পতিত সরকারের দৃবৃত্ত সচিবদের পূণর্বাসন চলছে!

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে আবার সচিবালয়ে আবার আওয়ামী কর্মকর্তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে পতিত হাসিনা সরকারের তিন জন দুবৃত্ত সচিবকে গুরুত্বপূর্ণ সচিব পদে পদায়ন করলো অন্তবর্তী প্রশাসন। ছাত্র আন্দোলনের রক্তের দাগ শুকানোর পূর্বেই নতুন কৌশলে ছাত্র-জনতার রক্তের সাথে বেঈমানী করা হলো।

১) বিসিএস ১০ম ব্যাচের কর্মকর্তা মোকাব্বির হোসেন (৫৫৪৮) হাসিনার ক্ষমতা রক্ষার অন্যতম সিপাহশালার ছিলেন। বার বার তাকে ব্যবহার করেছে খুনি হাসিনা। তাকে দুঃখজনকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে বদলিপূর্বক পদায়ন করা হয়। মোকাব্বির আওয়ামী সরকারের আমলে পদোন্নতি পাওয়া এবং নিয়োগপ্রাপ্ত সচিব। ’৮৫ ব্যাচের কুখ্যাত কর্মকর্তা মোঃ মুহিবুল ইসলামের বিশ্বস্ত সহযোগী ছিল মোকাব্বির। মুহিবুল বর্তমানে আমেরিকায় পালিয়ে আছেন। মুহিবুল যখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি তখন তিনি মোকাব্বিরকে জনপ্রশাসনে নিয়ে আসেন। এরপর মুহিবুল বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব হলে মোকব্বিরকে বাংলাদেশ বিমানের এমডি করেন এবং তার মাধ্যমেই বিমান ধ্বংসের প্রান্তে পৌঁছে যায়। এর পুরস্কার স্বরুপ মোকাব্বিরকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব পদে পদায়ন করা হয়। আওয়ামী কর্মকর্তা মুহিবুলের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে সকল তথ্য মুহিবুলের মাধ্যমে আওয়ামী কমান্ডের নিকট পৌঁছানোর ব্যপক আশংকা রয়েছে।


২. ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান (৫৭০৪), সদস্য (সচিব), পরিকল্পনা কমিশন। তাকে কৃষি মন্ত্রণালয়ে বদলিপূর্বক পদায়ন করা হয়। তিনি আওয়ামী আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত সচিব। তিনি গাজিপুরের মেয়র জাহাংগীরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বন্ধু। তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দেয়ার বিষয়ে জাহাংগীরের বেশ ভূমিকা ছিল।তিনি বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকি উদযাপন কমিটির একটি ইউনিটের সভাপতি ছিলেন। তিনি এবং তার পুরো পরিবার সরাসরি আওযামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত।

৩. জনাব মোঃ আব্দুর রহমান খান (৭৭৬৮), ১৩তম বিসিএসের ট্যাক্স ক্যাডারের কর্মকর্তা। সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। তাকে বদলি পূর্বক অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে বদলিপূর্বক পদায়ন করা হয়। তিনি আওয়ামী আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত সচিব। তাকে সচিব হিসেবে নিয়োগে সরাসরি ভূমিকায় ছিলেন আর্থিক সেক্টর ধ্বংসকারী বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর আব্দুর রউফ। তিনি আব্দুর রউফের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। ব্যাংকিং সেক্টরের দূর্নীতিবাজদের সাথে ব্যাংকিং সেক্টর ধ্বংসে তার ভূমিকা রয়েছে।
চরম দূর্নীতিপরায়ন কর্মকর্তা এই আব্দুর রহমানের মূল প্রমোটার আসলে এস আলম গ্রুপের সাইফুল আলম। একথা সচিবালয়ে প্রচারিত আছে যে, ব্যাংকিং সচিব পদে আব্দুর রহমানকে বসাতে লীগ সরকারের হাইকমান্ডকে এস আলম ৫০ কোটি টাকা উৎকোচ প্রদান করে। পরবতীতে সুদ ও ট্যাক্স মওকুফ এবং ব্যাংক লুটপাটের মাধ্যমে বিনিয়োগের টাকা তুলে নিবে। এখন সেই বিনিয়োগ তুলতেই তাকে আবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করার ধৃষ্ঠতা দেখায় এস আলম গ্রুপ। এস আলম গ্রুপের সঙ্গে তার স্বার্থের ডিল এবং ব্যাংকিং সেক্টরের লুটপাটে জড়িত থাকার দায়ে আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করা উচিত।

Facebook Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.