২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসাররা কে কোথায়

২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি দেশে “এক দলীয় ভোট” বা ”বিনাভোটের নির্বাচন” হিসাবে পরিচিত। ঐ জালিয়াতির নির্বাচনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলে ‘গভীর ত্রুটিপূর্ণ’ নির্বাচন, এবং এটি বাংলাদেশ ও এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এর জন্য দায় ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা সহ আরও ব্যবস্থার জন্য বিবেচিত হতে পারে।

ঐ নির্বাচনে বিএনপি সহ সকল বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করেছিল। কেবল অংশ নিয়েছিল আওয়ামীলীগ এবং জাতীয় পার্টি। এছাড়া সকল বিরোধী দলের সম্মিলিত বিরোধিতার মুখে ঐ নির্বাচনের চেষ্টা চালায় তৎকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন। সবখানে সারাদিন ভোটকেন্দ্রগুলো শূন্য পড়েছিল। কেউ ভোট দিতে আসেনি। বহু ভোটকেন্দ্রে একটি ভোটও পড়েনি। কোথাও কোথাও দু’চারটা করে ভোট পড়লেও এর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল জাল। অথচ ভোটগ্রহণের শেষ পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্বাচন কমিশন অভিমুখে ছুটাছুটি ও তৎপরতার পর রাতে লাখ লাখ এবং হাজার হাজার ভোট পড়েছে বলে দেখানো হয়। এতে পুরো প্রহসনটির সামান্যতম বিশ্বাসযোগ্যতাও আর অবশিষ্ট থাকেনি।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, ভোটের আগেই ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৪টি আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামীলীগের নৌকাকে নির্বাচিত ঘোষণা হয়। আর এটা করতে গিয়ে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে চরমতর অপরাধ সংঘটন করা হয়। ঐ ভোটারবিহীন নির্বাচনের শিডিউল অনুযায়ী প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল ১২ ডিসেম্বর ২০১৩ বিকাল ৫টা পর্যন্ত, নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয় ৮৬টি সিটে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরকে চাপ, ভীতি, এবং টোপ দিয়ে প্রার্থীতা আরও ৬৮টি আসনের নৌকা বাদে সকল প্রার্থী প্রত্যাহার করা হয়। সমসীমার তিন দিন পরে ১৫ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয় ১৫৪ আসনে একক প্রার্থী। শিডিউল ভাঙার ফলে পুরো নির্বাচন ছিল অবৈধ। ঐ অবৈধ সংসদ সৃষ্ট সরকারও ছিল অবৈধ।

তৎকালীন ৬৪ জেলা প্রশাসক এবং রাজধানীর জন্য ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ছিলেন ঐ অবৈধ নির্বাচন পরিচালনাকারী রিটার্নিং অফিসার। এদের মধ্যে যারা শিডিউলের পরেও যারা প্রার্থীতা প্রত্যাহারের সাথে জড়িত, তাদের অপরাধ রাষ্ট্র্রদ্রোহ বিবেচিত হতে পারে (অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল বা দখলের চেষ্টা রাষ্ট্রদ্রোহিতা)। এসব কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৩ জন সরকারের সচিবের দায়িত্বে এবং ৪ জন বিভাগীয় কমিশনারের দায়িত্বে ও অন্যান্য বিভাগীয় প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন।

২০১৪ সালের কর্মস্থল, নাম ও পরিচিতি বর্তমান কর্মস্থল

—————————— ————-

ঢাকা বিভাগ________

১। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার: মোঃ জিল্লার রহমান (১০১৬)- অবসরপ্রাপ্ত সচিব।

২। ঢাকা জেলা: শেখ ইউসুফ হারুন (৫৩৭২)- সিনিয়র সচিব (অব), নির্বাহী চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক জোন (বেজা)।

৩। গাজীপুর জেলা: মোঃ নূরুল ইসলাম (৪১৮৫) – অবসরপ্রাপ্ত সচিব।

৪। নারায়ণগঞ্জ জেলা: মনোজ কান্তি বড়াল (৫২১৮) – যুগ্মসচিব, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় (অবসরে)

৫। নরসিংদী জেলা: ওবায়দুল আজম (৪০৭৩)- অবসরে (অতিরিক্ত সচিব, বানিজ্য মন্ত্রণালয়)

৬। মানিকগঞ্জ জেলা: মোঃ মাসুদ করিম (৫৮২১)- অবসরে (অতিরিক্ত সচিব, শ্রম মন্ত্রণালয়)

৭। মুন্সীগঞ্জ জেলা: মোঃ সাইফুল হাসান বাদল (৫৭৭৭) – অবসরপ্রাপ্ত সচিব।

৮। ফরিদপুর জেলা: আবু হেনা মোর্শেদ জামান (৫৬৩৯) – সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়

৯। শরীয়তপুর জেলা: রাম চন্দ্র দাস (৪১৫৩) – অবসরে (ডিজি, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর – গ্রেড১)

১০। মাদারীপুর জেলা: জিএসএম জাফরউল্লাহ (৫৯৬৬) -বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী বিভাগ

১১। গোপালগঞ্জ জেলা: মোঃ খলিলুর রহমান (৫৬৪২)- (অবসরে) সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়

১২। রাজবাড়ী জেলা: মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল (৫৮২৪) – সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়

১৩। কিশোরগঞ্জ জেলা: এস এম আলম (৬০৬৭) – অতিরিক্ত সচিব, শিল্প মন্ত্রনালয়

১৪। টাংগাইল জেলা: মোঃ আনিছুর রহমান মিঞা (৫৬৯৬) – অবসরের পর চেয়ারম্যান, রাজউক (চুক্তিতে)

চট্টগ্রাম বিভাগ________

১৫। বি.বাড়িয়া জেলা: ড. মো. মোশারাররফ হোসেন (৬০৯১) – কমিশনার, সিলেট বিভাগ

১৬। কুমিল্লা জেলা: মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া (৪১৪২) – মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

১৭। চাঁদপুর জেলা: মো. ইসমাইল (৫৭১৩) – সচিব, খাদ্য মন্ত্রণালয়

১৮। লক্ষীপুর জেলা: এ. কে. এম. মিজানুর রহমান (৫৪৪২) – (অবসরে) মহাপরিচালক, শ্রম অধিদপ্তর

১৯। ফেনী জেলা: মোঃ হুমায়ুন কবীর খোন্দকার (৫৬০৯) – সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রনালয়

২০। নোয়াখালী জেলা: খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান (৫৪৫৬) – অবসরে (রেজিষ্ট্রার পেটেন্ট এন্ড ডিজাইন)

২১। চট্টগ্রাম জেলা: মো. আবদুল মান্নান (৫৩১১) – সচিব, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় (অবসরে)

২২। কক্সবাজার জেলা: মো. রুহুল আমিন (৫৮২৭) – উপ সচিব (সাসপেন্ড- কারাগারে)

২৩। বান্দরবান জেলা: কে. এম. তারিকুল ইসলাম (৪১৬৪) – (অবসরে) মহাপরিচালক, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো (গ্রেড-১)

২৪। রাঙ্গামাটি জেলা: মোস্তফা কামাল (৫৫২১) – সচিব, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

২৫। খাগড়াছড়ি জেলা: মোঃ মাসুদ করিম (৫৫৫৯) ডিজি, কৃষি বিপনন অধিদপ্তর


সিলেট বিভাগ________

২৬। সিলেট জেলা: মোঃ শহিদুল ইসলাম (৫৫২২) – অতিরিক্ত সচিব (অবসরে)

২৭। মৌলভীবাজার জেলা: মোঃ কামরুল হাসান (৫৭২৭) – সচিব, ত্রান ও দুযোর্গ মন্ত্রণালয়

২৮। সুনামগঞ্জ জেলা: মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী (৪১৩১) – অবসরপ্রাপ্ত সচিব (এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য)

২৯। হবিগঞ্জ জেলা: জয়নাল আবেদীন (৫৭৬৮) – এমডি, ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট

ময়মনসিংহ বিভাগ________

৩০। ময়মনসিংহ জেলা: মো. খলিলুর রহমান (৬০৪৫) – সচিব, ভুমি মন্ত্রণালয়

৩১। নেত্রকোনা জেলা: মো. আবুল কালাম আজাদ (৫৮৪১) – ডিজি, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তর

৩২। শেরপুর জেলা: মোহাম্মদ জাকীর হোসেন (৪২৩৫) – অতিরিক্ত সচিব, জ্বালানী মন্ত্রণালয়

৩৩। জামালপুর জেলা: – মো. শাহাবুদ্দিন খান (৬০৬০) – ওএসডি, অতিরিক্ত সচিব, জনপ্রশাসন

রংপুর বিভাগ________

৩৪। পঞ্চগড় জেলা: অমল কৃষ্ণ মন্ডল (৫৯৯৭) – অতিরিক্ত সচিব, অর্থনেতিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ

৩৫। লালমনিরহাট জেলা: মোঃ হাবিবুর রহমান (৫৮০৬) – অতিরিক্ত সচিব (অবসরে)

৩৬। গাইবান্ধা জেলা: ডা. মো. জহিরুল ইসলাম রোহেল (৫৮৫৮) – ডিজি, মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল

৩৭। ঠাকুরগাঁও জেলা: মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস (৫৬৫৭) – যুগ্মসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ

৩৮। কুড়িগ্রাম জেলা: এ বি এম আজাদ (৫৫২৮) – চেয়ারম্যান, বিপিসি (চুক্তিতে)

৩৯। দিনাজপুর জেলা: আহমদ শামীম আল রাজী (৫৭৩১) – অতিরিক্ত সচিব (অবসরে)

৪০। নীলফামারী জেলা: মো. জাকির হোসেন (৬০৪৬) – এমডি, ওয়াসা, রাজশাহী

৪১। রংপুর জেলা: ফরিদ আহাম্মদ (৫৬৮২) – সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ

রাজশাহী বিভাগ________

৪২। নওগাঁ জেলা: মোঃ এনামুল হক (৫৮৪৪) – অতিরিক্ত সচিব (অবসরে)

৪৩। জয়পুরহাট জেলা: মো. ইয়াসিন (৫৭৭০) – অতিরিক্ত সচিব (অবসরে)

৪৪। বগুড়া জেলা: মো. শফিকুর রেজা বিশ্বাস (৫৯০২) – বিভাগীয় কমিশনার, ময়মনসিংহ

৪৫। রাজশাহী জেলা: মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী (৫৪৬৪) – সিনিয়র সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

৪৬। নাটোর জেলা: মোঃ জাফর উল্লাহ (৪১৫২) – অতিরিক্ত সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়

৪৭। পাবনা জেলা: কাজী আশরাফ উদ্দিন (৫৬৯৮) – (অবসরে) চেয়ারম্যান, মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন

৪৮। সিরাজগঞ্জ জেলা: মো. বিল্লাল হোসেন (৬০১৫) – অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব

৪৯। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা: সরদার সরাফত আলী (৫৮০৩) – মারা গেছেন


খুলনা বিভাগ________

৫০। সাতক্ষীরা জেলা: নাজমুল আহসান (৫৯৬৩) – সচিব, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়

৫১। যশোর জেলা: মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (৫৫৭২) – সচিব, জন নিরাপত্তা বিভাগ

৫২। বাগেরহাট জেলা: মু: শুকুর আলী (৫৬৮৬) – যুগ্মসচিব, আইএমইডি

৫৩। খুলনা জেলা: আনিস মাহমুদ (৪১২৮) – চেয়ারম্যান, পাটকল করপোরেশন এবং মেসবাহউদ্দীন (৫৬৮৮) অবসরপ্রাপ্ত সচিব

৫৪। ঝিনাইদহ জেলা: মো. শফিকুল ইসলাম (৫৭৫১) – অতিরিক্ত সচিব (অবসরে)

৫৫। চুয়াডাঙ্গা জেলা: মো. দেলোয়ার হোসাইন (৫৫৪১) – অতিরিক্ত সচিব, জাতীয় সংসদ সচিবালয়

৫৬। কুষ্টিয়া জেলা: সৈয়দ বেলাল হোসেন (৫৮২৩) – এমডি, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন

৫৭। মেহেরপুর জেলা: মো. মাহমুদ হোসেন (৫৪৮৭) – অতিরিক্ত সচিব, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়

৫৮। নড়াইল জেলা: আ. গফফার খান (৫৫৬৭) – ডিজি, পল্লী উন্নয়ন বোর্ড

৫৯। মাগুরা জেলা: মাসুদ আহ্‌মদ (৪২৪৩) – অতিরিক্ত সচিব (অবসরে)

বরিশাল বিভাগ________

৬০। বরিশাল জেলা: মোঃ শহীদুল আলম (৫৭২৬) – মহাপরিচালক,

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো

৬১। পিরোজপুর জেলা: একেএম শামীমুল হক সিদ্দিকী (৫৯৮৩) – চেয়ারম্যান, ভূমি আপীল বোর্ড

৬২। ভোলা জেলা: মো. সেলিম রেজা (৫৫১৩) – সিইও, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন

৬৩। ঝালকাঠি জেলা: মোঃ শাখাওয়াত হোসেন (৫৫৩৮) – মহাপরিচালক, খাদ্য অধিদপ্তর

৬৪। পটুয়াখালী জেলা: অমিতাভ সরকার (৫৫৯২) – সচিব (অবসরে)

৬৫। বরগুনা জেলা: মোঃ আবদুল ওয়াহাব ভূঞা (৫৬৬৮) – মহাপরিচালক, মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.