ফের ব্যাংকক মিশন!
আগামী ২৯ আগস্ট থাইল্যান্ডের ব্যাংককের সুকুম্বি এলাকায় আবার সমবেত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্ষমতা প্রত্যাশী ছোট ছোট দলের কিছু রাজনীতিকরা! অবশ্য বিএনপির কিছু কম ঈমানের নেতারাও আছেন এই প্রকৃয়ায়। কয়েক নেতা ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছেন সেখানে!
মার্কিন প্রবাসী মাসুদ করিম ওরফে এনায়েত করিম নামে এক টাউটের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শতাধিক নেতারা ওখানে আমন্ত্রন পেয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, ওখানে নাকি আগামী জাতীয় নির্বাচনের সিট ভাগাভাগি হবে, এবং যারা আগ্রহী তারা যেন প্রত্যেকে ৩ কোটি টাকার জোগাড় করেন, আপাতত ১ কোটি টাকা জমা দিতে হবে!
মুলত, স্বাভাবিক নির্বাচন হলে যারা বড় কোনো দলের নমিনেশন পাবেন না বা নিশ্চিতএমপি হতে পারবেন না, তারাই চাচ্ছে এই মারেফতি ব্যবস্খায় ক্ষমতায় যেতে! দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো রেজা কিবরিয়ার মত লোক (যিনি হাসিনাকে নামিয়ে গদি চান) তিনিও এই তরিকায় বিশ্বাস করে ওখানে যাচ্ছেন। মান্না ভাইও নাকি আছে এতে! গত ২/৩ বছর ধরে রাজধানীতে ৩/৪ দফা রাজপথ দখল করে ক্ষমতা বদলানোর ব্যর্থ চেষ্টার পরে এবারে মাসুদ করিমকে তারা আবারও বিশ্বাস করছেন, তার কারণ নাকি এবারে ডিজিএফআই সরাসরি যুক্ত আছে ক্ষমতা বদলের প্রক্রিয়ার সাথে! ডিজিএফআই তাদেরকে ক্ষমতায় বসাবে- বুঝুন কাণ্ড!
দেশের মানুষ ইতোমধ্যে জেনে গেছে, মাসুদ করিম নামের ঐ প্রবাসী আমেরিকান বাংলাদেশী এর আগেও ব্যাংকক কাঠমান্ডুতে এরকম সম্মেলন আয়োজন করেছিল। তিনি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশে নটঘট করলেও মাসুদ আসলে বাংলাদেশের সরকারী গোয়েন্দা সংস্খা ডিজিএফআইর পেইড এজেন্ট। মেজর জেনারেল খালেদ মামুন শেখ হাসিনা সরকারের ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক থাকতে মাসুদ করিমকে রিক্রুট করা হয়। এরপর থেকে মাসুদ করিম সিএইএর পরিচয় দিয়ে বিএনপির ওপরে কাজ শুরু করেন: বিভিন্ন নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের ওপরে প্রভাব বিস্তার করে তাদেরকে বিশ্বাস করাতে সক্ষম হন যে, সিআইএকে ব্যবহার করে বাংলাদেশে দখলদার হাসিনা সরকারের পতন ঘটাকে সক্ষম হবেন। সিঁড়ি বেয়ে অনেক ওপরে পৌছে যায় মাসুদ, তবে সঠিক হস্তক্ষেপের ফলে সে আটকা পড়ে। সরকার নামানোর কথা বলে মাসুদ প্রায়শই বাংলাদেশী কিছু পলিটিশিয়ানদের নিয়ে দেশে বিদেশে মিটিং করেন। অনেককে টাকা পয়সা ও বিমানের টিকেটও দেন। কিন্তু এর পেছনে যে তিনি তার কয়েক গুণ টাকা সংগ্রহ করেন সে কথাটি থেকে যায় আড়ালে। আমাদের জানা শোনা অনেকের কাছে টাকা চেয়ে ইমেইলও করেছে মাসুদ। ফ্রডবাজি এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে আমেরিকায় মামলা হয়েছে তার নামে, তাই সে পালিয়ে পালিয়ে বেড়ায়। সে এত চালাক যে, তার ছবি কেউ তুলতে পারে না।
মাসুদ করিম কোনো সিআইএর দায়িত্বশীল কেউ নয়, হয়ত কয়টা সাদা চামড়ার সাথে পরিচয় থাকতে পারে। এর উপর ভর করে উন্নত প্রজাতির টাউটারি চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশে! মাঝখানে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এদেশের রাজনীতি ও কিছু হতাশ রাজনীতিক।
