অন্তবর্তীকালীন সরকার ধংসের নীলনকশা বাস্তবায়নে হাসিনার গোলামরা
সচিবালয় প্রতিবেদক
বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে স্বৈরাচার হাসিনা সরকার টিকে থাকার একমাত্র উদাহরণ বাংলাদেশ। লাখ লাখ মামলা দিয়ে বছরের পর বছর বিরোধীদের বন্দী রেখে স্বৈরাচারকে টিকিয়ে রাখা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা সহ সকল মূল এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছিল বিচার বিভাগ। হাসিনার দুটি গোলামকে দিয়ে এইসকল এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। অধঃস্তন আদালত ধংস করেছে গোলাম সারোয়ার, উচ্চ আদালত ধংস করেছে গোলাম রাব্বানী। এই দুইজন হাসিনার আরও অনেক গোলাম তৈরি করেছে। গোলাম সারোয়ার ওএসডি হলেও গোলাম রাব্বানী পুরোদমে বাস্তবায়ন করে চলছে হাসিনার এজেন্ডা। অন্তর্বতীকালীন সরকারকে ধংস করে হাসিনাকে ক্ষমতায় ফেরাতে সকল চেষ্টা করছে হাসিনার গোলাম ও তাদের সহযোগীরা। তাদের কয়েকজন:
১। বিশ্বনাথ মন্ডলঃ
ফ্যাসিস্ট হাসিনার গাড়ী বহরে হামলার অভিযোগে সাজানো মামলায় বিএনপির সাবেক এমপি হাবীবসহ ৪ জনকে ফরমাইয়েশী যাবজ্জীবন রায় প্রদানকারী বিচারক বর্তমান নওগাঁর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বনাথ মন্ডল প্রধান বিচারপতির অভিবাসন অনুষ্ঠনে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রতিনিধি হয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। ঐ মামলায় তিনি আইনজীবীদেরও সাজা দিয়েছেন। বিচার বিভাগ ধংসে হাসিনার হাতিয়ার এসব বিচারকেরা চাকুরি করছে কিভাবে এটাই বিশ্বনাথ! এই ধরনের কাজের মাধ্যমে নিরপেক্ষতার একটা মেসেজ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে হয়তো !
২। বেগম মাহমুদা খাতুনঃ
মাননীয় প্রধান বিচারপতির আয়োজিত অনুষ্ঠানে অধস্তন আদালতে দুইজন বিতর্কিত বিচারককে দিয়ে বক্তব্য প্রদান করায় আওয়ামী নিয়ন্ত্রিত সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন যার একজন বিশ্বনাথ মন্ডল অপরজন খুলনার বর্তমান জেলা ও দায়রা জজ বেগম মাহমুদা খাতুন। হাসিনার সাবেক এপিএস ও এমপি সাইফুজ্জামান শিখরের ঘরের লোক এই মাহমুদা খাতুন। তার অপকর্মের ফিরিস্তি দিলে তাকে নিয়েই অনেক পৃষ্ঠা ভরে যাবে।
৩। গোলাম রাব্বানী, আইন সচিব।
তার চাকরি মেয়াদ শেষ হচ্ছে অক্টোবরের ১০ তারিখে, তার আগেই চলছে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের দৌড়ঝাপ। হঠাৎ কোনো দুর্বল সময়ে যদি সই করিয়ে আনা যায়। এর মেন্টর হয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল!
বিচার বিভাগে শেখ হাসিনার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও ছোটভাইর বন্ধু গোলাম রাব্বানী। বিচার বিভাগের প্রত্যক্ষ সহায়তায় স্বৈরাচার কায়েম করতে প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল খায়রুল হককে এবং তা বাস্তবয়নে আপীল বিভাগের রেজিস্ট্রার বানানো হয় গোলাম রাব্বানীকে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় লিখে দিয়েছেলেন গোলাম রাব্বানী।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বর রোডে গোলাম রাব্বানীর পৈত্রিক বাসা হওয়ায় শেখ জামালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ফুটবল খেলার সাথী ছিল রাব্বানী। হাসিনার সাথে রাব্বানীর পারিবারিক সম্পর্ক পাশের বাসার বড়বোন ও বন্ধুর বোন হিসাবে ছোটবেলা থেকে। বিগত ১৫ বছর বিচার বিভাগের আওয়ামী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রাব্বানী মুজিব পরিবার প্রসঙ্গে টেনে বারবার চোখের পানি ফেলেছে, নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন শেখ হাসিনার ভাইয়ের বন্ধু হিসাবে। রাব্বানী, হাসিনার এতোই স্নেহধন্য যে ২৪ সালে হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর ইন্ডিয়া সফরে মোদির সাথে দেখা করাতে সঙ্গে নিয়ে যায় তার এই ভাই রাব্বানীকে। হাইকোর্ট বিচারপতি বানাতে হাসিনা এই রাব্বানীকে এক মাসের জন্য চট্টগ্রামের জেলা জজ বানায়। এর মাঝে সরকার পতন হয়ে গেলে গুরুত্বপূর্ণ আইন মন্ত্রনালয়ের সচিব হিসাবে হুট করে ঢুকে পরে হাসিনার ভাই পরিচয়দানকারী রাব্বানী।
২০০৯ সালে ঢাকার অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাব্বানী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী নেতাদের দুর্নীতিসহ সকল মামলাগুলো বেকসুর খালাসের ব্যবস্থা করেন। পুরস্কার হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনে পরিচালক হয় রাব্বানী ও তার সহায়তায় হাসিনা সহ আওয়ামীলীগ নেতাদের দূর্নীতির সকল মামলা শেষ করে দেয়। এর বিপরীতে তারেক রহমান, জোবাইদা রহমান সহ বিএনপির নেতাদের নামে মিথ্যা বানোয়াট দূর্নীতির অভিযোগ তৈরি করে, আদালতকে চাপ দিয়ে রায় দেয়ানো সব কাজে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে রাব্বানী। সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রীর বাসায় তারেক রহমানকে সাজা দেয়ার জন্য দফায় দফায় মিটিং করে রাব্বানীগং।
সততার লেবাসের আড়ালে ঠান্ডা মাথার দূর্নীতিবাজ গোলাম রাব্বানী। দুদকের বাজেটে লুটপাট দূর্নীতি সব হয় রাব্বানী হাত ধরে। এর পুরস্কার হিসাবে রাব্বানীকে পাঠানো হয় সুপ্রিম কোর্ট ধংসে হাসিনার মিশন বাস্তবায়নে। আদালতকে আওয়ামীলীগের আঁখড়া বানায় রাব্বানী গং। এসকে সিনহাকে দেশ ছাড়া করানো, সুপ্রীম কোর্টে পুলিশ ঢুকিয়ে আইনজীবীদেরকে পিটানো- কোথায় নেই রাব্বানীর অপকর্মের ছাপ। অপকর্ম আড়াল করে রাব্বানী আইন সচিবের দায়িত্ব নেয় অনিয়মতান্ত্রিকভাবে। বদলী বানিজ্য পুরোদমে করছে গোলাম রাব্বানী। ঘুসখোর, ছাত্রলীগের পদধারীকে আইন মন্ত্রনালয়ে ঢুকানোর চেষ্টা করে প্রতিরোধর মূখে ব্যর্থ হয়েছে। এখন চেষ্টা করছে হাসিনার মিলিটারি সেক্রেটারী সাবেক মেজর জেনারেল জয়নুল আবেদিন এর আপন ভাতিজাকে আইন মন্ত্রনালয়ে পদায়ন করার। এরা আইন মন্ত্রনালয়ে ঢুকতে পারলে কোন ফাইলের সিক্রেসি থাকবে না। সরকার অচিরেই বেকায়দায় পরবে। গোলাম রাব্বানী বিকল্প মাধ্যমে হাসিনার সাথে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং সরকারকে বিপদে ফেলার গোপন মিশন চালাচ্ছে। রাব্বানী অপরাধগুলোর তদন্ত করে বিচার করা হলে তার বাকী জীবন জেলেই কাটাতে হবে।
৪। মুন্সি মশিয়ার রহমানঃ
সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান রেজিস্ট্রার জনাব মুন্সি মশিউর রহমান। ৮ আগষ্ট বিচারপতিদের ফুল কোর্ট মিটিং সমন্বয় করে জুডিশিয়াল ক্যু করার চেষ্টার অন্যতম কারিগর। নারায়ণগঞ্জ সহ বিভিন্ন জেলায় মশিয়ার আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবয়ান করেছে। তার বড় অংকের ঘুস দূর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করা হলে যথাযথ তথ্য ও ডকুমেন্টস সরবরাহ করা যাবে।
চরম বৈষম্য ও হাসিনার আখড়া আইন মন্ত্রনালয়। ৭ জন ছাত্রলীগারকে সম্প্রতি জেলাজজ পদে বসিয়েছে হাসিনার ভাইয়ের বন্ধু তথা স্বৈরাচারী হাসিনার ভাই বর্তমানর আইন সচিব রাব্বানী। বিচার বিভাগ তথা আইন মন্ত্রনালয়ের বেআইনি কর্মকান্ড আর পুলিশ দিয়ে হ্মমতায় টিকে ছিল স্বৈরাচারী হাসিনা। ছাত্র জনতা হত্যা ও গুলিবর্ষনের অপরাধী পুলিশ মারপিটের শিকার হলেও বিচারক পদ ব্যবহার করা অপরাধীরা বহাল তবিয়তে আছেন। ৩ কোটি টাকা ডলারে ঘুস নেয়া বিচারক, তৌফিকা করিমকে কোটি টাকা দিয়ে চেয়ার কিনে নেয়া ও মাসে মাসে টাকা দেয়া বিচারক দিব্বি চাকুরি করছে। বহাল আছে দীপুমনির চাচাতো ভাই কুমিল্লার জেলাজজ মোস্তাক আহমেদ। ওএসডি হয়েও চাকুরীতে সাবেক আইন সচিব গোলাম সারোয়ার যিনি হাজার হাজার কোট কোটি টাকা ঘুষ দূনীতি অবৈধ নিয়োগের হোতা আনিছুল হকের ক্যাশিয়ার ছিল, যিনি আন্দোলনের শেষ বেলায় ডিবি হারুনকে সহায়তা করেছিল গ্রেফতার হওয়া ৬ জন সমন্বয়ককে কিভাবে অবৈধ আটক রাখা যায় বা গুম করা যায় সেই পরামর্শ দিয়ে। ১০ বছর ঢাকায় চাকুরী করা খায়রুল হকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত পিএস এখন আরো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়- উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের পিএস! সরেনি হাসিনার সেটআপ করা ঢাকা জেলাজজ ও মহনগর দায়রা জজ। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের জানার সুযোগ নেই কে কে স্বৈরাচারের সহযোগী ছিল। স্বৈরাচারী হাসিনার সকল এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে আইন মন্ত্রনালয়ের কতিপয় অপরাধী যারা অনেকেই স্বৈরাচারের করা গুম খুন নির্যাতনে জড়িত এবং কারাদণ্ড বা ফাঁসি হওয়ার মতো অপরাধ করে বহাল তবিয়তে আছে। বিচার বিভাগ বর্তমান সরকারকে জুডিসিয়াল ক্যু করে পতন ঘটাতে চেয়েছিল কিন্তু তাদের বিচার হয়নি। তাদের অপতৎপরতা এখনও বন্ধ হয়নি। অনতিবিলম্বে হাসিনার এজেন্টদের অপরাধের আটক ও বিচার না করা হলে অন্তবর্তীকালীন সরকার পতন ঘটানোর স্বপ্ন তারা বাস্তবায়ন করে ফেলতে পারে। সাধু সাবধান।
