খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রাপ্য ডিভিশন সুবিধা না দেয়ায় বিক্ষুব্ধ বিএনপি: আইজি প্রিজন্সকে তিরস্কার!
জানা গেছে আইজি প্রিজন্স সত্য বলেন নি। ২০০৬ সালের কারা বিধির ৬১৭ ৭(i)তে বলা আছে, রাষ্ট্রের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের ১ থেকে ১৮ তালিকায় কাজ করেছেন এমন ব্যক্তিরা জেলখানায় (হাজতি বা কয়েদী) ডিভিশন-১ পাইবেন। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের ১ নম্বরে প্রেসিডেন্ট, ২ নম্বরে প্রধানমন্ত্রী, ১৩ নম্বরে আছে সংসদ সদস্য। ঐ ৬১৭ বিধির ৭ (২) ধারা অনুযায়ী সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকও ডিভিশন-১ পাইবেন। সে হিসাবে ৩টি ক্যাটাগরিকে বেগম খালেদা জিয়া ডিভিশন-১ প্রাপ্য। এটা দিতে জেল কতৃপক্ষ বাধ্য। এর জন্য কোনো কোর্টে আদেশ প্রয়োজন হবে না। উল্লেখ্য ২০০৭ সালে দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বেগম খালেদা জিয়া দু’জনেই এই আইনে প্রথম শ্রেণীর বন্দী হিসাবে সংসদ এলাকায় সাবজেলে রাখা হয়।
খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী, বর্তমান আইজি প্রিজন্স ইফতেখার তখন ছিলেন মেডিকেল কোরের একটা বাচ্চা ক্যাপ্টেন মাত্র, তাই তিনি হয়ত ভুলে গেছেন, কিন্তু আইন ও বিধি তো মহা পরিদর্শকের টেবিলেই থাকে। ৫ বার সংসদ নির্বাচন করে ২৩টি নির্বাচনী এলাকা থেকে খালেদা জিয়া কোথাও না হেরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা বিশ্ব রেকর্ড। এ ছাড়াও তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী ছিলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল বিএনপির প্রধান, ৭৩ বছর বয়স্ক একজন সিনিয়র সিটিজেন- এগুলো তাঁর সামাজিক মর্যাদা ও অবস্খানের পরিচায়ক, যা কারাবিধির ৬১৭তে উল্লেখ আছে। সব মিলিয়ে মোট ৬টি ক্রাইটেরিয়ার যেকোনো একটিতে খালেদা জিয়া ডিভিশন-১ পাওয়ার যোগ্য।
জেল কতৃপক্ষের এহেন অন্যায় অত্যাচারের খবর প্রকাশ হওয়ার পরে সামাজিক মাধ্যম জুড়ে আইজি প্রিজন্সকে তুলোধানা করা হয়েছে। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছে- “আপনি কি মানুষ? নাকি জানোয়ার? আপনাকে এখন কি করা উচিত? এই দায়িত্বহীনতার জন্য আপনাকে এখনি চাকরিচ্যূত বা রিজাইন করতে বলা কি কম হবে? লজ্জা থাকলে আপনি পদত্যাগ করবেন”।
