……অবশেষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা লিসা কার্টিস লিসা কার্টিস ঢাকা আসছেন আজ!
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ শুক্রবার বাংলাদেশে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা লিসা কার্টিস। সফরে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ নেওয়ার পর থেকে লিসা কার্টিসের এই সফরই ঢাকায় সে দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রথম সফর।
সফরে লিসা কার্টিস রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হকের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
সফরে দুই দেশের বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাস ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো, ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পিত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। সফরসূচি অনুযায়ী, লিসা কার্টিস শনিবার কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবেন। সেখানে গিয়ে তিনি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মুখ থেকে নির্যাতনের বর্ণনা শুনবেন।
রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া লিসা কার্টিস মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপসহকারীর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের উপসহকারী ও দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের অন্যতম জ্যেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের এশিয়ান স্টাডিজ সেন্টারে দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো হিসেবে কাজ করতেন লিসা কার্টিস।
গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে লিসার বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল। কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকার লিসাকে তাদের প্রতি বৈরী জ্ঞান করে ঢাকা সফল বাতিল করে। ফলে বন্যার অযুহাতে লিসার সফর বাতিলের ঘোষণা আসে। ফলে দিল্লি ঘুরে গেলেও ঢাকা আসেননি লিসা। জানা গেছে, বাংলাদেশের নির্বাচন ও ভবিষ্যত নিয়ে পরিস্কার নির্দেশনা জানাতে লিসা কার্টিজের ঢাকায় ঢাকায় আসার কথা ছিল। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিয়মতান্ত্রিক পথে সুষ্ঠু নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরে হাসিনা রাজী না হওয়ায় বিকল্প পথে সমাধান হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায়।
লিসার সাথে আওয়ামীলীগের কিছু দুর্ঘটনা আছে। হোয়াইট হাউজে বর্তমান নিয়োগ লাভের মাত্র কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ লিসাকে লাঞ্ছিত করে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বিষয়ে একটি সেমিনারে যোগ দিতে লিসা গিয়েছিলেন সেখানে। উল্লেখ্য, লিসা কার্টিজ গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশ ও সাউথ এশিয়া বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করে আসছেন। যেকোনো বিশেষজ্ঞের চেয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে ভালো খোঁজ খবর রাখেন লিসা। গত বছর ২৯ মার্চ বুধবার নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিষযক একটি সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ লিসা কার্টিজ। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের গুন্ডারা হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান পন্ড করে দেয়। লিসাকে মারতে তেড়ে আসেন সিদ্দিকুর। লিসাকে বাঁচাতে সামনে এগিয়ে আসেন ফরহাদ মজহারের কন্যা সন্তলি হক। সন্তলি চিৎকার করে ওঠে- “কে মারবি আয়, লিসাকে মারার আগে আমাকে মারতে হবে- আয়!” ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে ফিরে যায় সিদ্দিকুর বাহিনী। উল্লেখ্য লিসা সন্তলির ঘনিষ্ট বান্ধবী।
হোয়াইট হাউজে বর্তমান নিয়োগের আগে লিসা কার্টিজ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সিনিয়ার ফেলো হিসাবে বাংলাদেশের সংকট নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিশেষজ্ঞ বয়ান দেন। যার কয়েকটা উল্লেখযোগ্য- গত ১ এপ্রিল ২০১৭ লিসা এক অনুষ্ঠানে বলেন, “গণতন্ত্রের অভাবে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বাড়ছে।” বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পরে সংঘাতময় রাজনীতি নিয়ে ৩০ জানুয়ারি ২০১৫ লিসা বলেন….“সঙ্কট নিরসন না হলে পরিণতি ভয়ঙ্কর। মূলতঃ এই অবস্থার জন্য দায়ী গত বছরের ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন যা অনুষ্ঠিত হয় বিরোধী রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া। এখন বিরোধী দল অবরোধ ডেকেছে সহিংস বিক্ষোভ করছে আর সরকার হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী আটক করছে। অবিলম্বে বাংলাদেশের বর্তমান সঙ্কট নিরসন করতে না পারলে এর পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে।”
