মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আবুধাবীতে নেশাদ্রব্য সহ গ্রেফতার হয়েছেন হাসিনার মেয়ের জামাই মিতু !
মানি লন্ডারিং ও মাদকদ্রব্য রাখার দায়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে পুতুলের জামাই খন্দকার মাসরুর হোসাইন মিতুকে গ্রেফকার করেছে আরব আমিরাত পুলিশ।
জানা গেছে, আবুধাবীর মোহাম্মদ বিন জাহিদ সিটির নিজ বাসভবন থেকে আটক করার পরে আজ সকালে তাকে শারজাহতে নিয়ে যাওয়া হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গ্রেফতারকৃতকে বুহাইরা পুলিশ স্টেশনে রাখা হয়।
উল্লেখ্য, মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মিতুর বুহাইরা ক্রোনিকের আল নাসির প্লাজা-৫ এর নম্বর ৩০১৩ নম্বর এপার্টমেন্টে গত শানিবার তল্লাশি চালায় শারজাহ পুলিশ। তল্লাশিকালে এই ফ্ল্যাট থেকে মদ ও বিয়ার উদ্ধার করে। এর পরপরই খন্দকার মাসরুর হোসাইন মিতুর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে শারজাহ আদালত। শারজাহে মাদক ও নেশাদ্রব্য ব্যবহার ও বিক্রয় করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এই আইন অমান্য করার শাস্তি কঠিন শাস্তি।
এর আগে কাতার থেকে ১০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ পাচার করে আরব আমিরাতে নিজের একাউন্টে নিতে গিয়ে শারজাহ পুলিশের তদন্তের জালে আটকা পড়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ের জামাই খন্দকার মাশরুর হোসাইন মিতু। তার পাসপোর্ট আটক করে নজরবন্দী করে রাখা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং সহ নানাবিধ অপরাধের তদন্ত চলছিল। শনিবার শারজাহর কেন্দ্রস্থলে আল নাসির প্লাজায় মিতুর বাসায় তল্লাশি চালায় পুলিশ।
ফরিদপুরের কুখ্যাত নুরু রাজাকারের নাতি ও আ’লীগের সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পুত্র খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু বেশ কয়েক বছর যাবৎ স্ত্রী পুতুল সহ আরব আমিরাতে বসবাস করছেন। মুলত বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রজেক্ট থেকে দুর্নীতিলব্ধ এবং শেখ হাসিনা ও পুতুলের কমিশন বাবদ প্রাপ্ত মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার পাচার করে এনে ব্যাংকে রাখা, বিভিন্ন ব্যবসায় লগ্নি করা মিতুর কাজ। তার ব্যবসার মধ্যে রয়েছে হুন্ডি ব্যবসা, বিভিন্ন দেশ থেকে কালো টাকা আদান-প্রদান।
গত মাসে চীনা একটি মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকার বেশি একটি ফান্ড মাসরুরের একাউন্টে আসে কাতার থেকে। আবুধাবী কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ADCB) শারজাহ শাখায় অবস্থিত মিতুর ব্যক্তিগত একাউন্টে এই টাকা আসে। কাতার নিয়ে চলমান সংকটের ফলে আরব আমিরাতের সাথে দেশটির ব্যবসা বানিজ্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। আর সেই কাতার থেকেই মোটা অংকের টাকা অনলাইন ট্রানজেকশনের মাধ্যমে আসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মেয়ের জামাই খন্দকার মাসরুর হোসের পারসোনাল একাউন্টে। সন্দেহজনক এই লেনদেন নিয়ে তদন্ত শুরু করে শারজাহর AML ইউনিট। সেখান থেকে বিষয়টি শারজাহ পুলিশের কাছে আসে। মিতুর বাংলাদেশী পাসপোর্ট আটক করে তার পালানো আটকে দেয় পুলিশ। শেষে তল্লাশি শেষে ঘটে এই গ্রেফতার।
আরব আমিরাতের ৭টি আমিরাতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই শারজাহ আমিরাতে চলে নিজস্ব আইন কানুন। এখানে পবিত্র কোরআনের আইন কার্যকর। তাছাড়া ২০১৮ সালে নতুন এন্টি মানি লন্ডারিং আইন (AML) কার্যকর করার পর থেকে দেশটিতে মানি লন্ডারিং ড্রাইভ জোরদার হয়। সেই বিপদেই পড়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মেয়ের জামাই।
ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত সোর্স ছাড়াও সেনা গোয়েন্দা সোর্স এবং ঢাকাস্থ আরব আমিরাত সূত্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মেয়ের জামাইর গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করেছে।
