খালেদা জিয়াকে জেল দিতে দিয়ে জজ আখতারুজ্জামান জালিয়তির আশ্রয় নিয়েছেন!

বেগম খালেদা জিয়ার জবানবন্দীর একটা শব্দকে বিকৃত অর্থ করে ৫ বছর জেল দিয়ে দিয়েছেন জজ আখতারুজ্জামান।

৯/১১/২০১৭ তারিখে আত্মপক্ষ সমর্থনের ৪থ দিনের বক্তব্যে বেগম জিয়া বর্তমান সরকারের নানা অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরে আদালতের কাছে প্রশ্ন করেন- “ক্ষমতার অপব্যবহার আমি করেছি?” চতুর বিচারক সেই প্রশ্নবোধক বাক্যটি নিজেরমত করে সংশোধন করে দাড়ি (।) বসিয়ে সেটাকে খালেদা জিয়ার দুর্নীতির স্বীকারোক্তি বলে চালিয়ে দিয়ে ৫ বছরের জেল হাকিয়ে দিলেন!

দেখুন মানবজমিন, ইত্তেফাক বা যেকোনো পত্রিকা। আর সেটাকে কিভাবে বিকৃত করেছে রায়ে জালিয়াত বিচারক।

http://www.mzamin.com/details-archive2016.php?mzamin=91206
http://www.ittefaq.com.bd/court/2017/11/09/135110.html

তারেক রহমানের কৌশলী চালে শেখ হাসিনা ধরাশায়ী!

বিশেষ রিপোর্ট :
বিএনপির কৌশলের কাছে কুপোকাত হলো শেখ হাসিনা। আগামী নির্বাচনকে সামনে শেখ হাসিনা একঢিলে দুই পাখি মারতে চেয়েছিলেন।
এক. জনগণের সামনে খালেদা জিয়াকে দুর্নীতিবাজ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা।
দুই. খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর ইস্যুতে বিএনপিকে অপরিকল্পিতভাবে রাজপথে নামিয়ে দিয়ে আগামী নির্বাচনে ফায়দা হাসিল করা।

তবে এবার সেটা হিতে বিপরীত হয়েছে। সারাদেশে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের কাছে খালেদা জিয়া ছিলেন ‘ম্যাডাম’। তাঁকে জেলে পাঠাতে বিচারের নামে অবিচার করায় সারাদেশে প্রবাসে লাখো কোটি মানুষের কাছে খালেদা জিয়া ‘ম্যাডাম’ থেকে এখন পরিণত হয়েছেন ‘মা’। খালেদা জিয়ার দুর্নীতির বানোয়াট গল্প সাজাতে গিয়ে বরং এখন বেরিয়ে আসছে শেখ হাসিনা, তার ছেলে জয়, শেখ পরিবারের সদস্য এবং আওয়ামী লুটেরা চক্রের ব্যাংক ডাকাতির খবর। জানা যাচ্ছে, আওয়ামী লুটেরা চক্র কয়েক লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। দেশের সরকারি বেসরকারি প্রতিটি ব্যাংক আওয়ামী লুটেরা চক্রের লুটপাটের শিকার। প্রকাশ হয়ে পড়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার করে শেখ হাসিনা কিভাবে তার নিজের নামে থাকা ১৫টি দুর্নীতির মামলা দলীয় বিচারপতিদের দিয়ে দিয়ে গায়েব করে দিয়েছিলেন।

অনেকেই মনে করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে না নিলে আওয়ামী লুটেরা চক্রের ব্যাংক ডাকাতির খবর হয়তো এই মুহূর্তে সারাদেশে এতো তুমুলভাবে আলোচনায় আসতোনা।
শেখ হাসিনার পরিকল্পনা ছিল খালেদা জিয়া ইস্যু ব্যবহার করে বিএনপিকে অপরিকল্পিতভাবে রাস্তায় নামিয়ে এনে নিজেরা নাশকতা করে দায় চাপাতো বিএনপির ওপর। এরপর গোপালী র‌্যাব-পুলিশ বিএনপির পেছনে লেলিয়ে দিয়ে হামলা মামলা গুম খুন করে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই বিএনপিকে মাঠ ছাড়া করার পরিকল্পনা ছিল। তাছাড়া বিদেশীদের কাছে বিএনপিকে একটি সন্ত্রাসী দল হিসাবে তুলে ধরাও এ পরিকল্পনার অংশ ছিল ।

গত ৮ তারিখের পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কৌশলী পরিকল্পনায় শেখ হাসিনার অপকৌশল আপাতত নস্যাৎ হয়ে যায়। বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে বানোয়াট মামলার সাজানো রায়ে কারবন্দী করার পর দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। দায়িত্ব নিয়েই শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারী) বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, উপদেষ্টা, ভাইস চেয়ারম্যান এবং যুগ্ম মহাসচিব বৃন্দের সভায় লন্ডন থেকে টেলিকনফারেন্সে তারেক রহমান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘সরকারের পাতা ফাঁদে পা দেয়া যাবেনা’। তিনি নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেন।

বিএনপির এই চমকপ্রদ কৌশলে দৃশ্যতঃ পরাস্ত হয় শেখ হাসিনার অপকৌশল। এমনকি এতে বিভ্রান্ত হয়ে যায় আওয়ামীলীগের হাইকমান্ড। দলটির সাধারন সম্পাদক বার বার বিএনপিকে উস্কাতে থাকে হরতাল ভাঙচুড় জ্বালাও পোড়োওয়ে যেতে। প্রতিদিন তিনি নতুন নতুন বয়ান দিয়ে বিএনপিকে মাঠে নামতে আমন্ত্রণ জানান। বিএনপির হাইকান্ডের সাথে সাথে বিএনপির নেতাকর্মীরাও বুঝতে পারেন সরকারী দলের ফাঁদের কথা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি সরকারের পাতা ফাঁদে পা না দিয়ে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ বেছে নেয়ায় নির্বাচনের বছরে এরইমধ্যে কয়েকটি বড়ধরণের রাজনৈতিক সুফল পেয়েছে বিএনপি। ইতোমধ্যে প্রমান হয়ে গেছে- বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তথাকথিত দুর্নীতির মামলাটি ছিল মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত। নিম্ন আদালতের বিচারক আখতারুজ্জামান ১০ দিনে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় লেখার দাবি করলেও রায় ঘোষণার পর দশ দিন পার হয়ে গেলেও রায়ের সার্টিফায়েড কপি দিতে না পারায় জনগণের কাছে এখন এটি প্রমাণিত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, এ মামলার আসল উদ্দেশ্য খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা। এটিও প্রমাণিত হয়েছে, এ রায় বিচারক আখতারুজ্জামানের নয়, শেখ হাসিনার ইচ্ছে পূরণে আদালতকে ব্যবহার করে শেখানো বুলি আওড়িয়েছেন আখতারুজ্জামান।

ফলে খালেদা জিয়ার প্রতি সরকারের বিশেষ করে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ায় গণতন্ত্রকামী নিপীড়িত জনগণের সমর্থন এবং সহমর্মিতা কারাবন্ধী খালেদা জিয়ার প্রতি। জনগণের কাছে খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। সমস্ত মিডিয়া, অনলাইন, টকশো জুড়ে কেবল খালেদা জিয়া। এমনকি বেশিরভাগ লোকই বলছেন, এ রায় শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অপকৌশল ছাড়া আর কিছু নয়। অপরদিকে শেখ হাসিনা এবং তার পরামর্শদাতাদের ধারণা ছিল খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করলে বিএনপিতে নেতৃত্ব সঙ্কট দেখা দেবে, দল ভেঙে যাবে সরকারী কৌশলে। কিন্তু তাদের এ ধারণাও ইতোমধ্যে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বরং বিনাপ্রশ্নে দলের সর্বস্তরে তারেক রহমানের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা হচ্ছে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কোনো নেতা অবস্থান নিলে বিএনপি নেতাকর্মীরা বরং ওই নেতাকে প্রত্যাখ্যান করবে। আগে বিএনপি বিরোধীরা দলে খালেদাপন্থী কিংবা তারেকপন্থী বলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করলেও এখন দেখা যায় ওসবই ছিল অপপ্রচার। বরং দলের সকল নেতা এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে এককাতারে – এক বলয়ে। তাদের মধ্যে কোনো বিভেদ বিভক্তি নাই।

এর কারণ দলের নেতাকর্মীদের মাঝে তো বটেই দেশের জনগণের মাঝেও এটিও প্রমাণিত, তারেক রহমান বছরের পর বছর ধরে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অপপ্রচারের শিকার। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ডজন ডজন মামলা দিয়ে রেখেছেন শেখ হাসিনা। তারেক রহমানকে জনগণের কাছ থেকে দূরে রাখার জন্য আদালতকে ব্যবহার করে দেশের গণমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য প্রচারেও বাধা সৃষ্টি করে রেখেছেন। এতে বরং তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা আরো বেড়েছে। ভারত, পাকিস্তান, ভারতসহ এই অঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো, ক্ষমতাসীনরা সব সময়ই প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য হামলা কিংবা মিথ্যা মামলার পথ বেছে নেয়। এ ধরণের মামলা শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবের বিরুদ্ধেও হয়েছিল। এমনকি একটি অর্থ আত্মসাৎ মামলায় ১৯৬০ সালে শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইন ১৯৪৭ বিধির ৫ (২) ধারায় শাস্তি হয়েছিল। মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানকে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন নেতা বলেছেন, সরকারের অপকৌশল জনগণের সামনে স্পষ্ট হয়ে গেছে। তাই নিজের স্বার্থেই সরকার অচিরেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে বাধ্য হবে। কারাবন্দী হওয়ার আগে খালেদা জিয়া নিজেও দলের নেতাকর্মীদের কৌশলী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো প্রকার ভাঙচুরের কর্মসূচিতে যেতে বারণ করেছেন। বলেছেন, শান্তিপূর্ন আন্দোলন করতে। কারণ আগামী নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার ভয়ে শেখ হাসিনার অবৈধ সরকার নানারকমের অপকৌশলের আশ্রয় নেবে।

ইতোমধ্যে সরকার পিছু হটা শুরু করেছে- আরও তিনটি মামলায় খালেদা জিয়াকে শ্যোন এরেস্ট করা হয়েছে ঘোষণা দিলে লোকনিন্দার চোটে ৪ দিন পরে তারাই পিছু হটে বলছে- আর কোনো মামলায় শ্যোন এরেস্ট নয়। এমনকি সুপ্রিমকোর্ট আওয়ামী আইনজীবি সমিতির সেক্রেটারি শেখ ফজলে নূর তাপস পর্যন্ত বলছেন-  আপিল করলেই খালেদা জিয়ার জামিন।

খালেদা জিয়ার ইস্যুতে পিছু হটছে সরকার: নেপথ্যে বিদেশীরা

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপরসনকে মামলার জালে জড়িয়ে ফেলার স্বপ্ন পুরণ হচ্ছে না সরকারের। খালেদা জিয়াকে আরও তিনটি বানোয়াট মামলায় “শ্যোন এরেস্ট” দেখানোর তিন দিনের মধ্যে সে আদেশ গোপনে প্রত্যাহার করতে হলো। প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানালেন ‘খালেদা জিয়াকে শ্যোন এরেস্ট’ হচ্ছে না’, পরে গতকাল আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আবারো একই কথা প্রকাশ করলেন।

গতকাল শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অবৈধ সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে আর কোনো মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয় নি। কোনো মামলা শ্যোন এরেস্ট দেখানো হবে না।’  যদিও গত ১৩ ফেব্রুয়ারী কারা-মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ‘খালেদা জিয়াকে কুমিল্লা এবং ঢাকার তেজগাঁও ও শাহবাগ থানার তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’

জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসনের কারাবন্দী হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকায় বিদেশী কূটনীতিকদের তৎপরতা বেড়ে গেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে তাদেরকে তথ্য প্রমানাদি দিয়ে বোঝানো হয়েছে, অরফানেজ মামলাটি বানোয়াট। তাছাড়া খালেদা জিয়াকে কারাগারে ডিভিশন দেয়া নিয়ে সরকারের টালবাহানায় কূটনীতিকরা যারপরনাই বিরক্ত। তারা এ নিয়ে ব্যাপক খোঁজ খবর নিয়েছে। এমনকি অনেক দূতাবাস জেলকোড সংগ্রহ করে সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে ডিভিশন না দেয়ার কারন কি।

জানা গেছে, সরকারের পরিকল্পনায় ছিল খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার সাথে সাথেই হরতাল অবরোধ কর্মসূচি দিবে বিএনপি। আর তখনি সরকারী দলের বোমাবাজরা মাঠে নেমে যাবে, বার্ন ইউনিটগুলো সচল হবে, টেলিভিশনের পর্দায় দেখানো হবে শেখ হাসিনার চোখ মুঝতে থাকা ছবি! বিদেশীদের বলা হতো, দেখুন বিএনপি কতবড় সন্ত্রাসী দল- আদালত মানে না- মানুষ পুড়িয়ে মারে। কিন্তু সরকারের পাতা ফাঁদে পা দেয়নি বিএনপি। সূত্র জানাচ্ছে, বেগম জিয়ার কারাবন্দী হওয়ার সাথে সাথে তাঁর একজন বিশেষ সহকারী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে সরকারের হিসাব কিতাবে গন্ডগোল দেখা দিয়েছে। সরকার আগের মত তথ্যও পাচ্ছে না, সরকারের পছন্দমত কর্মকান্ডও করানো না বিএনপিকে দিয়ে। ফলে অনেকটা বিরক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলতে বাধ্য হন, বিএনপি আন্দোলন করতে অক্ষম।

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আদালতে প্রমান না হওয়ার পরেও কালা মানিকের বুদ্ধিতে যে আগ্রহ উদ্দীপনা নিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে জেলে পাঠানো হলো, তা এখন ক্রমশ সরকারের জন্য গলার কাটা হয়ে উঠেছে।  বাইরে থেকে লেখা গোজামিলের রায়ের সার্টিফাইড কপি বিএনপির হাতে তুলে দেয়া হলে মামলার জাল জালিয়াতি এবং  যুক্তিহীন রায় প্রকাশ হয়ে পড়বে। তাই কপি দিতে বিলম্ব করে রায় সংশোধনের মত গর্হিত কাজ করছে ! আরও কয়েকটি বিষয় নিয়ে জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে-

প্রথমত, রায়টি দেশের মানুষ এবং বিদেশীদের কাছে গ্রহনযোগ্য হয়নি। সবার একটাই প্রশ্ন, ২ কোটি টাকার মামলায় ৬ কোটি টাকা ব্যাংকে থাকার পরে আত্মসাত হলো কি করে।

দ্বিতীয়ত, জেলে নেয়ার পরে খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়া হলো না কেনো? জেলকোডে পরিস্কার লেখা থাকার পরে সরকারের এহেন আচরন বিদ্বেষপ্রসূত অন্যায় আচরন হিসাবে দেখছে মানুষ।

তৃতীয়ত, যে পেন্ডিং মামলায় খালেদা জিয়াকে আগে গ্রেফতার করা হয়নি, অথচ জেলে যাওয়ার পরে ‘শ্যোন এরেস্ট’  দেখানোর ঘোষণা জনগনের কাছে মনে হয়েছে,  খালেদা জিয়াকে যেনো তেনো ভাবে আটকে রাখতে চেষ্টা করছে সরকার।

মামলার এসব খুটিনাটি এখন বিদেশীদের নখদর্পনে। তাদের থেকে বিভিন্নভাবে সরকারের উপরে চাপ দেয়া হয়েছে- খালেদা জিয়াকে নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করার। এমনও কথা বলা হয়েছে, এরপর বিএনপি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তাদের কিছু বলার মত মুখ থাকবে না। সর্বশেষে খালেদা জিয়ার বিষয়ে জাতিসংঘ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, বিদেশীদের চাপে পিছু হটছে সরকার।

প্রস্তাব নিয়ে গোয়েন্দা প্রধান জেলখানায়: হাসিনাকে নাজিমুদ্দিন রোডের দাওয়াত দিলেন খালেদা জিয়া!

গভীর রাতে ডিজিএফআই প্রধান দেখা করলেন কারাবন্দী বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার সাথে। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তাব দিলেন। শুনেই বেগম জিয়া বিরক্ত হয়ে বললেন, “এসব গার্বেজ নিয়ে আবার এসেছ কেনো? আগেই তো বলে দিয়েছি, ওভাবে নির্বাচন হবে না। নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।”

তিনি আরও বললেন, “আমার এখনে আসার চেয়ে তোমরা হাসিনার কাছে যাও, তাকে বোঝাও- নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ইলেকশন ছাড়া তার আর উপায় নাই। যতই জেল জুলুম দিয়ে চেষ্টা করুক, ক্ষমতায় সে থাকতে পারছে না। আমি কি এখানে না বুঝে আসছি? হাসিনাকে বলিও, “এখানে আসার জন্য তৈরী হতে। তবে তাকে আরো ভালো রাখা হবে।”

অবৈধ ক্ষমতার মদমত্তে হাসিনার জিঘাংসার চরম রূপ দেখছে জনগন: পোড়ো বাড়িতে ভৌতিক পরিবেশে সলিটারি কনফাইনমেন্টে খালেদা জিয়া!

আজ ৭ দিন পার হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে জননন্দিত রাজনৈতিক নেত্রী এবং রাষ্ট্রক্ষমতার প্রধান হকদার বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ। গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে একটি বানোয়াট মামলায় সাজা দিয়ে তাঁকে আড়াই’শ বছরের পুরাতন পরিত্যক্ত কারাগারের একটি ভবনে বন্দী করে রেখেছে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী শেখ হাসিনা। ঘটনার দিন থেকে দেশের সর্বমহলে আলোচিত হচ্ছে- খালেদা জিয়া কবে কিভাবে কারাগার থেকে বের হবেন। সচেতন লোকজন তখন ধরে নিয়েছিল, উচ্চ আদালতে জামিনের দরখাস্ত করলেই স্বাভাবিক নিয়মেই বেরিয়ে আসতে পারবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এক সপ্তাহ পার হলেও কারাগার থেকে বের হওয়া তো দূরের কথা, এখন অবধি জামিনের দরখাস্তই করা যায়নি। কারন, মামলার রায়ের কপি দেয়া হচ্ছে না। তথাকথিত রায় পরীক্ষা নীরিক্ষা ও বেআইনী সংশোধনের নামে অনুলিপি দেয়া হচ্ছে না। মিডিয়াতে খবর- রায়ে ভুলভ্রান্তি মেরামতের কাজ চলছে! যেখানে ৬৩২ পাতা রায় ১০/১২ দিনেই লেখা হয়ে গেছে, এখন সেখানে কেবল কপি করতে ১০দিনেও পারছে না। অথচ আইনে বলা আছে, বিচারক পূর্নাঙ্গ রায় লিখে আদালতে ঘোষণা করতে হবে, এবং সই করতে হবে। রায় ঘোষণার পরে কোনোভাবেই পরে তা বদলানো যাবে না। জানা গেছে, রায়ের ভেতরে এত বেশি জাল জালিয়াতি মিথ্যাচার ও কুতর্ক রয়েছে যে, কপি দেয়া হলে তা প্রকাশ হয়ে পড়বে। তাই ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা এগুলো মেরামতের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

আসলে যা কিছু হচ্ছে, কোনো আদালত বা বিচার নয়, বরং বাংলাদেশের বর্তমান বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত খায়েশ পুরণ। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের মতে, নির্বাচন হাসিল এবং ক্ষমতায় যাওয়ার কৌশল। শেখ হাসিনা ক্ষমতার লড়াইয়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি হলেন তিন বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী (প্রায় ৮০ভাগ জনসমর্থন যার), ৫টি জাতীয় নির্বাচনে কোথাও না হেরে সর্বোচ্চ ২৩টি আসনে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন যিনি, সেই বেগম খালেদা জিয়া। রাজনীতিতে খালেদা জিয়াকে বড় ভয় শেখ হাসিনার। কারন দেশে এখনি নির্বাচন হলে বেগম জিয়া বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে দেশের জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী হবেন, এটা শেখ হাসিনাও জানেন। তাই শেখ হাসিনা দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন দিচ্ছে না। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি বিনাভোটের একটি নির্বাচনের উপরে ভর করে ক্ষমতার চেয়ার আঁকড়ে আছেন তিনি। তার ক্ষমতার মূল শক্তি কিছু পুলিশ, র‌্যাব, ও দলীয় গুন্ডা। এই নিজস্ব বাহিনী দিয়ে বিরোধী দলের লোকদেরকে অপরহন গুম খুন কারান্তরীণ করে চলছে হরদম, প্রতিবাদীদের টুটি চেপে ধরেছে। এতকাল বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপরে মামলা হামলার নির্যাতন করা হলেও ১০ বছরের চেষ্টার পরে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করেন শেখ হাসিনা।

সুস্থ রাজনীতির ধারক বাহক বেগম জিয়া সর্বদা দেশের প্রচলিত আইন কানুন মেনে চলেন। প্রতিহিংসা নয়, সমঝোতার রাজনীতি করার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে বর্তমান ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনা অবরোধ হরতাল জ্বালাও পোড়াও করে এমনকি নিজে আগুণ দিয়ে গাড়ি পুড়িয়ে, অন্যরা গান-পাউডার দিয়ে দোতলা বাস জ্বালিয়ে মানুষ হত্যা করে সমাজে বিভীষিকা তৈরী করে নিজের চাহিদা ‍পুরণ করেছেন। বার বার বিপথগামী সেনাদের ব্যবহার করে ক্যু ঘটিয়ে ষড়যন্ত্রের রাজনীতির উপর ভর করে ক্ষমতায় আরোহন করেন। আবার অন্যের ডাকা হরতালে বোমাবাজি ও আগুণ দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে বিপক্ষ দলকে দায়ী করতে শেখ হাসিনার জুড়ি মেলা ভার। এসব ক্ষেত্রে তার কাজ ম্যাকিয়াভেলি চানক্যকে হার মানায়। তিনি যা করেন, তা রীতিমত শিল্প। গত এক দশক শেখ হাসিনা এভাবেই ক্ষমতা দখলে রাখার পরে এবারে যখন তা হারানোর উপক্রম হয়েছেন, তখনই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি খালেদা জিয়াকে ছলে বলে কলে কৌশলে অনুগত আদালত ব্যবহার করে কারাবন্দী করেছেন। এর আগে দু’জন প্রধান বিচারপতিকে পর পর জোর জবরদস্তিমূলক অপসারন করে বিচারকদের দন্ডমুন্ডের কতৃত্ব হাতে নিয়েছেন হাসিনা, তারপরে এক জুনিয়ার জজকে দিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই বানোয়াট রায় ঘোষণা করেছেন। ঠিক যেনো সিনেমার গল্প। মসনদের প্রধান দাবীদারকে গারদে পুরে নিত্য অত্যাচার করে মনের ঝাল মেটানোর কাহিনী! অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা হলো, যে কোনো কৌশলে তাঁকে আটকে রাখতেই হবে। আজ বৃহস্পতিবার এক সপ্তাহ পার হওয়ার পরেও সেই তাগুদি রায়ের কপি দেয়া হয়নি অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায়, যাতে করে অন্তত আরও তিন দিন জামিনের দরখাস্ত না করতে পারেন খালেদা জিয়া। হয়ত এর অন্তরালে রয়েছে আরও কোনো কুবুদ্ধি। এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি- এই রায় ঘিরে সরকারের গভীর নীলনকশা রয়েছে। এখন দেখছি সার্টিফাইড কপি দিতে বিলম্ভ করা হচ্ছে। এসবের একটিই উদ্দেশ্য দেশনেত্রীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা।’ এ বিষয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন,‘খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত করতেই রায়ের সার্টিফাইড কপি দিতে দেরি করা হচ্ছে। বিএনপি এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে গভীর একটি চক্রান্ত কাজ করছে।’

দু’দিন আগে বিনাভোটের পার্লামেন্টে শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই শেখ সেলিম প্রচন্ড দম্ভের সাথে ঘোষণা দেন, “খালেদা জিয়াকে ডিভিশন জেলে নয়, রাখা হবে ফাঁসির আসামীদের কনডেম সেলে!” যদিও ৭দিন সাধারন বন্দী হিসাবে রাখার পরে জেল কতৃপক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়াকে এখন প্রথম শ্রেণীর বন্দী হিসাবে রাখা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তাঁকে বন্দী রাখা হয়েছে জনমানবহীন বিশাল এলাকায় এক নির্জন এলাকায় পরিত্যাক্ত এক বাড়িতে। হরর সিনেমার পোড়োবাড়িতে নির্জন পরিবেশে বিশাল এলাকায় দিনের বেলায় কাকের কা কা শব্দ, আর রাত হলেই নামে নির্মম নির্জনতা। এটা কারাগার নয়, সলিটারি কনফাইনমেন্ট। দু’শ বছরের বেশি বয়সী পরিত্যক্ত এ জেলখানায় আর কোনো বন্দী নেই। কেবল খালেদা জিয়া! তাছাড়া ২০০৬ সালের জুলাই মাস থেকে এটি আর কোনো জেলখানা নয়, বরং পরিত্যক্ত ভবন, যেকোনো সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। খালেদা জিয়াকে যেখানে বন্দী রাখা হয়েছে, সেটি আর এখন কোনো সরকারী জেলখানা নয়, বরং অঘোষিত বন্দিশালা। সরকারী প্রজ্ঞাপণ দিয়ে এটি সাবজেল ঘোষণা করা হয়নি এখনও। যার অর্থ দাড়ায়- এ কারাবাস অবৈধ! অবৈধ সরকারপ্রধানের ইচ্ছাতেই পরিত্যাক্ত বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে ৭৩ বছর বয়েসী নারী সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে, যিনি নানা অসুস্থতায় ভুগছেন। দু’টি হাটু বদলানো, তীব্র ব্যথায় হাটতে পারেন না, বিশেষ ধরনের সেবাযত্নের দরকার হয়, যার কোনো ব্যবস্থা নাই সেখানে। ঐ ভবনের আশে পাশেই রয়েছে শত শত বছরের ফাঁসির কাষ্ঠ, যেখানে মৃত্যু ঘটেছে শত শত মানুষের, যা ভৌতিক অবস্থাকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। ১৭ একর জমির উপর নির্মিত ছোট বড় লাল লাল পুরোনো বিল্ডিং, চারিদিকে উঁচু প্রাচীর দেয়া, যেখানে বাস করে নির্জনতা আর ভুত প্রেত! নির্জন নির্বাসনে গা ছম ছম করা পরিবেশ। বিশাল মহিলা ওয়ার্ডজুড়ে ভয়াবহ মশার উৎপাত, নিয়ন্ত্রনের কোনো উপায় নাই। এটা নাকি ডিভিশন জেল! ডিভিশন দেয়ার মত কোনো ব্যবস্থা ওখানে নাই। শেখ হাসিনা ইচ্ছা করেই তার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাকে কেবল জেলের কষ্ট দিয়ে নয়, মানসিক টর্চার করে নিজের মনের ঝাল মিটাচ্ছেন।

নাজিমুদ্দিন রোডের এই অঘোষিত অবৈধ জেলখানায় বন্দী রাখা হয়েছে বাংলাদেশের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম জিয়াকে- কারাগারের নামে সেখানে চলছে ভয়াবহ মানসিক চর্চার। শ্রেনীপ্রাপ্ত জেলখানার কোনো সুযোগ সুবিধা নেই সেখানে। তারপরও ‘বিশেষ বন্দী’ নাম দিয়ে অবৈধ সরকার এই প্রহসন চালিয়ে হচ্ছে। জনমানবশুন্য এই বিশাল পোড়োবাড়িতে বন্দী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ধারে কাছে কাউকে যেতে দেয়া হয় না। খাবার দাবার দিতে সেখানে কেউ গেলেও তাদের কথা বলা নিষেধ। এ এক ভয়াবহ নির্যাতন, প্রায় কনডেম সেলে থাকার মতো। জেলখানায় সাধারন বন্দীরাও এর চেয়ে মানবিক পরিবেশে থাকে। ৭০ বছর বয়স্ক এই সিনিয়র সিটিজেন নারীর প্রতি যে সহিংসতা চলছে, তার অতীত নজীর খুঁজে পাওয়া দুস্কর। জেলখানার পরিবেশ সম্পর্কে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অভিযোগ করেন, বেগম খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। সেখানে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে না। একটি পরিত্যক্ত ভবনে তাকে রাখা হয়েছে। যেখানে কোনও মানুষ নেই, অন্য আসামিও নেই। যেভাবে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তদের নির্জন কারাবাসে রাখা হয়, সেভাবেই তাকে রাখা হয়েছে।

এর আগে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় বসেই ২০১০ সালের আগস্ট মাসে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাভারের জমি ও দোকানপাট আ’লীগের দলীয় লোকজন দিয়ে দখল করে নেন। ঐকাজেও ব্যবহার করা হয় একটি কনিষ্ঠ জজ আদালতের গোপন ত্রুটিপূর্ন মতলবি রায়। বৃহস্পতিবার নাকি কে বা কাহারা রায় পেয়েছে, শুক্রবার ছুটির ফাঁদে ফেলে শত শত পুলিশ দিয়ে ভাঙচুর করে খালেদা জিয়ার জমি বুঝিয়ে দেয়া হয় এক আওয়ামীলীগ নেতাকে। এর দু’মাস পরে আবার আদালতের রায়ের কথা বলে খালেদা জিয়াকে টেনে হেঁচড়ে জোর করে বের করে দেয়া হয় দীর্ঘ ৩৮ বছরের স্মৃতিবিজড়িত ক্যান্টমেন্টের শহীদ মইনুল রোডের নিজস্ব বাড়ি থেকে, যদিও সে মামলার আপিল বিচারাধীন ছিল। তখন বেগম জিয়াকে তার আইনজীবীদের সাথে কথা বলতে হয়নি। আইনজীবীরা ক্যান্টনমেন্টে ঢুকতে চাইলে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। খুব দ্রুতই খালেদা জিয়ার বাড়ি মাটির সাথে গুড়িয়ে দেয়া হয় হাসিনার নির্দেশে। এভাবে আদালতের ঘাড়ে পা রেখে বলপ্রয়োগ করে বাড়ি ঘর জমি জিরাত থেকে উৎখাত করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বেগম জিয়াকে অবশেষে পরিত্যক্ত পোড়োবাড়িতে বন্দী করে রেখে শেখ হাসিনা তাঁর জিঘাংসা প্রতিহিংসার উৎকট রূপ প্রকাশ করছেন। তবে হাসিনার এই জুলম ও অবিচার কর্মকান্ড দেশের মানুষ গ্রহণ করেনি, বরং উল্টো খালেদা জিয়ার প্রতি সহানুভূতি বাড়ছে। এমনকি আওয়ামীলীগের বহু লোকেরা মনে করছে, হাসিনা সমাজে প্রতিহিংসা ছড়াচ্ছেন।

তবে, আপাতত খালেদা জিয়ার রায়ের আপিলের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের কোটি কোটি মানুষ। দিনে দিনে মানুষের আগ্রহ ও সহানুভুতি এমন ভাবে বাড়ছে যে, এটা এখন কোনো ব্যক্তির মামলা বা আপীল নয়, বরং কোটি কোটি জনতার প্রতিকার চাওয়া। অবৈধ সরকারের নিয়ম বহির্ভুত অন্যায় কার্যকলাপে জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে গেলে আর রক্ষা পাবে না আর কেহ।

/ফেসবুক থেকে

খালেদা জিয়ার প্রতি চরম নিষ্ঠুর অবিচারের কাঁদছে বাংলাদেশ “ম্যাডাম’ থেকে ‘মা’ হয়ে উঠেছেন প্রাণে প্রাণে

বিশেষ প্রতিনিধি।।
বিচারের নামে শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার কোপানলে এক চরম নিষ্ঠুর অবিচারের শিকার হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপরসন তিন বারের প্রথানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার প্রতি করা হচ্ছে ভয়াবহ নজিরবিহীন অমানবিক আচরণ। জনমানবহীন এক নির্জন কারাগারের এক ভুতুরে পরিবেশের মধ্যে একটি স্যাঁতস্যাঁতে ভবনেই কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় শীর্ষ রাজনীতিবিদ বেগম খালেদা জিয়াকে। একটিবারের জন্যও ভাবা হয়নি তিনি তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারপার্সন। এ কথাও বিবেচনা করা হয়নি তিনি ৭৩ বছর বয়স্ক একজন নারী, তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়, তিনি একজন স্বামীহারা, এক সন্তানহারা মানুষ। তার স্বামী জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষক। সেক্টর কমান্ডার হিসেবে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন, জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশের উন্নয়নে অতুলনীয় ভূমিকা রেখেছেন।

পরিত্যক্ত হবার কিছুদিন আগেও এই কারাগারে অনেকের ফাঁসির দন্ড কার্যকর করা হয়েছে। আর সেখানেই তাকে একাকী রাখা হয়েছে। তিনি ছাড়া একজন বন্দীও সেখানে নেই। একজন নারী হিসেবে সামান্য মর্যাদাও কী তার প্রাপ্য ছিল না? এ কী নির্দয় ব্যবহার! তিনি যেনো জামিনে বেরিয়ে আসতে না পারেন, সেজন্য এখন একটির পর একটি মিথ্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর ষড়যন্ত্র চলছে। ইতোমধ্যে কুমিল্লার একটি মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। তার নামে ৩৪টি মামলাই সচল করার অপচেষ্টা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার প্রতি এই নির্মমতায় বাংলাদেশের মানুষ আজ দুঃখে ভারাক্রান্ত। বাংলাদেশের হৃদয়ই যেন ভেঙ্গে গেছে। মানুষের অন্তর কেঁদে উঠছে।

নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারের অন্ধকার প্রকোস্টে আজ শুধু একজন ব্যক্তি খালেদা জিয়াকেই বন্দী করা হয়নি, বন্দী করা হয়েছে গণতন্ত্রকে। বন্দী করা হয়েছে মানুষের ভালোবাসাকে। তাঁকে কারান্তরীণ করায় দলটির নেতাকর্মীসহ দেশবাসী মর্মাহত ও বিক্ষুব্ধ হয়েছেন। প্রতিটি মানুষের চোখে ভেসে উঠছে খালেদা জিয়ার নিষ্পাপ মায়াভরা মুখখানি। অনেকের চোখে ঘুম নেই। নীরবে চোখের পানি ফেলছেন। কখনোবা ডুকরে কেঁদে উঠছেন। কাঁদছে দেশবাসী। নামাজ পড়ে অনেককে হাত তুলে মোনাজাত এবং কান্নাকাটি করছে। বাংলাদেশের প্রতিটি সচেতন মানুষের কাছে দিবালোকের মতো স্পস্ট হয়ে গেছে, খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে, জাল-জালিয়াতি করে বিচারের নামে প্রহসন করা হয়েছে। হাসিনা নিজেই আওয়ামীলীগের আইনজীবিদের দিয়ে দশ দিনে ছয়শত বত্রিশ পাতার রায় লিখিয়ে বিচারক ড.আখতারুজ্জানকে দিয়ে পাঠ করিয়েছে।

আদালত ঘোষিত “রং হেডেড” শেখ হাসিনা রায়ের পর তার প্রতিক্রিয়ায় চরম জিঘাংসা, ক্রুড়তা, অমানবিক, হৃদয়হীন এবং প্রতিহিংসাপরায়ন প্রকাশ করেছে। বরিশালে জনসভায় দম্ভের সঙ্গেই উচ্চারণ করেন “কোথায় আজ খালেদা জিয়া?” ঠিক তার পিতা শেখ মুজিব দেশপ্রেমিক সিরাজ সিকদারকে খুন করার পর চুয়াত্তর সালে সংসদে দাড়িয়ে হাসিনার মতোই দম্ভ করে বলেছিলেন, “কোথায় আজ সিরাজ সিকদার? মুজিবের মতোই হাসিনাও বিকৃত সুখ অনুভব করছেন, বন্য উল্লাসে মেতে উঠেছেন। রায় ঘোষণার আগের দিন গুলশান কার্যালয়ে প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে জনগণের উদ্দেশ্য বলেছেন, ‘আপনাদের খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করেনি। কোনো দুর্নীতি করেনি।’ বাংলাদেশের মানুষ তার এই কথা এক’শ ভাগ বিশ্বাস করেছে। তারা বিশ্বাস করেছে খালেদ জিয়া কোনো দুর্নীতি বা অন্যায় করেনি। নব্য ফেরাউন হাসিনার জুলুমের শিকার হয়েছেন তিনি। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের বিচার হয়না, অথচ মাত্র দুই কোটি টাকা নিয়ে এতো হুলুস্থুল। শেখ হাসিনার নামে ১৫ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির পনেরটি মামলা গায়েব করে ফেলা হয়েছে এক ফুৎকারে।

জনগন সব জানে। খালেদা জিয়ার গগনচুম্বি জনপ্রিয়তায় নিদ্রাহীন হাসিনা তাকে নির্বাচনে অযোগ্য করতে ক্যাঙ্গারু কোর্টকে ব্যবহার করেছে। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ মজলুমের পক্ষে। হাসিনার অবিশ্বাস্য নির্মম জুলুমের শিকার বেগম খালেদা জিয়া এখন প্রতিটি মানুষের প্রাণোৎসারিত সবটুকু সহানুভূতি, আবেগ, ভালোবাসা অকাতরে উপছে পড়ছে। কারাবন্দি খালেদা জিয়া হয়ে জনগনের প্রাণাধিক প্রিয়। মানুষের জীবনে সবচেয়ে আপনজন তার মা। মাতৃমুর্তি খুব খুব শক্তিশালী। আমরা দেশকে মায়ের সম্মান দেই।আমাদের মায়েরা কষ্ট সহ্য করেন, মুখে কিছু বলেন না; হয়তো নিরবে অশ্রুপাত করেন। বেগম জিয়াকে যে কষ্ট দেয়া হচ্ছে, তাতে কেবল দলের নেতাকর্মী নন, প্রতিটি বিবেকবান মানুষ তাঁকে মাতৃমুর্তি হিসাবে হৃদয়ের গহীনে গ্রথিত করছে। তাঁরা মনে করছে মা নিশ্চয় নিরবে অশ্রুপাত করছেন। মায়ের সেই অদৃশ্য কল্পিত কান্না, তাঁদের বুকে ক্রমাগত শেলের মতো বিঁধছে। ইতোমধ্যে পৃথিবীর ইতিহাসে এক অভাবনীয় ,অভুতপূর্ব জনপ্রিয়তার অনুসঙ্গে গণমানুষের কাছে প্রতিভাত হয়ে উঠেছেন একজন মাতৃমুর্তি রূপ খালেদা জিয়া। হাসিনার প্রকাশ্য জিঘাংসার মুখে পড়ার পর তিনি কর্মী সমর্থকদের কাছে “ম্যাডাম” থেকে “মা” তে উত্তীর্ন হয়েছেন। বেগম জিয়াকে আর তারা ম্যাডাম বলে ডাকেনা, “মা” বলে ডাকে। মা । দেশের মানুষ তাকে ঠাঁই দিয়েছে মায়ের আসনে। জেলবন্দী মা খালেদা জিয়ার শক্তি এখন অকল্পনীয়। অসামান্য অনন্য উজ্জ্বল মাতৃমুর্তিতে যেই উচ্চতায় বেগম জিয়া পৌঁছেছেন, পৃথিবীতে আপাতত তার ধারে কাছে আর কেউ নেই। “বন্দি আছে আমার মা, ঘরে ফিরে যাবো না’, – এই শ্লোগানের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে দেশের এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে। দলীয় কর্মীসমর্থকদের কন্ঠে বুকঝিম ভালোবাসায় উচ্চারিত এই ধ্বনি, প্রতিধ্বনি হয়ে অনুরণিত হচ্ছে প্রতিটি প্রাণে প্রাণে।

খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রাপ্য ডিভিশন সুবিধা না দেয়ায় বিক্ষুব্ধ বিএনপি: আইজি প্রিজন্সকে তিরস্কার!

বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়াকে জেলেই কেবল পাঠাননি শেখ হাসিনা, জেলখানায় আইন মোতাবেক পাওনা ডিভিশন সুবিধাও দেয়া হয়নি। তিন দিন অযত্ন অবহেলায় রেখে আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার ইফতেখার উদ্দীন আহমেদ রোরবার সকালে সাংবাদিকদের বয়ান দিলেন, “কারা বিধি অনুযায়ী যারা সাংসদ তারাই ডিভিশন পান। সাবেক প্রেসিডেন্টও পান। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী পান না। ১৯৬৪ ও ২০০৬ সালের কারাবিধিতে এ রকমের বিধি রয়েছে।”

জানা গেছে আইজি প্রিজন্স সত্য বলেন নি। ২০০৬ সালের কারা বিধির ৬১৭ ৭(i)তে বলা আছে, রাষ্ট্রের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের ১ থেকে ১৮ তালিকায় কাজ করেছেন এমন ব্যক্তিরা জেলখানায় (হাজতি বা কয়েদী) ডিভিশন-১ পাইবেন। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের ১ নম্বরে প্রেসিডেন্ট, ২ নম্বরে প্রধানমন্ত্রী, ১৩ নম্বরে আছে সংসদ সদস্য। ঐ ৬১৭ বিধির ৭ (২) ধারা অনুযায়ী সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকও ডিভিশন-১ পাইবেন। সে হিসাবে ৩টি ক্যাটাগরিকে বেগম খালেদা জিয়া ডিভিশন-১ প্রাপ্য। এটা দিতে জেল কতৃপক্ষ বাধ্য। এর জন্য কোনো কোর্টে আদেশ প্রয়োজন হবে না। উল্লেখ্য ২০০৭ সালে দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বেগম খালেদা জিয়া দু’জনেই এই আইনে প্রথম শ্রেণীর বন্দী হিসাবে সংসদ এলাকায় সাবজেলে রাখা হয়।

খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী, বর্তমান আইজি প্রিজন্স ইফতেখার তখন ছিলেন মেডিকেল কোরের একটা বাচ্চা ক্যাপ্টেন মাত্র, তাই তিনি হয়ত  ভুলে গেছেন, কিন্তু আইন ও বিধি তো মহা পরিদর্শকের টেবিলেই থাকে। ৫ বার সংসদ নির্বাচন করে ২৩টি নির্বাচনী এলাকা থেকে খালেদা জিয়া কোথাও না হেরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা বিশ্ব রেকর্ড। এ ছাড়াও তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী ছিলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল বিএনপির প্রধান, ৭৩ বছর বয়স্ক একজন সিনিয়র সিটিজেন- এগুলো তাঁর সামাজিক মর্যাদা ও অবস্খানের পরিচায়ক, যা কারাবিধির ৬১৭তে উল্লেখ আছে। সব মিলিয়ে মোট ৬টি ক্রাইটেরিয়ার যেকোনো একটিতে খালেদা জিয়া ডিভিশন-১ পাওয়ার যোগ্য।

অথচ তিন বারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আইজি প্রিজন্স সাধারন কয়েদী হিসাবে রেখেছেন তিন দিন নি রাত্রিরও বেশি। খাইয়েছেন কাকড় সহ ভাত! ৭৩ বছর বয়স্ক অসুস্থ একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে (নির্বাচন দিলে যিনি যেকোনো সময় আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন) ডিভিশন-১এর সুযোগ সু্বিধা না দিয়ে প্রিজন্স অথরিটি অমার্জনীয় অপরাধ করেছেন। অনেকের প্রশ্ন, আইজি প্রিজন্স কি ৬১৭ ধারা পড়েন নাই? নাকি তাহার চক্ষে (এবিএম মুসার ভাষায়) বিলাই মুতিয়াছিল?
 
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ অবৈধ সরকারের আজ্ঞাবহ একটি আদালত একটি মিথ্যা মামলায় তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদন্ড দিয়ে জেলখানায় পাঠায়। কিন্তু শেখ হাসিনা ও তার কথিত বড় ভাই এরশাদের আগেকার দেয়া ঘোষণা অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়াকে কেবল বানোয়টি মামলায় সাজাই দেন নাই, আইজি প্রিজন্স রাখেন নাজিমুদ্দিন রোডের সাবেক সেন্ট্রাল জেলের পরিত্যাক্ত ভবনে! ঐ ভবন এখন আর জেলখানা নয়, বরং দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত পাবলিক প্লেস। খালেদা জিয়াকে ঐ পরিত্যক্ত ভবনে বন্দী করার আগে সেটিকে জেলখানা ঘোষণা করে গেজেট জারী করা হয়নি। এটি একটি মারাত্মক ব্যত্যয়। ঐ জরাজীর্ণ ভবনে আর কোনো বন্দী নাই। ওটি এখন আর কোনো সরকারী জেল নয়, বরং প্রাইভেট বন্দীশালা। ২’শ বছরের প্রাচীন এ ভবনে হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বি খালেদা জিয়াকে বন্দী রাখা হয়েছে কি কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে? হয় তাঁকে ভয় দেয়া, অথবা ভবন ধসে হত্যা করার উদ্দেশ্য নয় তো?

জেল কতৃপক্ষের এহেন অন্যায় অত্যাচারের খবর প্রকাশ হওয়ার পরে সামাজিক মাধ্যম জুড়ে আইজি প্রিজন্সকে তুলোধানা করা হয়েছে। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছে- “আপনি কি মানুষ? নাকি জানোয়ার? আপনাকে এখন কি করা উচিত? এই দায়িত্বহীনতার জন্য আপনাকে এখনি চাকরিচ্যূত বা রিজাইন করতে বলা কি কম হবে? লজ্জা থাকলে আপনি পদত্যাগ করবেন”।

বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে তাঁর আইনজীবিরা শুক্রবার শনিবার ২দিন আইজি প্রিজন্সের অফিসে দৌড়াদৌড়ি করেছে ডিভিশনের দরখাস্ত নিয়া, যাতে তাঁকে ডিভিশন-১ নিশ্চিতভাবে দেয়া হয়, যদিও দরখাস্ত দেয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু আইজি প্রিজন্স তার অফিসের সব গেট বন্ধ করে রেখেছিলেন। বাহিনী দিয়ে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন! সাধারন জনগনের প্রশ্ন – আইজি প্রিজন্স কোনো করেছিলেন ঐ কম্ম ? এটা কি আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার ইফতেখারের ঘাড়ে সোর্ড এবং বল্টু আছে, তাই? ওগুলো যেদিন খসে যাবে সেদিন তার কি উপায় হবে?

তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। দপ্তর থেকে বিবৃতি প্রকাশ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করলেন দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানর তারেক রহমান। চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ায় বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমানই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপালন করবেন দলটির এমন সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, চেয়ারপারসন কোনো কারণে সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থাকলে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালন করবেন। এটাই গঠনতন্ত্রের বিধান। গঠনতন্ত্রের ৭নং ধারায় উল্লেখ আছে, চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালন করবেন জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এর বিবৃতি:

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে-

ন্যায়নীতি বিবর্জিত বিচার ব্যবস্থা: আমরা অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছি।

বাংলাদেশ এখন দৃশ্যত: সকল প্রকার রাজনৈতিক ও বিচারিক সৌন্দর্যের রূপ হারিয়েছে। শাসকদল কোনো প্রকার রাখঢাক না করে তাদের খোলস খুলে ভয়ংকর একনায়কত্বের স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। আজ তারা প্রমান করেছে যে, ন্যায় বিচারের জন্য বাংলাদেশে আর সঠিক তদন্ত কিংবা অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই। বরং শাসকদলের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকাই যেন সকল প্রকার নৈতিক, রাজনৈতিক, আইনগত কিংবা অর্থনৈতিক দুর্নীতি এবং স্বৈরাচার থেকে দায়মুক্তি পাওয়ার উপায়।

সম্পূর্ণ নির্দোষ, নিরপরাধ ও প্রতিবাদী মানুষের শক্তিশালী কন্ঠস্বর দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে-ক্ষমতাসীনদের কদাচার, দুর্নীতি, দখলসহ নানা অনাচারের বিরুদ্ধে কেউ যেন টু শব্দ উচ্চারণ করতে না পারে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এমন একজন নেত্রী, যিনি তাঁর জীবনের বেশীর ভাগ সময়ই বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। ক্ষমতায় থাকতে দেশের সার্বিক উন্নয়নকেই তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নের জন্য তাঁর অনবদ্য অবদান দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য এক উজ্জল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালো জিয়া, যিনি সবসময় দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবেসে ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে গেছেন, তাঁকে ক্ষমতাসীন দলের প্রত্যক্ষ মদদে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই রায়ের মাধ্যমে বিচারের নামে অবিচারের শিকার করা হয়েছে।

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। দেশের জনগণ বর্তমান একদলীয় স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেতে একটা গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় ফেরত যাবার জন্য ব্যাকুলভাবে অপেক্ষা করছে। সেই সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই ধরণের রাজনৈতিক আক্রমণের মাধ্যমে শাসকদল জনগণের সামনে নিজেদের ভীতিকর চেহারাটাই উন্মোচন করেছে। এই সরকার বাক-স্বাধীনতা হরণ করেছে, স্বাধীনভাবে তথ্য ও মত প্রকাশে বাধা দিচ্ছে। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে দেশের যে সকল প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি সেক্টরই বর্তমান সরকারের দলীয়করণের কবলে পড়েছে। এই স্বৈরাচারী সরকার দেশের জনগণকেই জিম্মি করতে চাচ্ছে।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শুধুমাত্র দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই পারে, বর্তমানের অন্ধকার ও বিপজ্জনক অবস্থা থেকে বাংলাশেকে আলোর ধারায় ফিরিয়ে আনতে।

গণতন্ত্র দীর্ঘজীবি হোক। আমরা অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বানোয়াট মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি।

 

আদালতে রায় ঘোষণার আধা ঘন্টা আগে দিল্লি থেকে হুবহু রায় প্রকাশ!

বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রাজনৈতিক রায় ঘোষণার আদালত কতৃক ঘোষণার অন্তত আধা ঘন্টা আগে দিল্লি থেকে হুবহু রায়টি  প্রকাশ করা হয়।

টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের স্থানীয় সময় ২:২৫ মিনিটে পিটিআই পরিবেশিত খবর প্রকাশ করে- “Bangladesh‘s former Prime Minister and opposition BNP chief Khaleda Zia was on Thursday sentenced to five years in jail in a corruption case. Zia, 72, was sentenced by the Special Court-5 in the capital, Dhaka, in connection with embezzlement of 21 million takas ($252,000) in foreign donations meant for the Zia Orphanage Trust.

তখন বাংলাদেশে সময় দুপুর ২:৫৫, তখনও ঢাকার বকশিবাজার বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান দন্ড ঘোষণা করেননি। দুপুর আড়াইটার পরে রায় পড়া শুরু করেন। প্রায় সোয়া তিনটার দিকে রায়ের মুল অংশ পড়েন জজ।

অর্থাৎ রায় ঢাকায় ঘোষণার আগেই দিল্লিতে প্রকাশিত হয়। এসব দেখে অনেকেই বলছেন- এ রায় আদালতের নয়, এ রায় দিল্লির, এ রায় প্রণবের।

গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর রাতভর নির্ঘুম পায়চারি- মাঝরাতে হঠাৎ বাইরে!

সমগ্র বাংলাদেশ ও রাজধানীর সাথে গত রাতে ক্ষমতাসীনদের বাড়িগুলো ছিল অস্থির। সন্ধার পরে থেকে পুলিশ র‌্যাব বিজিবির গাড়ি সাই সাই করে ছুটে চলছে শহর থেকে থানা উপজেলা থানার দিকে। লোকজন ভয়ে ঘর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে- ঠিক যেনো একাত্তরের ২৫ শে মার্চ রাত। পার্থক্য কেবল তখন ছিল পাকবাহিনী, আর এবারে বাংলাদেশের নিজস্ব ফোর্স। দু’টি ক্ষেত্রেই টার্গেটে নিরস্ত্র জনতা। এ অবস্থায় দুঃচিন্তায় ঘুমাতে পারছেননা দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পায়চারি করে বেড়াচ্ছেন। হঠাৎ হঠাৎ দু’একটা ফোন বেজে উঠছে, কোনো ধরেন আবার কোনোটা ধরেননা। বাসার স্টাফরা কেউই বাসায় যেতে পারেনি, সবাই নিকটেই অবস্থান করছিল। বিভিন্ন পোস্টের নিরাপত্তা রক্ষীরা সবাই তটস্থ।

এরি মাঝে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেঃজেঃ (অবঃ) তারিক সিদ্দিক, সামরিক সচিব মেঃজেঃ জয়নাল আবেদিন,  এবং এসএসএফ ডিজি মেঃ জেনারেল শফিকুর মহাব্যস্ত! কয়েকটা ফোনে অনরবত কল আসছে। এসএসএফ সিপিজি সহ সিকিউরিটি এজেন্সির অফিসাররা, এডিসি সহ বিশ্বস্ত কিছু পারসোনাল অফিসাররা সবাই বিভিন্ন রুমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। কেউ বসে বা আধা শোয়া বিশ্রাম করছিলেন কেউ কেউ। অবশ্য সকলেই চিন্তিত, মুখ ভার। কেউ কেউ এক আধটা জোকস বলে পরিবেশ হালকা করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু জমে উঠেছে না। কেউ কেউ বাথরুমে গিয়ে ধুমপান করে টেনশনা কমানোর চেষ্টা করছিলেন।

হঠাৎ মাস্টার রুমের কলিং বেল বেজে উঠে। দৌড়ে ছুটে যায় এডিসি এবং তারিক সিদ্দিক। পাঁচ মিনিটে সব স্টান্ড বাই। সিপিজি কমান্ডার তার বাহিনী ও অন্যান্য এজেন্সির ক্লিয়ারেন্স নিয়ে রেডি সিগনাল দেন। শাড়ি বদলে শাল পড়ে বেরিয়ে এসেছেন শেখ হাসিনা। গাড়িতে উঠে বসলেন। ভবনের ভেতরের গেটের বাতি নিভিয়ে সা সা করে বেরিয়ে গেলো ১৭টি গাড়ি। লেক রোড ধরে গুলশানের পথে চলছে মটরকেড। ঘড়িতে রাত ৩টা ১৭ মিনিট। কোনো বিশেষ খবর পেয়ে গণভবনের বাইরে এ অবস্থান।

1 23 24 25 26