তারেক রহমানের মাস্টার্সে ভর্তি প্রসঙ্গে
সামসুল আলম
ডাক্তার জাফরুল্লাহ সাহেব তো বিএনপির নেতা কর্মী হিসাবে কোনো পদে কোথাও নাইা। হ্যা বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারেন, কিন্তু তাই বলে দলের টপ নেতৃত্ব নিয়ে অবমাননাকর উক্তি করা নেহায়েত দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ। ‘নাক গলানো’, ‘ওহি বন্ধ করতে হবে’- এর মানে কি? ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কি দল চালাবেন না? উনার কথায় আছে তারেক রহমানকে সহ্য করতে না পারার ক্ষোভ! উল্টো বরং ডাক্তার সাহেবই নাক গলাচ্ছেন বেশি। তারেক রহমান কি ক্যু করে ক্ষমতা নিয়েছেন, নাকি কারাগারে যাওয়ার কারণে পার্টির চেয়ারপারসন তার ক্ষমতা বলে নিয়োগ দিয়েছেন? এ নিয়ে উনাদের কিছু লোকের এত উষ্মা কেনো? সমালোচনা করতে চাইলে দলে জয়েন করে ফেলুন, তারপরে বলতে পারেন।
ডাক্তার সাহেব কি খেয়াল করেননি, হাসিনা মাসের পর পর বিদেশ থেকে স্যাটেলোইটে দেশ ও দল চালিয়েছেন, তখন কোথায় ছিলেন তিনি? তখন তো তিনি বলেননি, এটা অসাংবিধানিক হচ্ছে, পদ ছাড়ুন! শুধু তারেক রহমান কথা বললেই তারা ফোঁস করে উঠেন কেনো? হাসিনার বিরুদ্ধে একবার কি যেনো বলে গোয়েন্দা ঘেরাওতে পড়ে সোজা হয়ে গিয়েছিলেন, মনে আছে! জমি দখলে রাখতে ও মামলা থেকে বাঁচাতে ’আব্বা আব্বা’ নাম জপতে হয়েছিল! আমাদের স্মৃতিতে সবই আছে। তিনি নিজেকে খুব বড় জাতীয় মুরব্বী মনে করলে সবাইকে নিয়া হাসিনার কাছে যান না কেনো, তাকে বুঝিয়ে ম্যাডামকে মুক্ত করে আনছেন না কেনো? হাসিনাকে তার অপকান্ডের জন্য, বেআইনী কর্মকান্ডের জন্য, খালেদা জিয়ার বিচারে হস্তক্ষেপ করে কারাগারে আটকে রাখার বিরুদ্ধে জোড়ালো চিৎকার করছেন না কেনো?
এখন উনি তারেক রহমানকে অফ করে নিজেরা বেগম খালেদা জিয়াকে জেলমুক্ত করার দায়িত্ব নিতে চান! ভালো কথা। তো মুক্ত করতে চেষ্টা করুন না। দেখান কি করতে পারেন। উনারা তো অনেক দৌড়ঝাপ করে ফ্রন্ট বানিয়েছিলেন, তারপর কি ঘন্টাটা করেছেন, জাতি দেখেছে!
তাই দেশের সর্ববৃহৎ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনকে নিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন অবমাননাকর উক্তি করা থেকে বিরত থাকবেন বলে আশা করি। মাথায় রাখবেন, এত বড় দলে কিছু পাগলও কিন্তু আছে, তারা অত বাছ বিচার করে না– অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারে।
বুদ্ধিজীবি হিসাবে পরামর্শ দিতে চাইলে কিছু শিষ্টাচার এবং সীমারেখা মেনে চলা দরকার।
