শোডাউন, হুঁশিয়ারি!

ঢাকার রাজনীতি নিয়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা দ্বিধাবিভক্ত: প্রভাবশালী অংশ আ’লীগের সাথে নাই

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে টেনশেনের পারদ তত বাড়ছে। ইতোমধ্যে ঢাকার রাজনীতি নিয়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গেছে। আর এর প্রভাবশালী অংশটি আ’লীগের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই মর্মে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রে।
 
গত দু’সপ্তাহের মধ্যে দুটি জরিপের রিপোর্ট কেন্দ্রে পাঠিয়েছে সংস্থাটির ঢাকা ব্যুরো। এর মধ্যে একটি রিপোর্ট বলছে, নির্বাচন হলে আ’লীগ এবং তাদের জোট সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫৩টি আসন পেতে পারে। অপর একটি রিপোর্ট বলছে, ৩৩টি আসন পেতে পারে। একটি রিপোর্টের সংক্ষিপ্তসার আমাদের হাতে রয়েছে।
 
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভারতের যেমন টেনশন ছিল চুড়ান্ত, এবং আ’লীগকে দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আনতে যে ধরনের সরাসরি উদ্যোগ ছিল, এবারে আর তেমনটা নাই। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে ভারতের দীর্ঘকালের মিত্র আওয়ামীলীগ ভারতকে ডিঙিয়ে চীনের মুখাপেক্ষী হয়েছে।
 
আর সবকিছু দেখে শুনে দিল্লি বিকল্প পথ ধরে হাটছে। এমনি অবস্থার মধ্যে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিকে সাথে নিয়ে গঠিত হয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। সম্প্রতি বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামীর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে ঐক্যফ্রন্ট প্রতিষ্ঠায় একটি মস্তবড় সুবিধা তৈরি করে দেয়ার ঘটনার সাথে সরাসরি যুক্ত ছিল ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাটি।
 
তাছাড়া গতকালই ঐক্যফ্রন্টে সদলবলে যোগ দিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের খাস লোক মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম। এতে করে সকলের মনে ধারণা জন্মেছে ঐক্যজোটের প্রতি দিল্লির সমর্থন রয়েছে, এবং বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল ঘটছে।

সরকার ও সরকারী দলের নেতিবাচক খবর প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী: ডিজিএফআই দিয়ে মিডিয়ার ওপর চাপ

বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্র পত্রিকা এবং টেলিভিশনগুলোতে সরকারের কড়া সেন্সরশীপ জারী করা হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান সরকার ও সরকারী দলের কোনো নেগেটিভ সংবাদ প্রকাশের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে।

গত সপ্তাহের মাঝামাঝি সরকারপন্থী পত্রিকা বাংলাদেশ প্রতিদিনের অফিসে হঠাৎ উপস্থিত হন ডিজিএফআইয়ের মিডিয়া ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান এক কর্নেল। পত্রিকার সম্পাদককে খুঁজতে থাকেন। সম্পাদক নঈম নিজাম সে সময় অফিসের বাইরে ছিলেন। উপস্থিত বার্তা সম্পাদককে কর্নেল বলেন, এখন থেকে বর্তমান সরকার বা সরকারী দলের কোনো নেতিবাচক খবর পরিবেশন করা যাবে না। এর জবাবে বার্তা সম্পাদক যদিও বলার চেষ্টা করেন, এটা সরকারপন্থী পত্রিকা, এবং সম্পাদক নিজেও ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। কিন্তু তাতে বিরক্ত হয়ে কর্নেল শাসিয়ে যান, আমরা যা বললাম এটাই ফাইনাল. এর অন্যথা হলে ঐ রিপোর্টার এবং সম্পাদককে সরাসরি দায়ী করা হবে।

অফিসে ফিরে নঈম নিজাম বিষয়টি সম্পর্কে জানতে কর্নেল সাহেবকে ফোন করলে তাকে জানানো হয়, ‘সরকারের নির্দেশেই বিষয়টি আমাদের প্রায়োরিটি। যেহেতু সামনে ইলেকশন, তাই সরকারের কোনো নেতিবাচক খবর বা সমালোচনা আমরা অ্যালাও করবো না। আগামী সপ্তাহের মধ্যে আমি সবগুলো পত্রিকা এবং টিভিতে যাব এবং তা সকলকে দিয়ে নিশ্চিত করানো হবে।’

বিষয়টি নিয়ে প্রেস কাউন্সিল এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গোয়েন্দা সংস্থার এ ধরণের অত্যাচার এই নতুন নয়। তবে এবারে নির্বাচনের আগে আগে সরকারের জনপ্রিয়তায় ধস নামায় তারা আতঙ্কিত বোধ করে একটু বেশি বাড়াবাড়ি করছে।

অবৈধ স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আমরা শিঘ্রই আন্দোলনের ডাক দিবো, সবাই প্রস্তুত থাকুন —————তারেক রহমান

।। বিশেষ সংবাদদাতা ।।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মজলুম জননেতা তারেক রহমান গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা, জেলা, পৌরসভাসহ সকল পর্যায়ে যার যার অবস্থান থেকে কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহনের উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেছেন, আমরা অতি শীঘ্রই আন্দোলনের ডাক দিবো। অবৈধ স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে সেই আন্দোলনকে সফল করার মাধ্যমে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারব। ফিরিয়ে আনতে পারবো আওয়ামী-বাকশালীদের ধ্বংস করে দেয়া গনতন্ত্রকে।ইনশাআল্লাহ আপনাদের সাথে আন্দোলনের মাঠে দেখা হবে।বিজয় আমাদের হবেই।

তারেক রহমান বাংলাদেশের সকল যুব এবং তরুণ সমাজকে উদ্দেশ করে বলেন, আমার দলের নেতাকর্মীরা আন্দোলন শুরু করবে কিন্তু এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে হবে তোমাদের এবং সফলকাম করতে হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশে যেভাবে তোমরা কোটা এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেছিলে। সেই আন্দোলনের মতোই করতে হবে আগামী দিনের আন্দোলন। যে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে পারবে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ। তবে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে,যাতে করে মানুষ পুড়িয়ে, লাশের ওপর রাজনীতি করা আওয়ামীলীগ আমাদের সামনের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই আন্দোলনকে কোনভাবেই বিতর্কিত করতে না পারে। আমরা তাদের মতো ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। তিনি বলেন, যে আন্দোলনের ডাক বিএনপিসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক মানুষ দিয়েছে তাতে সকলের আদর্শিক স্লোগানটি হওয়া উচিত “যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ; যদি তুমি রুখে দাড়াও, তবে তুমি বাংলাদেশ।”

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাজ্য যুবদলের অালোচনা সভায় তিনি এই আহবান ও নির্দেশনা দেন। মঙ্গলবার স্থানীয় রয়েল রিজেন্সী অডিটোরিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২ টায়) তিনি ৪১ মিনিটের বক্তৃতায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি, সরকারের দুঃশাসন, লুটপাট, ব্যাংক ডাকাতি, গুম, খুন, নিপীড়নসহ সার্বিক চিত্র তুলে ধরে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য যুবদলের সভাপতি রহিম উদ্দিন। সভা পরিচালনা করেন সাধারন সম্পাদক আফজাল হোসেন।

দেশনায়ক তারেক রহমান বলেন, আমি জানি শুধু আমার দলের নেতাকর্মীরা নয়, একই সাথে বাংলাদেশের লক্ষ কোটি গণতন্ত্রকামী মানুষ আছে, লক্ষ কোটি যুবক আছে, তরুণ আছে যারা বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া ভোটাধিকার উদ্ধার করতে চায়। যারা হারিয়ে যাওয়া বাক-স্বাধীনতা উদ্ধার করতে চায়। যারা হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র উদ্ধার করতে চায়। আজকে আপনাদের এখানে যারা বক্তব্য দিয়েছেন তাদের বক্তব্য থেকে উঠে এসেছে যে আমাদের হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হলে আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই, কিন্তু এখানে একটি কথা আছে। আপনারা যদি ইউটিউব ঘাটেন দেখবেন, এই রং হেডেড শেখ হাসিনা সম্পর্কে তাদের দলের এক নেতা বক্তব্য দিয়েছেন- কিভাবে শেখ হাসিনা বাসের উপর পেট্রোল বোমা মেরে লাশের উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করে। এটি তাদের নেতাই বলে দিয়েছে রং হেডেড নেত্রী সম্পর্কে, এবং সারা বাংলাদেশের মানুষ ২০০৭ সালে দেখেছে কিভাবে তারা লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করে তার উপর নেচে উল্লাস করেছে। তার কথার প্রমাণ হিসেবে শেখ সেলিমের কথা প্রমাণ হলো। ২০১৪ সালে যখন আমার নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র উদ্ধারে আন্দোলন করছিল সেই সময়ে এই আওয়ামী লীগের নেতা তাদের আরেক নেতার নির্দেশ মোতাবেক কি করেছিল। বরিশালের এক নেতা প্রকাশ্যে প্রেস কনফারেন্স করে বলেছেন তার এলাকার আরেক নেতা কিভাবে বাসের মধ্যে আগুন দিয়ে ১১ জন মানুষকে হত্যা করেছে। কাজেই মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে মানুষের লাশের উপর রাজনীতি করা এটি ওদের রাজনীতি। বিএনপির রাজনীতি নয়। বিএনপি কখনো এই ধরনের রাজনীতি করে না। আমরা আন্দোলনে বিশ্বাস করি। গণতান্ত্রিক অধিকারে বিশ্বাস করি। বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। কিন্তু আমরা এই ধরনের ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। একটি নয়, দশটি নয় শত শত প্রমাণ আছে যে তারা মানুষের লাশের উপর দাঁড়িয়ে তারা রাজনীতি করে। কাজে এই বিষয়ে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। যাতে করে তারা আমাদের সামনের এই আন্দোলনকে কোনভাবেই বিতর্কিত করতে না পারে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে এই বর্তমানের অবৈধ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, সে সময় রং হেডেড শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রমান সহ ১৪ হাজার কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। আমরা দেখলাম ক্ষমতা দখলের সাথে সাথে একটির পর একটি নিজের নামের মামলাগুলো তারা ঠিক সরিয়ে ফেলল। মামলার মুখোমুখি তারা আর হলোনা। কিন্তু শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এইসব মামলাগুলোর বিষয়ে সরাসরি কথা বলা সম্ভব না। কাজেই আমার প্রশ্ন আমার জিজ্ঞাসা বাংলাদেশের যুব সম্প্রদায়ের কাছে এবং তরুণ সম্প্রদায়ের কাছে, কি জন্য সম্ভব নয় তার বিরুদ্ধে কথা বলার এবং প্রশ্ন করার?

দেশনায়ক বলেন, আমরা জানি যে কোনো সাংবাদিক কোন প্রধানমন্ত্রী কিংবা যে কোন ব্যক্তিকে সরাসরি প্রশ্ন করতে পারে যদি তার কোন কিছু জানার প্রয়োজন থাকে। শেখ হাসিনাকে কেন প্রশ্ন করা যাবে না? কেন তিনি তার মামলা গুলো সরিয়ে নিলেন? এর উত্তর হচ্ছে- গণতন্ত্র নেই।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, কিছুদিন আগে আমরা দেখলাম বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার চিত্র। দেশের প্রধান বিচারপতি যাকে এই অবৈধ সরকারই নিয়োগ দিয়েছিল তাকে কিভাবে এই অবৈধ সরকার জোর করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে দেশ থেকে বের করে দিল। প্রধান বিচারপতিকে তারাই নিয়োগ দিয়েছিল কিন্তু হঠাৎ করে কেন তাকে তারা ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিল? কারণ এই ভদ্রলোক যখন দেখলেন দিস হেজ বিকাম টু মাচ! তাকে দিয়ে হাসিনা একটির পর একটি রায় বাস্তবায়ন করাচ্ছে এবং তার পক্ষে আর কোনো মিথ্যা আবদার বাস্তবায়ন সম্ভব নয় এবং তিনি যখন আর সায় দিলেন না এবং তিনি রায় পড়তে অস্বীকার করলেন তখন তারা তার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগলো। এর আগে আমরা দেখেছি মোতাহের সাহেব নামে আরেকজন বিচারপতিকে মিথ্যা রায় পড়ার জন্য যখন বাধ্য করা হয়েছিল কিভাবে তখন তাকে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে বের করে দিয়েছিল দেশ থেকে। এইসব নির্বাসিত বিচারপতিদের কাছ থেকেই এই বক্তব্য গুলো এসেছে যে তাদের কিভাবে বের করে দেয়া হয়েছে। যখনি তারা সুযোগ পেয়েছে জাতির সামনে তারা বলেছে কিভাবে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয় পৃথিবীর সবার কাছে এটি পরিষ্কার যে যারা সাধারণ মানুষের বিচার করবে তারাই যেখানে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত সেখানে কিভাবে সাধারণ মানুষের পক্ষে বিচার পাওয়া সম্ভব?

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি হাসিনার চরম প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার বর্ননা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আজকে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীকে নিয়ে সকালবেলা কি দেখলাম? বিচারপতিকে রায় দিতে বাধ্য করা হয়েছে, ৩ দিন ঘরে আবদ্ধ করে রেখে। এমনকি তার পরিবারের সদস্যদের সাথেও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা তাঁকে দেখা করতে দেয়নি। তাকে বাধ্য করা হয়েছে, তাকে জীবনের হুমকি দেখিয়ে বাধ্য করা হয়েছে আমাদের প্রিয় নেত্রীর নামে মিথ্যা রায় দেয়ার জন্য। আজকে এই হচ্ছে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার চিত্র। আজকে বাংলাদেশের কোন বিচারপতি নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সত্য কথা বলতে পারেন না।
তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই অবৈধ সরকার আমার নেতাকর্মীসহ বহু সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ৯০ হাজার মিথ্যে মামলা দায়ের করেছে- ২৫ লাখের বেশি মানুষকে তারা আসামি করেছে। ১৫শ’র বেশি মানুষকে গুম করেছে। আর যখন নির্যাতন অত্যাচার এর সংখ্যা কোন ক্যালকুলেটরে পরিমাণ করা যাবে না। এই মানুষগুলোর অপরাধ এরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করে। এই মানুষগুলো অবৈধ শেখ হাসিনার সরকারের মিথ্যা, লুটপাট, অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। শুধু আমার দলের নেতা কর্মী নয় সাধারণ মানুষ, যুবক, তরুণ যারা কোটার আন্দোলন করেছে তাদেরকে কিভাবে দমন করা হয়েছে। তারা চেয়েছিল কোটার বিন্যাস করতে। এটি ছিল একটি সামাজিক আন্দোলন। আমরা দেখলাম কি নির্মম ভাবে, বর্বর জঙ্গি ভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে, লাঠি দিয়ে পিটিয়ে কীভাবে এই মানুষগুলোকে নির্যাতন করা হয়েছে এবং কষ্ট দেয়া হয়েছে। আজও আমরা দেখি অনেকগুলো মানুষ জেলখানায়। একদিকে বলছে কোটা মেনে নিলাম, আরেক দিকে দেখা যাচ্ছে এই যুবকগুলোর লাশ নদীতে ভাসছে। এই যুবকগুলোসহ বহু সংখ্যক মানুষ জেলখানার ভিতরে ধুকে ধুকে মরে যাচ্ছে। এ এক আজব ব্যাপার!

তারেক রহমান বলেন, সরকারের একজন উপদেষ্টা যার বেতন মাসে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। আপনারা তো পৃথিবীর একটি উন্নত দেশে আছেন এবং এখানে বসবাস করছেন। আপনারা কি কেউ শুনেছেন ইউরোপে কিংবা আমেরিকায় কোথাও সরকারি কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপদেষ্টার বেতন বাংলাদেশী টাকায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা? এই বিষয়টা কেন লুকিয়ে রাখা হয়েছিল জনগণের কাছ থেকে? সৌভাগ্যক্রমে তাদের একজন অবৈধ মন্ত্রীর কাছ থেকেই জাতি এই মেসেজটি পেল। লুকিয়ে কেন রাখতে হবে? জনগনের টাকা আপনি তাকে বেতন দিবেন সেটা আবার লুকিয়ে কেন রাখতে হবে? যখন এই ঘটনাটি অবৈধ মন্ত্রী ফাঁস করে দিল তখন অবৈধ মন্ত্রীকে সেখান থেকে তারা সরিয়ে দিল। তাকে কয়েক দিন জেল খাটালো।

তিনি বলেন, পত্রিকার পাতায় আমরা দেখলাম এই রং হেডেড শেখ হাসিনার প্রতিদিনের আপ্যায়নের বিল ২ লক্ষ টাকা। আপনারা সবাই বাংলাদেশের মানুষ ক্যামেরার ওপারে যারা বাংলাদেশ থেকে দেখছেন আমার জিজ্ঞাসা তাদের কাছে বাংলাদেশে প্রতিদিন ২ লক্ষ টাকা আপ্যায়ন বিল কি একটি আজব ব্যাপার নয়? এই টাকা তো জনগনের টাকা। অথচ ২ লক্ষ করে শুধু আপ্যায়ন বিল। বাকি অন্য খরচ তো বাদ দিলাম। কাজেই, একদিকে অত্যাচার-নির্যাতন, অন্যদিকে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা বেতন এবং আপ্যায়ন বিল প্রতিদিন ২ লক্ষ টাকা। এই হচ্ছে জাতির ওপর স্টিমরোলার চাপানো।

তারেক রহমন বলেন, তাদের নেতা-কর্মী বলেন, মন্ত্রী বলেন লুটপাটে ব্যস্ত। বিভিন্ন কোম্পানি যেমন হলমার্ক, ডেসটিনির মত একটার পর একটা ব্যাংক খালি করে যাচ্ছে, ধসে পড়ে যাচ্ছে। গতকালকে দেখলাম আরো চারটি ব্যাংকের পারমিশন দিয়েছেন। যাবার তো সময় হলো, আরো যত পারি নিয়ে যাই- এই হলো তাদের উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য।

দেশনায়ক বলেন, শুধু ব্যাংক খাত থেকে তারা গত কয়েক বছরে জনগণের ২ লক্ষ কোটি টাকা গায়েব করে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই যে ৮০০ কোটি টাকা গায়েব হয়ে গেল আজ পর্যন্ত কি আমরা দেখতে পেয়েছি একটা লোক কিংবা একটি গ্রুপকে ধরেছে যারা এই কাজটি করেছে? ব্যাংকগুলো জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা তসরুপ করেছে এটা এক আশ্চর্য ব্যাপার। লুটপাটের এক মহোৎসব দেশের মধ্যে। জনগণের সম্পদ লুটের এক মহোৎসব। কারো কোন বিচার নেই, কোথাও কোন জবাবদিহিতা নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা স্বর্ণ তামা হয়ে যাচ্ছে। এ এক আশ্চর্য ব্যাপার। ছোটবেলা থেকে দেখে আসলাম কনস্ট্রাকশন বিল্ডিংএ রড দেয়া হয় এখন দেখলাম রডের বদলে ডিজিটাল স্টাইলে বাঁশ দেয়া হচ্ছে। কয়েকদিন আগে দেখলাম রেল লাইনের ২ স্লিপার জোড়া লাগানোর জন্য মাঝখানে কাঠ এর পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে রেখেছে। এই যে সব যায়গায় বাঁশ দিচ্ছেন, এই বাঁশ কোনদিক দিয়ে ঘুরে কোন দিকে যাবে, তা সময়মতো টের পাবেন। বাংলাদেশের জনগণ এইটা কয়দিন পরে হারে হারে দেখিয়ে দিবে।

তারেক রহমান বলেন, যখন সাগর-রুনি হত্যা হলো তখন শেখ হাসিনা বললেন ঘরে ঘরে ঢুকে পাহারা দেয়া সম্ভব নয়। বুঝলাম ঠিক আছে ঘরে ঘরে ঢুকে পুলিশের পক্ষে পাহারা দেয়া সম্ভব নয়। কিছুদিন আগে দেখলাম এই ছোট ছোট বাচ্চারা ছোট ছোট বোনেরা এরা যে নিরাপদ বাংলাদেশ এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করলো তারপর আমরা দেখলাম তাদের ওপর হেলমেট লীগের আক্রমণ। আশা করি ইনশাআল্লাহ আর বেশিদিন নেই জাতিকে এসব তামাশা দেখতে হবে। এসব লুটপাট ও দুষ্কৃতিকারীদের দেখতে হবে। কিভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যারা আন্দোলন করেছিল তাদের ঘরে ঘরে ঢুকে রেইড দিয়ে তাদের ফেসবুক চেক করে তাদেরকে ধরে আনা হয়েছিল নির্যাতন করা হয়েছিল? এর জবাব দেয়ার সময় চলে এসেছে এবং এর জবাব দিতে হবে।

তিনি বলেন, একদিকে লুটপাটের মহোৎসব অন্যদিকে সমগ্র জাতি যখন ঐক্যবদ্ধ, বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলো যখন ঐক্যবদ্ধ গণতন্ত্রের জন্য যে গণতন্ত্র হারিয়ে গেছে সেই গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য, যে বাক স্বাধীনতা হারিয়ে গেছে সে বাক স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার জন্য তখন এদের (আওয়ামীলীগ) সাথে যোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন নামের সংস্থাটি। কিভাবে এদেরকে আবার জনগণের সম্মতি ছাড়া জিতিয়ে আনা যায় এবং এর জন্য তারা অপকৌশল চালাচ্ছে এবং পরিকল্পনা করছে কিভাবে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট চুরি করা যায়। পরিষ্কারভাবে আপনাদেরকে সামনে বলে দিতে চাই এই যে জনগণের ভোট চুরির যে পরিকল্পনা করছেন এবং ইভিএম কেনার নামে জনগণের যে চার হাজার কোটি টাকা লুটের পরিকল্পনা করছেন এর থেকে সাবধান। যদি করেন গুনে গুনে জনগণ এর জবাব নিবে। আজকে আমাদের যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী গণতন্ত্রের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারের তালা ভেঙ্গে বের করে নিয়ে আসতে প্রস্তুত।

তারেক রহমান বলেন, আমার দলের নেতাকর্মীরা যেভাবে প্রস্তুত আছে, ঠিক একইভাবে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি তরুণ প্রস্তুত আছে। আজকে যুবক ভাইদেরকে, তরুণ বন্ধুদেরকে আমি আহবান করব- তোমরা মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনেছো, তোমরা বইয়ের পাতায় মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনেছো, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা শুনেছো কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ দেখনি। আজ তোমাদের সামনে সুযোগ এসেছে যে বাংলাদেশ তোমরা চেয়েছিলে, যে বাংলাদেশ আমাদের পূর্বপুরুষেরা স্বাধীন করেছে, বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রের কারণে অনেক বার হোঁচট খেয়েছে সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার।

তরুন সমাজকে বন্ধু হিসাবে সম্বোধন করে তারেক রহমান বলেন, কোনো ধ্বংসাত্মক আন্দোলন আমাদের দল সমর্থন করে না। আমার অনুরোধ থাকবে আমার তরুণ সম্প্রদায়ের কাছে দেশ তোমাদের, ভবিষ্যৎ তোমাদের দায়িত্ব ও তোমাদেরকে নিতে হবে। এবং সেই আন্দোলনকে সফল করার মাধ্যমে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারব, যে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। যুব সম্প্রদায়কে সে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে কিভাবে সে আন্দোলনকে সফল করতে হবে। ভবিষ্যৎ তোমাদের দেশ তোমাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তোমাদেরকেই করে দেখাতে হবে যে তোমরা পারো এবং তোমরাই পারো।

ইনশাআল্লাহ, আপনারা প্রস্তুত হন আপনারা যারা দেশের বাইরে আছেন আপনারা আপনাদের যার যার অবস্থান থেকে প্রস্তুত হতে হবে। যারা দেশের ভিতর আছেন আপনাদেরকে আপনাদের অবস্থান থেকে প্রস্তুত হতে হবে। আমরা অতি শীঘ্রই আন্দোলনের ডাক দিচ্ছি। এই আন্দোলন সেই আন্দোলন, যে আন্দোলনে নারী, পুরুষ, যুবক, তরুণ সকলেই অংশগ্রহণ করতে পারবে। সে আন্দোলনের সম্ভব হবে সেই দেশটিকে গড়ে তোলা যে দেশের স্বপ্ন আমাদের তরুণ এবং যুবক ভাইরা বুকে ধারণ করে।
তিনি বলেন, দেশের যুব সমাজকে সংগঠিত করার জন্য ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যুবদল প্রতিষ্ঠা করেন। একই বছর তিনি যুব মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন। কোন যুব সম্প্রদায়কে যদি সঠিকভাবে পরিচালিত করা না যায়, যদি সঠিক দিক-নির্দেশনা দেয়া না যায় তাহলে কোন দেশের পক্ষে অর্থনীতি, সংস্কৃতি কিংবা ক্রীড়া ক্ষেত্রে উন্নয়ন সম্ভব না। সেজন্যই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুব মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন যাতে করে দেশের যুব সমাজকে সঠিক নেতৃত্ব দেয়া যায় এবং সঠিক নেতৃত্ব প্রদান করা যায়। যেন সমগ্রদেশের সমস্ত যুব সম্প্রদায় দেশ গঠনে অবদান রাখে। কিন্তু আজকে অত্যন্ত দুঃখজনক ভাবে বলতে হয় যে, এই স্বৈরাচারী সরকার যারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বৈরাচারী সরকার তাদের প্রধান বর্তমান শেখ হাসিনার অবৈধ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের সাথে অন্য সন্তানদের মুখোমুখি করে দিল কোটা আন্দোলনের মোকাবেলার কথা বলে। সরকারের প্লান ছিল যদি তারা যুবক সম্প্রদায়কে শেষ করে দিতে পারে তাহলে অবৈধ ক্ষমতার নীলনকশা বাস্তবায়ন সহজ হবে।
কিন্তু আমাদের যুব সম্প্রদায় ঠিকই আসল বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। তারা দাবি নিয়ে সামনে চলে এসেছে এবং সঠিকভাবে পরিচালনা করেছে। এরকম আরও কিছু ঘটনা ঘটেছে। আজকে এখানে যতজন বক্তব্য দিয়ে গেছেন প্রত্যেকের কথার মধ্যে একটি কমন জিনিস ছিল। আজকে আমরা সকাল বেলায় যদি পত্রিকা দেখি তাহলে দেখবো স্বৈরাচারী সরকার এবং তাদের সাথে যারা আছে তাদের লুটপাটের খবর। আজকে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক দলের কর্মীর কথা হল জনগণের অধিকার, জনগণের কথা বলার অধিকার, জনগণের নিরাপত্তা, জনগণের ভোটের অধিকার এবং জনগণের বাক স্বাধীনতার অধিকার। এই কয়েকটি শব্দ প্রতিদিন ঘুরে ফিরে প্রত্যেকটি মানুষ প্রতিদিন উচ্চারণ করছে। তার মানে কি দাঁড়াচ্ছে, এই কয়টি জিনিস এই সরকারের সময় অনুপস্থিত।

বক্তব্যের শুরুতেই দেশনায়ক তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশে এবং বিদেশের যুবদলের সবাইকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানান। তিনি স্মরণ করেন সেই সব নেতাকর্মীদেরকে যারা এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন, কারা নির্যাতিত হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন তাদেরকে’।

ভেঙ্গে পড়েছে পুলিশের চেইন অব কমান্ডঃ জুনিয়র এক ডিআইজির বাড়াবাড়িতে আইজিপি জাবেদ হয়রাণ!

বিশেষ প্রতিবেদন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভেঙ্গে পড়েছে পুলিশের চেইন অব কমান্ড। পুলিশের বিভিন্ন মহলে আলোচনা করে ও সরকারী এটি গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের একান্ত অনুগত একেএম শহিদুল হকের আইজিপি পদে নিয়োগ থেকেই পুলিশের বিশৃঙ্খলার শুরু হয় যা এখন চরম বিপর্যয়কর অবস্থায় এসে পড়েছে। জনশ্রুতি আছে, শহীদুল হক ও আসাদুজ্জামান মিয়া (ডিএমপি কমিশনার) তাঁদের এ পদে পদায়নের জন্য রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর এক নিকটাত্মীয়ের সাথে ৩০ কোটি টাকার প্যাকেজে ডিল হয়েছিল। জনাব শহীদের ব্যাচের ১ম ব্যক্তি জাভেদ পাটোয়ারীকে বাদ দিয়ে ব্যাচের ১৪তম ব্যক্তিকে পুলিশ প্রধান করায় মেরিট লিস্টের প্রথমদিকে থাকা পুলিশ অফিসাররা হতাশ হয়ে পড়ে। এই সময়ে পুলিশ হেড-কোয়ার্টার্সের ডিআইজি হাবিব (১৭ ব্যাচ, বাড়ি গোপালগঞ্জ) যথেচ্ছভাবে পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে গুটিকয়েক অফিসারকে বারংবার পদায়ন করায় নিরপেক্ষ পুলিশ অফিসার, এমনকি আওয়ামীপন্থী যারা হাবিবকে তোষামোদ করেনি, তারাও ক্রমাগত বঞ্চনার শিকার হওয়ায় তাদের ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

এসময়ে প্রলয় জোয়ার্দার (২৫ ব্যাচ, স্ত্রী এনএসআই এর গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত)কে ২/৩ ব্যাচ ডিঙ্গিয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এআইজি করায় পুলিশে বিস্ফোরনমূখ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হাবিবের প্রস্তাবিত পদায়নে প্রলয় তার স্ত্রীর প্রভাবে অনেকের পদোন্নতি ও পদায়ন এনএসআই ক্লিয়ারেন্স বিরূপ থাকার অজুহাতে আটকে দিয়ে হাবিবের বিরাগভাজন হলেও তৎকালীন আইজি শহিদুল হকের পৃষ্ঠপোষকতায় বহাল তবিয়তে ছিল। জাভেদ পাটোয়ারী আইজি হওয়ার পর প্রলয়কে পুলিশ হেযকোয়ার্টার্স থেকে চলে যেতে হয় এবং তার অনুসারীরা আইজির প্রকাশ্য বিরোধীতা করতে থাকে। এ সময়ে ডিআইজি হাবিব নিজেকে আইজির চেয়েও বেশী শক্তিশালী হিসাবে জাহির করে এবং এর ফলে তার সাথে সংঘাত শুরু হয় অতিরিক্তি আইজি (প্রশাসন) মোখলেছুর রহমানের। শহিদুল হকের পর আইজি পদ-প্রত্যাশী মোখলেছুর রহমানকে অতিঃ আইজি (প্রশাসন) এর গুরু-দায়িত্বে পদায়ন করা হলেও হাবিব তাকে পাশ কাটিয়ে পুলিশের সকল স্তরের পদোন্নতি ও পদায়নে স্বৈরাচারী মনোভাব অব্যাহত রাখে যাতে আইজি জাভেদ পাটোয়ারী ও অতিঃ আইজি মোখলেছ প্রচন্ডভাবে রুষ্ট হন। এতে পুলিশ হেড-কোয়ার্টার্স ও অন্যান্য ইউনিটে কর্মরত তাঁদের অনুগত অন্যান্য অফিসারদের মধ্যে বিভাজন এখন সুস্পষ্ট।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় প্রাক্তন ৩ জন আইজির সাজা হওয়ায় আইজি জাভেদ পাটোয়ারী ভবিষ্যতে এমন পরিনতি এড়াতে মিথ্যা ও গায়েবী মামলা রুজুর বিপক্ষে থাকলেও ডিআইজি হাবিব তা জোর করে বাস্তবায়ন করানোয় তাদের মনোমালিন্য এখন তুঙ্গে। পক্ষান্তরে হাবিবের একান্ত সহযোগী তার ব্যাচের ডিআইজি ডঃ খন্দকার শহীদ, আনোয়ার, হাফিজ, বাতেন ও অতিঃ ডিআইজি মঞ্জুরুল কবির, নাজমুল, ১৮ ব্যাচের মোজাম্মেল, মনিরুজ্জামান, আসাদুজ্জামান, ২০ ব্যাচের এসপি মইনুল (নারায়নগঞ্জ), শাফিউর (ঢাকা জেলা), মোল্লা নজরুল, শাহ আবিদ (ময়মনসিংহ), টুটুল চক্রবর্তী, মাসুদুর রহমান, আলমগীর কবির, নূরুল ইসলাম (কুমিল্লা), আনিসুর রহমান (স্ত্রী আওয়ামী লীগের মহিলা এমপি), হারুন (প্রাক্তন গাজীপুর এবং স্ত্রীর ১৫৩২ কোটি টাকা আমেরিকায় আটক বলে জনশ্রূত), আলতাফ হোসেন, ২১ ব্যাচের বিপ্লব (ডিসি তেজগাঁও), মারুফ, সাজ্জাদ, বিজয় বসাক, পঙ্কজ রায়, আনোয়ার এবং ২২ ব্যাচের এসপি মেহেদী, জাহাঙ্গীর, সায়েম, মান্নান প্রমূখ ঘুরে-ফিরে পুলিশের রিওয়ার্ড পোষ্টিং হিসাবে পরিচিত জেলা ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, যশোর, নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, এসব জেলায় একাধিকবার এবং দীর্ঘমেয়াদে পোষ্টিং পাওয়ায় অন্য অফিসারদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। তাই ডিআইজি আনোয়ার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গায়েবী মামলা, হত্যা, গুম, জেল-জুলুম এবং তফসিল ঘোষনা উপলক্ষ্যে নভেম্বরের ১ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত গণ-গ্রেফতারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশে হাবিবের অনুসারী গুটি-কয়েক অফিসার অতি আগ্রহী হয়ে এগিয়ে আসলেও স্বল্প সুবিধাপ্রাপ্ত বা কোন সুবিধা না পাওয়া অন্যান্য বহু অফিসার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহী হচ্ছে না মর্মে একটি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে এসেছে। তাদের ভাষ্য, সুবিধাভোগীদের পাপের ফল আমরা কেন ভোগ করব। তার চেয়ে এখন নিরপেক্ষ থাকলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পালাবদল হলে অন্ততঃ দেশ ছেড়ে পালাতে হবে না।

বস্তুতঃ বহুমুখি দলীয় কোন্দলের জেরে ৫ জানুয়ারী মার্কা নির্বাচন অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হতে যাচ্ছে বর্তমান পুলিশ প্রশাসন।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

ছেলের চেয়ে কম বয়সী শেখরের সাথে হাসিনার যৌন সম্পর্ক

কানাডা প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তার এপিএস সাইফুজ্জামান শিখরের সেক্সুয়াল রিলেশন রয়েছে। এনিয়ে স্ত্রীর সাথে শিখরের বাদানুবাদ হয়, ঝগড়া করে বাপের বাড়ি যাওয়ার পরে তাকে বোঝাতে গিয়ে টেলিকথপোকথন এনটিএমসিতে রেকর্ড হয়। এনটিএমসির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হন, এবং এ সংক্রান্তে তথ্য জোগাড় করতে থাকেন।

বিভিন্ন কথপোকথন থেকে ব্রিগেডিয়ার জিয়া জানতে পারেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিতভাবে হাই ডোজের ঔষধ খান, এবং হরমোন নিয়ে যৌনশক্তি ধরে রেখেছেন। অফিস সময়ের পরে বিকালে বা রাতে শেখরকে গণভবনে ডেকে নিয়ে মিলিত হন শেখ হাসিনা। শিখরের গাড়িতে সব সময় ভায়াগ্রা থাকে, যা একবার শিখরের স্ত্রীর হাতে ধরা পড়ে। এনিয়ে গন্ডগোল শুরু হয়, যা আত্মীয় স্বজন পর্যন্ত গড়ায়। পরে শিখর তাকে বুঝিয়ে ঠান্ডা করেন- আমি যা কিছু করছি চাকরির জন্য করছি, রাজনীতির ক্যারিয়ারের জন্য। এর বিনিফিশিয়ারী তোমরাই হবে। কিন্তু উল্টাপাল্টা কিছু করলে নিজেও বাঁচবনা, তোমাদেরও বাঁচাতে পারব না। শাকিলের মত মেরে ফেলবে।

সাইফুজ্জামান শিখর মাগুরা-১ আসনের আ’লীগের প্রয়াত এমপি আসাদুজ্জামানের ছেলে। শিখর ছাত্রলীগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন, কেন্দ্রে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এপিএস-২ হিসাবে নিয়োগ লাভ করেন শিখর। উল্লেখ্য, শিখরের জন্ম ১৯৭১ সালের অক্টোবরে, যিনি বয়সে শেখ হাসিনার পুত্র জয়ের চেয়ে পাঁচ মাসের ছোট!

এদিকে শেখ হাসিনার সাথে সম্পর্কের জোরে শিখর তার নিজ জেলা মাগুরার একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে বসেন। জেলার মন্ত্রী বীরেন শিকদারকে ল্যাং মেরে ফেলে দিয়ে শিখর নিজেই মাগুরা-২ থেকে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য তৈরী হয়েছেন, এবং মনোনয়ন নিশ্চিত বলে ঘোষণাও দিয়েছেন। এক্ষেত্রে শিখর সবচেয়ে বড় উদাহরন হিসাবে ব্যবহার করছেন শেখ হাসিনার দীর্ঘ দিনের বয়ফ্রেন্ড মৃনাল কান্তি দাসকে, যিনি এখন মুন্সিগঞ্জ-৩ এলাকার সংসদ সদস্য।

মৃনাল সম্পর্কে শেখ হাসিনার ১৭ বছরের বিশেষ সহকারী মতিয়ুর রহমান রেন্টু তার ‘আমার ফাঁসি চাই’ গ্রন্থে লিখেন, ১৯৮১ সালের ১৭ই মে বাংলাদেশে আসার পর থেকে শেখ হাসিনা তার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সাথে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে কখনোই একটি দিন বা একটি রাত কাটাননি। তার স্বামী ড. ওয়াজেদ প্রথম থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার মহাখালির আনবিক কমিশনের কোয়ার্টারেই কাটিয়েছেন।

মহাখালি স্বামী কোয়ার্টারে থাকতে এবং পরবর্তীতে ধানমন্ডি বত্রিশের পিত্রালয়ে বঙ্গবন্ধু ভবনে থাকতে, ১৯৮৭ সালে মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ ছাত্র সংসদের ভি,পি মৃনাল কান্তি দাস নামের তরুণ যুবক আসার আগ পর্যন্ত শেখ হাসিনা নিয়মিত, রুটিন মাফিকভাবে প্রতিদিন ঠিক সন্ধ্যার একঘন্টা আগে গোসল করে পাউডার, পারফিউম মেখে লম্বা চুলে একটা বেনী করে, চকচকে নতুন শাড়ী ব্লাউজ পরে খুবই পরিপাটি হয়ে কাউকে সঙ্গে না নিয়ে শুধুমাত্র ড্রাইভার জালালকে সঙ্গে নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে বেরিয়ে যেতেন (এটাই কর্নেল আকবরের বাসা) এবং ঘন্টা দু’য়েক পরে ফিরে আসতেন। শুধু অজ্ঞাত স্থানে যাওয়া ছাড়া শেখ হাসিনা কখনই একা শুধু জীপগাড়ী আর চালক নিয়ে বাইরে যেতেন না। ঐ সময় এবং ঐ অজ্ঞাত স্থান ছাড়া যেখনেই তিনি যেতেন তার সাথের সকলকে অবশ্যই নিয়ে যেতেন। ১৯৮৭ সালে মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি তরুন যুবক মৃনাল কান্তি দাসের (বর্তমানে এমপি ও আ’লীগের উপ প্রচার সম্পাদক) সাথে শেখ হাসিনার পরিচয় হয়। এবং পরিচয়ের পর থেকেই মৃনাল কান্তি দাস ধানমন্ডি বত্রিশ নাম্বারে দিবা-রাত্রি সার্বক্ষণিকভাবে থাকতে শুরু করলো। শেখ হাসিনা তখন ঐ বাড়িতেই থাকেন। শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে নিয়মিত রুটিন মাফিক সন্ধার আগে অজ্ঞাত স্থানে যাওয়া ছেড়ে দিলেন। অধিক রাত পর্যন্ত, এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত ধানমন্ডি বত্রিশের লাইব্রেরীতে হাসিনা এবং মৃনাল ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে কথাবার্তা বলত এবং হাসাহাসি করত। কিছু দিনের মধ্যেই কৃশকায় মৃনাল ফুলে ফেপে উঠতে থাকে। শেখ হাসিনার কাছে মৃনালের এত গভীর সম্পর্ক ছিলো, যে অন্যদের কাছে তা ঈর্ষার কারণ হয়। নেত্রীর কাছে মৃনালের গ্রহনযোগ্যতা বেশী হওয়ার কারণে আওয়ামীলীগের সকল পর্যায়ের নেতা মৃনালকে সম্মান করে চলতো। মৃনালই ছিলো হাসিনার রাজত্বের একমাত্র অধিপতি। ১৯৯০ সালের একদিন সাজেদা চৌধুরীর উপস্থিতিতে মৃনাল আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদককে অপমান করে বসে। বিষয়টি কার্যনির্বাহী কমিটিতে তোলা হলেও এর কোনো প্রতিকার হয়নি। দিনে দিনে মৃনালের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি বাড়তেই থাকে। এমনকি শেখ হাসিনার ঘনিষ্ট আত্মীয় এপিএস বাহাউদ্দিন নাছিম, সিকিউরিটি চীফ নজিব আহমেদ মৃনালের ফুট ফরমায়েশ খেটে ধন্য হতো। একদিন বঙ্গবন্ধু ভবনে বিকাল ৩টা সাড়ে ৩টার দিকে ৪/৫ জনকে নিয়ে তাশ খেলছিলো মৃনাল। এমন সময় শেখ হাসিনার একমাত্র জীবিত মামা আকরাম (সাবেক এফবিসিসিআই সভাপতি) এসে খুব অশ্লীলভাবে বলে, “এই মৃনাল, যাও। সে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। খায়নি কিছু্।” মৃনাল জবাব দেয়, “তাতে কি, থাকুক না আরো কতক্ষণ ক্ষুধার্ত।” মৃনাল তার ক্ষমতা দেখানোর জন্য আরো কিছুক্ষণ তাশ খেলে। এভাবেই মৃনাল নিজেকে জাহির করে, সে হাসিনার রাজত্বের একমাত্র অধীশ্বর। মৃনাল ক্রমশ উদ্ধত হয়ে উঠে, ফলে হাসিনার সাথে মনোমালিন্য হয়। মৃনাল কয়েকবার বঙ্গবন্ধু ভবন ছেড়ে যায়। হাসিনা বুঝিয়ে শুনিয়ে আবার তাকে ফেরত আনে। ১৯৯১ সালে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরে ৩২ নম্বরের বাড়ি ছেড়ে শেখ হাসিনা ওঠেন ২৯ মিন্টু রোডের বাড়িতে। সেখানে তার সাথে যায় মৃনাল, আর তিন নিকটাত্মীয় নজীব, নাসিম, আর নকিব। এ বাড়িতে তিনজন নিকটাত্মীয়ের সাথে একত্র থাকতে অপছন্দ করে মৃনাল। এক পর্যায়ে মৃনাল মিন্টু রোড ছেড়ে চলে গেলে হাসিনা আর তাকে ফেরত আনেনি। এ সময়ে মৃনাল নানা জনের কাছে বলতে থাকে, হাসিনার সাথে তার শারীরিক সম্পর্কের কথা। এমনকি সে খুব গর্ব করেই বলতো, “শেখ হাসিনার শরীরের প্রতিটা ইঞ্চি আমার চেনা।”

তবে শেখরের স্ত্রী তার স্বামী, দুই মেয়ে এবং এক পুত্রের জীবন নিয়ে আশংকায় আছেন। কেননা, একই রকম সম্পর্কে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল আলম শাকিলকে জীবন দিতে হয়েছিল বছর দুয়েক আগে।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

‘হাসিনা খতম হবে; লাশও খুঁজে পাওয়া যাবে না’ : ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান

কানাডা প্রতিনিধি

বাংলাদেশের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সময় শেষ, তার লাশও খুঁজে পাওয়া যাবে না- এমনই কঠিন কঠোর মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান! অথচ এক সময় র্যাবে থাকতে এই জিয়াউলই ছিলেন হাসিনার বিশ্বস্ত, এবং শত শত খুন গুমের হোতা। সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পুত্র জয়, ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের রাষ্ট্রবিরোধী নানা গোপন নির্দেশ, দুর্নীতির প্রমান সম্বলিত টেলিকথপোকথনের রেকর্ড এখন ব্রিগেডিয়ার জিয়ার হাতে। মূলত হাসিনার প্রাণ ভোমরা জিয়ার কব্জায়!

দীর্ঘ সাত বছর ধরে শেখ হাসিনার সরকারের জন্য তার কৃত খুন-গুম-অনিয়ম কর্মকান্ডের ব্যাক-আপ হিসাবে নিজের সেফ কাস্টডিতে রেখে দিয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার জিয়া। কিন্তু বন্ধুদের নিয়ে মদের আসরে বেসামাল অবস্থায় গল্পে গল্পে সেটা তার মুখ ফস্কে বের হয়ে গেলে এক কান দু’কান হয়ে পৌছে যায় শেখ হাসিনার কানে। এরপরে শেখ হাসিনাও সতর্ক হয়ে যান। জিয়ার ব্যাপরে পরিষ্কার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন- ‘ওর কাজ শেষ, তাই সাফ করে ফেলো’- এমন নির্দেশ দেন। মোটকথা, সাক্ষ্য প্রমান মুছে ফেলতে ব্রিগেডিয়ার জিয়াকে হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছেন, এমন খবর পাওয়ার পরে জিয়াউল আহসান পালিয়ে গেছে কানাডায়। যদিও বছরখানেক আগে জিয়া একবার কানাডা চলে গিয়েছিলেন, তবে পরে আবার ফিরে আসলেও সেনাবাহিনী তাকে গ্রহন করতে রাজী হয়নি।

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আমিনুলকে গুম করার মূল কারিগর ছিলেন র্যাবের পরিচালক এই জিয়া। বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদকেও উঠিয়ে নিয়ে কয়েক মাস গুম করে রাখে এই জিয়াই। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের হেফাজত গণহত্যার অপারেশন ইনচার্জ ছিলেন কর্নেল জিয়া, টেলিভিশন সাক্ষাতকারে তিনি তা নিজেই স্বীকার করেছেন। সৌদি কূটনীতিক খালাফ আলী হত্যা, সাংবাদিক জুটি সাগর-রুনির হত্যাকান্ড এবং নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডারের ঘটনার সাথে সাংঘাতিকভাবে জড়িত ছিলেন কর্নেল জিয়াউল হাসান। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিএনপির ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচি বানচাল করতে এবং বিরোধী দল নিধনের মূল হাতিয়ার ছিল এই জিয়া।

জিয়াউলে আহসানের কর্নেল/ব্রিগেডিয়ার হিসাবে ৭ বছর র্যাবে অবস্খানকালে দেশজুড়ে বিরোধী দলের হাজারো নেতাকর্মী হত্যা/গুমের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক গুম ও খুনে তিনি যেমন সরাসরি নেতৃত্ব দিতেন, তেমনি মাঠের কাজও তত্ত্বাবধান করতেন। এনিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখি শুরু হলে সেখান থেকে সরিয়ে তাকে পাঠানো হয় ডিজিএফআইতে, পরে এনএসআইতে দেয়া হয়। এরি মাঝে তাকে ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি হয় এবং সর্বশেষে বসানো হয় টেলিফোন আড়ি পাতার সংস্খা এনটিএমসির প্রধান হিসাবে। ২০১৬ সালের মার্চে এনটিএমসিতে বসার পরে ব্রিগেডিয়ার জিয়া বিরোধী রাজনীতিকের গুরুত্বপূর্ন সব টেলিফোন ও অনলাইন যোগাযোগে আড়ি পাতার অধিকার লাভ করে, এবং সরকারকে সরবরাহ করে থাকতেন। তবে জিয়াউল আহসান যতখানি না শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত, তারও চেয়ে বেশী ছিলেন অনুগত ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর অনুগত।

ব্রিগেডিয়ার জিয়ার কাছে শেখ হাসিনার গোপন অডিও রেকর্ড আছে, এবং তা প্রকাশ হয়ে পড়তে পারে, এমন খবর জানার পরে তাকে নিয়ে সন্দেহ বেড়ে যায় শেখ হাসিনার। এর পরেই তাকে ক্রস ফায়ার বা গাড়ি এক্সিডেন্ট করে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তাকে খেয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে- ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মারফত এমন নিশ্চিত খবর পাওয়ার পরে সিদ্ধান্ত নিতে আর দেরী করেনি ব্রিগেডিয়ার জিয়া। র-য়ের সাহায্য নিয়ে গত সপ্তাহে সপরিবারে ভারত হয়ে পৌছে গেছেন কানাডায়। আপাতত অন্টারিও প্রদেশে মিনহাজের বাসায় উঠলেও সহসাই নিজের বাড়িতে উঠবেন। নিরাপত্তার কারনে ঘন ঘন ফোন নম্বর বদলাচ্ছেন। অচিরেই খুব গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হবে তার। এরপরে শেখ হাসিনার অনেক চ্যাঞ্চল্যকর অডিও ক্লিপ অনলাইনে আসবে। হাসিনার পতন এমন ভাবে হবে যে তার লাশও হয়ত খুঁজে পাওয়া যাবে না, মন্তব্য ব্রিগেডিয়ার জিয়ার।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

সকল দ্বিধাদ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে ঐক্যের চুড়ান্ত ঘোষণা- খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ৫ দফা দাবিতে রাজপথে নামবে বিএনপি- যুক্তফ্রন্ট-ঐক্য প্রক্রিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ পাঁচ দফা দাবিতে একমঞ্চে থেকে আগামী দিনে আন্দোলন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। রবিবার (৭ অক্টোবর) রাত ৯টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাসায় বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব।
অন্য দাবিগুলো হচ্ছে– নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার পদত্যাগ, সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনের আগে ও পরে মোতায়েন রাখা, ইভিএম ব্যবহার না করা, নিরাপদ সড়কের দাবি ও কোটা সংস্কার আন্দোলনে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরসহ সব রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া।
বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে জামায়াতের যুক্ত থাকার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘আমরা বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করছি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব দল এখানে থাকতে পারবে। তবে বিএনপির সঙ্গে অন্য কেউ থাকবে কি-না তা আমরা বলতে পারবো না। বাংলাদেশের জনগণ চায়, আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বর্তমান স্বৈরচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করি।’
বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের মধ্যে প্রথমবাবের মতো আনুষ্ঠানিক এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন– আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, মেজর অব. মান্নান, তানিয়া রব, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসীন মন্টু ও আবম মোস্তফা আমীন। বিএনপির পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এছাড়া বৈঠকে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
/শীর্ষনিউজ

সিনহার বইয়ে নানা অভিযোগ এবং নারী ঘটিত কেলেঙ্কারী : আবেদীনের পরিবারে ঝড়!

সামরিক গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের প্রধান মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীনকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় এবং সামাজিক মাধ্যমে নানাবিধ খবরের পরে রেশ বইছে তার ডিপার্টমেন্ট এবং পরিবারে। এ নিয়ে নিজ গৃহে চলছে বিবাদ। স্ত্রী ফাতেমা-তুজ-জোহরা ক্যামেলিয়া চড়াও হয়েছে আবেদীনের ওপরে। কথা বলে অভিযোগ করেছেন তার বন্ধু বান্ধব ও স্বজনদের সাথে। এর মধ্যে সাবেক ক্লাশমেট তুরিন আফরোজও আছেন। সাংঘতিক সে ক্যাচাল পরিবারের গন্ডি ছাড়িয়ে বাইরে চলে এসেছে।

বন্ধুবান্ধব সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রী ক্যমেলিয়া বলেছেন,”তোমার এইসব অপকর্মের খবর ছড়িয়েছে সারা দেশে, এখন মুখ দেখাব কিভাবে। বিশেষ করে ক্যান্টনমেন্টে ভাবীরা এ নিয়ে মুখরোচক আলোচনায় ব্যস্ত। ক্লাব পার্টি সব শেষ। এনিয়ে তোমাকে বহুত মানা করেছি, কিন্তু তুমি আর ভালো হলে না। শেষ পর্যন্ত মেয়ের চেয়েও ছোট বয়সী নিয়ে!! ছি ছি ছি! তোমার কি ভীমরতিতে ধরেছে। আমি আর পারছি না।”

অন্যদিকে আবেদীন সাহেবও স্ত্রীর ওপর পাল্টা চোটপাট নেন, “এই সামান্য বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করে তুমিই বড় করেছে! এক কান দু’কান ঘুরে এখন রাষ্ট্র হয়েছে। তোমাদের মেয়েদের নিয়ে এই এক বিপদ। নিজেরা যা বোঝো, সেটা নিয়েই থাকো। প্রফেশনের জন্য আমাকে কত যায়গায় যেতে হয়, কতকিছু করতে হয়, অথচ তোমরা থাকো বিছানা আর মেয়েলী ইস্যু নিয়ে! এখন ডিপার্টমেন্ট আমার মুখ দেখানোই দায় হয়ে পড়েছে।”

পরিবারিক বন্ধু কর্নেল পদমর্যাদার এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, “পারিবারিক কলহের খবর পেয়ে আমরা ছুটে যাই, কিন্তু পারিবারিক বিবাদের মধ্যে কতটা আর কি করা যায়? তাও আমরা বুঝিয়ে এসেছি। ভাবী তো ভীষন ক্ষেপে গেছেন। বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছেন। এমনকি আমেরিকাতে মেয়ের কাছেও চলে যেতে পারেন। যাই হোক, ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদেরকে মানিয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে এসেছি।”

নাম না প্রকাশ করার শর্তে সংস্থাটির এক কর্মকর্তা জানান, ডিজি ভীষন ডিস্টার্বড। অফিসারদের উপর চড়াও হচ্ছেন কারনে অকারনেই। এসব খবরের সুত্র বের করার জন্য তিনি সর্বতোভাবে লাগার হুকুম জারী করেছেন। আইটি বিভাগেকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন এর সোর্স বের করতে, কারা কোত্থেকে এত খবর প্রকাশ করে। অন্যদিকে ডিপার্টমেন্টের কিছু কিছু অফিসারদের প্রতি নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। ফোন কল এবং নেট কানেকশন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ডিপার্টেমেন্টর ভিতরে চলছে জরুরী অবস্থা। ডিজি এখন ভয়ে আছেন, কখন প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে ডাক পড়ে।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

Photo source: Facebook

গোলামতন্ত্র মানবেন? নাকি জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে মুক্তির পথ বেছে নেবেন?

।।এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান।।
১৯৯১ সালে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলামের কাছে আওয়ামী লীগের ভাষায় বললে ‘নালিশ’ করতে যান শেখ হাসিনা। দুই ঘন্টার নালিশে তিনি তৎকালীন বিএনপি সরকার, যারা মাত্র ছয় মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছিলো তাঁদের বিরুদ্ধে হেন কথা নাই, যা বলেন নাই।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটা তিনি বলেন তা বর্ণিত আছে যুক্তরাষ্ট্রের নথিতেঃ “SHEIKH HASINA SPENT A CONSIDERABLE AMOUNT OF TIME EXPLAINING WHY THE PARTY’S CALL FOR SOCIALISM WAS REALLY NOT/NOT A CALL FOR SOCIALISM. SHE SAID THAT SHE PERSONALLY HAD NO SYMPATHY FOR SOCIALISM, THAT SHE KNOWS THAT IT IS A FAILED SYSTEM, EVERYWHERE.”

আমরা যারা বাংলাদেশের রাজনীতির খোঁজ খবর রাখি, তারা ভালো করেই জানি আওয়ামী লীগের ঘোষিত চার মূলনীতির কথাঃ গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা আর বাঙালী জাতীয়তাবাদ।

গণতন্ত্রের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের অবস্থান সর্বজনবিদিত, ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে ভোট ডাকাতির নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র দুটি দুই পথে। যার প্রমাণ তারা দিয়েছে ১৯৮২ সালে এরশাদের সামরিক অভ্যুত্থানকে স্বাগত জানিয়ে, ১৯৮৬ সালে এরশাদের পাতানো নির্বাচনে অংশ নিয়ে, ১৯৯৬ সালে নাসিমকে দিয়ে সামরিক ক্যু করানোর চেষ্টা করে, ১৭৩ দিন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করে পরে ২০১১ সালে নিজেরাই তা সংবিধান থেকে বাদ দিয়ে, এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে অর্ধেকেরও বেশি প্রার্থীকে বিনাভোটে নির্বাচিত করে।

সমাজতন্ত্র যে হাসিনা মানে না সে কথা তো নিজ মুখেই স্বীকার করে নিয়েছেন, গণতন্ত্র মানেন না তা কাজে প্রমান করে দেখিয়েছেন।

বাঙালি জাতীয়তাবাদ একটা এক্সক্লুসিভ জাতীয়তাবাদ, তাই তাদের নিজেদের আদালতই এই জাতীয়তাবাদকে খারিজ করে দিয়েছে; ফলস্বরূপ টিকে আছে জিয়াউর রহমানের দেয়া বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ।

আর ধর্মনিরপেক্ষতা কি জিনিস, খায় না মাথায় দেয়, তাই-ই জানে না শেখ হাসিনা, জানলে তার এতটুকু ধারণা থাকার কথা যে নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ ঘোষণা করে মসজিদ-মাদ্রাসা বানানোর জন্য ছয় কোটি সরকারি অনুদান দেয়া পরষ্পরবিরোধী এবং কাবা ঘর তাওয়াফ করার সময় উলুধ্বনী দেবার বা দূর্গা দেবী গজে চড়ে আসার তথ্য দেয়া হাস্যকর।

তাহলে আওয়ামী লীগের নীতি কি?

আওয়ামী লীগের একমাত্র নীতি হচ্ছে গোলামতন্ত্র। এই গোলামতন্ত্রে শেখ পরিবার হচ্ছে সর্বশক্তিমান এক রাজ পরিবার, আর আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতা-কর্মী এই পরিবারের গোলাম।

আওয়ামী লীগের নেতা, পাতি-নেতা কিংবা তৃণমূলের একজন কর্মী হতে হলেও আপনাকে এই গোলামি স্বীকার করে নিতে হবে। আপনাকে মেনে নিতে হবে যে এই পরিবার এবং তাঁদের কৃতদাসেরা যা বলবে তাই-ই শুধু সত্য, বাকি সব মিথ্যা।

যেমন ধরুন তারা আপনাকে বলবে এসকে সিনহা একজন দুর্নীতিবাজ, কারণ সে মীর কাসেম আলীর ভাই এবং সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীর পরিবারের কাছ থেকে টাকা খেয়েছে মীর কাসেম আলী ও সালাউদ্দিন কাদেরকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন না যে, যদি এসকে সিনহা টাকা খেয়েই থাকে তবে সে কেন মীর কাসেম আলী আর সালাউদ্দিন কাদেরের বিপক্ষে রায় দিল?

একমাত্র নিকৃষ্ট গোলাম ছাড়া কেউ এই দলের সাথে যুক্ত হতে পারবে না। এইটাই এই দলের একমাত্র নীতি। আর কোন নীতি নাই। আপনি যদি এই গোলামি মেনে নিতে না পারেন তাহলে আপনি আওয়ামী লীগ করতে পারবেন না। এইজন্য আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষনেতাদের ৬০-৭০ শতাংশ পরবর্তী জীবনে লীগ করতে পারে না। এই জন্য ডঃ কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মনসুর আহমেদরা আওয়ামী লীগ করতে পারেন না। আর ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে রাজপথে টিকিয়ে রাখা মোস্তফা মহসিন মন্টুকে গণফোরামে যোগ দিতে হয়; হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গকে মৃত্যুর আগে বিএনপি’তে যোগ দিতে হয়, লিয়াকত-হান্নানকে হারিয়ে যেতে হয় আর মতিউর রহমান রেন্টুকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বই লিখে দেশান্তরী হতে হয়।

আজকে বাংলাদেশের যে সংকট, এর অন্যতম প্রধান কারণ এই গোলামতন্ত্র। আওয়ামী লীগ মনে করে তাঁদের সাম্রাজ্যে সবাইকে তাঁদের গোলাম হতে হবে। তাই লজ্জাজনক পরাজয়ের পর তাদেরই মনোনীত প্রেসিডেন্ট শাহবুদ্দীন আহমেদকে এরা গালাগালি করবে, কেন সে ২০০১ সালে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে বাতিল ঘোষণা করলো না।

একই কারণে নিজেদেরই মন্ত্রী একে খন্দকার যখন যুক্তি-তর্কের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করে দেন যে শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেন নাই, তখন সে যত বড় মুক্তিযোদ্ধাই হোন না কেন, তাঁকে রাজাকার বলতে দুই সেকেন্ডও সময় লাগে না শেখ হাসিনার।

আজকে এসকে সিনহার হাসিনার প্রিয়পাত্র থেকে চিরশত্রুতে পরিণত হওয়ার পেছনেও দায়ী এই গোলামতন্ত্র। বিচারপত্রি সিনহা যখন সাগর-রুনীর হত্যার বিচার করতে চেয়েছেন, তনু হত্যার বিচার করতে চেয়েছেন, বেসিক ব্যাংকের টাকার হদিস জানতে চেয়েছেন, বিচারকদের উপর আইনমন্ত্রীর খবরদারি বন্ধ করতে চেয়েছেন, ডিজিএফআই দিয়ে রায় লেখানো বন্ধ করতে চেয়েছেন- তখন শেখ হাসিনা আর মেনে নিতে পারেন নাই।

কারণ শেখ হাসিনা ভালো করে জানেন যে কেঁচো খুড়তে দিলে যে সাপ বের হবে, আর সেই সাপ দেখলে এই দেশের মানুষ আগামী একশো বছরে আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে না।

গতকাল নতুন ঐক্য প্রক্রিয়ার যে সূচনা হয়েছে, সেই ঐক্য প্রক্রিয়া হচ্ছে এই গোলামতন্ত্র ভাঙার প্রথম পদক্ষেপ। বাংলাদেশকে এই গোলামতন্ত্র থেকে মুক্ত করতে না পারলে, আজ হোক কাল হোক আপনিও এদের গোলামে পরিণত হবেন নয়তো দেশ ছাড়তে বাধ্য হবেন।

সিদ্ধান্ত আপনার।

1 3 4 5