হিন্দুদের ওপর সকল হামলার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ!

রংপুরের পীরগঞ্জে জেলেপল্লিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া প্রধান অভিযুক্ত এসএম সৈকত মণ্ডল (২৪) একজন ছাত্রলীগ নেতা। তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজ দর্শন বিভাগ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।

সদ্য ঘটে যাওয়া কুমিল্লার পুজামণ্ডপে হনুমানের মূর্তির পায়ে কুরআন রাখা নিয়ে যে ছেলেটি ফেসবুকে লাইভ করলো তার নাম ফয়েজ! মন্দিরের পাশেই হলো ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের মেয়রের বাসা। ফয়েজ মেয়রের কর্মী হিসেবে পরিচিত। এই ফয়েজের বাসা মন্দির থেকে বেশ দূরে, প্রশ্ন হলো অত সকালে ফয়েজ মন্দিরে কি করছিল? ফয়েজের লাইভ করার সময়ে মেয়রের পিএস বাবু নারায়ে তকবির স্লোগান দিয়ে লোকজন জড়ো হতে আহবান জানান। তো এসব ফ্যাক্টের প্রচার কই? অথচ কোত্থেকে এক পাগল ইকবালকে ধরে এনে ভুয়া সিসিটিভি ফুটেজ বানিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করছে পুলিশ লীগ।

এর আগে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে ভয়াল হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটতরাজের হামলার নেতৃত্বে ছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কামালুদ্দিন! এই কামালুদ্দিনের কি বিচার হয়েছে?

২০১৬ সালের ২৮-৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাসিরনগরে রসরাজ দাস নামের এক ব্যক্তির ফেসবুকে পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে হিন্দুদের ঘরবাড়ি ও মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে, যার নির্দেশদাতা ছিলেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আঁখি। তাঁর নির্দেশ ও সহায়তায় ১০ থেকে ১৫টি ট্রাকে করে মানুষ হরিপুর থেকে নাসিরনগর সদরে আনা হয়। ওই সব ট্রাকের লোকজন পরে হামলা চালায়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে বেকায়দায় ফেলতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সভাপতি সাংসদ র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর ইন্ধনে স্থানীয় সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. ছায়েদুল হককে কুপোকাত করতেই হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে ভাঙচুর চালানো হয়। সহিংসতার ঘটনায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় তিন নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। তাঁরা হলেন নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক আহম্মেদ, চাপড়তলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরুজ আলী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহপ্রচার সম্পাদক আবুল হাশেম। এ ছাড়া গত ২৭ ডিসেম্বর নাসিরনগরের হিন্দুদের ঘরবাড়ি ও মন্দিরে হামলার ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আবদুল আহাদকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ঐ হামলার ঘটনায় আরও গ্রেফতার হয় আওয়ামী লীগ মনোনীত হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আঁখি। এদের নামে চার্জশিট হয়, মামলা হয় কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো নাসিরনগরে হামলায় জড়িত ঐসব নেতাদেরকেই পরে আবার দলীয় মনোনয়ন দিয়ে পুরষ্কৃত করা হয়। মিডিয়ায় যখন এটা নিয়ে আলোচনায় আসে তখন আবার বাদ দেয়া হয়।

চলতি বছর মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের আগ মুহুর্তে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে যে কথিত ঝুমন দাসের ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনার অভিযোগ উঠেছিল, তখন শতশত মানুষ দলবেধে হামলা করে। সেখানেও ঐ ঘটনার মুল মাস্টারমাইন্ড ছিল স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম স্বাধীন ওরফে স্বাধীন মেম্বার! প্রথমে এটাও ধর্ম অবমাননার হুজুগ তুলে মিডিয়ায় প্রচার করা হলেও সত্য বের হয়ে আসতে সময় নেয়নি।

এভাবেই আওয়ামী লীগ সবসময় হিন্দুদের উপর হামলার নেতৃত্ব দেয়। সংখ্যালঘুরা দেশ ছাড়লে তাদের জায়গাজমি এরাই দখল করে খায়। আর দেশে থেকে গেলে তাদেরকে ভোট ব্যাংক হিসাবে ব্যবহার করে।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.