আমিরাতের জাতির মাতার সাক্ষাৎ পেলেন না শেখ হাসিনা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জাতির মাতা শেইখা ফাতিমার সাক্ষাৎ পেলেন না বাংলাদেশের (অনেকের কাছে বিনাভোটের. অনেকে ডাকে মিডনাইট) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা থেকে যাওয়ারকালে রাজপরিবারের এই মুরব্বীর সাথে সাক্ষাতের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হয়নি। এর কারণ হিসাবে জানা গেছে, শারজাহর মানি লন্ডারিং মামলা। প্রভাবশালী এই রাজপরিবারের সদস্যকে ব্যবহার করে মুক্তি পেতে চান হাসিনা। এর আগেও তিনি একই চেষ্টা করেছিলেন।
২০২০ সালের ৬ ই জানুয়ারী শেখ হাসিনার মেয়ের জামাতা খন্দকার মাশরুর হোসেন মিতু সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ অঙ্গরাজ্যে বিপুল পরিমানে অবৈধ অর্থ এবং মাদক সহ ধরা পড়ে। খবর পেয়ে ১১ জানুয়ারী শেখ হাসিনা ঢাকা থেকে দ্রুত ছুটে যান আবুধাবি, অথচ মাস দুয়েক আগেই তিনি ঐ দেশটি সফর করে দুবাই এয়ার শো দেখে আসেন। এত অল্প সময়ের মধ্যে তার পূণর্বার সেখানে হঠাৎ জরুরী সফরের কোনো কারণ জাতিকে জানানো হয়নি।
ঐ সফরে তিনি আরব আমিরাতের ক্ষমতাসীন শাসক পরিবারকে ব্যবহার করে ব্যাপক তদবীর চালিয়ে নিজ জামাইকে মানি লন্ডারিং মামলা থেকে বাঁচাতে চেষ্টা করেন। এমনকি আরব আমিরাতের জাতির মাতা শেইখা ফাতিমাকে ‘মা’ ডেকে তাঁর মাধ্যমে তদবীর চালান। কিন্তু সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তার কারণ, শারজাহর শাসক শেখ সুলতান বিন মুহাম্মদ আল কাসিমি ভিন্ন পরিবারের লোক, নিয়মনীতিতে খুব কড়া, সেখানে শরীয়া আইন কার্যকর। তাছাড়া কাসিমীর সাথে আবুধাবীর শাসকের সম্পর্ক ভালো না। ফলে আবুধাবীর শাসকের বা জাতির মাতার তদবীর কোনো কাজে আসেনি। তদুপরি ঢাকায় নিযুক্ত ইউএই রাষ্ট্রদূত আলমেহিরিকে একই কাজে আবুধাবী পাঠিয়ে তদবীর করান শেখ হাসিনা, কিন্তু ফল উল্টো হয়, আলমেহিরি চাকরি হারান, এবং বাংলাদেশে আর ফিরতেই পারেননি।
অবশেষে অর্থ পাচার সহ বেশ কয়েকটি মামলা হয় মিতুর নামে। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে মিতু জানান, পাচারকৃত ঐ অর্থের মালিক তিনি নন, এর প্রকৃত মালিক হচ্ছে তার শ্বাশুড়ি শেখ হাসিনা এবং তার স্ত্রী পুতুল। ফলে তাদেরকে সহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে অভিযোগপত্র দাখিল করে শারজাহ পুলিশ ও AML ইউনিট। শ্বাশুড়ির নাম বলে দেয়ায় হাসিনা চাপে পড়ে যায়। অবশেষে তার কন্যার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটান জামাই জেলে থাকা অবস্থায়।
