গণগ্রেপ্তার থেকে রেহাই পাচ্ছে না প্রার্থীরাও, ইইউ প্রতিনিধি দলকে বিএনপি

 

ইইউ প্রতিনিধি দলকে বিএনপি: গণগ্রেফতার থেকে রেহাই পাচ্ছে না প্রার্থীরাওইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এখন পর্যন্ত সারাদেশে ‘লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরী হয়নি।

বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার ও তাদের বিরুদ্ধে নতুন নতুন মামলা দায়ের আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনুকূল নির্বাচনী পরিবেশের প্রধান অন্তরায় বলে ইইউ প্রতিনিধিদলকে জানান তারা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইইউর নির্বাচন বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে দলটির নেতাদের পৌনে দুই ঘন্টাব্যাপী বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে এসব বিষয় জানানো হয় বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।

তবে বৈঠকের পর ইইউ প্রতিনিধি দল কিংবা বিএনপি নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে কিছু বলেননি।

ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনজিং টিরিংকের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ইইউর নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ডেভিড নোয়েল ওয়ার্ড ও ইরিনি মারিয়া গোনারি ছিলেন।

বিএনপি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আরও ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক রুমিন ফারহানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল প্রমুখ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির কূটনৈতিক শাখার এক সদস্য বলেন, বৈঠকে ইইউর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। জবাবে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণার দিন থেকে এ পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট গ্রেফতার ও মামলার তথ্য জানানো হয়েছে। সারা দেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের গ্রেফতারের বিষয়েও অবহিত করেছেন তারা।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মামলা ও তার অসুস্থতার কথাও জানান বিএনপি নেতারা। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের কাছে বিতর্কিত পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের রদবদলের জন্য তালিকা দেওয়া হলেও ইসি কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলেও তাদের অবহিত করেন বিএনপি নেতারা।

ইইউর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা নির্বাচনের সময় পর্যবেক্ষক পাঠাবেন না। তবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।

ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার বিরুদ্ধে যারা কথা বলবে তারা স্বাধীনতা বিরোধী: ড. কামাল

ড. কামাল নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, অপশাসন দূর করতে জনগণের যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, তা সুসংহত করে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলেই জনগণের বিজয় নিশ্চিত।

তিনি আরো বলেন, যারা ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার বিরুদ্ধে কথা বলবে তারা স্বাধীনতা বিরোধী।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘লঞ্চিং গণফোরাম-লেড পাবলিক পলিসি ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা বলেন, দেশে সুশাসন, জনগনের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমার দল ও জোট কাজ করছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জাতীয় ঐক্যজোট ও বিএনপির মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনও সংকট হয়নি।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘জোট ও বিএনপির মধ্যে সংকট হয়নি। জোট হলে তো আসন ভাগ করতেই হয়। আলোচনা কিছুটা শুরু হয়েছে।’ তবে এটা কঠিন কাজ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘পিঠা ভাগ করতে গেলেও টানাটানি হতে পারে। কেউ পাবে, কেউ পাবে না। তবে যে পাবে না সে তার পাওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবে।’ ফাঁস হওয়া বিএনপির দুই নেতার ফোনালাপে ‘ব্ল্যাকমেইল’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে করা আরেক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, ‘আশা করছি এ ধরনের ভাষা ব্যবহার হবে না। ভাষার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।’

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব কিনা, এ ব্যাপারে মত জানতে চাইলে গণফোরাম সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা নিরাশ হতে চাই না। ভোটে বাধা দেওয়া হলে তা স্বাধীনতার বিরোধিতার সমান। কারণ, ভোট জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার। যারা নির্বাচনে অংশ নেবেন শুধু তারাই বঞ্চিত হবে না, পুরো দেশের মানুষ বঞ্চিত হবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্ট জয়ী হলে কী করবে, সে ব্যাপারে রেজা কিবরিয়া কথা বলেন। তিনি গণফোরামের পক্ষ থেকে কিছু অর্থনৈতিক প্রস্তাব তুলে ধরেন।

ভোটের টার্নআউট কমাতে আ’লীগের হিজড়া ব্যবহারের পরিকল্পনা: বাস্তবায়নে গোপালী ডিআইজি হাবিব

ঢাকা মহাগরীর ১৫০-২০০ কেন্দ্রের প্রতিটিতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ২৩ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্র কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্র কমিটিতে ২/৩ জন মহিলা সদস্য এবং কয়েকজন করে হিজড়াদের রাখা হবে। এইসব হিজড়াদের দিয়ে ভোটকেন্দ্রে গোলোযোগ বাধানো হবে, এমনকি বিএনপি বা ফ্রন্টের চিহ্নিত ভোটারদের অপদস্থ করে কেন্দ্র ছাড়তে বাধ্য করা হবে। হিজড়াদের উল্টাপাল্টা আচরন এবং পাগলামীর কারনের সাধারণ মানুষজন খুব সহজেই এড়িয়ে চলতে চায়।

হিজড়াদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও পুর্নবাসনের নামে পুলিশের ডিআইজি হেডকোয়ার্টার প্রশাসন হাবিবুর রহমান কর্তৃক উত্তরণ ফাউন্ডেশনের মা্যেমে বিভিন্ন কর্মসুচী বাস্তবায়নাধীন আছে। ঢাকার আশুলিয়া, আমিনবাজার ও বি-বাড়িয়ায় হিজড়াদের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বেদে ্কএবং হিজড়াদেকের নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন ডিআইজি হাবিব। এদেরেকে এবার নির্বাচনে নেতিবাচক কাজে ব্যবহারর উদ্যোগ নিয়েছে হাবিব। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হিজড়াদের একত্রিত করত: বিভিন্ন কেন্দ্র কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাদের দিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে গোলযোগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ইস্যু বানানো হবে। এলক্ষে হিজড়াদেরকে প্রয়োজনীয় ব্রিফিং এবং ট্রেনিংয়ের ব্যবহস্থা করবে ডিআইজি হাবিব। বিষয়টি  নাগরিকদের ভোটাধিকার সংশ্লিষ্ট, তাই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ও নগরবাসীকে এ বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।

নির্বাচনের পরিবেশ ও পর্যবেক্ষক নিয়ে ইইউর নামে বানোয়াট স্টেটমেন্ট আনতে সরকারের লোক ভাড়া!

“বাংলাদেশে  সংসদ নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট গণতান্ত্রিক ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রয়েছে, আর এ কারণেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন”- ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নামে এমন একটি খবর সকল মিডিয়াতে গতকাল সারা দিন চালিয়েছে সরকার! এ নিয়ে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। যে টিমকে ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের পক্ষে কথা বলতে শোনা গেছে, তারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বৈদেশিক কমিটি বা টিম নয়, বরং শেখ হাসিনার সরকারের ভাড়া করে আনা একটি টিম। এভাবে ইউরোপিয়ান টিমের সার্টিফিকেট নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ভয়াবহ জালিয়াতির আশ্যয নিয়েছে! আসলে দেশের মানুষকে ধোকা দিতে আ’লীগ সরকার উচ্চ মূল্যে ভাড়া আনা একটি টিমকে দিয়ে বলাচ্ছে। এটি একটি জঘন্য মিথ্যাচার ও জালিয়াতি ছাড়া আর কিছু নয়।

বাংলাদেশের মিডিয়াতে যা প্রচার করা হয়েছে, আসলে তা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঠিক অবস্থান নয়। যে ৯ সদস্যের সফরকারী টিম বাংলাদেশ ভিজিট করে গিয়ে হাসিনার পক্ষে প্রেস ব্রিফিং করে গেলো, সেটি সত্যিই ইউ’র এক্সটার্নাল এফেয়ার্সকে রিপ্রেজেন্ট করেনা। এদেরকে ভাড়া করে আনা হয়েছে শেখ হাসিনার তথাকথিত উন্নয়ন দেখাতে, এবং তার পক্ষে স্টেটমেন্ট দিতে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আসলে এটি www.sadf.eu নামের একটি লবিস্ট গ্রুপের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছে, যার সম্পূর্ণ খরচ বহন করেছে ব্রাসেলসে বাংলদেশ দূতাবাস। রুপার্ট ম্যাথিউ ইউ’র এই ধরণের পার্লামেন্টারি কমিটির কোন সদস্য নয়। উনি এমপি বটে, তবে তাকে হাসিনা সরকার তাকে মূল্য দিয়ে ভাড়া করে এনে বাংলাদেশের জনগনকে বোকা বানাচ্ছে!

নির্বাচন নিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সত্যিকারের বিশেষজ্ঞ টিম ঢাকায় আসবে ২৭ নভেম্বর। তারা ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচন পরিবেশ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করবেন। এসময় তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং প্রধান বিচারপতি, পুলিশ মহাপরিদর্শক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ইইউ দলটি আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা থেকে বিরত থাকলেও এই দুই বিশেষজ্ঞই বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ব্রাসেলসে ইইউ’র সদর দফতরে তাদের রিপোর্ট জমা দেবেন।’ বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তারাও বলছেন, ‘তাদের এই সফরটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাদের দেওয়া রিপোর্ট বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউ’র ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপরে কিছুটা হলেও প্রভাব রাখবে।’অথচ, এই বিশেষজ্ঞ টিমের সফরের আগেই ভাড়া করে আনা কয়েক ব্যক্তিকে নিয়ে বলানো হচ্ছে, বাংলাদেশে নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ আছে, তাই ইইউ তাদের পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না! এটি একটি জঘন্য মিথ্যাচার।

উল্লেখ্য, ঐ টিমটি যে ভাড়া করা টিম, এবং সেটা ইইউর সত্যিকারের টিম নয়, তার প্রমান হলো, ঐ দলটির বাংলাদেশে ঘোরাঘুরি, এমনকি প্রেস কনফারেন্সের সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন রাষ্ট্রদূত রেনসিয়ে টিয়েরিঙ্কের উপস্থিত ছিলেন না, এবং তাদেরকে ইইউর পতাকা বহন করতে দেখা যায়নি।

কথা শুনছে না সেনাবাহিনী, সরে যাচ্ছে পুলিশ, ভিত নড়ে গেছে সরকারের: ডা. জাফরুল্লাহ

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা তাঁর সেনাবাহিনী এখন শুনছে না। পুলিশ এখন আমাদেরকে বলছে আন্দোলনের মাঠে অবস্থান করতে। বোঝাই যাচ্ছে, সরকারের ভিত নড়ে গেছে’ – বলেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘২ মাস আগে প্রেসক্লাবের সামনে আমি দেখেছি পুলিশ আমাদেরকে বলেছে, স্যার যায়েন না, এইখানে থাকেন। সেটা দু’মাস আগের কথা। এখনকার পরিস্থিতি তো আরও পরিবর্তন হয়েছে।’

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘যাদেরকে এত ভয় করেন পুলিশ ও র‌্যাবের ডিজি তারা এখন যোগাযোগ করছে বিভিন্ন জায়গায়। তাই আপনারও ভয় পাবেন না। তারা সর্বোচ্চ কি করতে পারে- ধরে নিয়ে যাবে, সর্বোচ্চ মেরে ফেলবে। ১৯৭১ সালে আমাদের মরে যাওয়ার কথা ছিল। গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করতেই আমরা এখনও বেঁচে আছি।’

শনিবার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ’৭১’র মুক্তিযুদ্ধ ও আজকের বাংলাদেশ, আসন্ন নির্বাচনে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যাশা এবং করণীয় শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচনের সময় আমি কোনও মুক্তিযোদ্ধার মুখে শুনতে চাই না যে মাঠে পুলিশ আছে বলে আমরা যেতে পারছি না। কত লাখ পুলিশ এখানে আছে? আমাদের পক্ষে জনগণ আছে ১৮ কোটি। আমরা যেসব সমাবেশ করেছি সব জায়গায় পুলিশ রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল। তবুও হেঁটে গিয়ে মানুষ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছে। এ ধরনের ঘটনা দেখা গেছে সত্তরের দশকে মাওলানা ভাসানীর ডাকে মানুষ যখন আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল।’

তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আমার প্রত্যাশা- এবারের জাতীয় সংসদে কমপক্ষে ১৫ জন মুক্তিযোদ্ধা নেতা থাকবে। তবেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা হবে। তারা ১৯৭১ সালে যেভাবে যুদ্ধ করেছিল দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় সংসদেও সেভাবেই অবস্থান নেবেন।’

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। যেন সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে বা তার মত প্রকাশ করতে পারে। সরকার যখন স্বৈরাচারী হয়ে যায় তখন সে তার অতীত ভুলে যায়। আমরা চাই সেই অতীতকে মনে করিয়ে দিতে। একাত্তরে যুদ্ধ করে আমরা যেমন স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলাম এখনো সেভাবেই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে আমরা দ্বিতীয় যে কথাটি দিয়েছিলাম সেটি হল ন্যায়বিচার। আমি কখনো বলিনি খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে হবে। আমি বলেছি তাঁর ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সুবিচার পেলেই তিনি আজ কারাগারের বাইরে থাকতেন। আমরা কি টানা দুবার ক্ষমতায় থাকলে শেখ হাসিনার নামে ১৯২টা মামলা দিয়ে দিতাম?’

সরকারের ভিত নড়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি দেখে বোঝা যাচ্ছে সরকারের ভিত নড়ে গেছে। যখন বেনজির-আসাদুজ্জামানের মত লোকজন যোগাযোগ শুরু করে তখন বোঝা যায় ১ কোটি লোককে গ্রেফতার করা যায় না।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘আমরা বৈষম্য দূর করতে চাই। আজকে আমরা দেখছি কেউ কেউ কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে। আর কেউ দরিদ্র থেকে যাচ্ছে। এ বৈষম্য আমরা দেখতে চাই না। বৈষম্যের কারণে মানুষের দুরবস্থা কি রকম হয় সেটা যদি দেখতে চান তাহলে ধানমন্ডিতে আমার হাসপাতালে আসতে পারেন। সেখানে মানুষ ডায়ালাইসিসের জন্য ৫০০ টাকা দিতে পারে না।’ ‌

/ব্রে‌কিং‌নিউজ

গায়েবি মামলাকারী পুলিশের পক্ষে কতটা নিরপেক্ষ থাকা সম্ভব, প্রশ্ন ইসি মাহবুব তালুকদারের  

 

তফসিল ঘোষণার আগে যে পুলিশ গায়েবি মামলা করেছে, তফসিল ঘোষণার পরে তাদের পক্ষে রাতারাতি পাল্টে গিয়ে নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন কতটা সম্ভব এই প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার।

বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ সভায় ইসি কমিশনার মাহবুব চার পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে এসব প্রশ্ন তোলেন।

সিইসির সভাপতিত্বে সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, অতিরিক্ত সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, আইজিপি, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক, ডিএমপি কমিশনারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘গাজীপুরে নির্বাচনকালে ইউনিফরমধারী পুলিশ ও সাদা পোষাকের পুলিশ অনেক ব্যক্তিকে বাসা থেকে কিংবা রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ আছে। অনেককে অন্য জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের একজন ছাড়া পুলিশ অন্যদের গ্রেফতারের বিষয়ে কোনো স্বীকারোক্তি করেনি। নির্বাচনের পর দেখা যায় তাদের ১০ জনকে অন্তত কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাওয়া গেছে’। মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘গ্রেফতার না করলে তারা কারাগারে গেলেন কীভাবে? এ প্রশ্নের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি’।

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত গায়েবি মামলা প্রসঙ্গে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘বর্তমানে বহুল প্রচলিত গায়েবি মামলা এখন আর গায়েবি আওয়াজ না। মাননীয় হাইকোর্ট পর্যন্ত এ ধরনের মামলাতে পুলিশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয় বলে উল্লেখ করেছেন। ঢাকার পুলিশ কমিশনার মহোদয় মহোদয় পুলিশ বাহিনীকে গায়েবি মামলা না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তারপরও অনেক ক্ষেত্রে এরূপ মামলা চালু রয়েছে’। আমার প্রশ্ন হলো সিডিউল ঘোষণার পূর্বে যে পুলিশ গায়েবি মামলা করেছে, সিডিউল ঘোষণার পরে তার পক্ষে রাতারাতি পালটে গিয়ে নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন কতটা সম্ভব? এ প্রশ্ন মনে জাগে’। তিনি বলেন, ‘পুলিশ বাহিনী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় সহায়ক শক্তি। তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে’।

ইসি কমিশনার বলেন, ‘কিছু সংখ্যাক গায়েবি মামলার আসামিদের তালিকা বিরোধী দল থেকে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। যদিও অধিকাংশই পুরনো মামলা। এসব মামলা অজ্ঞাতনামা আসামিদের অনেকের আদালত থেকে জামিন নেওয়া হয়তো সম্ভব হবে না। কোনো কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা থাকার কারণে তারা নির্বাচনী প্রচারকাজ চালাতে ভয় পাচ্ছেন। এহেন ভয়ভীতি অমূলক নয়। নির্বাচন ব্যবস্থাপনাকে স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে নির্বাচন পূর্ব সময়ে প্রার্থীরা যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এ সর্ম্পকে নির্বাচন কমিশন থেকে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা যথাযথভাবে পালন করা প্রয়োজন’।

ইসি কমিশনার বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মিডিয়ায় যে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে তা হলো, নির্বাচন কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহে পুলিশ দুই মাস পূর্ব থেকে মাঠে নেমেছে। তারা প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পুলিং কর্মকর্তাদের বিষয়ে নানারুপ তথ্য সংগ্রহ করছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এই তথ্যানুসন্ধানের বিষয়ে পুলিশকে কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। কমিশন নির্বাচন কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহের জন্য কোনো নির্দেশনা দেয়নি। সুতরাং এসব কর্মকাণ্ড কে কি উদ্দেশ্যে করছে তা রহস্যজনক। বলা বাহুল্য অতি উৎসাহী কিছু পুলিশ সদস্যের এই কর্মকাণ্ডে ব্যাপক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যার দায় নির্বাচন কমিশনের ওপর এসে পড়ে’। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনভাবেই এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে দিতে পারি না। আর একথা সত্য যে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ হলে তার দায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর বর্তাবে এবং আপনারা প্রশ্নবিদ্ধ হলে আমরা দায় এড়াতে পারবো না’।

মাহবুব তালুকদার বরিশাল সিটি নির্বাচন অনিয়ম প্রসঙ্গে বলেন, “কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিরোধী প্রার্থীদের পুলিশ অযাচিতভাবে হয়রানি করা হয়েছে। আবার সরকারি দলের প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় পুলিশকে নিষ্ক্রীয় থাকতে দেখা গেছে। শুধু তাই নয় উল্টো বিরোধী প্রার্থীর প্রচার প্রচারণায় পুলিশের অযাচিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে”। তিনি বলেন, “বরিশাল সিটি নির্বাচনের ভোট বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সব কমিশনার একমত হলেও নির্বাচন বন্ধ করলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে কিনা এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হবে কি না তা ভেবে নির্বাচন বন্ধ করা থেকে আমরা বিরত থাকি’।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকাকালে তৎকালিন জাতীয় নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছিলাম। নির্বাচন বিষয়ে সেটাই ছিল আমার প্রথম অভিজ্ঞতা। নির্বাচন কমিশনে যোগদানের পর সেই অভিজ্ঞতা দিনে দিনে ফুলে পল্লবে পরিণত হয়েছে’।

উল্লেখ্য ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই ২ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ ৯ ডিসেম্বর এবং প্রতীক বরাদ্দ ১০ ডিসেম্বর।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই

পল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের হটাতে পুলিশী হামলা: লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, গুলি, পুলিশের গাড়ি অগ্নিসংযোগ করে হেলমেটলীগ!

গত তিন দিন ধরে বিএনপি কেন্দ্রীয় অফিস থেকে সংসদ নির্বাচনের দলীয় ফরম বিতরন উপলক্ষে লাখ লাখ মানুষের জনসমাগম ঘটে। গতকাল ছিল সবচেয়ে বেশি জনসমাগম। কয়েক লাখ মানুষের উপস্থিতি দেখে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন লীগনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গোয়েন্দা সংস্থা ও দলীয় সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশনা দেন বিএনপি অফিসের সামনের মানুষের ভীড় কমাতে। এ নিয়ে বিডিপলিটিকো গতকাল রিপোর্ট পরিবেশন করে।

আজ বুধবার বিএনপি অফিসের সামনে লোক বাড়তে থাকলে প্রথমে বেলা ১১টার দিকে লাঠি চার্জ করে। অজুহাত হিসাবে বলা হয় নির্বাচন কমিশনের চিঠি। অথচ একই কাজে আওয়ামীলীগ সামনে (একটি আবাসিক এলাকার মধ্যে) হাতি ঘোড়া ভেঁপু বাজিয়ে তান্ডব করে। অথচ নির্বাচন কমিশন তখন টু শব্দটিও করেনি। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন পরিসআর পক্ষদুষ্ট আচরণ করছে।

Image.jpeg

পরবর্তীতে দুপুর ১টার দিকে বেশ কিছু হেলমেট পরিহিত বহিরাগত লোকজন নিয়ে কয়েক’শ পুলিশ বিএনপির সমাবেশে ঢুকে পড়ে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপর। আক্রান্ত লোকজন দৌড়ে এবং রাম্তায় শুয়ে পড়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরে পুলিশ সরে যায়। কিন্তু জনতার প্রতিরোধ চলাকালে পুলিশের সাথে যাওয়া হেলমেট পড়া লোকগুলি সেখানে পার্ক করা গাড়িগুলি ভাঙতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশের দু’টি ভ্যানে অগ্নি সংযোগ করে হেলমেট পড়া কিছু ছেলে। পরে দেখা যায় ঐ লোকগুলি ছাত্রলীগের ক্যাডার। এদের একজন গুলশান ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক অপু, যিনি পুলিশের গাড়িতে আগুণ লাগায়। পল্টনে সংঘটিত পুলিশী হামলা ও গাড়িপোড়ানোর তান্ডব কয়েকটি টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করে।

Image_1.jpeg

পরবর্তীতে দেখা যায়, সরকারী টেলিভিশন বিটিভির ক্যামেরাম্যানও সেখানে মজুদ ছিল। অথচ এসব বিষয় বিটিভি এড়িয়ে চলে আসছিল। হঠাৎ করে বিটিভির উপস্থিতিকে কথিত নাশকতার শুটিং হিসাবে প্রতীয়মাণ হয়। ঘটনার পরে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায় যেসব যুবক গাড়ি ভাঙচুর এবং পুলিশের গাড়ি পুড়িয়েছিল, তারা হেলমেট পড়ে পুলিশের সাথেই ঢুকেছিল। জানা যায়, পুলিশ সাধারণত আক্রমনস্থলের আশেপাশে তাদের গাড়ি পার্ক করে না। তবে এক্ষেত্রে তারা গাড়ি সেখানে রাখে, অতপর গাড়িগুলিতে যাখ আগুণ দেয়া হয়, তখন পুলিশ কোনো বাধা প্রদান করেনি। এথেকে প্রতীয়মান হয় যে, পুলিশ খুব পরিকল্পিতভাবে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করায়, তাদের সাথে আনা লোক দিয়ে গাড়িগুলি পোড়ায়। তাছাড়া সেখানে কর্মরত গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, সরকারী দলের ক্যাডাররা মাথায় হেলমেট পড়ে গাড়ি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে। হেলমেট বাহিনীর হামলার ধরনের সাথে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের উপর বর্বরভাবে হামলে পরা হেলমেট বাহিনীর মিল রয়েছে। সে হামলায় কেউ গ্রেফতার হয়নি  হয়নি কোন বিচার।

Image_3.jpeg

ঘটনার পর পর বিএনিপি অফিস থেকে সংবাদ সম্মেলন করে বলা হয়, গাড়ি পোড়ানো বা ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির নেতকর্মীরা জড়িত নয়। বরং ছাত্রলীগ ও হেলমেট লীগ দায়ী। বিকালে নির্বাচন কমিশনের সাথে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠককালে পল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর পুলিশী হামলা এবং ছাত্রলীগ কর্মীদের দ্বারা গাড়িপোড়ানোর ঘটনা অবহিত করে বিচার দাবী করা হয়।Image_4.jpeg

Image_6.jpeg

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : সরব হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মহল

বিএনপির পাশে চিন, অভিযোগ হাসিনার দলের

আনন্দবাজার রিপোর্ট

ভোটের ঘণ্টা বেজে যাওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় এ বার মাথা গলাচ্ছে বেজিং। ঢাকার রাজনৈতিক সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, সে দেশের বিরোধী দল বিএনপি-কে বিভিন্ন ভাবে সহায়তার জন্য ঝাঁপি খুলে দিয়েছে চিন। বিপুল অঙ্কের অর্থ সাহায্য করা হচ্ছে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের দলকে— বিভিন্ন সূত্রে এমন খবরও মিলেছে।

Hasina and Khaleda

বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও সতর্ক নজর রাখছে হাসিনা সরকার এবং আওয়ামি লিগ। সূত্রের মতে, এখনই বিএনপি-কে যে কোনও প্রকারে তখতে বসানোটা চিনের লক্ষ্য নয়। বরং আওয়ামি লিগের উপর চাপ তৈরি করতেই তারা বিএনপি-কে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি ভারতকে চাপে রাখাটাও পরোক্ষ উদ্দেশ্য বেজিংয়ের।
সম্প্রতি বেজিং এবং ঢাকার সম্পর্কে বেশ কিছু মতান্তর তৈরি হয়েছে। চিনের ঋণের ফাঁদ এড়াতে পদ্মা সেতুর কাজে তাদের বিনিয়োগের প্রস্তাব ফিরিয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। পাশাপাশি বেশ কিছু ঘরোয়া প্রকল্পেও চিনকে দূরে রাখা হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা বিমানবন্দরের নতুন তৃতীয় টার্মিনাল তৈরির প্রকল্পটি রূপায়ণে চিন মরিয়া ছিল। বাংলাদেশের এক কর্তার কথায়, ‘‘এ ব্যাপারে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের কথা অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার পরেও চিন প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল প্রকল্পটি পেতে। তার জন্য সব রকম আর্থিক মূল্য তারা দিতে রাজি ছিল। কিন্তু বিশ্বস্ত সহযোগী দেশ জাপানের সঙ্গে চুক্তিভঙ্গ করার প্রশ্ন ওঠে না বলে চিনকে খালি হাতে ফেরাতে হয়েছে।’’

কূটনৈতিক শিবিরের মতে, চিন যে সাহায্য বিএনপি-কে করেছে তাতে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-র হাত রয়েছে। আওয়ামি লিগের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে— খালেদা জিয়ার পুত্র তারেকের সঙ্গে আইএসআই-এর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

এখনো সমঝোতা সম্ভব

1 2 3 4 5