খালেদা জিয়ার মামলার রায় প্রদানকারী বিচারক আখতারুজ্জামানের সম্বন্ধী-কন্যা সুস্মিতা ব্যাংকের টাকা চুরির মামলায় নিউইয়র্কে গ্রেফতার
যুক্তরাষ্ট্রে জনতা ব্যাংকের ডলার চুরি করে গ্রেফতার হলেন বাংলাদেশের আপীল বিভাগের সদ্য অবসরে যাওয়া বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকীর কন্যা সুস্মিতা তাবাসসুম। সুস্মিতার চাচা হাসান ফয়েজ সিদ্দিকও আপিল বিভাগের বিচারপতি, আর তার ফুপা হলেন আরেক বিচারক ড. আখতারুজ্জামান, যিনি এখন হাইকোর্টের বিচারক, তবে তিনি কুখ্যাত হয়ে আছেন বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে দুটি বিতর্কিত মামলায় চাপিয়ে দেয়া রায় প্রকাশের পরে পুরষ্কার হিসাবে (জুনিয়র জজ হাওয়া সত্ত্বেও) হাইকোর্ট বিভাগে নিয়োগ লাভ করে।
জানা গেছে বিচারক আবু বকর সিদ্দিকী কন্যা সুস্মিতা তাবাসসুম আমেরিকার নিউইয়র্কে জনতা ব্যাংক ফরেন একচেঞ্জ থেকে ৬ লাখ ৩ হাজার ৯ শত ৪৭ মার্কিন ডলার চুরি করে নিয়ে গেছে, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি ১৩ লক্ষ টাকার সমান। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জনতা ব্যাংকের ‘জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি আইএনসি’ নামে একটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি রয়েছে, সংক্ষেপে এটি ‘জেইসিআই, ইউএসএ’ নামে পরিচিত। আর জেইসিআইয়ের ঐ অর্থ চুরির সাথে জড়িত সুস্মিতা তাবাসসুম নামের টেলিফোন অপারেটর কাম টেলার।
জেইসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ছিলেন জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই যিনি অবসরে গেছেন। তাঁর অবসরে যাওয়ার পর জনতা ব্যাংক ঢাকা থেকে মাহবুবুর রহমান নামের একজনকে জেইসিআইয়ের নতুন সিইও হিসেবে নিয়োগ দেয়। কিন্তু মাহবুবুর রহমানের ভিসা পেতে দেরি হচ্ছিল বলে জনতা ব্যাংক জেইসিআইয়ের টেলিফোন অপারেটর কাম টেলার সুস্মিতা তাবাসসুমকে কাজ চালিয়ে যেতে বলে। ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেইসিআইয়ের দায়িত্ব পালন করেন সুস্মিতা তাবাসসুম। এই ফাঁকেই ঐ অর্থ চুরির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সুস্মিতাকে ধরা হলে তিনি ঐ অর্থ হাবিব ব্যাংকে জমা দিয়েছেন বললেও এ সংক্রান্তে তার দাখিল করা টাকা জমার রশিদ ছিল জাল।
এই চুরির ঘটনা নিয়ে নিউইয়র্কের আদালতে ক্রিমিনাল মামলা হয়। কিন্তু সুস্মিতা পালিয়ে বাংলাদেশে চলে যান। কয়েক মাস পরে ফেসবুক আইডি সহ অনেকে তথ্য গোপন করে গত ১৫ মার্চ নিউ ইয়র্কে ঢোকার সময় জেএফকে বিমান বন্দরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির হাতে ধরা পড়ে সুস্মিতা তাবাসসুম। এরপরে তার জামিনে মুক্ত হয়। ছয় মাসের মধ্যে মামলার বিচার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
