিধায়, এটা নিশ্চিত বলা যায় যে ২০২০ এর সূচকে এই বিভাগ দুটিতে বাংলাদেশ খারাপ পার্ফর্ম করবে।
