জাতিসংঘে বিএনপি মহাসচিবের হাই-পাওয়ার বৈঠক অনুষ্ঠিত

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল (পলিটিক্যাল) মিরোস্লাভ জেনকার সহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের হেডকোয়ার্টারে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এ বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হুমাযূন কবির এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল।

বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট সংকট, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যায় কারাবাস ও বিচারহীনতা, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামীলীগ সরকারে গুম খুন গ্রেফতার এবং রাজনৈতিক নিবর্তন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিএনপি মহাসচিব বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট সংকট নিরসনে জাতিসংঘের সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ করে এর আগে ২০১৩ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে তারানকো মিশনের ধারাবাহিতায় সম্ভাব্য করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। শিঘ্রই এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সাথে জাতিসংঘ কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে বৈঠকসূত্রে জানা গেছে। জাতিসংঘে আমন্ত্রণ এবং এ বৈঠকের জন্য মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে ধন্যবাদ জানান বিএনপি মহাসচিব।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষে রাজনীতি বিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিরোস্লাভ জেনকার কিছু দিন আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে জাতিসংঘে সফরের জন্য আমন্ত্রণ পাঠিয়েছিলেন। তবে জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস জরুরী কাজে ঘানায় থাকায় তার পক্ষে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল তার ৪ জন উর্ধতন কর্মকর্তা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল জাতিসংঘ সদর দফতরে পৌছানোর সাথে সাথে পলিটিক্যাল উইংয়ের কর্মকর্তারা এস্কর্ট করে নিয়ে যান এবং বৈঠক শেষে গাড়িতে পৌছে দেন।

জাতিসংঘের এক ধমকে উড়ে গেলো ফখরুলের ওপর নিষেধাজ্ঞা!

জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেখানে যাচ্ছেন, এমন খবর গোয়েন্দা মারফত আগেই জানতে পারেন বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গোয়েন্দাদের নির্দেশ দেন মির্জা ফখরুলকে আটকে দিতে। কারন বিএনপি মহাসচিব জাতিসংঘে গেলে তাতে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামীলীগ ভয়াবহ বিপদে পড়তে পারে। এমনকি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সংকটে পড়তে পারে। তাই যেকোনো মূল্যে আটকাতে হবে ফখরুলকে। খবর গোয়েন্দা সূত্রের।
 
সরকারের এমন সিদ্ধান্তের খবর দ্রুতই পৌছে যায় জাতিসংঘের ঢাকাস্থ আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সিপ্পোর কাছে। তিনি হেড কোয়ার্টারের অনুমতি নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার চ্যানেলে সরকারকে জানিয়ে দেন, বিএনপি মহাসচিব জাতিসংঘে যাচ্ছেন জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরিসের আমন্ত্রণে। এ অবস্থায় মীর্জা ফখরুলকে আটকে দিলে জাতিসংঘ মহাসচিব নাখোশ হবেন। এবং এর প্রভাব পড়তে পারে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশী সৈন্যদের নিয়োগের ওপর।
 
এরপরে গোয়েন্দারা প্রধানমন্ত্রীকে আসন্ন এ বিপদের কথা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিবকে না আটকানোর পরামর্শ দেন। অবশেষ খুব চুপেচাপে মির্জা ফখরুল দেশ ছাড়ার পরে সংবাদ মাধ্যমে খবর ছাড়া হয়। এর আগে সরকার নিজেরাই খবরটি ধামাচাপা দেয়, যাতে করে বিনাবাধায় ফখরুল দেশ ছাড়াতে পারেন। অর্থাৎ মির্জা ফখরুলের জাতিসংঘে সফরটি জটিলতা বিহীনভাবে সফল করতে সরকারই বাধ্য হয়!
 

জাতিসংঘে ফখরুল, মহাসচিবের সাথে বৈঠক নিয়ে কৌতূহল

কবে কি- একটি তাত্ত্বিক আলোচনা!

ফেসবুক থেকে

সেপ্টেম্বর মাসের ১২ তারিখ আজ। একজন নাগরিক হিসাকে সামনের দিকে তাকালে বাংলাদেশকে কেমন দেখতে পান? আগামী তিন মাস মারামারি কাটাকাটি রক্তারক্তিতে লিপ্ত একটি দেশ? নাকি শান্তি শান্তি আর শান্তি! আসলে আমরা কেউ জানি না- কি হতে যাচ্ছে! কেউ মনে করছেন এবার শান্তি আসবে, কেউবা আবার হতাশ- আর বুঝি হলোনা। আবার অনেকেই ভেবে আছেন, একটা কিছু নিশ্চয় হবে! কি হবে বা হতে পারে, আসুন একটু কল্পনা করা যাক!

প্রথম দৃশ্যঃ
ঐক্যজোট হয়ে গেছে। এখন কেবল অফিসিয়িাল ঘোষণা এবং মাঠে নামা বাকী। তাহলেই হাসিনা উৎখাত হবে এবং অতঃপর আমরা আসছি সরকারে! স্বপ্নটা একটু সহজ হয়ে গেলো না? এতদিন ধরে যে লুটেরা সরকার খেয়ে দেয়ে মোটা তাজা হয়েছে, তারা কি বসে থাকবে? নাকি প্রাণভয়ে পালাবে? জবাবটা এত সহজ নয়। দুটোর যেকোনো একটি হতে পারে, আর তা নির্ভর করবে পরিস্থিতির ওপর!

দৃশ্যপট দুইঃ
বিএনপি এবং ঐক্যজোটের অনেকের মনেই ধারণা হয়েছে, এখন তো রেডি হয়ে রইলাম, তারপর সুবিধামত নামব! আচ্ছা, কবে নামবেন? আরে বুঝলেন না, যেদিন নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হবে- সেদিন! ভাই, ঐ নির্বাচনকালীন সরকার বস্তুটা কি? ওটা কি খায়, নাকি মাথায় দেয়? নির্বাচনকালীন সরকার বলতে সংবিধানে আসলে কিছু কি আছে? নেই। তাহলে হাসিনা কেনো বলছে? কি হবে ওই সরকারে? আরে ওটা হলো ভোজবাজি, মানে ফাত্রামি! এখনও হাসিনা সরকারে, ঐটা গঠন হলেও সে ই সরকারে থাকবে! তার পিছে ছাগল পাগল কারে নিলো, কি নিলো না, তাতে কি বা যায় আসে! তার যেসব পরিকল্পনা, কূটকৌশল, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্লান করেছে, সবি সে বাস্তবায়ন করতে পারবে! তাহলে কি নির্বাচনকালীন সরকার হলে আমরা কোনো বেনিফিট পাবো না? এবসার্ড, কোনো কিছু চেঞ্জ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই। বর্তমান বিনাভোটের সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল দু’দিন আগে কি বলেছে, জানেন? ভাই, ‘আমরা তো দম দেয়া পুতুল মাত্র, আমাদের কোনো ক্ষমতা নাই্। ড্রাম-ফ্যাক্টরি থেকে যা হুকুম আসে, কেবল সেটাই আমরা বাস্তবায়ন করি মাত্র। আর ঐ ড্রাম ফ্যাক্টরি চলে উত্তরা বাতাসে। ওখান থেকে যে বাও আসে সেইমত হুকুম জারি হয়। আমরা শুধু তামিল করি মাত্র!’ কিছু কি বোঝা গেলো?

দৃশ্যপট তিনঃ
তাহলে ইলেকশন শিডিউল ঘোষণা দিলে আমরা কি নামতে পারব? ওয়েল, ইট ডিপেন্ডস- আপনি কি করতে চান, কতটুকু প্রস্তুতি, ক’দিন সময় পাবেন, তার উপর নির্ভর করবে। আচ্ছা, শিডিউল ঘোষণা দিলে কয়দিন সময় পাওয়া যাবে? ইসি নাকি বলে দিয়েছে ২৭ ডিসেম্বর ইলেকশন! আরে নাহ্, ওটা ছিল একটা রাবিশ মাল বয়ান! তাহলে হিসাবটা কি? শুনুন তবে ____৫ জানুয়ারীর ভুয়া সংসদ বসেছিল ২৯ জানুয়ারী ২০১৪, সংখ্যা মোতাবেক ৫ বছর পরে আগামী বছর ২৮ জানুয়ারী শেষ হবে এর টার্ম। সংবিধান অনুসারে তার ৯০ দিন আগে ইলেকশন করতে হবে। এই নব্বই দিনের মধ্যে যেকোনো দিন ইলেকশন করা যাবে। এটা সিইসির এখতিয়ার। তাহলে ২৮ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারী হলো টাইম ফ্রেম। এখন যদি বলা হয়, আজ শিডিউল ঘোষণা করলাম ৩০ অক্টোবর নির্বাচন, বা যদি বলা হয় ২০ জানুয়ারী নির্বাচন? হিসাবগত বা আইনগত কোনো সমস্যা নাই। ঐ ৯০ দিনের মধ্যে হলেই হলো। এখন বেসিক প্রশ্ন____শিডিউল ঘোষণার দিন থেকে ইলেকশন ডেট অবধি কয়দিন সময় পাওয়া যাবে? এটা ৩০/৩৫ দিন সময় লাগে। শিডিউল ঘোষণা করে বলা হয় ৫/৬ দিন পরে নমিনেশন পেপার তোলা যাবে, এরপরে ৭ দিনের মত সময় পাওয়া যাবে প্রত্যাহার বাছাই, তারপর ২ সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন। ব্যালট পেপার ছাপার উপর নির্ভর করে এটা ৩ সপ্তাহ লাগতেও পারে। মোটামুটি এই হলো হিসাব। তাহলে কি দাড়ালো? যদি ডিসেম্বরের শেষে ভোটের দিন ঠিক করা হয়, তবে নভেম্বরের মধ্যখানে বা শেষ সপ্তাহে শিডিউল ঘোষণা করবে। আর যদি জানুয়ারীর মাঝামাঝি ভোট হয়, তবে শিডিউল চলে যাবে ডিসেম্বরে! তাহলে সরকার তথা আম্লীগ কি চায়? তারা চায়, যত কম সময় দিয়ে নির্বাচনটা করা যায়। তাহলে ঐ অল্প সময়ে বিরোধী দল প্রার্থী দিবে, নাকি নিরপেক্ষ সরকার চাইবে, সিইসি বদল চাইবে- মাঠ গরম করবে? আর এদেশের একটা ট্রেন্ড হলো- নির্বাচন ঘোষণা হলে আর আন্দোলন হয় না (কেবল এর ব্যতিক্রম আ’লীগ, তারা ২০০৬-৭ সালে শিডিউল ঘোষণার পরেও আন্দোলন করে নির্বাচন বানচাল করেছিল!)

দৃশ্যপট চারঃ
বর্তমান অবস্থায় সরকার চাইবে- নির্বাচনের জন্য যত কম সময় দেয়া যায়, তাতে আন্দোলন সংগ্রামের রিস্ক কমে। তার মানে এখন যেভাবে বলা হচ্ছে, অক্টোবরে শিডিউল ঘোষণা করবে, আসলে হয়ত সেটা করবে না, খুব অল্প সময় দিয়ে কাজটা সেরে ফেলতে চাইবে। আরেকটি বিষয় আছে, সরকার চাইল- কোনো শিডিউলই দিব না, তাহলে আর আন্দোলন হবে না। বরং সময় নিয়ে ধরপাকড় করে জেলখানা ভরা যাবে! তাহলে কি করবে? নিজেরাই কয়েকটা বড় বোমাবাজির ঘটনা ঘটিয়ে অথবা একটা ঝড় হলো সিইসিকে বলবে – নির্বাচন পিছিয়ে দিন সংবিধানের ১২৩(৪) মোতাবেক। তাহলে সেটা এপ্রিলের ২৮ তারিখ পর্যন্ত পিছিয়ে দিতে পারবে। এভাবে প্রায় ৬ মাসের বেশি সময় পেয়ে গেলো। তখন আরাম আয়েশ করে ধরপাকড় থেকে মনে যত খায়েশ আছে সবই করলো!

দৃশ্যপট পাঁচঃ
আচ্ছা, টাইম যখন পাচ্ছিনা, তাহলে আন্দোলনই করলাম না। নির্বাচনেই গেলাম সবাই। তাহলে কি পারব? উত্তর হচ্ছে, সরকার তাদের লোকজন সব সেট করেছে নির্বাচন কর্মকর্তা থেকে পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি, এমনকি মিলিটারীরর স্ট্রাইকিং ফোর্স। সাথে আছে ভোট-কাটার জন্য ভুয়া পুলিশ, ও ছাত্রলীগ যুবলীগ আওয়ামীলীগ! রিটার্নিং অফিসাররা সবই দলীয়, রেডি থাকবে সন্ধ্যা হলেই ফল পাঠানোর জন্য, সেটা ভোট হোক বা না হোক। কাটাকাটি হোক, নামকা ওয়াস্তে ভোট হোক, একটা ফল ঘোষণা করতে পারলেই হলো- তাহলে আর সরকার গঠন ঠেকায় কে? আগামী ৫ বছর করে, ২০২১ বা ৪১ বা শতবের্ষের খেপ!

দৃশ্যপট ছয়ঃ
তাহলে কি এই দুষ্টচক্র ভাঙা যাবে না? তা করতে হলে সব ভোটারদের যেতে হবে ভোটকেন্দ্রে। ভোট দিয়ে ঘেরাও করে রাখতে হবে কেন্দ্র। ফল ঘোষণা করাতে হবে ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্রে মধ্যে বেশীরভাগে। তারপরে রিটার্নিং অফিসারকেও ঘেরাও করতে হবে- যাতে ভুয়া রেজাল্ট তারা কেন্দ্রে না পাঠাতে পারে। এছাড়াও ইলেকশন কমিশনকে ঘেরাও করে আটকে ফেলতে হবে- সঠিক ফলাফল প্রকাশ করতে বাধ্য করতে। এত কিছু কি সম্ভব? উত্তরটা নিশ্চয় জানা আছে সবার। তাহলে বিকল্প কি রইল?
বিকল্প হচ্ছে, শেখ হাসিনার বর্তমান সরকার ও নুরুল হুদার নির্বাচন কমিশনকে পদত্যাগে বাধ্য করা, এবং একটি নিরপেক্ষ সরকার ও নতুন কমিশন গঠন করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টি করে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। এটা কি আদৌ সম্ভব? নিশ্চয় সম্ভব। এছাড়া আরও অস্বাভাবিক ও অসাংবিধানিক বিকল্প আছে, তা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন নাই। অস্বাভাবিক কিছু সব সময়ই ঘটতে পারে। অতীতে এর বহু উদাহরন আছে।

দৃশ্যপট সাতঃ
তাহলে এখন উপায় কি? সরকার কবে সুযোগ দিবে, টাইম দিবে তারপরে মাঠে নামব? না, মোটেই তা নয়। নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করে দিতে হবে। তাতে মারামারি বা ক্যাজুয়াল্টি হতে পারে। আবার সব দল ও জোট একত্র হয়ে নামতে পারলে সরকারের পেটোয়া বাহিনী হামলা করতে সাহস পাবে না, বা লড়াইয়ে কুলাতে পারবে না। সেই সংগ্রাম সফল হবে। তবে হ্যা, এর মধ্যে কিছু সমস্যাও আছে, জোটের মাথা কেনাবেচা হতে পারে, স্যাবোটেজ হতে পারে, খুন গুম ধরপাকড় ভয়ভীতি ছড়াতে পারে। এসব কিছু হিসাব কিতাব করেই বিরোধী জোটগুলো সঠিক সময়ে তাদের কর্মসূচি ঠিক করবে। এরজন্য কোনো উপদেশের দরকার নাই। তারা এগুলা নিজেরাই জানে।

বার্নিক্যাটের এক ধমকে সংসদে বিদ্যুৎ বিভ্রাট!

সংসদ ভবনের ইতিহাসে ইলেক্ট্রিসিটি ফেইলিউরের কারনে কখনও সংসদ অধিবেশন বন্ধ হওয়ার নজির নাই। কিন্তু আজ হয়েছে! আর সেটা মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বানিক্যটের এক ধমকে হয়েছে। খবর গোয়েন্দা সুত্রের।
 
জান গেছে, আজকের সন্ধ্যায় সংসদের অধিবেশনের ইভিএমসহ আরপিও সংশোধনীর মারাত্মক কিছু সংশোধনী পাশ করার কথা ছিল। কিন্তু এ খবর যুক্তরাষ্ট্রের কানে চলে যায়। আর তাই রাষ্ট্রদূত বার্নিক্যাট জরুরী ছুটে যান হাসিনার কাছে। কথা ছিল সংসদে বৈঠক হবে। কিন্তু বৈঠকটি হয় গণভবনে। রাষ্ট্রদূত বার্নিক্যাট ঐরূপ কোনো সংশোধনী আনতে সংসদনেতাকে নিষেধ করেন। এমনকি এনিয়ে হুমকিও দেন। অবশেষে হাসিনা বাধ্য হন অধিবেশন থামাতে। উপায়ান্তর না দেখে তড়িঘড়ি করে সংসদের বিদ্যুৎলাইন বন্ধ করে দিয়ে প্রচার করা হয়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারনে সংসদ অধিবেশন বন্ধ।
 
নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে সংসদ অধিবেশন চলার পনের মিনিট যেতেই হঠাৎ বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয়া হয়। সেই অবস্থাতেই অধিবেশন শুরু হয়। পরে বিদ্যুৎ থাকলেও সংসদে লাইন কাজ করছিল না। বলা হয়, লাইন দিলেই কেটে যাচ্ছিল! এরপর ঘণ্টা খানেক অধিবেশন চালিয়ে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া সংসদের সব কাজ স্থগিত করে বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত বৈঠক মুলতবি করেন। বিদ্যুৎ না থাকায় সংসদের বেশিরভাগ রুম অন্ধকারে ছেয়ে যায়। সংসদের চিফ হুইপ ও ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ের কয়েকটি রুম ঘুরে দেখা গেছে তারা মোবাইলের লাইন দিয়ে জরুরি কাজ করছেন। সন্ধ্যা ৭টায়ও সংসদের বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হয়নি বলে জানা গেছে। যদিও সংসদের বিরাট বড় জেনারেটর রয়েছে!
 

রহস্যজনক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে দায়িত্বশীলরা একেকজন একেক কথা বলেছেন। এ বিষয়ে পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘আমাদের সংসদ চলে মেঘনা ঘাটের ৪০০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎগ্রিডের মাধ্যমে। কিন্তু সেখানে কারিগরি সমস্যা দেখা দেয়ায় সংসদের বিদ্যুৎ বন্ধ রয়েছে। এজন্য সংসদের অধিবেশন মুলতবি করা হয়েছে।’অথচ সংসদের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তা আসলেও সংসদের লাইন দেয়া যাচ্ছিল না। বার বার কেটে যাচ্ছিল। এজন্য এখন আর লাইন দেয়ার সাহস পাচ্ছেন না কর্মকর্তারা। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে লাইন দেয়া হবে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ জানতে চাইলে সংসদ ভবনসহ রাজধানীর একাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারি সরকারি সংস্থা ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান জানান, খবর শুনে তিনি সংসদ ভবন এলাকায় যাচ্ছেন। কি কারণে বিভ্রাট হয়েছে তা এখন তিনি বলতে পারছেন না।

নজিরবিহীন ঘটনা।

শেষ কথা বলে কিছু নেই পল্টি বাবার: পরিস্থিতি বুঝে হঠাৎই ভোট পাল্টে যোগ দিতে পারেন ঐক্যজোটে!

দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনের প্রথম কার্যদিবস শেষে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নামাজের বিরতির পর প্রায় ঘণ্টাব্যাপি এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ঠিক কি বিষয়ে নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে মুখ খুলছে না কেউ। তবে জাতীয় পার্টি সূত্রে জানা যায়, আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনকালীন সরকারে জাপার কাকে কাকে রাখা যায় সেসব বিষয়ও আলোচনা হয়েছে।

ঐক্যের পথে ২০ দলীয় জোটের বড় অগ্রগতি: যেকোনো মূল্যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের সিদ্ধান্ত!

যেকোনো মূল্যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনে প্রস্তুত ২০ দলীয় জোট। টানা একযুগ ধরে রাজপথে থাকা বিরোধী এই জোট আজকের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়। সন্ধ্যায় শুরু হওয়া ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক আজ রাত সোয়া আটটায় শেষ হয়। এর আগে রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠকটি শুরু হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলের সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম খান।

বৈঠক শেষে ব্রিফিং করে ২০ দলের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সব গণতন্ত্রকামী দল ও সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গঠনে একমত হয়েছে ২০ দল। এসময় জামায়াতে ইসলামীসহ ২০ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশ, গণতন্ত্র, মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনের বিষয়ে সম্মত ২০ দল। তিনি বলেন, ২০ দল সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনে সম্মত হয়েছে। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে জাতীয় ঐক্যের যে কথা বলেছেন তাতেও সমর্থন জানিয়েছে।

বৈঠকের পর শীর্ষনিউজের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি বাংলাদেশ ন্যাপ এর মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া জানান, বৈঠকে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে ২০ দলের পক্ষ থেকে ঐক্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বিএনপি অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও তাঁর মুক্তির দাবিতে ২০ দলীয় জোট মাঠে থাকবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

জোটের শরীক জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ( অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্তাজা, বাংলাদেশ ন্যাপ এর মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, মুসলিম লীগের সভাপতি এএইচ এম কামরুজ্জামান, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, লেবার পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের, জাগপার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, মহাসচিব খন্দকার লুৎফর রহমান, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমদ, পিপলস লীগের মহাসচিব সৈয়দ মাহবুব হোসেন, ডেমোক্রটিক লীগের মহাসচিব সাইফুদ্দিন মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

/শীর্ষনিউজ

ইভিএম নয়, ব্যালট পেপারে ভোটের সুপারিশ যুক্তরাষ্ট্রে

ইলেক্ট্রনিক নয়, ব্যালট পেপারে ভোটের সুপারিশ যুক্তরাষ্ট্রে

ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে ইন্টারনেটভিত্তিক প্রযুক্তি নিরাপদ, সুরক্ষিত ও নির্ভরশীল নয়। এর পরিবর্তে কাগজের ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণ অধিকমাত্রায় নিরাপদ। তাই সব রকমের নির্বাচনে ব্যালট পেপার ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমিস অব সায়েন্সেস, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেডিসিনস।

এ প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ প্যানেল যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় সততা নিশ্চিত করতে মৌলিক সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে। বলা হয়েছে, এ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রয়েছে মান্ধাতা আমলের প্রযুক্তির ব্যবহার। তা ছাড়া বিদেশীরা নির্বাচনী যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। ওই সংস্থাটি এ রিপোর্ট প্রকাশ করে ৬ই সেপ্টেম্বর। এতে ২০২০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সব কেন্দ্রীয়, রাজ্যের ও স্থানীয় নির্বাচন ব্যালট পেপারে করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে তাতে কি পরিমাণ খরচ হবে তা ওই প্যানেল উল্লেখ করে নি।

নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ব্রেনান সেন্টারের হিসাব মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পুরনো ভোটিং মেশিন পরিবর্তন করতে গেলে তাতে ১০০ কোটি ডলারের বেশি খরচ হতে পারে। প্যানেলের কো-চেয়ার ও কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট লি বোলিঙ্গার বৃহস্পতিবার রিপোর্ট প্রকাশ করে বলেছেন, বিদেশীরা ভবিষ্যত নির্বাচনগুলোতে ব্যতিক্রমী হুমকি হতে পারে।

এ বিষয়টি আমাদেরকে পরে যাচাই করে দেখতেই হবে। আবার তা গুরুতরভাবে যাচাই করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলোকে নিরাপদ রাখতে ভূমিকা রাখতে হবে।

‘সিকিউরিং দ্য ভোট: প্রোটেকটিং আমেরিকান ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক ১৫৬ পৃষ্ঠার রিপোর্টে ভোট গ্রহণে অনিরাপদ যন্ত্রপাতি ও সফটওয়ার ব্যবহার নিয়ে আক্ষেপ করা হয়। বলা হয়, এসব যন্ত্রপাতি ও সফটওয়ার এক দশকেরও আগে ভলনারেবল বা কাজে ব্যবহারের অনুপযোগী বলে প্রকাশ পেয়েছে।

তারপরও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সামান্য প্রশিক্ষণ আছে এমন কর্মকর্তারা তা ব্যবহার করেন। নির্বাচনী নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা যেসব মত প্রকাশ করেছেন তার প্রতিফলন ঘটেছে এই রিপোর্টের মূল সুপারিশগুলোতে। এসব বিষয়ে অনেক রাজ্য ও কংগ্রেসে রিপাবলিকান নেতারা আপত্তি জানিয়েছে। এ বিষয়ে জুনে প্রস্তাব তুলেছিলেন অরিগন রাজ্যের রন ওয়েডেন এবং ডেমোক্রেট দলের অন্য চারজন সিনেটর।

ওই রিপোর্টের প্যানেল বলেছে, তারা একবারের জন্য ব্যালটে ভোট নেয়ার কথা বলছেন না। তারা বছরে পর বছর ব্যালটে ভোট নেয়ার দাবি জানান। এক্ষেত্রে কংগ্রেস থেকে নিয়মিত অর্থায়ণ করতে হবে। রিপোর্টে যেসব মূল সুপারিশ করা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম- ২০২০ সাল নাগাদ সব নির্বাচনে মানুষ পড়তে পারে এমন কাগজের ব্যালটে ভোট গ্রহণ করতে হবে। এ পদ্ধতিতে ভোটার নিশ্চিত হতে পারবেন যে তার ভোটটি যথাযথভাবে রেকর্ড করা হয়েছে।

২০১৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পাঁচজন ভোটারের মধ্যে একজন ইলেক্ট্রনিক মেশিনে ভোট দেন। তবে নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কোনো কোনো রাজ্যে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি যারা তৈরি করেছেন তাদের একজন হচ্ছেন কম্পিউটার বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু অ্যাপেল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্যগুলোর প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এখন দেশের বেশিরভাগ নাগরিক ব্যালটের মাধ্যমেই ভোট দিচ্ছে। তাই যদি কম্পিউটার প্রতারণা করেও থাকে তাহলে আমরা সেটা বুঝতে পারব। তবে আমাদের করার মত আরো অনেক কিছু রয়েছে।

এ বছর নির্বাচনে নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের অনুমতি দিয়েছে কংগ্রেস। কিন্তু সেখানে উল্লেখ করা হয়নি, ঠিক কিভাবে এ অর্থ ব্যয় করতে হবে কিংবা নির্দিষ্ট কোন খাতে উন্নয়ন করতে হবে। মূলত বহিঃশত্র“ কর্তৃক নির্বাচন প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই এ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে রাজ্যগুলোকে বলা হয়েছে, ভোটারদের তথ্য হালনাগাদের যে পদ্ধতি তাতে কোনো অনিয়ম চোখে পরলে তা দ্রুততার সঙ্গে ফেডারেল সরকারকে অবহিত করতে হবে। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রায় ৫ লাখ ভোটারের তথ্য রাশিয়ার গোয়েন্দারা হস্তগত করেছিল বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল কাউন্সিল।

/জাস্ট নিউজ

সরকার-বিরোধী হাওয়া ঘোরাতে হঠাৎ অন্তর্ঘাত হামলা ঘটাতে পারে ক্ষমতাসীনরা!

।।বিশেষ প্রতিবেদক।।

ক্ষমতার শেষ সময়ে এসে শেখ হাসিনার সরকারের সামনে গভীর অন্ধকার। যতই চেষ্টা করছে না কেনো, চারিদিক থেকে ধেয়ে আসছে বিপদ। বিশ্বশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে শুরু করে চীন সকলেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র চায়- চায় অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন। আর তেমন নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ সংখ্যালঘু বিরোধী দলে পরিণত হবে, প্রকাশ করেছে ভারতয়ি কূটনীতিকরা। যদিও আসন্ন সাধারন নির্বাচনের ফলাফল কেটেকুটে নিয়ে যাওয়ার জন্য সকল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহন করেছে বর্তমান সরকার, তদুপরি তারা নিশ্চিত হতে পারছে না শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হবে কি না।

অন্যদিকে সুষ্ঠু নির্বাচন আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে দেশের সকল বিরোধীদল একজোট হয়ে মাঠে নামা এখন সময়ে ব্যাপার মাত্র। সেক্ষেত্রে সরকারের পতনও ঘটবে, সুষ্ঠু নির্বাচনও হবে। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ভরসা ভারতও আর ২০১৪ সালের মত এগিয়ে আসছে না। ফলে এ অবস্থা চলতে থাকলে আ’লীগের ক্ষমতায় থাকা বা ক্ষমতায় ফেরত আসা তো দূরের কথা, দলের অস্তিত্ব থাকবে কি না সন্দেহ। সরকারের প্রভাবশালীরা ভয়ে আতঙ্কে নিজেরাই বলে যাচ্ছেন- ক্ষমতা হারালে ৫ লাখ আ’লীগ কর্মীর লাশ পড়বে! কেউ আবার টাকা পয়সা নিয়ে পালানোর জন্য তৈরি থাকতে বলছেন।

এমতাবস্থায়, সরকার-বিরোধী হাওয়ার দিক ঘোরাতে আ’লীগ সরকার দেশ জুড়ে অস্থিরতা ও জরুরী অবস্থা সৃষ্টি করতে তাদের পুরোনো পথে হাটতে পারে- ঘটাতে পারে ভয়াবহ অন্তর্ঘাত হামলা।  সাজানো এক বা একাধিক জঙ্গি হামলা হতে পারে কোনো শপিং মল বা ক্রাউডেড প্লেসে। এতে নিহত হতে পারে শত শত মানুষ। এরকম ভয়াবহ হামলা হলে দেশের চলমান সরকার বিরোধী মনোভাব থেকে মানুষের দৃষ্টি সহজেই ঘুরিয়ে দিতে পারবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। সেই সাথে হামলার ইস্যু ব্যবহার করে বিরোধীদের ব্যাপক হারে ধরপাকড় ও ভীতি সঞ্চারও করা যাবে। এহেন অবস্খায় অন্তর্ঘাত হামলা ঠেকাতে জনসাধারনের সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।

তাছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্রাকডাউন শুরু করতে পারে সরকার। বিরোধী দলের জনপ্রিয় নেতা ও প্রার্থীকে হত্যা করতে পারে  বিরোধী দলের নেতাকর্মী পাইকারী হারে ধরপাকড় করে জনসাধারনকে ভয়ভীতি ও ত্রাসের মধ্যে রেখে নির্বাচন কব্জা করার চেষ্টা করতে পারে। এসব ব্যবস্থাদি গ্রহন করেও সরকার যদি অবস্থা অনুকূলে আনতে ব্যর্থ হয়, তবে অন্তর্ঘাত ও অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্লা অবনতির অযুহাত দেখিয়ে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে পারে। জরুরী অবস্থা জারী করে সেনাবাহিনীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিরাপদ প্রস্থানের কথাও ভাবছে সরকার।

ভারতের সমর্থন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত!

পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী, ভারতের সাবেক কূটনীতিক, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ২০০৭ সালে এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কালে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার ছিলেন। বর্তমানে তিনি ভারতের বেসরকারি থিঙ্কট্যাঙ্ক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ফেলো হিসেবে সক্রিয়। বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারতের নীতিনির্ধারকরা যা ভাবেন, অবস্থান নেন এমন সবার সাথে, অন্য সব কূটনীতিকের চেয়ে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও আস্থার সাথে সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তিত্ব তিনি। এর সম্ভাব্য কারণ, ২০০৭-০৯ সময়পরিধিতে তার বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনারের দায়িত্বে থাকা। না এটা যথেষ্টভাবে বলা হলো না। সে প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে কিছু কথা বলা দরকার। বাংলাদেশ যে পিনাক রঞ্জনকে চিনত তা থেকে ভিন্ন, আনলাইক এক পিনাক রঞ্জনের এক প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে গত ৫ সেপ্টেম্বর ‘সাউথ এশিয়ান মনিটর’ পত্রিকায়। সে প্রবন্ধের ভাষ্যে শেখ হাসিনা সরকারের ওপর থেকে ভারতের সমর্থন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত হিসেবে পাঠ করার সুযোগ আছে।

এক-এগারোর সরকারের ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে এবং পরিণতিতে, আমেরিকা যদি বাংলাদেশকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করে দিয়ে থাকে; তবে ভারতের দিক থেকে এতে এক নম্বর পরামর্শদাতা ও বাস্তবে রূপদানকারী ব্যক্তি কাকা বাবু প্রণব মুখার্জি। আর এ কাজের মাঠের বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী।

উইকিলিকস ফাইল থেকে জানা যায়, এক-এগারোর টেকওভার এবং এর লক্ষ্য অনুযায়ী সাধিত কাজ শেষে এরপর এর এক্সিট রুট কী হবে, মানে কাকে ক্ষমতা দিয়ে তারা কেটে পড়বে, এটা নিয়ে শত প্রশ্ন ও অনুরোধ সত্ত্বেও ক্ষমতা দখলকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বিউটিনিসের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর জানতে পারেনি। উপায়ন্তরহীন সেই পরিস্থিতিতে অবস্থা দেখে মনে হয়, এ ব্যাপারে ক্ষমতা দখলকারীরা একটা নিজস্ব আবছা সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিল। তা হলো, লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ হওয়া শেষে তারা নিজেরাই এরশাদের মতো কোনো দল গঠন করে নেবে। কিন্তু ছয় মাসের মধ্যে, অর্থাৎ ২০০৭ সালের জুনের পর থেকে অক্টোবরের মধ্যে এটা স্পষ্ট হতে থাকে যে, আমেরিকা এ অঞ্চলের ‘টেররিজমের বিরুদ্ধে পাহারাদারের’ ঠিকা ভারতকে দিচ্ছে। ‘ভারতের চোখ দিয়ে আমেরিকা তার নিরাপত্তা স্বার্থ’ বুঝে নেবে। তাই মনে করা হয়, এরই নিট ফলাফলে বাংলাদেশ ভারতের ইচ্ছাধীনে চলে যায়। এর অন্য আরেকটি দিক ছিল আমেরিকা ওয়ার অন টেররের নামে পদক্ষেপের আড়ালে ভারতকে অন বোর্ড করে নিয়েছিল। যার মানে হলো, এটাই আমেরিকান স্বার্থে ‘চীন ঠেকাও’ বা ‘চায়না কনটেনমেন্টের’ কাজটি ভারতকে দিয়ে করিয়ে নিতে আমেরিকা তাকে রাজি করিয়ে নেয়। বিনিময়ে এরই রাজভেট হলো, আমেরিকার বাংলাদেশকে হস্তান্তর, ভারতের করিডোর লাভ ইত্যাদি।

কিন্তু বিউটেনিস নিজেদের এই সিদ্ধান্তের পক্ষে মইন-ফখরুদ্দীন ও তার সঙ্গীদের রাজি করাতে পারছিল না। তারা শেখ হাসিনার বিনা জামিনে দেশত্যাগ ও তাকে ক্ষমতায় আনা ইত্যাদিতে রাজি হচ্ছিল না। এ সময় পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী কিছু নির্ধারক কাজ করে তাতে মইন ও তার সঙ্গীদের বাধ্য হয়ে রাজি করাতে সক্ষম হয়েছিলেন। এরপর শেখ হাসিনার ক্ষমতায় আগমনের পরে ২০০৯ সালে পিনাক রঞ্জন তার ‘সফল’ অ্যাসাইনমেন্ট শেষে দেশে ফিরেছিলেন।

পিনাকের এই লেখার শিরোনাম পিনাকের মতো নয়। যেমন বাংলায় শিরোনামটি হলো- ‘বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারতের ছায়া, হাসিনা সরকারের দুর্নীতি, বিএনপিকে দমন।’ ইংরাজিতে, “Shadow of India, Hasina governmentÕs corruption, repression of BNP looms over Bangladesh polls.
এটি বেশ তামাশার যে ‘বিএনপির ওপর নিপীড়ন হচ্ছে’ আর এ কথা ভারতের সাবেক এক রাষ্ট্রদূত তার লেখার শিরোনাম করেছে। তবে এর চেয়েও আরো বিস্ময়কর হলো, শব্দ বাছাইয়ে পরিবর্তন। বাংলাদেশে দুর্নীতি হচ্ছে কি না, শেখ হাসিনা সরকার সেই দুর্নীতি করছে কি না- এটি গত দশ বছরে ভারত বা পিনাক রঞ্জনের ভাষায় উঠে আসেনি। এটি মূলত আমেরিকান ভাষা। পিনাক রঞ্জনের লেখায় যেসব বিস্ময়কর প্রসঙ্গ উঠে এসেছে তার একটি তালিকা আমরা দেখে নেই।

এক. তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন : পিনাক রঞ্জন আওয়ামী লীগকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের জন্য সরাসরি অভিযুক্ত করেছে। লিখছে, ‘আওয়ামী লীগের তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পদক্ষেপকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং এর মাধ্যমে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের নীলনকশা হিসেবে দেখা হয়েছে। অথচ নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে, এই আওয়ামী লীগই নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার বিক্ষোভ করেছিল। এর জের ধরে বিএনপি সরকার সংবিধানে বিধিটি অন্তর্ভুক্ত করেছিল। সেনাসমর্থিত কেয়ারটেকার সরকার আয়োজিত ২০০৮ সালের নির্বাচনে পার্লামেন্টে তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করার পর ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে থাকা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাটি বাতিল করে।’

দুই. কোটা আন্দোলন ও যানবাহন ইস্যুতে ছাত্রদের আন্দোলন সামলাতে ব্যর্থতা ও হার্ডলাইনে যাওয়া : এটি সত্যিই বিস্ময়কর যে, পিনাক রঞ্জনের মতো ভারতের কোনো কূটনীতিক হাসিনাকে ‘হার্ডলাইনে দমন করা’ আর কাজ সামলাতে ‘ব্যর্থতার’ জন্য আঙুল তুলছে। কিছুটা আমেরিকান বা পশ্চিমা কূটনীতিকের আদলে মানবাধিকারের কথা ব্যাকগ্রাউন্ডে মনে রেখে তারা যেভাবে কথা বলেন, যা বলাই বাহুল্য ‘পিনাকসুলভ নয়’ তা না হয়েও তিনি লিখেছেন- ‘সরকারি চাকরির কোটার মতো ঘরোয়া ইস্যু এবং ঢাকার অবাধ্য ও বিশৃঙ্খল যানবাহন নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ওঠা আন্দোলন অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ক্ষমতা রাখে। বিভিন্ন ইস্যুতে হাসিনা সরকারের ছন্দপতন ঘটেছে, যথাযথভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেনি। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো, ঢাকার অবাধ্য যানবাহন চালকদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। এসব চালক দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের কাছ থেকে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে থাকে। দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ফলে দেশব্যাপী ছাত্রদের ক্রোধ উসকে দেয়া এবং এ ইস্যুতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নস্যাতের অভিযোগে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এক ফটোগ্রাফারকে গ্রেফতার ছিল বেপরোয়া সিদ্ধান্ত। এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি করে, কিন্তু শেখ হাসিনা কোনো ধরনের নমনীয়তা প্রদর্শন করেননি।’

এমনকি ‘আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এক ফটোগ্রাফারকে গ্রেফতার’ বলে শহিদুল আলমের কথা তিনি উল্লেখ করে লিখেছেন- ‘এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি করে’।
মজার ব্যাপার হলো গত দশ বছরে ভারতের কোনো কূটনীতিক, কলামিস্ট, মিডিয়া রিপোর্ট কেউ শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে কোনো গুম-খুন, পায়ে গুলি করে দেয়া ইত্যাদিতে বা ‘হার্ডলাইনে দমন করা’ আর কাজ সামলাতে ‘ব্যর্থতার’ জন্য আঙুল তুলছে আমরা এমন দেখিনি।

তিন. স্বৈরতান্ত্রিক শাসন, বিরোধী দলকে দলন ও ব্যাপক দুর্নীতি : নিজ চোখে দেখলেও এটি বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে, শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ভারতীয় কূটনীতিক পিনাক রঞ্জন ‘স্বৈরতান্ত্রিক শাসন, বিরোধী দলকে দলন ও ব্যাপক দুর্নীতির’ অভিযোগ আনছেন। কারণ, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে হাসিনা সরকারকে ক্ষমতায় আনার এক মাঠের কুশীলব তিনি নিজেই। তিনি লিখেছেন- হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন, বিরোধী দলকে দলন ও ব্যাপক দুর্নীতি। নির্বাচনী প্রচারণায় এসব ইস্যু ও ভারত ফ্যাক্টর প্রাধান্য পাবে। রাজনৈতিক বিরোধীদের অব্যাহতভাবে হয়রানি করার ফলে জনগণের বিভিন্ন অংশের মধ্যে নীরব ক্ষোভ বেড়েই চলেছে এবং ব্যাপকভাবে এ ধারণার সৃষ্টি করেছে যে, আওয়ামী লীগ সরকার পরিকল্পিতভাবে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করছে। ক্রমেই এমন অভিমত জোরালো হচ্ছে, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হলে আওয়ামী লীগ আগামী সংসদ নির্বাচনে লজ্জাজনক সংখ্যালঘুতে পরিণত হবে। অনেক সমালোচক বিশ্বাস করেন, হাসিনা সরকার নির্বাচন ‘ম্যানেজ’ করবে। দক্ষিণ এশিয়ায় একে বলা হয় ‘নির্বাচনী জালিয়াতি’।

চার. মাদকবিরোধী অভিযান আসলে ‘গুলি করে হত্যার’ নীতি : কূটনীতিক পিনাক রঞ্জন কি পরিচয় বদলে ‘মানবাধিকার অ্যাক্টিভিস্ট’ হয়ে যাচ্ছেন? তিনি লিখেছেন- মাদকের বিরুদ্ধে কথিত জাতীয় অভিযানটি ‘গুলি করে হত্যার’ নীতিতে পর্যবশিত হয় বলে মানবাধিকার অ্যাক্টিভিস্টরা জানিয়েছেন। এতে অনেক নিরপরাধ মারা যায়।

পাঁচ. সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ও আওয়ামী লীগের হিন্দু দলন ইস্যু : ভারতের কোনো সাবেক হাইকমিশনার শেখ হাসিনা ও তার দলকে ‘হিন্দু সংখ্যালঘুদের দলন, হয়রানি ও বৈষম্য করছে’ বলে অভিযোগ করছে; এটি এর আগে চিন্তাও করা যায়নি। এটাই কি হাত ছেড়ে দেয়ার চূড়ান্ত ইঙ্গিত? সবাইকে অবাক করে পিনাক রঞ্জন এই অভিযোগ তুলে বলেছেন, ‘হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য সুপ্রিম কোর্টের সাবেক এক প্রধান বিচারপতি সরকারের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পদত্যাগ করতে ও বিদেশে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন। সাধারণভাবে আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থনসূচক থাকা হিন্দু সংখ্যালঘুরাও ক্ষুব্ধ। কারণ, আওয়ামী লীগ নেতারা দায়মুক্তির সাথে হিন্দু সম্পত্তি জবরদখল করেছে। আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, আওয়ামী লীগকে সমর্থন করা ছাড়া ভারতের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই এবং হিন্দু সংখ্যালঘুদের হয়রানি ও বৈষম্য করা হলেও কিছু বলবে না।’

ছয়. বিএনপির প্রতি সহানুভূতি : পিনাক রঞ্জনের দু-দুটি প্যারাগ্রাফ ধরে বিএনপির প্রতি সহানুভূতিমূলক ভাষায়, ‘তারা হাসিনা সরকারের হাতে নির্যাতিত’ এ পটভূমি তৈরি করে লিখেছেন, ‘তবে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে বিএনপি।’ অর্থাৎ বিএনপির সম্ভাব্য আন্দোলনের প্রতিও তার সহানুভূতির ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। তিনি পরের প্যারাগ্রাফে আরো লিখেছেন, ‘কয়েক দিনের মধ্যেই আদালত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান উভয়কেই মৃত্যুদণ্ড দেয়া হতে পারে। তা ঘটলে বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবেই ব্যাপক বিক্ষোভে ফেটে পড়বে।’
এখানে পাঠককে একটু সাবধান করার আছে যে, এখনই কোনো ‘সরল’ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কিছু নেই। ওয়েট অ্যান্ড সি। পিনাক রঞ্জনের ভাষা ও বক্তব্যে সত্যিই কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে কি না বিচার্য বিষয়, এতটুকুতেই আপাতত থাকা ভালো।

সাত. আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির ভেতরে কথিত ভাঙনের গুজব ছড়ানোর দায় আনা : পিনাক রঞ্জন বেশ খোলাখুলিই লিখেছেন, ‘বিএনপির প্রবীণ নেতারা তারেককে অপছন্দ করেন। তারা নেতা হিসেবে খালেদাকেই অগ্রাধিকার দেবেন। বিএনপির মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা রয়েছে, এমন গুঞ্জনও রয়েছে যে ভাঙনের মাধ্যমে নতুন দলের আবির্ভাব ঘটতে পারে। সম্ভাব্য ভাঙনে আওয়ামী লীগের হাত আছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।’
তবে লক্ষণীয় বিষয় বিএনপি নিয়ে এত কথা তিনি লিখেছেন অথচ ২০০১-০৬ সালের বিএনপি সরকারের কোনো কাজ বা পদক্ষেপের সমালোচনা নেই। এমনকি, দশ ট্রাক অস্ত্র অথবা কথিত জঙ্গি বা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদদ দেয়ার কোনো অভিযোগও তিনি তোলেননি। এটি কোনো ভারতের কূটনীতিক ও সাবেক হাইকমিশনারের জন্য চরম ব্যতিক্রম। বিশেষ করে ঠোঁট কাটা অকূটনীতিকসুলভ মন্তব্যের জন্য যেই পিনাক রঞ্জন খারাপভাবে খ্যাত।

আট. নির্বাচন কমিশন ও বিচার বিভাগকে অধস্তন করে রাখার অভিযোগ : এ অভিযোগ তুলেছিল মূলত বিএনপি। কিন্তু পিনাক রঞ্জন সেই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে সামনে এনেছেন। তবে অবশ্যই ‘নির্বাচন কমিশন ও বিচার বিভাগকে অধস্তন করে রাখার’ এই অভিযোগ খুবই মারাত্মক। তিনি লিখেছেন, ‘বিএনপির নির্বাচনী প্ল্যাটফর্মের মধ্যে রয়েছে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের দাবি। দলটি অভিযোগ করছে, আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন কমিশন ও বিচার বিভাগকে অধস্তন করে রেখেছে।’

পিনাক রঞ্জনের লেখায় মূল অভিযোগ মূলত এগুলোই। তবে কামাল হোসেনের যুক্তফ্রন্টকে নিয়ে হাসিনার বিদ্রুপ মন্তব্যেরও পিনাক সমালোচনা করেছেন। এ ছাড়া ‘ভারত ফ্যাক্টর’ বলে একটি শব্দ তিনি ব্যবহার করেছেন। ব্যাপারটি অনেকটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রায় সব কিছুতেই ভারতের দাদাগিরি ও হস্তক্ষেপ আর নিজের একক স্বার্থে সব নিয়ে যাওয়া এসব কিছুকে ইঙ্গিত দিয়ে বুঝাতে চেয়েছেন, আর তা করেছেন অনেকটা ক্ষমা চেয়ে নেয়ার ভঙ্গিতে। যেমন নিজে থেকেই প্রসঙ্গ তুলে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে বিএনপির হাসিনাকে ভারতের প্রতি অতিরিক্ত নতজানু দেখানোর সম্ভাবনা থাকায় ভারত ফ্যাক্টর হবে বিপুল। প্রধান সমালোচনা হবে, হাসিনা ভারতকে খুব বেশি ছাড় দিয়েছেন, কিন্তু বিনিময়ে পেয়েছেন অতি সামান্য। আবার ভারতের পানি না দেয়া ইস্যু নিজেই তুলে বলছেন, ‘নদীর পানিবণ্টন এখনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেলেও তা কাটিয়ে ওঠা যাবে না এমন নয়।’ এ ছাড়া, আসাম নাগরিকত্ব ইস্যুতে প্রস্তাবের সুরে বলেছেন, ‘…দীর্ঘ দিন ঝুলে থাকা অবৈধ অভিবাসী ইস্যুটি বাংলাদেশকে অব্যাহতভাবে উদ্বিগ্ন করবে। বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এনআরসি থেকে সৃষ্ট অনিবার্য প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।’

সোজা কথায় রাখঢাক না করে বললে ব্যাপারটা হলো, গত ১০ বছরে ভারতের যত রুস্তমি, প্রভাব বিস্তার, বর্ডার কিলিং থেকে শুরু করে তার যা দরকার তা উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া, ভারতের স্বার্থ আগে ইত্যাদিতে বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষ যে চরমভাবে ক্ষুব্ধ, সে সম্পর্কে পিনাক রঞ্জন সচেতন। তিনি ইঙ্গিতে যা বলতে চাইছেন, তা যদি আমরা বুঝে থাকি তা সম্ভবত এমন যে, তিনি বলতে চাইছেন, সম্ভাব্য নতুন সরকার এলে সব ভুলে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে যাত্রা করা যেতে পারে।
বলা বাহুল্য, মি. পিনাক রঞ্জন আসলে অনেক ফাস্ট। তাই দ্রুত অনেক আগে চলে গেছেন আর খুবই সরল ভাষ্য হাজির করেছেন। বাংলাদেশে গুম হওয়া কোনো মানুষ ভারতের মাটিতে পাওয়া যাওয়া কি এতই সরল! তাই পিনাক রঞ্জন খুব গভীর সচেতন তা বলতে পারছি না। তাকে অনেক গভীরে চিন্তা করতে হবে আর স্বভাবতই অনেক কাঠখড়ও পুড়বে।

সবশেষে পিনাকের শেষ প্যারাগ্রাফের চারটি বাক্য সম্পর্কে : বাংলাদেশে চীন গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করুক এর বিরুদ্ধে ভারতের আপত্তি ঈর্ষামূলক ও ক্ষতিকর তা কি ভারত বুঝেছে? আমরা কোথাও এমন কিছু দেখিনি। ফলে তার প্রথম বাক্য- ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পূর্ণ বিকশিত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে এবং পরিকাঠামোর আরো একীভূতকরণ, সীমান্ত বাণিজ্য কেন্দ্র আরো আধুনিকায়ন, মোটরযান চুক্তি ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ভবিষ্যতে আরো জোরালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই আশার কোনো ভিত্তি নেই। খামাখা ইউজলেস।

দ্বিতীয় বাক্য : ‘ঢাকায় যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, ভারত তার সাথে কাজ করবে।’ এই বাক্য থেকে আমরা হাসিনা সরকার দুর্বল অবস্থায় আছে, তাই সম্ভবত তিনি বুঝতে চাইছেন। কিন্তু ২০১৩ সালে পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের সফর, তার মাতব্বরির মিল খুঁজে পাই না। তিনি বলেছিলেন, যারা নির্বাচনে আসবে তাদের নিয়েই নির্বাচন হবে আর এরশাদ যেন বিরোধী দলের জায়গা পূরণ করে। সেটি তাহলে কেন বলেছিলেন?

তৃতীয় বাক্য : ‘তাই বলে কোনো হাসিনাবিরোধীকে ভারত বিকল্প মনে করছে, এমন কিছু ভাবা হবে কষ্টকর কল্পনা।’ বোঝা গেল এটা পিনাকের ‘সংবিধি সতর্ককরণ’ যে ভারত বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চাচ্ছে ব্যাপারটা তা না। নো প্রবলেম।

চতুর্থ ও শেষ বাক্য : ‘অবশ্য, হাসিনার স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা ও তার প্রতি ভারতের সমর্থন অনিবার্য মনে করা ভারতের স্বার্থের অনুকূল নয়, ভারতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ক্রমেই এমন অনুভূতিও জোরালো হচ্ছে।’
‘ভারতের স্বার্থের অনুকূল নয়’- আসলে এটাই হলো ঘুরিয়ে বলা যে কাজ ফুরিয়েছে, শেখ হাসিনা ক্রমেই লায়াবিলিটি বলে অনুভূত হচ্ছেন আমাদের কাছে।

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]
/নয়া দিগন্ত

1 3 4 5 6 7 26