পুলিশ নির্ভর আওয়ামী লীগ, নাকি পুলিশ লীগ চালাচ্ছে দেশ?
কুমিল্লায় কোরআন অবমাননা কান্ডের পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সপ্তাহখানেক ধরে চলা সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে খোদ সরকারের ভেতরেই। কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী এবং রংপুরে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনায় সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের একেবারেই সরকারের সহযোগিতা করেনি, বরং কোথাও কোথাও নিজেরাই হামলাকারী হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, কুমিল্লার ঘটনার পরে হাজীগঞ্জ, চৌমুহনী, সিলেট, চট্টগ্রাম কিংবা পীরগঞ্জের ঘটনার সময় খোদ পুলিশকেও উদাসীন দেখে গেছে, অনেক যায়গাতেই পুলিশ এবং প্রশাসনের প্রায় সবাই হিন্দু হওয়া সত্ত্বেও তারা হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। অবশ্য গত কয়েকদিনের অবস্থা দেখে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, বাংলাদেশের ওপরে দিল্লির চাপ বাড়াতেই কুমিল্লা ঘটনা ঘটিয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। আর তাই দিল্লির অনুগত এবং প্রশাসন ও পুলিশের হিন্দু কর্মকর্তারা এই সাম্প্রদায়িক হামলার সময় নিষ্পৃহ থেকেছে।
ঘটনাদৃষ্টে দেখা গেছে, এবারের দাঙার সময় ঐসব স্থানে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরাও উদাসীন ছিলেন। সাংগঠনিক ভাবে কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি। কোথাও কোথাও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জন্য এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দোষারোপ করেছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারক পর্যায়ে বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন, যেসব এলাকায় এধরনের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে আওয়ামী লীগের আরো সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশিত ছিলো।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, টানা ১৩ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে আওয়ামী লীগ অনেকটাই পুলিশ এবং প্রশাসন নির্ভর হয়ে পড়েছে। বিরোধী দল দমন থেকে শুরু করে দলীয় কর্মসূচী সব কিছুই প্রশাসন এবং পুলিশের পৃষ্ঠপোষকতায় করার কারণে আওয়ামী লীগের নিজস্ব উদ্যোগে যেকোন কর্মসূচী পালনে তীব্র অনীহা দেখা যায়। যার প্রতিফলন সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহে প্রত্যক্ষ করা গেছে। কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনায় দিনভর সংঘর্ষ হয়। এসময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ছিলেন নিরাপদ দূরত্বে। ক্ষমতাসীন দলের এরকম নীরব দর্শকের ভূমিকা এলাকাবাসীকে বিস্মিত করেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেছেন, দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীন কোঁন্দলের কারণে, এখানে আওয়ামী লীগ দিবস ভিত্তিক কর্মসূচী ছাড়া কোন কিছুতেই সক্রিয় না। একই অবস্থা চাঁদপুরে। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পুজামন্ডপে হামলার ঘটনা নিয়ে পল্টাপাল্টি দোষারোপ শুরু করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ। চাঁদপুরে সহিংসতার পর যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে তারপর আওয়ামী লীগের নেতারা ঘটনাস্থলে যান। রংপুর, এবং নোয়াখালীতেও একই অবস্থা। সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। ১৩ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও যদি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল এরকম পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক উদ্যোগহীন থাকে পুলিশ এবং প্রশাসনের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে, তাহলে রাজনৈতিক আন্দোলনে কি করবে? যদি কখনো পুলিশ বা প্রশাসন বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা না দেয়, সেক্ষেত্রে কি আওয়ামী লীগ দাঁড়াতে পারবে?আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা এব্যপারে হতাশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের সারা দেশব্যপী বিরোধী দলের আন্দোলনের তেড়ে আওয়ামী লীগ মাঠছাড়া হয়ে গিয়েছিল। তখন বহু স্থানীয় নেতারা বিএনপি জামায়াত নেতাদের হাতে পায়ে ধরে এলাকায় গোপনে থাকত, আর বেশির ভাগই এলাকা ছেড়ে বড় শহরে উঠেছিল।
কেন্দ্রীয় নেতা, এমপি, মন্ত্রীরা মফস্বলে এবং জেলায় যাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল, এমনকি প্রধানমন্ত্রী হুকুম দিয়ে পুলিশ পাহারাতেও পাঠাতে পারেনি। তখন বুঝা গিয়েছিল আওয়ামীলীগের বাস্তব অবস্থাটা কতটা নড়বড়ে এবং পুলিশ নির্ভর।
