ডাক্তার জাফরুল্লাহ সাহেব তো বিএনপির নেতা কর্মী হিসাবে কোনো পদে কোথাও নাইা। হ্যা বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারেন, কিন্তু তাই বলে দলের টপ নেতৃত্ব নিয়ে অবমাননাকর উক্তি করা নেহায়েত দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ। ‘নাক গলানো’, ‘ওহি বন্ধ করতে হবে’- এর মানে কি? ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কি দল চালাবেন না? উনার কথায় আছে তারেক রহমানকে সহ্য করতে না পারার ক্ষোভ! উল্টো বরং ডাক্তার সাহেবই নাক গলাচ্ছেন বেশি। তারেক রহমান কি ক্যু করে ক্ষমতা নিয়েছেন, নাকি কারাগারে যাওয়ার কারণে পার্টির চেয়ারপারসন তার ক্ষমতা বলে নিয়োগ দিয়েছেন? এ নিয়ে উনাদের কিছু লোকের এত উষ্মা কেনো? সমালোচনা করতে চাইলে দলে জয়েন করে ফেলুন, তারপরে বলতে পারেন।
ডাক্তার সাহেব কি খেয়াল করেননি, হাসিনা মাসের পর পর বিদেশ থেকে স্যাটেলোইটে দেশ ও দল চালিয়েছেন, তখন কোথায় ছিলেন তিনি? তখন তো তিনি বলেননি, এটা অসাংবিধানিক হচ্ছে, পদ ছাড়ুন! শুধু তারেক রহমান কথা বললেই তারা ফোঁস করে উঠেন কেনো? হাসিনার বিরুদ্ধে একবার কি যেনো বলে গোয়েন্দা ঘেরাওতে পড়ে সোজা হয়ে গিয়েছিলেন, মনে আছে! জমি দখলে রাখতে ও মামলা থেকে বাঁচাতে ’আব্বা আব্বা’ নাম জপতে হয়েছিল! আমাদের স্মৃতিতে সবই আছে। তিনি নিজেকে খুব বড় জাতীয় মুরব্বী মনে করলে সবাইকে নিয়া হাসিনার কাছে যান না কেনো, তাকে বুঝিয়ে ম্যাডামকে মুক্ত করে আনছেন না কেনো? হাসিনাকে তার অপকান্ডের জন্য, বেআইনী কর্মকান্ডের জন্য, খালেদা জিয়ার বিচারে হস্তক্ষেপ করে কারাগারে আটকে রাখার বিরুদ্ধে জোড়ালো চিৎকার করছেন না কেনো?
এখন উনি তারেক রহমানকে অফ করে নিজেরা বেগম খালেদা জিয়াকে জেলমুক্ত করার দায়িত্ব নিতে চান! ভালো কথা। তো মুক্ত করতে চেষ্টা করুন না। দেখান কি করতে পারেন। উনারা তো অনেক দৌড়ঝাপ করে ফ্রন্ট বানিয়েছিলেন, তারপর কি ঘন্টাটা করেছেন, জাতি দেখেছে!
তাই দেশের সর্ববৃহৎ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনকে নিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন অবমাননাকর উক্তি করা থেকে বিরত থাকবেন বলে আশা করি। মাথায় রাখবেন, এত বড় দলে কিছু পাগলও কিন্তু আছে, তারা অত বাছ বিচার করে না– অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারে।
বুদ্ধিজীবি হিসাবে পরামর্শ দিতে চাইলে কিছু শিষ্টাচার এবং সীমারেখা মেনে চলা দরকার।
স্বাধীনতার ৩৯ বছর পর একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রায় একদশক ধরে সেই ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ চলছে। এ পর্যন্ত ৪০ টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। শুরু থেকেই স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন গোলাম আরিফ টিপু। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ৪৮ বছর পর গত ১৫ ডিসেম্বর সরকার স্বাধীনতাবিরোধীদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই তালিকায় গোলাম আরিফ টিপুর নাম এসেছে। অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলিই নন, তিনি ছিলেন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে, এমন একটি সময়ে রাজাকারের তালিকায় তার নাম এসেছে যার কয়েক মাস আগে সরকারের সবচেয়ে সম্মানসূচক একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন গোলাম আরিফ টিপু। শুধু তাই নয় আশ্চর্য্যজনকভাবে এই তালিকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ফুফাতো ভাই আব্দুল হাই সেরনিয়াবাতের নাম রয়েছে। যিনি ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গে ঘাতকের হাতে নিহত শহীদ সেরনিয়াবাতের বাবা। অবাক করা বিষয় হচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধীদের এই তালিকায় বঙ্গবন্ধুর স্বজনের নাম যেমন রয়েছে তেমনি তার মন্ত্রিসভার সদস্য, বন্ধু, ঘনিষ্ঠ সহচরের নামও রয়েছে। রাজাকারের এই তালিকায় মুক্তিযুদ্ধের অনেক সংগঠকের নাম যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে শহীদের বাবা এমনকি স্ত্রীর নামও। এমনকি সারা জীবন যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তাদের নামও এই তালিকায় এসেছে। এসেছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার নামও। রাজাকারের এই তালিকা দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। সারাদেশে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তারা। অবেশেষে বিক্ষোভ আর প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত এই তালিকা স্থগিত করেছে সরকার। তবে এই তালিকা দেখে রীতিমতো হতভম্ব হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। তালিকায় নাম দেখে বিস্মিত, মর্মাহত ও অপমানিত মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তারা বলছেন, মন্ত্রণালয় সীমাহীন অযত্নে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে অত্যন্ত অবহেলার সঙ্গে সবচেয়ে স্পর্শকাতরমূলক এ তালিকাটি প্রচার-প্রকাশ করেছে। যদিও তালিকা প্রকাশের দিন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, এই তালিকায় যাতে নিরাপরাধ কেউ না আসে সে ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় যথেষ্ট সচেতন রয়েছে। তারা কোনো তালিকা করেননি। একাত্তরে রাজাকার, আলবদর, আলশামস বা স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক যারা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থাকা সেই পুরনো নথিটি মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে মাত্র। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেছিলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দীর্ঘ নয় মাস তাদের স্থানীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির সহায়তায় বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। এ সময় তারা ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনা করে সেই সব স্বাধীনতাবিরোধীর মধ্যে ১০ হাজার ৭৮৯ জনের নাম প্রথম তালিকা প্রকাশ করা হল। তিনি বলেন, ‘একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই, আমরা কোনো তালিকা তৈরি করছি না। যারা একাত্তরে রাজাকার, আলবদর, আলশামস বা স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং যেসব পুরনো নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত ছিল সেটুকু প্রকাশ করছি। এরপরও যেসব দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতেই নাম প্রকাশ করা হবে। কোনো তালিকা শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে প্রকাশ করা হবে না। অন্যায়ভাবে কেউ তালিকাভুক্ত হবে না।’ এ সময় মন্ত্রী বলেন, আইনে একটা কথা আছে, ১০টা অপরাধী যদি বেঁচেও যায় তবুও যেন একজন নিরপরাধ ব্যক্তি শাস্তি না হয়। তাই আমরা চাই না কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে এ কলঙ্কজনক তালিকায় নিয়ে আসতে। এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় সচেতন। আমি জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই অন্যায়ভাবে কেউ এ তালিকায় আসবে না। এমনকি এই তালিকা প্রকাশের আগে গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারেও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, এটি নতুন কোনো তালিকা নয়। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজাকারদের তালিকা আগে থেকেই রয়েছে। রাজাকার হিসেবে যারা যারা ভাতা নিয়েছে, রাজাকার হিসেবে যাদের নামে অস্ত্র এসেছে, স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও অনেক নাম রয়েছে, যারা রাজাকার হিসেবে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনীকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে- সেসব নাম জোগাড় করেই এই তালিকা আগে থেকেই ছিল। বিবিসিকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারেও তিনি বলেছেন, রাজাকার বাহিনীর সদস্যদের তালিকা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ছিল, সেগুলো সংগ্রহ করে এখন তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন কোন তালিকা হচ্ছে না। বরং রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসেবে যারা ভাতা নিয়েছেন বা যাদের নামে অস্ত্র এসেছে, তাদের নাম পরিচয় এবং ভূমিকাসহ রেকর্ড বা তালিকা সেই ৭১ সালেই জেলাসহ স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেই রেকর্ড সংগ্রহ করে রাজাকারদের তালিকাটি করা হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর যারা সহযোগী ছিল, রাজাকার হিসেবে যাদের নামে অস্ত্র ইস্যু করেছিল পাকিস্তান বাহিনী। এছাড়া যারা ভাতা পেতো এবং রাজাকার হিসেবে তাদের পরিচয়পত্রও দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। সেই ব্যক্তিদের তালিকা সরকারের কাছে সংরক্ষিত যা আছে, তা আমরা প্রকাশ করবো। নতুনভাবে রাজাকারের কোন তালিকা আমরা প্রকাশ করছি না। ৭১ সালে যে তালিকা ছিল, সেটাই আমরা সংগ্রহ করেছি। তবে কিছু এলাকার তালিকা পাওয়া যায়নি। সেগুলো তারা ধ্বংস করেছিল। যেটুক পাওয়া গেছে, সেটাই আমরা অচিরেই প্রকাশ করতে যাচ্ছি।” তবে বিতর্ক ওঠার পর রাজাকারের নামের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম আসার কারণ জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী দেশের শীর্ষ স্থানীয় একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “প্রথমত এই ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। এর কারণ হলো এই তালিকাটি ১৯৭১ সালের করা। আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংগ্রহ করেছি। একাত্তর সালে যা করা হয়েছে এর কোনো দাড়ি-কমাও আমি পরিবর্তন করি নাই।” তালিকা রাজাকারদের নয়, দালাল আইনে মামলার এদিকে বিতর্ক ওঠার পর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী দাবি করেছেন, তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যে তালিকা পেয়েছেন, তাই ছেপেছেন, নিজেরা কোনো তালিকা করেননি। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, ওটা রাজাকারের তালিকা নয়, দালাল আইনে যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিলো, সেই তালিকা। ১৮ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১০ হাজার ৭৮৯ জনের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তা রাজাকার, আলবদর, আলশামসের তালিকা নয়। দালাল আইনে যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল এটি তাদের নামের তালিকা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত দালাল আইনে যাদের নামে মামলা হয় এটি তাদের নামের তালিকা। তার মতে, অনেকে শত্রুতাবশতও অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। সেই নামগুলোও এ তালিকায় আছে। তারা দালাল আইনের আসামি। এর মধ্যে ৯৯৬ জনকে বিভিন্ন অভিযোগ থেকে খালাসও দেওয়া হয়েছে। আমরা খালাসপ্রাপ্তদের নামের তালিকাটিও নোট হিসেবে যুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে পাঠিয়েছিলাম। এখন দেখছি অনেক জায়গায় এ নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য, ভুলত্রুটি ধরা পড়ছে। দুই মন্ত্রীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, দায় কার? প্রকাশিত রাজাকারের তালিকা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, তারা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে রাজাকারের কোনো তালিকা দেননি। তাদের কাছে রাজাকারের কোনো তালিকা নেই। ১৯৭২ সালে দালাল আইনে যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেই তালিকাই মন্ত্রণালয় থেকে চাওয়ার পর ‘পেনড্রাইভে’ করে পাঠানো হয়েছে। গোপন এ তালিকা প্রকাশ করার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি। এমনকি প্রকাশিত এ তালিকার পাতায় পাতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার কোনো সইও নেই। সংবাদ সম্মেলনে ডাকা হয়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তাকে। এমন একটি তালিকা প্রকাশ করার পুরো দায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বলে দাবি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ তালিকা প্রকাশের দায় নিলেও তালিকাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পেয়েছে বলে দাবি করছে। তারা বলছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে রাজাকারের তালিকা চাওয়ার পর তাদের এই তালিকা দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তালিকায় কার নাম যুক্ত করেছে বা বাদ দিয়েছে কি না, তা তাদের জানা নেই। গত ১৫ ডিসেম্বর ‘একাত্তরের রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও স্বাধীনতাবিরোধী তালিকা প্রকাশ-প্রথম পর্ব’ শিরোনামে ১০ হাজার ৭৮৯ জনের নামের এই তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত ২৮ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের সময় বেতন-ভাতা নেওয়া রাজাকারদের তালিকা জেলা প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংগ্রহের সুপারিশ করা হয়। পরে ২১ মে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়ে তালিকা চাওয়া হয়। প্রথম চিঠিতে শুধু তালিকা সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হলেও গত ২৮ আগস্ট আবারও তালিকা পাঠানোর জন্য তাগিদ দিয়ে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়কালের রাজাকারদের তালিকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রয়েছে। মূলত জেলা প্রশাসনেই থাকে এগুলো। তবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত মাত্র ১১টি জেলা থেকে প্রতিবেদন আসে। এর মধ্যে চাঁদপুরে ৯ জন, মেহেরপুরে ১৬৯ জন, শরীয়তপুরে ৪৪ জন, বাগেরহাটে ১ জন ও নড়াইল থেকে ৫০ জন রাজাকারের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। অন্য ছয়টি জেলা থেকে শূন্য প্রতিবেদন আসে। বাকি জেলা প্রশাসকেরা জানান, তাদের জেলার রেকর্ডরুমে রাজাকারদের নামের তালিকা তারা পাননি। এদিকে মে মাসেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আধা সরকারি পত্র দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তালিকা চায়। মন্ত্রণালয় জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও আইসিটি) আবু বকর ছিদ্দীককে এ বিষয়টি খোঁজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। আবু বকর ছিদ্দীক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা খোঁজ করে দালাল আইনের ৯০২টি নথির খোঁজ পাই, যেখানে ১০ হাজার ৭৮৫ জনের নাম উল্লেখ ছিল। সেখানে রয়েছে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নামও। কোনো কোনো মামলায় ৪২১ জনের নামও রয়েছে। আমরা বিভাগ অনুযায়ী ভাগ করে পুরো তালিকাটি যোগ করে নিয়েছি নিজেদের সংগ্রহে রাখার জন্য। এরই মধ্যে মন্ত্রী মৌখিকভাবে টেলিফোনে তালিকাটি পাঠানোর নির্দেশ দেন। আমরা বলেছি আমাদের কাছে রাজাকারের তালিকা নেই। আছে দালাল আইনে যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেই তালিকা। তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে ৯৯৬ জন সাধারণ ক্ষমাও পেয়েছিলেন। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান একটি দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘এ দায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের। আমরা তাদের যে তালিকা দিয়েছি, তা তারা প্রকাশ করবে বলেনি। সংবাদ সম্মেলন করবে, সেটাও জানায়নি। আর আমরা বলিনি, এটা রাজাকারের তালিকা। আমরা প্রথম থেকে দালাল আইনে করা মামলার তালিকার কথাই তাদের বলেছি। তাদের উচিত ছিল যাচাই-বাছাই করে এ ধরনের একটি স্পর্শকাতর তালিকা প্রকাশ করা।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় রাজাকারের লিস্ট করবে। আমাদের কাছে তারা চিঠি পাঠিয়েছিল, আমাদের কাছে যে সমস্ত তথ্য আছে সেগুলো যেন পাঠানো হয়। রাজাকারের লিস্ট তৈরি করা দুরূহ ব্যাপার। আমরা প্রাথমিকভাবে দালাল আইনে যাদের নামে মামলা হয়েছিল, সেই দালাল আইনের লিস্টটা পাঠিয়েছি। সেই লিস্টে আমরা মন্তব্য করে দিয়েছি, অনেকের নামের মামলা উইথড্র করা হয়েছিল। সেটা তালিকায় যথাযথভাবে আসেনি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের রাজাকারের তালিকা আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত হবে।’ এ ধরনের বিতর্কিত তালিকা কেন প্রকাশ করলেন, জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পেনড্রাইভে যে তালিকা পাঠানো হয়েছে, সেটাই আমরা প্রকাশ করেছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের কী দায় থাকতে পারে। আমরা তো রাজাকারের তালিকাই চেয়েছিলাম।’ ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও টিপুর আবেদন রাজাকারের তালিকায় রাজশাহী বিভাগের ৮৯ নম্বরে (ক্রমিক নম্বর ৬০৬) রয়েছে গোলাম আরিফ টিপুসহ পাঁচজনের নাম। এই পাঁচজন এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ। আবার তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অ্যাডভোকেট মহসিন আলীর নামও রয়েছে সেই তালিকায়। তবে ব্যাপক প্রতিবাদ আর সমালোচনার মুখে রাজাকারের এই তালিকা স্থগিতের ঘোষণা আসার আগে ওই তালিকা থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার চেয়ে মুক্তযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন গোলাম আরিফ টিপু। এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে টিপু বলেন, “আমি একজন ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। আমি ৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ‘৫৪ , ‘৬২, ‘৬৬, ‘৬৯, ‘৭০ এবং ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। বর্তমান সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দায়িত্বটি পালনের জন্য যাচাই-বাছাই, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই আমাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে। অথচ আমার নাম রাজাকারের তালিকায়! আমি সত্যিই হতবাক, মর্মাহত, বিস্মিত ও অপমানিত।” তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সীমাহীন অযতœ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে অত্যন্ত অবহেলার সঙ্গে যে তালিকা প্রচার ও প্রকাশ করেছে, তা প্রমাণিত। বরিশালে রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা, শহীদের স্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯ নম্বর সেক্টরে মেজর আবদুল জলিলের নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখসমরে ছিলেন অ্যাডভোকেট তপন কুমার চক্রবর্তী। তার বাবা সুধীর কুমার চক্রবর্তীকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি বাহিনী। কিন্তু এই মুক্তিযোদ্ধা ও তার মাকে ‘একাত্তরের রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ও স্বাধীনতাবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে রাজাকারের তালিকায়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় স্বাধীনতাবিরোধীদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে তপন চক্রবর্তী ও তার মা উষা রানী চক্রবর্তীর নাম রয়েছে। সরকারি গেজেটভুক্ত, নিয়মিত সম্মানী পাওয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদের স্ত্রীর নাম স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকায় দেখে ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়েছেন বরিশালবাসী। বরিশালের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারা এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের প্রাক্কালে ‘শুধু মুক্তিযোদ্ধাকে নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপমান’ করা হয়েছে। পেশায় আইনজীবী তপন কুমার চক্রবর্তীর মেয়ে মনীষা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে বাসদের হয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ক্ষমতাসীন দলের প্রতিপক্ষ বলেই রাজনৈতিক কারণে এই তালিকায় তার বাবা ও দাদীর নাম রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মনীষা। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় যাকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিয়েছে, তাকেই আবার রাজাকার আখ্যা দিয়ে তালিকা প্রকাশ করেছে- এটি লজ্জাজনক ও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” রাজাকারের তালিকায় বঙ্গবন্ধুর ফুফাতো ভাই! বঙ্গবন্ধুর স্বজন ও পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট কালরাতে ঘাতকের হাতে নিহত শহীদ সেরনিয়াবাতের বাবা, বঙ্গবন্ধুর ফুফাত ভাই আব্দুল হাই সেরনিয়াবাতের নাম রয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায়। অথচ ১৯৭১ সালে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আব্দুল হাই সেরনিয়াবাত। রাজাকারের তালিকার বরিশাল অংশে ৫৮ নম্বর সিরিয়ালে নাম রয়েছে আবদুল হাই সেরনিয়াবাতের। আবদুল হাই সেরনিয়াবাত বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি সাবেক কৃষিমন্ত্রী প্রয়াত আবদুর রব সেরনিয়াবাতের একমাত্র বড় ভাই। আবদুর রব সেরনিয়াবাত মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে তিনি ভূমিপ্রশাসন, ভূমি সংস্কার এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি সম্পদ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। আবদুর রব সেরনিয়াবাত ১৯৭৩ সালে বরিশাল থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয়া, অস্ত্র দেয়া, খাদ্য সরবরাহসহ বহু কাজে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেন আব্দুল হাই সেরনিয়াবাত। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজ সম্পাদনের দায়িত্ব ছিল তার ওপর। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা এই মানুষটির নাম রাজাকারের তালিকায় প্রকাশিত হওয়ায় বিস্মিত তার সন্তান ও স্বজনরা। তারা এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও হতবাক। আব্দুল হাই সেরনিয়াবাতের ছেলে ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা আমান সেরনিয়াবাত ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, তার নির্দেশে আমরা ৪ ভাই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। যুদ্ধের সময় বাবা বাড়ি থাকতে পারেননি। মাঝে মধ্যে গোপনে এসে দেখা করে যেতেন। ৪৮ বছর পর আজ সেই ইতিহাস উল্টে গেছে। বাবার নাম রাজাকারের তালিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনার আমরা নিন্দা জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী শহীদ সেরনিয়াবাতের ভাতিজা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে মুজিব বাহিনীর প্রধান ছিলেন। বরিশালের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মিহির লাল দত্ত ও তার বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিতেন্দ্র লাল দত্তের নামও এসেছে তালিকায়। রাজাকারের তালিকায় বাবা ও দাদার নাম আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিহির লাল দত্তের ছেলে শুভব্রত দত্ত। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা একজন ভাষাসৈনিক এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদা ও এক কাকা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আমার বাবা ও শহীদ দাদার নাম কীভাবে রাজাকারের তালিকায় এসেছে, সেটা আমার বোধগম্য নয়।’ রাজাকারের তালিকায় বঙ্গবীর কাদেরের সহযোগী মুক্তিযোদ্ধার নাম মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই এবং ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর প্রতিবাদকারী হিসেবে আবদুল খালেক খসরুর সাহসের কথা বগুড়ার মুক্তিযোদ্ধাদের মুখে মুখে। বাংলাদেশ সরকারের গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা তিনি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রথম ধাপে রাজাকারের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে তার নাম আছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ছিলেন খালেক। ১৯৭১ সালে শত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য চাকরি ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। দেশকে শত্রুমুক্ত করতে জীবনবাজি রেখে অংশ নেন নানা গেরিলা অপারেশনে। স্বাধীনতার পর শেখ ফজজুল হক মণির নেতৃত্বে গঠিত যুবলীগের বগুড়া শাখার নেতৃত্ব দেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার প্রতিবাদে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে প্রতিরোধ সংগ্রামে অংশ নেন তিনি। ওই বছরের ১২ অক্টোবর তিনি মারা যান। মুক্তিযুদ্ধে সাহসী অবদানের কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটে তার নাম আছে। বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রাজাকারদের নামের তালিকায় সাবেক সাংসদ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কছিম উদ্দীন আহম্মেদ, সাবেক এমএনএ মজিবর রহমান, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মৃত ফরেজ উদ্দীন আহম্মেদ, আওয়ামী লীগ নেতা তাহের উদ্দীন সরদার, আওয়ামী লীগ নেতা মৃত মহসিন আলী মল্লিক, লাইব্রেরিয়ান মৃত হবিবর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা নজিবর রহমান, সান্তাহার কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি আবদুস শুকুরের নামও এসেছে রাজাকারের তালিকায়। বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রীর নামও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকায়! মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রী শাহজাদা আবদুল মালেক খানের নাম এসেছে। তিনি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে গঠিত মন্ত্রিসভার বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সেইসাথে ছিলেন বৃহত্তর পটুয়াখালী জেলার বাকশালের গর্ভনর। প্রকাশিত এ তালিকায় ২১ নম্বর পৃষ্ঠায় ১৯৭২ সালের ১৯ জুলাই দায়েরকৃত মামলায় তার নাম আছে ৭৫ নম্বরে। মামলা নম্বর ৪৪। মালেক খানের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাউনিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম আলী আবদুল্লাহ খান। রাজাকারের তালিকায় তার নাম আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বরগুনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবদুর রশিদ মিয়া। মালেক খান ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পাথরঘাটা বরগুনা আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিপরিষদের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন মালেক খান। তালিকায় আছেন বঙ্গবন্ধুর বন্ধুও রাজশাহীতে রাজাকারদের তালিকায় এসেছে স্বাধীনতা যুদ্ধের সংগঠকদের নাম। বাদ যায়নি পাকহানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ দুই সন্তানের বাবা ও খোদ বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচরও। আছে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপির নামও। কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে পড়ার সময়ই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল রাজশাহীর স্বনামখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালামের। বঙ্গবন্ধু ও আবদুস সালাম দু’জনই থাকতেন কলকাতার বেকার হোস্টেলে। তখনই ছাত্র মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন আবদুস সালাম। এরপর গড়ে উঠে গভীর বন্ধুত্ব। বঙ্গবন্ধু রাজশাহীতে গেলে ঘনিষ্ঠ বন্ধু সালামের বাড়িতেই উঠতেন। আবদুস সালামের নাতি অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান বাবু জানান, দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে যতবার রাজশাহীতে এসেছেন, প্রটোকল পরিহার করে উঠতেন বন্ধু আবদুস সালামের সিপাহীপাড়ার বাড়িটিতে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে রাজশাহীতে আবদুস সালামের বাড়িতেই প্রথম অপারেশন চালায় পাকহানাদার বাহিনী। অ্যাডভোকেট সালাম তার আগেই সীমান্ত পথে ভারতে চলে যান। তাকে না পেয়ে তার দুই ছেলে কলেজছাত্র ওয়াসিমুজ্জামান ও সেলিমুজ্জামান এবং ভাগ্নিপতি নজমুল হকসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যা করা হয়। অ্যাডভোকেট সালাম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির অন্যতম প্রাণপুরুষ ছিলেন। সারা জীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ছিলেন। তিনি মারা গেছেন ২০০৬ সালের ২১ ডিসেম্বর। অথচ কারা কীভাবে রাজাকারের তালিকায় তার নাম জুড়ে দিল তদন্ত করা প্রয়োজন। একই তালিকায় নাম রয়েছে অ্যাডভোকেট মিয়া মোহাম্মদ মহসিনেরও। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রবাসী সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের পানিপিয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের ইনচার্জ ছিলেন তিনি। ছিলেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দুইবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। কিন্তু সরকারি তালিকায় তিনি এখন রাজাকার! প্রধানমন্ত্রীর হক চাচাও রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম পরিষদের তৎকালীন বরগুনা পাথরঘাটা থানার আহ্বায়ক মজিবুল হকের নামও রয়েছে রাজাকারের তালিকায়। আজীবন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রাজনীতিবীদ হিসেবে পরিচিত এই মানুষটি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহচর, ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও শ্রদ্ধার পাত্র। ১৯৭১ সালে তৎকালীন বরগুনা মহকুমা মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি, ছিলেন পাথরঘাটা থানা কমিটির আহ্বায়ক। ১৯৭০ সালে পাথরঘাটা থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাকালীন সভাপতি নির্বাচিত হন মুজিবুল হক। ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ছিলেন এই দায়িত্বে। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাথরঘাটা-বামনা সংসদীয় আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেন তিনি। এমপি ফজলে করিমের বাবার নাম রাজাকারের তালিকায় রাজাকারের তালিকায় নাম এসেছে চট্টগ্রামের রাউজানের বর্তমান সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর পিতা একেএম ফজলুল কবির চৌধুরীর। প্রকাশিত তালিকায় ২০৩, ৫৯৫ ও ৬০৭ নম্বর ক্রমিকে তিন দফায় তার নাম রয়েছে। ফজলে করিম চৌধুরী রাউজান আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে টানা ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সিরাজগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকও রাজাকারের তালিকায় আওয়ামী লীগের নেতা সাবেক সাংসদ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের পরিচালক মরহুম মির্জা আবদুল লতিফের নাম ১৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় রয়েছে। এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মির্জা আবদুল লতিফ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার বংকিরহাট এলাকায় জন্ম গ্রহণ করেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলেও তিনি সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় ২০০৭ সালে ৫ নভেম্বর মারা যান। তালিকায় আওয়ামী লীগ বেশি: বিএনপি বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় আওয়ামী লীগের চিহ্নিত নেতাকর্মীরাই সংখ্যায় বেশি। অন্যকে ফাঁসাতে গিয়ে এবার আওয়ামী লীগ নিজেরাই ফেঁসে গেছে।” তিনি বলেন, “এতে জনগণ অবাক হয়নি। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আওয়ামী লীগের নেতারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন কি না এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।” রিজভী বলেন, “আওয়ামী লীগের থলের বেড়াল বের হতে শুরু হওয়ায় তা প্রত্যাহারের প্রশ্ন উঠেছে।” প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘পুরো বিষয়টি রহস্যজনক’ চারদিন ধরে তীব্র সমালোচনা ও বিক্ষোভের পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ধমক’ খেয়ে ভুলে ভরা রাজাকাদের তালিকা আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। যাচাইবাছাই শেষে আগামী ২৬ মার্চ কিংবা আরো পরে রাজকারদের নতুন তালিকা প্রকাশ করা হবে। তালিকা স্থগিত ও ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলার পর ১৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কীভাবে রাজাকারদের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম চলে এলো তা রহস্যজনক। তালিকা প্রকাশ করতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় গোলমাল করে ফেলেছে। এই তালিকাটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। এটি খুব খারাপ কাজ হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, এটি খুব কষ্টের বিষয়। যার পরিবারের সদস্যরা শহীদ হয়েছেন, যুদ্ধ করেছেন- তাদের যদি ‘রাজাকার’ শব্দটি শুনতে হয়, তাহলে খারাপ লাগারই কথা। আমি বলব যারা দুঃখ পেয়েছেন তারা শান্ত হোন। যারা মুক্তিযোদ্ধা তারা কোনোদিনও রাজাকারের তালিকায় থাকতে পারেন না। এটি হতে পারে না। আওয়ামী লীগ সভাপতি আরো বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীকে বলেছিলাম, তালিকাগুলো নিয়ে ভালোভাবে যাচাইবাছাই করতে হবে। এত তাড়াতাড়ি এটি প্রকাশ করার কথা নয়। তাও বিজয় দিবসের আগে। এত সুন্দর বিজয় দিবস উদযাপন করলাম, কিন্তু শহীদ পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এতে কষ্ট পেয়েছেন। তালিকাটি সময় নিয়ে প্রকাশ করা দরকার ছিল। আসলে আমিও ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম সবদিক সময়মতো খেয়াল রাখতে পারিনি। তবে বিশ্লেষকরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, মন্ত্রিত্ব তো কোনো শিক্ষানবিস পদ নয়। ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি কী দাঁড়ালো? এতো গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ করা হয়েছে অত্যন্ত অযত্ন-অবহেলায়। দুটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সামান্যতম কোনো সমন্বয় নেই। মাঠ পর্যায়ে কোনো অনুসন্ধান নেই। নেই কোনো গবেষণা। কোনো তথ্য সংগ্রহই করা হয়নি। যাচাই-বাছাই তো দূরের বিষয়। বলা হচ্ছে, স্থগিত করা রাজাকারের তালিকা ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে প্রকাশ করা হতে পারে। এই তালিকা থেকে পরিচিত কিছু নাম বাদ দিলেই সুষ্ঠু রাজাকারের তালিকা হয়ে যাবে? বিষয়টি এতো সহজ! বহু রাজাকার ঢুকে গেছে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়। রাজাকারের তালিকায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের। এর কারণ কী? অভাব কীসের? সক্ষমতা না আন্তরিকতার? কোনো সন্দেহ নেই মুক্তিযোদ্ধা বা রাজাকারের সঠিক-শুদ্ধ তালিকা করা সহজ বিষয় নয়। কিন্তু, তা এতোটা কঠিন নয় যে এমন তালগোল পাকিয়ে ফেলতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা বা রাজাকারের তালিকা করার আগে রাজনৈতিক বিবেচনা সম্পূর্ণ পরিহার করে ‘নির্মোহ’ শব্দটি আত্মস্থ করতে হবে। ( সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে প্রকাশিত)
সারা বিশ্ব তো বটেই, শুধু এশিয়া প্যাসিফিকেও বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার অবস্থান নিচের দিকে। বাংলাদেশের ওভারওল স্কোর ৫৩,২ এবং ১১৩ টি জরিপ কৃত দেশের মধ্যে অবস্থান ৮৩ তম।
সূচকের চারটি প্রধান স্তম্ভ- ১। খাদ্য সাশ্রয়যোগ্যতা ২। প্রাপ্যতা ৩। খাদ্যের গুণগত মান এবং সুরক্ষা। ৪। জাতীয় সম্পদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
এগুলোকে খুব ভালো, ভালো , মাঝারি, দুর্বল ও রিস্কি এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
খাদ্য সাশ্রয়যোগ্যতায় ৬০,৪ পেয়ে বাংলাদেশ ভালো করেছে। খাদ্য প্রাপ্যতায় ৫৮,৮ এর স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ মাঝারি অবস্থায় আছে।
তবে সূচকের অন্য স্তম্ভ্য খাদ্যের গুণগত মান এবং সুরক্ষায় বাংলাদেশের পারফরম্যান্স অতি নিন্মমান, স্কোর মাত্র ৩০.৬। পাশাপাশি আছে “জাতীয় সম্পদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা” নামক আরেকটি স্তম্ভ, বাংলাদেশ এখানে মাঝামাঝি ৫০,২ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বে ৮৩ তম স্থানে আছে।
বিপরীতে আমরা যদি পশ্চিম আফ্রিকার দেশ দেশ ঘানার সাথে তুলনা করি, তাহলে দেখতে পাই যে, ঘানার স্কোর গুলো নিন্নরূপ।ঘানার ওভারওল স্কোর ৬২,৮। ১১৩ দেশের মধ্যে ৫৯ তম। ১। খাদ্য সাশ্রয়যোগ্যতা > ৬৬,৩ ২। প্রাপ্যতা >> ৬১,৭ ৩। খাদ্যের গুণগত মান এবং সুরক্ষা। >> ৫৭,১ ৪। জাতীয় সম্পদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা>> ৫৩
নিজেকে বৈশ্বিক উন্নয়নের রোল মডেল দাবী করা বাংলাদেশের স্কোর সবক্ষেত্রেই ঘানার চেয়ে পিছিয়ে!
বাংলাদেশের প্রধান প্রধান ঝুঁকির দিকঃ খাদ্যের গুণগত মান এবং সুরক্ষা বিভাগের খাবার গ্রহণের বৈচিত্র, মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট এবং প্রটিন কোয়ালিটি এই তিনটি বিষয়ে বাংলাদেশ ঝুঁকি পুর্ণ অবস্থায় আছে।
প্রোটিন কোয়ালিটিতে বিশ্বের গড় স্কোর যেখানে ৪৭, সেখানে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ৪.৭।
২০১৯ এর সূচকে খাদ্য সাশ্রয়যোগ্যতায় বাংলাদেশ ভালো করেছে। কিন্তু ২০১৯ শেষ দিকে এসে বেশ কিছু খাদ্য পণ্যের মুল্য বৃদ্ধি পাওয়ায়, কিছু কিছু খাদ্য পণ্য প্রাপ্যতায় কিছুটা জঞ্জাল তৈরি হয়েছে বিধায়, এটা নিশ্চিত বলা যায় যে ২০২০ এর সূচকে এই বিভাগ দুটিতে বাংলাদেশ খারাপ পার্ফর্ম করবে।
আওয়ামীলীগ সংখ্যা লঘু নির্যাতন প্রতিরোধে “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করে যেসব ভালো ভালো কাজ করেছে, এই ক্রিটিক্যাল সময়ে এসে সে ক্রেডিট ক্লেইম করতে পারছে না কেন?
মূলত বাংলাদেশে দেশের হিন্দু নির্যাতন ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ/অযুহাতকে সামনে এনে মুসলমানদের বাদ রেখে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী বে-নাগরিকদের নাগরিকত্ব দেয়ার আই পাশ করেছে গেরুয়া ব্লক। কিন্তু বাস্তবতা কি বলে? বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে এক বছরের ব্যবধানে দেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বী বেড়েছে। ২০১৫ সালের হিসাবে, দেশের মোট জনসংখ্যার ১০ দশমিক ৭ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিল, আগের বছর এর হার ছিল ৯ দশমিক ৯ শতাংশ।
বিবিএস তথ্যের পাশাপাশি ভারতী বিদেশ মন্ত্রক থেকেও বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন কমা ও হিন্দু জনসংখ্যা বাড়ার স্বীকৃতি এসেছে।
১৮ জুলাই, ২০১৮ রাজ্যসভায় (সংসদের উচ্চকক্ষ) প্রশ্নের উত্তরে সুষমা স্বরাজ বলেছেন বাংলাদেশে হিন্দুর সংখ্যা ৬ বছরে দুই শতাংশ বেড়েছে। ‘বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা কমছে’— এ ধারণা খণ্ডন করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, ২০১১ সালে ওখানে জনসংখ্যার ৮ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল হিন্দু। ২০১৭ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা ও হয়রানির কিছু কিছু সংবাদ সত্য। তবে ওসবের প্রতিকারে বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থা নিয়েছেন।”
বাংলাদেশ সরকার হিন্দু নির্যাতন প্রতিরোধে প্রমাণিত ও গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে বিগত ১১ বছরে, তাই একই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করে নতুন একটি বৈষম্য মূলক আইন পাশ করা ঘটনা কূটনৈতিক চ্যানেলে শক্ত ভাবে প্রতিবাদ করার বিষয়। কিন্তু আমরা কোন প্রকাশ্য অবস্থান দেখছি না। না সরকারের, না দল হিসেবে আওয়ামীলীগের!
যেখানে তার ক্রেডিট নিবার কথা সরকারের, সেখানে সে মিন মিন করছে কেন? এটা কি শুধুই অবৈধ ক্ষমতায়ন সমর্থনের শর্ত, যার কারণে আওয়ামীলীগ এই ক্রান্তিকালেও চুপ রয়েছে?
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভয়কে জয় করে স্কুল শিক্ষাকে মানসম্পন্ন ও মানবিক করুন।
সমাজ ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দুর্বিত্তায়নের একমুখী ও ক্রমাগত পেনিট্রেশনের মধ্যে দিয়ে সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বিষয়াদির মধ্যে আছে আমাদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থাপনা। রাজনৈতিক দুর্বিত্তায়নের কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থাপনার মান, শ্রেণী শিক্ষার মান, শিক্ষকের মান ইত্যাদি পড়ে গেছে। জ্ঞান, প্রজ্ঞা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা তৈরি ও রক্ষার সামাজিক প্রতিষ্ঠান গুলো অধঃপাতে যাওয়ায়, “মান” বিষয়টা সব যায়গা থেকে হারিয়ে গেছে। রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন স্থানীয় সরকার এবং তৃণমূলের দিকে অগ্রসর হবার সাথে মেম্বার, চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড কমিশনার, মেয়র কিংবা এমপি’রা স্থানীয় স্কুল গুলোর অবিভাবক কমিটির সভাপতির পদ বাগিয়ে নিয়েছে। ফলে স্কুল ভর্তি এবং শিক্ষক নিয়োগ বেপারোয়া রাজনৈতিক জালিয়াতির অতলে গেল এবং সেই সাথে গেল শিক্ষার মান এবং অবিভাবক সচেতনতা। বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তি হিসেবে নিজেদের পরিচিত করে একদল কালো টাকার মালিক, ব্যবসায়ী কাম রাজনৈতিক দুর্বিত্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় এসে চাঁদার বিনিময়ে স্কুল ভর্তির বাণিজ্য দাঁড়া করেছে। ফলে সব দিক থেকে শ্রেণী শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নৈরাজ্যকর হয়ে উঠেছে। এই নৈরাজ্যের ব্যবস্থায় শিক্ষক নামধারী কিছু নির্বোধ তৈরি হয়েছে। ফলে সাধারণ অভিভাবকগণ স্কুল প্রশাসনের ভয়ে ভীত। আগের দিনে ভালো স্কুল গুলোর শিক্ষকদের বিএড, এম এড ডিগ্রি থাকা লাগতো। এই বিএড এবং এম এড কোর্সে শিক্ষকগণ শ্রেণী পাঠদানের পদ্ধতি, ছাত্র ছাত্রীর সাথে যোগাযোগের (মুড অফ কমিউনিকেশন) বিষয়ে ধারণা পেতেন। অর্থাৎ শিক্ষাকে অর্থবহ করার একটা চেষ্টা ছিল তাতে। কয়েকজনের সাথে আলাপ করে বোঝা গেল, এইসব ট্রেনিং এ কিভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক এজেন্ডার বাস্তবায়ন ঘটানো যায় তার নির্দেশনা আসে এখন।
১। স্কুল প্রশাসনের শিক্ষাদান ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম ট্রান্সপারেন্ট হচ্ছে কিনা, বৈষম্যহীন এবং মান্সসম্পন্ন হচ্ছে কিনা তার জন্য একটা স্থায়ী “স্টান্ডার্ড অডিটিং” সিস্টেম থাকা দরকার, যেখানে একটি স্কুল বছরে অন্তত একবার নিরীক্ষায় পড়বে এবং এর মধ্য দিয়ে বহুবিধ “মানের” ইনডেক্সে স্কুল ও শিক্ষকের র্যাংকিং হবে। এই অডিটিং ব্যবস্থার ফলাফল অনলাইন করা হবে যাতে যে কেউ যে কোন সময় স্কুল শিক্ষার মান, ব্যবস্থাপনা মান এবং শিক্ষক মূল্যায়নের স্কুল ভিত্তিক গড় স্কোর অনলাইনে দেখতে পাবে। শুধু ব্যক্তি শিক্ষকের শিক্ষাদান ও ডেভেলপমেন্ট স্কোর পাব্লিকলি এভেইলেবল হবে না যা স্কুল পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে। এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রশাসনের মানগত ভিজিবিলিটি আসবে আর ব্যক্তি অভিভাবকও শিক্ষার মানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত কিংবা চাপ দিতে পারে। বাংলদেশে শিক্ষা প্রশাসনে ভিন্ন ভিন্ন খাত ব্যবস্থাপনায় উচ্চ হারে টাকা খরচ হলেও “নিয়মিত বাৎসরিক বা ষান্মাসিক” স্কুল শিক্ষা মান ও শিক্ষাদান পদ্ধতি যাচাইয়ের মানদণ্ড বা স্টান্ডার্ড চেকলিস্ট তৈরি হয়নি। পরিচালনা কমিটির নামে অভিভাবক কমিটি এবং রাজনৈতিক নেতারা এইসব কাজ করছে এবং যে যেভাবে পারছে নিজ নিজ ক্ষমতা প্রয়োগ করছে। যে অভিভাবক কমিটি স্কুলের সাধারণ কাজে সাহায্যকারী (খাবার, ক্লিনিং, ইভেন্ট আয়োজন) হিসেবে থাকার কথা শুধু, তারাই দেখা যাচ্ছে তারা স্কুল পরিচালনাকারী এবং নিয়োগদাতা হিসেবে কাজ করছে। তারাই সব খরচ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করছে, করছে ভর্তি বাণিজ্য। লাভজনক হয়ে যাবার কারণে রাজনৈতিক নির্বাচনের মতই অভিভাবক নির্বাচনও একটা বড় ব্যবসা হয়ে গেছে।
২। সর্বস্তরের শিক্ষায় শিক্ষক মূল্যায়ন (ট্রেনিং একাডেমী, বহিরাগত শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী, তবে স্কোরিং ওয়েট নিয়ে আলোচনা হতে পারে) চালু করা। শিক্ষকদের কোম্ফোর্ট জোন থেকে বের করে এনে কন্টিনিউস ডেভেলপমেন্ট এবং সিকুয়েনশিয়াল স্টেইজে বিন্যস্ত ট্রেনিং ফেইজে নিয়ে আসা দরকার। এই ট্রেনিং গুলোতে শিক্ষকদের জ্ঞানগত উন্নতি যেমন প্রাধান্য পাবে, তেমন শিক্ষা দানের মানবিক ও আনন্দময় পদ্ধতিও প্রাধান্য পাবে।
৩। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকের কোচিং নিষিদ্ধ করা এবং শিক্ষকের বেতন নগরে পরিবার নিয়ে চলার মত পরিমাণে (কষ্ট অফ লাইফ) বাড়ানো না গেলে স্কুল শিক্ষাকে প্রতিস্থাপন করে ফেলা কোচিং কখনই বন্ধ হবে না।
৪। কোচিং বন্ধের পরোক্ষ পদক্ষেপ হিসেবে মূল সাবজেক্টে বাড়ির কাজ দিবার প্রথা উঠিয়ে দেয়া নিয়ে ভাবতে হবে, শিক্ষক কে বাধ্য করতে হবে বাড়ির কাজ শিক্ষার্থী স্কুলেই সারবেন। এটা করা হয় কিনা তার জন্য র্যান্ডম অডিট ব্যবস্থা চালু করতে হবে। বাড়ির কাজে যাবে শুধু নৈর্বত্তিক ও ঐচ্ছিক বিষয়াদি, যেমন দেশের বিভিন সমস্যা, দূষণ, পরিবেশ জলবায়ু পরিবর্তন গত বিষয়াদি, শৃঙ্খলা গত জ্ঞানের হোম ওয়ার্ক, যার সাথে পরিক্ষায় মার্ক পাবার কোন সম্পর্ক নেই। এর বাইরে যা করতে হবে, তা হচ্ছে দৈবচয়নে বহিরাগত শিক্ষক দিয়ে প্রশ্ন তৈরি ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের নিশ্চয়তা। এতে করে বেশি নম্বর পাবার জন্য নির্দিস্ট শিক্ষকের বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়ার বাধ্যবাধকতা কমে যাবে।
৫। ছাত্র ছাত্রীর প্রমোশন একক লিখন পরিক্ষা নির্ভর না করে সেখানে কথন, বলন, লিখন, শ্রবণ ঝোঁক উপস্থাপনা এবং বুদ্ধিমত্তা নির্ণয় কেন্দ্রিক স্কুল পরিক্ষা মডেল চালু করুন। একক লিখন কেন্দ্রিক পরিক্ষায় বহু মুখস্ত করার ঝোঁক থাকে বলে নকলের প্রবণতা প্রবল।
৬। স্কুল কিভাবে অভিভাবকের সাথে যোগাযোগ করবে তার “মুড অফ কমিউনিকেশন” ঠিক করা চাই। অর্থাৎ একটা শিক্ষা সহায়ক এবং ইন্টারেক্টিভ স্কুল কমিউনিকেশন ব্যবস্থা দাঁড়া করানো দরকার যেখানে স্কুল বছরে অন্তত দুইবার শিক্ষার্থীর বহুবিধ ডেভেলপমেন্ট নিয়ে অভিভাবকের সাথে একটা মানবিক, মর্যাদাপুর্ণ এবং শিক্ষা সয়াহক পরিবেশে কমিউনিকেইট করবেন। আবার এই যোগাযোগের কতটা অনলাইন হবে এবং কতটা অফলাইন হবে সেটাও ঠিক করতে হবে।
৭। মাধ্যমিক পর্যন্ত পাবলিক স্কুলিং এলাকা ভিত্তিক করে এলাকা ভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডেভেলপে মনঃ দেয়া দরকার। এতে ভর্তি বাণিজ্যে ভাটা আসবে এবং অভিভাবক কমিটির দাপট কমে আসবে। অন্যদিকে স্কুলিং এলাকা ভিত্তিক হলে নগরে যানজট কমবে, অর্থাৎ আন্তঃ এলাকা যান পরিবহণ কমিউটেশন কমে আসবে।
৮। স্কুল শিক্ষাকে লিখতে পারা, অংক পারা আর মুখস্ত বলতে “পারা”র হিসেব থেকে বের করে আনতে হবে। একটা বাচ্চার মানসিক, সামাজিক, ইমোশনাল, বিহেভিয়ারাল, এথিক্যাল, ফিজিক্যাল, বুদ্ধিগত ও শিক্ষা গ্রোথ মিলিয়ে বহুবিধ ডেভেলপমেন্ট যাচাই হোক মূল থিম। এতে কোন বাচ্ছার কোন ধরণের ডেভেলপমেন্ট এইড দরকার তা বেরিয়ে আসবে এবং সেভাবে স্কুলিং ব্যবস্থা সাজানো যাবে। স্কুলে ডাক্তার, মোনোবিদ রাখা, পরিবেশ সচেতন পরিচ্ছন্নতা কর্মী রাখা সময়ের দাবি।
৯। শুধু মাত্র অতি নিন্ম মানের টয়েলেটের কারণে আমাদের ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতে চায় না। দীর্ঘ সময় টয়লেট চেপে থাকার কারণে তাঁদের রোগবালাই তৈরি হচ্ছে। স্কুলে স্যানিটারি ফ্যাসিলিটি না থাকায়, সীমিত কিছু স্কুলে থাকলেও তার মেইন্টেনেন্স না হওয়ায় শহর গ্রামের স্কুলে মেয়েদের খুব অসুবিধা হয়। অধিকাংশ স্কুলের টয়লেটে নাক চেপে যাওয়াও দায়।
১০। মাথাপিছু শিক্ষার্থী সংখ্যার বিপরীতে শিক্ষক সংখ্যার মানদন্ড তৈরি করা আজ বড়ই দরকার। ভিকারুন্নিসা স্কুলে দেখা গেছে একটা মাত্র শ্রেনীকক্ষে ৮৪ জন শিক্ষার্থী, এই সমস্যা বহু স্কুলে। একজন শিক্ষকের পক্ষে এক ঘন্টায় ২০ বা ২৫ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে সময় দেয়া অসম্ভব। শ্রেণীতে অধিক সংখ্যক ছাত্র ছাত্রী থাকায় তারা ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে, আর যাচ্ছে, কিন্তু শিক্ষক জানেন না তারা কি শিখছে! এভাবে চলে না। স্কুলে সংখ্যা বাড়াতে হবে, মাথাপিছু শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষক সংখ্যা বাড়াতে হবে। শিক্ষকের ট্রেনিংকে কিন্টিনিউস ডেভেলপমেন্টে আনতে হবে।
১১। বাংলাদেশের স্কুল গুলোতে ছোট ছোট সময়ের যেমন ৫০ মিনিটা বা ১ ঘন্টার ক্লাসে একই দিনে প্রায় সব বিষয় পড়ানোর চল আছে। এতে করে শিক্ষকরা গাল গল্প করে, পড়া ধরার নাম করে সময় ক্ষেপণ করে চলে যান। বিপরীতে দীর্ঘ পিরিয়ডে ক্লাস নিয়ে কিভাবে পড়ালেখা স্কুলেই সীমাবদ্ধ রাখা যায় রার স্থায়ী পদ্ধতি ডেভেলপ করতে হবে। অষ্টম পর্যন্ত (প্রাথমিক ও নিন্ম মাধ্যমিকে) বাড়ির কাজের নিময় একেবারেই তুলে দিয়ে স্কুলকেই প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার কেন্দ্র বানাতে হবে। একটা দীর্ঘ সময় স্কুলে থাকার পরেও আমাদের সন্তানদের বাড়িতে এসে পড়তে হবে এটা মানা যায় না। তাই মাথাপিছু শিক্ষকের নিয়োগের মানদণ্ড ঠিক করে দিতে হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। আমাদের দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে কিন্ত তা কর্মসংস্থান তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ অল্প সংখ্যাক শিক্ষক দিয়ে অনেক বেশি সংখ্যক ছাত্র ছাত্রীর পাঠদান চালিয়ে নেয়া। অল্প সংখ্যক ডাক্তার নার্স দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে নেয়া। অল্প সংখ্যক পরিচ্ছতা কর্মী দিয়ে বর্জ্যব্যবস্থাপনা চালিয়ে নেয়া। অর্থাৎ সব সেবা খাতেই মানের বালাই না করে যেনতেন করে সেবা চালিয়ে নেয়া। ফলে মান জিনিসটা সব জায়গা থেকে উঠে গেছে।
বার্ষিক সমাপনী পরিক্ষা শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে আরো একটি শিক্ষা বর্ষ শেষ হতে চলেছে। যেহেতু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা একটা ভয় ও চাপের যৌথ প্রযোজনা, তাই বছরের এই শেষ কয়েকটা দিন যেন আমাদের শিক্ষার্থীদের হাঁফ ছেড়ে বাঁচার উপলক্ষ, অন্তত কয়েকটা দিনের জন্য হলেও। এই মুক্ত সময়ে কোমলমতি ছেলে মেয়েদের উচ্ছ্বাস গুলো যেন আকাশ ছুঁতে চায়। ইচ্ছারা সব মুক্ত বিহঙ্গ হয়ে বাতাসে উড়তে চায়।কিন্তু তাতেও বাঁধ সেধেছে পরিবেশ, পরিস্থিতি, রাজনীতি ও অটেকসই উন্নয়ন। খেলার মাঠ নেই। নগরীতে নিশ্চিন্তে বাইরে বেরুনোর নূন্যতম নিরাপত্তা নেই। যানজটে সম অপচয়ের অন্তঃ নেই। পৃথিবীর প্রথম তিনিটি অতি দূষিত শহরের তালিকায় থাকা রাজধানীর বাতাসে ধূলি ও ভারী ধাতুর উপস্থিতিতে, অতিমাত্রার স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার সুযোগ নেই। অতি কাজ ও যানজটের চাপে নেই বাবা মায়ের সময়। নেই বেড়াতে যাবার ফুসরত!গ্রামের সাথে সংযোগ হারিয়ে শহুরে ক্লেদ ও ক্লান্তির জীবনের সাথে ওয়ার্ক লাইফ ব্যালান্সের কোন যোগ নেই। বিচ্ছিন্ন পারিবারিক মডেলের বিস্তারের সাথে সাথে বর্ধিত পরিবারের সাথে নিবিড় সম্পর্ক নেই।ফলে বিরক্তি অনিচ্ছা, ভয় ও চাপের স্কুল, স্কুল পরিক্ষা আর ক্লাস থেকে আপাত রক্ষা পেলো মুক্তি ও স্বাধীনতার কোন উপলক্ষ নেই। তাই ঘরে বসেই অলস সময়ের বিরক্তি আর টিভির যন্ত্রণা উদযাপন। এরি মধ্য দিয়ে ছুটি নামের এই বিরক্তিকর দিনগুলো শেষ হবে। দ্রুতই ফিরতে হবে সেই স্কুল ও শিক্ষা নামের জেলখানায়।
শিক্ষা ও স্কুল নামের নামের এই জেলখানা গুলোকে মানসম্পন্ন, আকর্ষনীয়, মানবিক করার টেকসই ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করুক আমাদের শিক্ষা প্রশাসন। স্কুল ও শিক্ষা আনন্দময় করার রাজনৈতিক উদ্যোগ নিক আমাদের সরকার। স্কুল যেন আমাদের বাচ্চাদের কাছে ভয়ের বিষয় হয়ে না থাকে।
অদক্ষ ও স্বল্প দক্ষ পুরুষ শ্রমিক বাজারের ক্রমাগত সংকোচনের মূখে,শুধুমাত্র প্রবাসী নারী শ্রমীকদের উপর ভর করে রেমিটেন্স প্রবাহ এখনও ঠিক আছে বটে, তবে নির্যাতনের মুখে এই বাজারও ঝুকিপূর্ণ হয়ে গেছে। মাত্র এক বছরের মধ্যেই রেমিটেন্স প্রবাহে মন্দা শুরু হতে পারে। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার সাথে শ্রমবাজার খোলার আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো মালয়েশিয়ার “ব্যাক ফর গুড” কর্মসূচীর আওতায় প্রায় ৩২ হাজার প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরতে নিবন্ধন করেছেন। এর বাইরে মধ্যপ্রাচ্য থেকেও ফেরত আসছেন প্রচুর শ্রমিক।
অব্যহত বাজেট ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি প্রকল্পের নামে অতি উচ্চ খরচ ও বেপারোয়া লুটে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির গতি লাগামহীন। বিপরীতে আয় নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় আছে রাজস্ব খাত। ভ্যাট, আয়কর ও বিভিন্ন শুল্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে না। আসলে টেনে হিঁচড়ে যা বাড়ানো যেত, তা বাড়ানো হয়ে গেছে। সরকার বিএনপি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চেয়ে রাজস্ব কর, মূসক ও শুল্ক আয় অন্তত তিনগুণ বৃদ্ধি করে বিশাল ক্রেডিট নিয়েছে। এটা করতে গিয়ে ব্যবসা ও বাজারের স্থিতিস্থাপকতা ভেঙে দিয়েছে। যেহেতু দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৭০ ভাগের উপরে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত থেকে আসে, তাই বেশি সংখ্যক অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে রাজস্বের আওতায় নিয়ে আসায় কর্মসংস্থান চাপে পড়ে গেছে। বেকারত্ব অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে।
বেশ কিছু খাতে ভ্যাটের অতি চাপে বহু ছোট কোম্পানি বসে গেছে। সাইফুর রহমান ও শাহ কিবরিয়া সাহেবদের রক্ষণশীল ভ্যাট কর ও শুল্ক নীতির কারণে বহু খাত প্রতিষ্ঠানিক অর্থনীতিতে আসেনি। বর্তমান সরকার এটার সুবিধা বড্ড বেশি নিয়ে ফেলেছে। অর্থাৎ ধীরে ধীরে আয় বাড়ানোর বিপরীতে অতি দ্রুত আয় বাড়াতে গিয়ে সরকার বিপদে পড়েছে। বছর বছর অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকা করে বাজেট ব্যয় বাড়াতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে আয় ব্যয়ের ঘাটতি বা বাজেট ঘাটতি আর নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
বিশাল আকারের বাজেট দিয়ে এখন আয় নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়কে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি প্রায় ২০ হাজার ২২০ কোটি টাকা। এই চার মাসের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের সামান্য বেশি, অথচ এবার গত অর্থবছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে। বিগত বছরে মোট রাজস্ব ঘাটতি ছিল প্রায় ৫০ হাজার কোটি। একটি প্রান্তিকেই যেখানে ২০ হাজার কোটি ঘাটতি, সেখানে চার প্রান্তিক (কোয়ার্টার) মিলে ঘাটতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
এদিকে রপ্তানি আয়ে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। শুধু মাত্র অর্থবছরের প্রথম মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল। পরের চার মাসে টানা ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) তথ্যে দেখা যায় অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৯৬৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ শতাংশ কম আর গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের চেয়ে ৩ শতাংশ কম। বিগত অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রপ্তানি আয় ছিল ১৭০৭ কোটি ডলার, কিন্তু বর্তমান অর্থ বছরের একই সময়ে তা মাত্র ১৫৭৭ কোটি ডলার, ৭.৫৯ % কম। এটা সরকারের টার্গেট থেকে ১২,৫৯% কম। অন্যদিকে শুধু নভেম্বরেই ১০.২০% রপ্তানি কম হয়েছে, বিগত বছর থেকে, যা সরকারের টার্গেট থেকে ১৭,৯% কম। এদিকে গত ছয় মাসে ৪৬ টি গার্মেন্টস বন্ধ হয়েছে, চাকরী হারিয়েছেন ২৫ হাজার শ্রমিক।
পেনশন ফান্ড ঋণ, সঞ্চয়পত্র ঋণ, বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণের পাশাপাশি খোলা হয়েছে ব্রিটেনে বাংলা বন্ড নামে প্রবাসী বন্ড, এর আগে খোলা হয়েছে এনারবি বন্ড। ঋণের উৎস তৈরি করতে অর্থ মন্ত্রণালয় যেন পাগল হয়ে গেছে। সরকারি ঋণ খাত যেন ফারাক্কার খুলে দেয়া বাঁধ। অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ব্যাংক থেকে ৪৩ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেলেছে সরকার, যা পুরো অর্থবছরে ব্যাংক ঋণে বাজেট প্রাক্কলনের প্রায় সমান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত অর্থবছর-২০২০ এর তৃতীয় কোয়ার্টারের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, মাত্র তিন মাসে নিট মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ ৩৩ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা হয়েছে, যা বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২,৭% বেশি। এই হারে ঋণ বৃদ্ধি কোন মতেই টেকসই দেশজ উৎপাদন, রাজস্ব আয় এবং টেকসই অর্থনীতির বৈশিষ্ট হতে পারে না।
একই অবস্থা বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের, বর্তমানে খেলাপি ঋণের মোট স্তিতি প্রায় ২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা, এই টাকা দিয়ে প্রতিটিতে ২০ হাজার কোটি করে খরচ করে অন্তত ১২টা পদ্মা সেতু করা যায়। তবে আইএমএফ বলছে সবমিলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত পরিমাণ হবে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা।
‘৫ম আদমশুমারি ও গৃহগণনা ২০১১’ এর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী (জুন ২০১১ এ প্রকাশিত) বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৪ কোটি ২৩ লাখ ১৯ হাজার এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক হার ১,৩৪ শতাংশ ধরা হয়েছিল। কিন্তু উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা গুলো এই সংখ্যাকে প্রশ্ন বোধক বলে প্রত্যাখ্যান করে। উপরন্তু আদমশুমারির তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব থাকা প্রতিষ্ঠান “বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিআইডিএস”ও এই ফলাফল সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে। জুন ২০১২ সালে বাংলাদেশের জনগণনা সংশোধন করে বলা হয়েছে দেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি ২৫ লাখ ১৮ হাজার। এই সংখ্যা আদমশুমারির প্রাথমিক ফলাফল থেকে প্রায় এক কোটি মানুষ বেশি। এখানে দেখানো হয়েছে বিগত দশকে জনসংখ্যা ১,৫৮% করে বেড়েছে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির নতুন বার্ষিক হার ১,৩৭ শতাংশ।
অর্থাৎ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১,৩৪ থেকে ১,৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। এই ডেটা প্রশ্নবোধক। পরে আবারো বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো নতুন একটা জন্ম হার দিয়ে (১,৩৭% এর বিপরীতে ১,২৭%) কিউমেলেটিভ হিসেবে করে ২০১৮ সালে নতুন জনসংখ্যা নিয়ে হাজির হয়েছে। বিবিএস দেশে ১,২৭ শতাংশ জন্মহারের ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালের জনসংখ্যাকে বর্ধিত করে ২০১৮ জানুয়ারিতে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজারে উন্নীত হয়েছে বলে দেখিয়েছে। এই হিসাবে বর্তমানে এই সংখ্যা ১৬ কোটি ৬৫ লাখের মত।
ঠিক কিভাবে ১.৫৮% হারের জন্ম হার গুণশুমারির ১ম গণনায় ১.৩৪, সংশোধিত গণনায় ১.৩৭ হয়ে গেল? উপরন্তু জুন ২০১২ এর মাত্র এক বছর পরে এসে জুন ২০১৩ তে ঠিক কিভাবে আবার দেশের জন্ম হার আরো কমে বর্তমানে ১.২৭% হয়ে গেল?
আমরা এখানে বেশ কিছু বিষয়ের ফয়সালা চাই- ১। বাংলাদেশের আদমশুমারি গৃহ গণনা কেন্দ্রিক। বাংলাদেশে নদীভাঙ্গনে নাগরিক বাস্তুচ্যুত হন। অর্থনৈতিক প্রান্তিকতা, ঋণ ও অভাব অনটনে পড়ে বাস্তুচ্যুত হন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বশত ল্যান্ড ডিস্প্লেইস্মেন্ট ও এখানে ব্যাপক। তাই ভাসমান জনসংখ্যা এখানে বেশ বর্ধিত এবং ব্যাপক শহুরে বস্তির অস্তিত্ব বিদ্যমান। যেহেতু বস্তিবাসী ও ভাসমান নাগরিক প্রতিষ্ঠানিক ঠিকানা নেই ও তাই বিশাল বাস্তুহীন নাগরিকের ঠিক কি পরিমাণ গণশুমারিতে এসেছে সেটা প্রশ্ন সাপেক্ষ।
ধারণা করা হচ্ছে, এই চুরিকে ধামাচাপা দিবার জন্য, গণশুমারি ডেটাকে বিশ্বাস যোগ্য শুনানর জন্য এখানে কিছু হাইপ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। তা হচ্চে, সামনের গণশুমারিতে নাসার জিয়াইএস ডেটা নেয়া হবে, সেজন্য তাদেকে হাজার কোটি টাকা পে-করা হবে। কিন্তু জিয়াইএস ডেটা বাড়ি ঘর নির্ণয়ে বস্তিবাসী ও ভাসমান নাগরিক শনাক্তকরণে কোন ভূমিকা রাখবেনা বলেই জিআইএস বিষেজ্ঞগণ মত দিয়েছেন। তদুপরি নাসার জিআইএস একুরেসি’র চেয়েও বেশি একুরেসির জিয়াইএস ডেটা বিদ্যমান।
প্রশ্ন হচ্ছে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের প্রক্রিয়া অটোমেটিক না করে, এর প্রসেস ঠিক না করে, ভোটার কার্ড, স্মার্ট এনাইডির পিছনে এত বছর ধরে এত এত ব্যয় করার করে ঠিক কেন এখন জিয়াইএস ডেটা লাগবে জনশুমারি করতে? তাইলে ন্যাশনাল ডেটা বেইজে যে জনসংখ্যার তথ্য ভান্ডার আছে সেটার বিশ্বাসযোগ্যতা নেই কি?
২। ১,২৭% জন্ম হারে বছরে ২১ লক্ষ শিশু জন্ম নিবার কথা। অন্যদিকে ১,৫৮ শতাংশ হারে ২৬ লক্ষ। কিন্তু বেসরকারি ডেটায় বছর প্রতি ৩০ লাখ শিশু জন্মের প্রাক্কলন করা হয়।
কিন্তু আমরা যদি ২০১৮ সালের পিএসসি ও ইবিটি পরীক্ষায় ( প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায়) ৩০,৯৫, ১২৩ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেছেন। বাস্তবতা হচ্ছে এরও বাইরে রয়েছে ঝরে পড়া, শিক্ষা বঞ্চিত এবং বেশ কিছু প্রতিবন্ধি ভাগ্যতাড়িত শিশু। উল্লেখ্য ওয়ার্ল্ড প্রি-ম্যাচুরিটি ডে’তে উপস্থাপিত ডেটা বলছে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৪ লাখ ২৯ হাজার শিশু সময়ের আগে বা অকালে জন্ম নেয় যা প্রতি ৭টি শিশুর মধ্যে একটি, এই হিসেবেও মোট জন্ম সংখ্যা ৩০ লাখের কিছু বেশি হবার কথা।
যেহেতু ৩০ লক্ষ শিশু পঞ্চমের পরীক্ষাতেই অংশ নিচ্ছে তাই এটা হলফ করে বলা যায় শিক্ষা বঞ্চিত, ঝরে পড়া এবং প্রতিবন্ধি শিশু ৩০ লক্ষ থেকে বেশি।
অর্থাৎ সরকার এখানে জন্মহার কমিয়ে দেখাচ্ছে।
যদি জন্মহার পূর্বের দশকের মত ১,৫৮ শতাংশও হয়, তাহলে ১৬ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজারের বিপরীতে শিশু জন্ম ২৬ লক্ষ হবার কথা। তাহলে ডেটা মিলছে না কেন। এই জন্য যে জনসংখ্যা বেইজই সমস্যা আছে। তাহলে প্রকৃত জনসংখ্যা কত? যদি ধরি জন্ম হার ১,৫৮% এবং জনসংখ্যা সাড়ে ১৮ কোটি তাহলে বাৎসরিক শিশু জন্ম ৩০ লক্ষ হতে পারে। এই হিসেবে সরকার প্রায় ২ কোটি জনসংখ্যা কমিয়ে দেখায়। আমরা মিলিয়ে দেখতে পারি দেশের মোট ছিন্নমূল, ভাসমান এবং বস্তিবাসী জনসংখ্যা ২ কোটি হয় কিনা? তাহলেই এটা প্রমাণিত হয়ে যাবে (সমীক্ষা-১) যে, বাংলাদেশ সরকার তার নাগরিকের সংখ্যাও চুরি করে।
আর যদি সরকার দাবি করে, জন্মহার ১,৫৮ থেকে কম, তা হলে বর্তমান জনসংখ্যার বেইজ ১৯ কোটির মত হবে। ৩। স্বাধীনতার ঠিক পরে ১৯৭২ সালে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছিল এক কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন। এর পরের ৪২ বছরে দেশে এখন খাদ্যশস্য উৎপাদন হচ্ছে সাড়ে তিন গুণ বেশি; ভুট্টাসহ এর পরিমাণ প্রায় চার কোটি মেট্রিক টন। ৪৫ বছরে ধান উৎপাদন তিনগুণের বেশি। কিন্তু বাংলদেশ প্রধান খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশ নয়, বরং প্রায় বছরেই প্রধান প্রধান খাদ্য শষ্য কেনা লাগে। খাদ্য শস্য তিনগুণের বেশিতেও যেখানে কুলায় না, সেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঠিক কিভাবে মাত্র ২.২ গুণ হয়। এত খাদ্য কে খায়? আজকের মানুষ কি ১৯৭২ থেকে মাথাপিছু হারে দ্বিগুণ ভাত খায়? বাস্তবতা তো বলে মানুষ এখন কম ভাত খায়। তাহলে কি অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ ভাত খায় না? (যা সরকার দেখায় তার চেয়েও বেশি)
৪। জনসংখ্যা বৃদ্ধি গণনার সবচাইতে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হচ্ছে জন্ম গ্রহনের মাত্র কয়েকদিনের নবজাতক শিশু নিবন্ধন করে তাকে এলাকা ভিত্তিক নাগরিক আইডি দিয়ে দেয়া। একই সাথে মিরত্যু নিবন্ধন করা। বাংলাদেশ এই দুটি কাজে কখনও মনোযোগ দেয়নি। ন্যাশনাল আইডির বদলে ভোটার আইডি নামক প্রাপ্ত বয়স্ক আইডি নিয়ে এক্তরফা কাজ করছে যদিও দেশে ভোট বলে কিছু নেই।
দেখা যাচ্ছে মোট জন্ম নেয়া শিশুর এক চতুর্থাংশও নিবন্ধনে আসছে না, তথাপি সরকার নির্বিকার।
এখানে দেশটির জন্ম নিবন্ধনে অনীহার বিষয়টি স্পস্ট, কেননা সঠিক জন্ম নিবন্ধন জনসংখা চুরির মুখোশ খুলে দিবে। এবং এতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, প্রকৃত জাতীয় আয়, অতি দারিদ্র এবং দারিদ্রের সংখ্যার আসল ডেটা উন্মোচিত হয়ে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলবে।
৫। যদিও জনসংখ্যা কম করে দেখানোয় গড় মাথাপিছু ঋন বেশি দেখাচ্ছে। কিন্তু সরকার যেহেতু জানে যে আসলে মাথপিছু ঋন বাস্তবে এত বেশি নয়, তাই সরকারও তার সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা কখনও গড় মাথাপিছু আয়ের উল্লম্ফনকে সামনে আনেন না।
২০১০ সালে দেশে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ সাড়ে ১০ হাজার টাকা। বর্তমানে (জুন ২০১৯) দেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু ঋণ প্রায় ৬৮ হাজার। গত ১ বছরে যা বেড়েছে প্রায় ৭ হাজার ২৩৩ টাকা। আগামী ১ বছরে তা আরও ৫ হাজার ৫৪৭ টাকা বাড়বে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। যেভাবে ব্যাংক ঋণ বাড়ছে, মাথাপিছু ঋণ এই প্রাক্কলনের চেয়েও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কথা হচ্ছে, আট-নয় বছরেই একটা দেশের মাথাপিছু ঋন সাতগুণ বাড়তে পারে কিনা? এখানে আরো গুরতর বিষয় হচ্ছে, এই সাত গুণ মাথাপিছু ঋন বৃদ্ধির সাথে অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচকের সামঞ্জস্য আছে কিনা?
রাজস্ব আয়, রেমিটেন্স আয়, রপ্তানি আয়ের সংখ্যা গুলো ও বাজেট ব্যয় একই রেখে, কোন দেশের অফিশিয়াল জনসংখ্যা এক কোটিরও বেশি কম দেখানো গেলে তার ডেভেলপমেন্ট ইন্ডেক্স খুব ভালো দেখাবে, বাংলাদেশেরও তাই দেখাবে, কোন সন্দেহ নাই। ভাগ অংকে ভাজ্যকে (রাজস্ব অর্থনীতি কিংবা বাজেটের ব্যয়) একই রেখে যদি ভাজক (জনসংখ্যা) ছোট করে দেয়া হয়, তাহলে ভাগফল (আয়ের সূচক) বড় হয়ে যাবে। এটাই বাংলাদেশের “সূচকে” উন্নতি, মাথাপিছু আয়য়ে উন্নতির অন্যতম বড় একটা এলিমেন্ট। এই অপবুদ্ধিব্রিত্তিক স্ট্যাটিস্টিক্সের অপকৌশল থামাতে সঠিক জনসংখ্যা এবং জন্ম হার নির্ণয় খুব জরুরি।
আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের
পরিচিত এক নাম পিপল এন্ড টেক, যার কর্ণধার হলেন আবুবকর হানিপ! আইটি প্রশিক্ষণ এবং জব
প্লেসমেন্টের জন্য এই প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপণ থাকলেও মূলত শত শত প্রশিক্ষণার্থীকে পথে
বসিয়ে দিয়েছে এই পিপল এন্ড টেক!
বাংলাদেশের শেখ হাসিনার
বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের এই বাংলাদেশী
কারিগরি প্রতিষ্ঠান পিপল এন টেকের কর্ণধার আবুবকর হানিপের বিশেষ সম্পর্ক। কেউ কেউ বলেন
তিনি প্রতিষ্ঠানটির এডভাইজার, কেউ বলেন প্রমোটার, কেউবা আবার বলেন এডভারটাইজার হিসাবে
কাজ করছেন। গত নয় মাসেই মোমেন সাহেব দু’বার
হানিপের প্রতিষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে বানিজ্যিক কার্যক্রমে অংশ নেন। শুধু তাই নয়,
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ অধিবেশনে এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যেখানে সময় পাওয়ার কথা
নয়, তার মাঝখানে মোমেন সাহেব পিপল এন টেকে অনুষ্ঠানও করে ফেলেছেন।
পিপল এন টেক দাবী করে তারা
১৪ বছরে ৫ হাজার বাংলাদেশী যুবক যুবতীকে যুক্তরাষ্ট্রের মার্কেটে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা
করেছে। আইসিটি খাতে বিশেষ করে ‘সফটঅয়ার টেস্টিং’ কাজ প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশী অভিবাসীরা খুব সহজেই উচ্চ বেতনে কাজ
করতে পারবেন, এমন লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে ও প্রচারণা চালিয়ে কাস্টমার ধরা হয়। গড়ে জনপ্রতি
৪০০০ থেকে ৫০০০ ডলারের বিনিময়ে ৪/৫ মাসের একটা ট্রেনিংয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়।
জব প্লেসমেন্টের নাম ভুয়া
প্রচারণা
হানিপ সাহেব এবং তার প্রতিষ্ঠান
দাবী করে, ট্রেনিং শেষেই তারা জব প্লেসমেন্ট করে। তবে রয়েছে তাদের অদ্ভুদ জালিয়াতি
টেকনিক। আমেরিকার জব মার্কেটে তারা কর্মী নিয়োগে সুপারিশ করে ভুয়া অভিজ্ঞতার রিজুমি(Resume)
দিয়ে। বেশ কয়েক বছরের জব করেছে প্রার্থী, এমন তথ্যাবলী সরবরাহ করে পিপল এন টেক। তবে
প্রতিষ্ঠানটি দোষের মধ্যে যেতে চায় না। সেজন্য প্রার্থীকে নিজেরই রিজুমি আপলোড করতে
হয়, যাতে পরে ধরা পড়লে পিপল টেক অস্বীকার করে, দোষ হয় প্রার্থীর। এই ফেইক বা ভুয়া রিজুমির
বিষয়টি প্রশিক্ষনার্থীদের জানানো হয় প্রশিক্ষণের শেষ পর্যায়ে এসে যখন তারা চার/পাঁচ
হাজার ডলারের টিউশন ফি পরিশোধ করে ফেলে এবং চার থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় ব্যয় করে ফেলে।
এমন পরিস্থিতিতে চাকুরীপ্রার্থী ছাত্রছাত্রীরা নিরুপায় হয়ে আবু হানিপের নির্দেশমত ফেইক
রিজুমি নিয়ে চাকুরির ইন্টারভিউ ও চাকুরী লাভের জন্য বিভিন্ন জব সাইটে আবেদন করতে বাধ্য
হয়। ইন্টারভিউতে যারা কৃতকার্য হয় তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের জন্য পিপল এন টেকের কন্টাক্ট
নাম্বার রিজুমিতে উল্লেখ করা থাকে। চাকুরীদাতা কোম্পানিগুলো চাকুরীতে নিয়োগ দেয়ার পুর্বে
প্রার্থীর ৪/৫/৬ বছরের অভিজ্ঞতার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পিপল এন টেকে যোগাযোগ করলে পিপল
এন টেক থেকে সেই ভুয়া বা ফেইক অভিজ্ঞতার বিষয়টিকে সত্য বলে সত্যায়ন করে থাকে। ওরা এ
পর্যন্ত যত লোকের জবের ব্যবস্খা করছে, তার মধ্যে ৯৫% ঝরে পড়েছে বাস্তব ক্ষেত্রে তাদের
দক্ষতার সাথে রিজুমিতে উল্লেখ করা অভিজ্ঞতার আকাশ পাতাল পার্থক্যের বিষয়টি ধরা পড়ার
কারনে। মিষ্টি কথায় ভুলে মানুষ এমন এক ফাঁদের মধ্যে পা দেয়, পরে যেখান থেকে বেরিয়ে
আসতে পারেনা। পিপল এন টেক থেকে ট্রেনিং নেয়া প্রচুর বেকার তো আছেই, ১০০০ খেকে ১২০০
লোক আছে, যারা কাজ না পেয়ে ট্যাক্সি চালিয়ে, গ্রোসারী সপে কাজ করে জীবন নির্বাহ করছে।
পিপল এন টেকের ওয়েব সাইটে বহু ভুক্তভোগিরা তাদের বিরূপ মন্তব্য ও ক্ষোভের কথা প্রকাশ
করলেও আবু হানিপ সেসব তাৎক্ষণিকভাবে মুছে দেয়ার
জন্য লোক নিয়োগ করে রেখেছেন। ফলে ভুক্তভোগিদের কথা ধামাচাপা পড়ে থাকে।
একে আবদুল মোমেন সাহেব পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হওয়ার আগে নিউইয়র্কের জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসাবে টানা ৬ বছর দায়িত্ব
পালন করেন। এসময়ে আবুবকর হানিফের সাথে তার পরিচয় ঘটে। ঐসময় দামী দামী উপঢৌকন, নগদ খাম,
ও সুযোগ সুবিধার বিনিময়ে মোমেন সাহেবকে বিভিন্ন
অনুষ্ঠান আমন্ত্রণ করেন হানিপ সাহেব, এবং সেগুলো মিডিয়াতে প্রচারের ব্যবস্থা
করা হয়। ফলে পিপল এন টেকের খবর বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়ে। হানিপের ব্যবসা বাড়ে,
এমনকি বাংলাদেশে পর্যন্ত এর শাখা খোলা হয়েছে। তবে মোমেন সাহেব যে হানিপের সাথে বড় ধরণের
কোনো আর্থিক সংশ্লেষে জড়িয়ে আছেন, তা তাদের কর্মকান্ড দেখলেই বুঝা যায়। এমনকি ভুক্তভোগী
ছাত্র ছাত্রীরা প্রতিবাদমুখর হওয়ার চেষ্টা করলে আবু হানিপ পরোক্ষভাবে বিভিন্ন কৌশলে
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন সহ আওয়ামিলীগের বিভিন্ন হোমরা চোমরার সাথে তার দহরম মহরমের
বিষয়টির দিকে ইংগিত করে তাদের এক প্রকার পরোক্ষ হুমকি দিয়ে থাকেন।
হানিপ-মোমেন চক্রের এহেন লোকঠকানো, প্রতারণা, ও মানুষেকে
রাস্তায় বসিয়ে দেয়ার জালিয়াতি ব্যবসা সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে বিচারের আওতায় আনার জন্য
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের কাছে ভুক্তভোগিদের দাবী।
বাংলাদেশ কি নতুন এক পথে এগিয়ে যাচ্ছে? এই প্রশ্নটি সামনে আসতে পারে চলমান দুর্নীতি বা ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে শাসক দলের বড় বড় নেতাদেরও ছাড় না দেয়ার ঘোষণা থেকে। সম্ভবত রূপান্তরের বিষয়টি আরো অনেক গভীর। এটি ঠিক যে, বাংলাদেশের শাসক দল এক ধরনের গৃহদাহ বা উত্তরাধিকার সঙ্কটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। ক্ষমতার উত্তরাধিকার একক পরিবারের মধ্যে আবর্তিত হলে এরকম হতে সাধারণভাবে দেখা যায়। বিশ্বের যেসব দেশে এখনো উত্তরাধিকারের মাধ্যমে ক্ষমতার আবর্তন ঘটছে, সেসব দেশের কোনো কোনোটিতে এ ব্যাপারে ধরাবাঁধা নিয়ম থাকে।
সুনির্দিষ্ট থাকে ভার্টিক্যালি বা উল্লম্বভাবে উত্তরাধিকার নির্ণিত হবে, নাকি হরাইজন্টাল বা আনুভূমিকভাবে এটি হবে। বিশ্বের আলোচিত রাজতন্ত্রের মধ্যে সৌদি আরব কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাত কোনোটাতেই এখন আর নিয়মবাঁধা প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার আবর্তন ঘটছে না। সৌদি আরবে সালমান ক্রাউন প্রিন্স বা বাদশাহ হওয়ার সময় রাজনীতি বা প্রশাসনে সক্রিয়, ভাইদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতম ছিলেন না। অথবা তার পরে নিজের যুবক ছেলে যে মুহাম্মদকে উত্তরাধিকারী করেছেন, তারও একাধিক বড় ভাই ও চাচা রয়েছেন। আমিরাতেও এখনকার সবচেয়ে ক্ষমতাধর ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন জায়েদের যোগ্য জ্যেষ্ঠ ভাই রয়েছেন। কিন্তু তারা কর্তৃত্বের লড়াইয়ে পরাভূত। এখন দুই ‘মুহাম্মদ’ সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের সিংহাসনের সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী।
বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় রাজতন্ত্রের কোনো স্বীকৃতি নেই। কিন্তু বড় দলগুলোতে রয়েছে এক প্রকার রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা। আওয়ামী লীগে সংক্ষিপ্ত সময় বাদ দেয়া হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর তার জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা একপর্যায়ে দলের হাল ধরেছেন। এর পরে মুজিব পরিবারের কেউ একজন দলের নেতৃত্বে আসবেন, এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু দলের উত্তরাধিকার হরাইজন্টাল হবে নাকি ভার্টিকাল হবে, সেটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। রাজনীতিতে সক্রিয়, পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা সম্ভবত চাইছেন দলীয় নেতৃত্বের উত্তরাধিকার হরাইজন্টালি বঙ্গবন্ধুর পরবর্তী প্রথম প্রজন্মের মধ্যেই হোক। তাহলে সন্তানরা পরে দলের নেতৃত্বের উত্তরাধিকারী হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় বর্তমান দলীয় প্রধানের মধ্যে থাকতে পারে। এ জন্য তিনি উত্তরাধিকারের লাইনটি সম্ভবত নিজের সন্তানদের মধ্যে রাখতে চান। এটি মানতে চাইছেন না পরিবারের গুরুত্বপূর্র্ণ অনেক সদস্য। শাসক দলের প্রধানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি এই আনুগত্যহীনতার সাথে যুক্ত থাকতে পারে সাম্প্রতিককালে শাসক দল ও এর অঙ্গ সংগঠনের মধ্যকার শুদ্ধি অভিযান।
রাষ্ট্র পরিচালনায় অধিক ব্যস্ততার কারণে হোক অথবা সমঝোতার অংশ হিসেবে হোক, এক সময় দলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলো অন্তরালে থেকে বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যাকে দেখতে দিয়েছিলেন বড় বোন। দলের নেতৃত্বে মধ্যে যাদের হাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তথা বৈধ-অবৈধ উপার্জনের হাতিয়ার থাকে, তাদেরই কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় দলে। আওয়ামী লীগের মধ্যে সেটিই গত ১০ বছরে দেখা গেছে। পরিবারের জ্যেষ্ঠ দুই ব্যক্তিত্বের মধ্যে এ নিয়ে বিরোধ ছিল না বলে কোনো টানাপড়েন এতদিন দেখা যায়নি। তৃতীয় মেয়াদে এসে উত্তরাধিকারের প্রশ্নটি বেশ প্রবলভাবে সামনে চলে এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই ছোট বোন হয়তো রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হতে চান।
মুজিবতনয়া হিসেবে স্বাভাবিকভাবে তার রাজনীতিতে আসার মানে হলো, নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হওয়া। গত কয়েক সপ্তাহের ঘটনা পরম্পরায় মনে হচ্ছে তিনি সম্ভবত ক্ষমতার সাইড লাইনে পড়ে যাচ্ছেন এবং তার অনুসারীরা শুদ্ধি অভিযানে ছিটকে পড়তে যাচ্ছেন। আর দলের মধ্যে ভার্টিক্যাল উত্তরাধিকারের বিষয়টি প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।
বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের ক্ষমতার রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট দলগুলোতে দেশের বাইরের অনেক বিষয় যুক্ত থাকে। যেকোনো দল ক্ষমতায় থাকাকালে তার নেতৃত্বের উত্তরাধিকার বদলের সময় প্রভাবশালী কূটনৈতিক অংশীদারগুলোর ‘চাওয়া-পাওয়া’র বিষয় থাকে। এ কারণে সরকার প্রধানের এবারে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং এর আগে-পরে আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সফর নানা মাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ প্রধানের কন্যা ও তার স্বামী কানাডা থেকে এর আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে এসেছিলেন। সেখানে সরকারপ্রধানের জামাতার ব্যবসা-বাণিজ্য-বিনিয়োগ রয়েছে।
আর আমিরাতের শাসক পরিবারকে মধ্যপ্রাচ্য এবং মুসলিম বিশ্বের শাসক পরিবারে বিশেষভাবে প্রভাবশালী মনে করা হয়। আকার বা জনসংখ্যার বিচারে দেশটি তেমন প্রভাবশালী হওয়ার কথা নয়। এক সময় সৌদি আরবের প্রভাব বলয়ে থেকেই দেশটি তার পররাষ্ট্র্র্র কৌশলের চর্চা করত। কিন্তু গত এক দশক ধরে আমিরাত ইসরাইলের সাথে কৌশলগত গোপন সম্পর্ক তৈরি করার পর অনেক ক্ষেত্রে সৌদি নীতিকে চ্যালেঞ্জ করছে। আর মধ্যপ্রাচ্যে এবং গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশগুলোতে আবুধাবিকে বিশেষ কারণে ক্ষমতাধর মনে করা হয়। মুসলিম বিশ্বজুড়ে ইসলামিস্ট দমন কাজে দেশটি যে কাজ করছে, সেটাকে তার ক্ষমতার মূল ভিত্তি মনে করা হয়ে থাকে। হয়তো বা এ কারণে আমিরাতের সাথে সম্পর্ক থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরাইলি লবির ছায়া লাভ করা সম্ভব বলে মনে করা হয়।
এই কারণে এবার নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের আগে প্রধানমন্ত্রীর আমিরাত সফরের সময় তার কন্যা সাথে ছিলেন। আমিরাত শাসক মুহাম্মদ বিন জায়েদের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয় সেখানে মায়ের পাশে বসা ছিলেন সায়মা, এরপরের আসনে ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম এ মোমেন। অন্যদিকে, মুহাম্মদ বিন জায়েদের পাশে ছিলেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী। এর পর নিউ ইয়র্কে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তনয়া মিসরের শীর্ষস্থানীয় জেনারেলদের সাথে বৈঠক করেছেন বলে জানা যায়। নিউ ইয়র্কে সাধারণ অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম এবং রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ওআইসি-বাংলাদেশ যৌথসভার বাইরে শেখ হাসিনা অনানুষ্ঠানিক বেশ কটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এর মধ্যে নরেন্দ্র মোদির সাথে সাইড লাইনে বৈঠক ছাড়াও ইন্দো-বাংলা-মার্কিন ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ছিল। মনে করা হয় যে, এই বৈঠকটি বাংলাদেশের এক নতুন অভিযাত্রার জন্য অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ। এর পেছনে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দেশটির বিশেষ লবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বৈঠকটির পর ভারতে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফর ছিল অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতার ব্যাপার।
বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের তৃতীয় দফা ক্ষমতাকালের পররাষ্ট্রনীতি বা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার নীতি। এই নীতির অংশ হিসেবে দেশের উন্নয়নের বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে ব্যাপকভাবে চীনা বিনিয়োগের প্রক্রিয়া চলতে থাকে। চীন সরকার তাদের ঐতিহ্যগত কৌশল থেকে সরে এসে একতরফাভাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা দেয় আওয়ামী লীগ এবং দলটির পরিচালিত সরকারকে। ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যরাতের হিসেবে খ্যাত নির্বাচনে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছে বেইজিং। সেই নির্বাচনে জয়ের পর স্বর্ণ নির্মিত নৌকা নিয়ে শেখ হাসিনাকে প্রথম শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত। বিএনপি প্রধানকে কারাবন্দী করে রাখা এবং দলটির নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করার ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখেনি। ঐতিহ্যগতভাবে চীনমুখী পররাষ্ট্রকৌশলের কারণে ভারত ও পশ্চিমা দেশগুলোর বিরাগভাজন হলেও সর্বোতভাবে বিএনপিকে পরিত্যাগ করেছে বেইজিং। এর ফলে নতুন সরকারে চীনের পছন্দের লোকজন মন্ত্রিসভায় বেশি স্থান পেয়েছেন। বেশ কিছু বড় প্রকল্প চীনারা গ্রহণ করেছে এদেশে। বেইজিং বাংলাদেশকে সাবমেরিন সরবরাহ করে সাবমেরিন ঘাঁটি করার প্রস্তাবও দিয়েছে। রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানের ব্যাপারেও দেশটি অগ্রসর হতে থাকে।
কিন্তু এর পাল্টা কোনো চাপ মোকাবেলার জন্য কতটা প্রস্তুত ছিল দেশটি সেটি বোঝা যায় না। গত সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই প্রতিবেশী এবং পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো থেকে চীনকে ‘সম্পর্কের বসত ঘরের বাইরে’ রাখার জন্য চাপ যত বাড়তে থাকে তত বিব্রতকর অবস্থা সৃষ্টি হয় বাংলাদেশ সরকারের অন্দরমহলে। শাসক পরিবারের ক্ষমতার উত্তরাধিকারে মেরুকরণ ঘটে যায়। চাপ অনুভূত হয় অনেক বড় মাত্রায়। এতে চীনের সাথে বর্তমান সরকারের সম্পর্কের উষ্ণতা কমতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বেইজিং ২৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব ‘পর্যালোচনা’ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে উন্নয়নের জন্য ‘ব্লাঙ্ক চেক’ দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। ঢাকাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, চীন বিনিয়োগ না করলেও ওয়ার্ল্ড ব্যাংক আইএমএফ এবং এডিবি থেকে সেটি পূরণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এবারের দিল্লি সফরে ফেনী নদীর পানি দেয়া, ভারতের ত্রিপুরায় তরল গ্যাস সরবরাহের চুক্তি, ভারতের দেয়া ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়ে সে দেশ থেকে অস্ত্র কেনা এবং সমুদ্র উপকূলের ২০ স্থানে ভারতের রেডার স্থাপনের চুক্তি দৃশ্যত ঢাকার চীনা প্রভাববলয় থেকে সরে আসার পরিষ্কার সঙ্কেত। নতুন এই ব্যবস্থার পরে চীনের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর নামে বঙ্গোপসাগর এলাকায় আরো কড়া দৃষ্টি রাখবে ভারত। এ ব্যবস্থা শুধু সমুদ্রপথে যেকোনো জাহাজ বা বস্তু শনাক্ত করতে ভারতকে সাহায্য করবে না, একই সাথে বাংলাদেশের নৌসীমানায় তাদের আধিপত্য স্থাপনেও সহায়তা করবে। এর বাইরে ঢাকায় সরকার যেকোনো নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়লে দিল্লির সামরিক সহায়তার গোপন এক চুক্তির বিষয়ও অনানুষ্ঠানিক গণমাধ্যম সূত্রে বলা হচ্ছে। এটি সত্য বা অসত্য যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ যে ভারসাম্য রক্ষার আগের নীতি থেকে সরে এসে আবার প্রতিবেশী দেশের সাথে বিশেষ সম্পর্ক বন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছে তাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই।
বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থনের অনির্ভরতা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নানা সময় বিপদের কারণ হয়েছে। দেশটির সরকারে যারা থাকেন তাদের সাথে সম্পর্ক দৃঢ করার নীতির কারণে, বিপদে পড়ার সময়ের অবন্ধু হিসেবে তারা কিছুটা স্বীকৃতি লাভ করেছে। চীন তার বন্ধুদের রাজনৈতিক নিরাপত্তা দেয় না, শুধু ব্যবসা করে- এই ধারণার কারণে বর্তমান সরকারও সম্ভবত চীনা সম্পর্কের কারণে বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে চায়নি।
প্রশ্ন হলো- এর জন্য কতটা মূল্য দিতে হবে বর্তমান সরকার অথবা বাংলাদেশকে? এখন হয়তো অনেক প্রকল্পে চীন অর্থ ছাড় বন্ধ করে দেবে এবং নতুন প্রকল্প নেবে না। নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের ঢাকা সফর বাতিলও করা হতে পারে। ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ থেকে এখন বিসিআইএম প্রকল্প বাদ পড়ে যেতে পারে। রোহিঙ্গা সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন অনিশ্চিত হয়ে যাবে। এদেশে চীনা সমরাস্ত্রের স্থান করে নেবে বিকল্প সূত্রের সমরাস্ত্র। বাংলাদেশের ক্ষমতার গভীর বলয়ে চীনের কতটা অবস্থান রয়েছে- তা স্পষ্ট নয়। সে রকম কিছু না থাকলে দেশটিকে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়ে চীনের কাছে হাত পাতা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বাংলাদেশ যেভাবে ‘আগ্রাসী’ মিত্রের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে, তাতে ভিন্ন কোনো চিন্তার সুযোগ ভুটানের মতো হারিয়ে যাবে কি না। ভুটানও অবশ্য তার সীমান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে নিজস্বভাবে সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, ভুটান দিল্লির সাথে আলোচনা ছাড়াই সীমান্তে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণরেখাকে স্থির সীমান্ত হিসাবে গ্রহণ করতে রাজি হয়েছে। এ হিসেবে, আলোচিত দোকলামের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃত হয়ে যাবে যেটি কোনোভাবেই কামনা করেনি ভারত।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চার দিনের ভারত সফর শেষে যে সাতটি চুক্তি ও তিনটি সমঝোতা স্মারক এবার সই হয়েছে তাতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি দেখছেন না আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যেও বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এবার তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। উল্টো ফেনী নদীর পানি তুলে নেবে ভারত। রোহিঙ্গা ইস্যুতে শক্তভাবে বাংলাদেশের পাশে দরকার ভারতকে। এনআরসি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশ্বস্ত করলেও তার মন্ত্রীরা প্রতিনিয়তই হুমকি দিচ্ছেন। এগুলোর সুরাহা হওয়া দরকার। ভারত ও বাংলাদেশ যে যৌথ বিবৃতিটি প্রকাশ করেছে তার কোথাও ‘এনআরসি’ শব্দটির উল্লেখ পর্যন্ত নেই।
ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ‘জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাহলে আন্তর্জাতিক স্তরের একটি যৌথ বিবৃতিতে কেন তার উল্লেখ থাকতে যাবে?’ অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেয়েছিলেন এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার কিছু নেই- এই আশ্বাসটা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদির মুখ থেকে আসুক। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বা অন্যান্য বিজেপি নেতা যেভাবে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে চলেছেন যে, এনআরসি বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশেই পাঠানো হবে, সেই পটভূমিতে এটা ছিল বাংলাদেশের জন্য জরুরি।
এ কারণেই হয়তো আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে নয়, সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ব্যাপারে আগ্রহী। কারণ তারা বাংলাদেশের জনগণের কোনো সুবিধার কথা চিন্তা করছে না। এতে তাৎক্ষণিকভাবে মনে হতে পারে, তারা জিতে গেছে। জনগণের কাছেও হয়তো এসব বলে দু-চারটি ভোটও বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু তাদেরও মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকেও জনগণের কাছে এসব নিয়ে বলতে হবে। ফলে দেশের জনগণ বা সরকার যদি মনে করে, তারা আসলে প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তাহলে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সুসম্পর্কে ফাটল ধরবে। এক সময় হয়তো আমাদের সরকার অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে অধিক মনোযোগী হবেন। সেটা তো ভালো হবে না।’
অন্যদিকে, ভারতের উপকূলে রেডার ব্যবস্থা স্থাপন করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চীন বিভাগের ড. সৈয়দ মাহমুদ আলী মনে করেন, আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের তরফ থেকে যা-ই বলা হোক না কেন, দিল্লির সরকার ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন দ্বীপরাষ্ট্রে যে অত্যাধুনিক নজরদারির ব্যবস্থা গড়ে তুলছে তার আসল উদ্দেশ্য চীনের নৌবাহিনীর গতিবিধির দিকে নজর রাখা। তিনি বলেছেন, চীন সম্পর্কে ভারতের যে উৎকণ্ঠা রয়েছে এবং বাংলাদেশের সাথে চীনের যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তা কিছুটা নিষ্ক্রিয় করতেই ভারত সরকার অবশ্যই চাইবে এটা প্রমাণ করতে যে, ‘বাংলাদেশের ওপর তাদেরও কিছুটা হলেও প্রভাব রয়েছে।’
বাংলাদেশ ১৯৭৬ সাল থেকে চীনের সাথে ক্রমে ক্রমে বেশ ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এই সম্পর্ক গত ১০ বছরে গভীর ও নিবিড় আকার ধারণ করে। বিশেষত, ২০০৯ সাল থেকে চীনের সাথে বাংলাদেশ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বাংলাদেশ ২০০৯ সাল থেকে তার সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষভাবে বিমান ও নৌবাহিনীর, আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে চীনের কাছ থেকে ব্যাপক সাহায্য ও সহযোগিতা পেয়েছে। কিন্তু ভারতের সাথে এবারের চুক্তির পর সম্ভবত সেই অবস্থা পাল্টে যাবে। ভারত-চীন-যুক্তরাষ্ট্র মিলে যে একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক ট্রায়েঙ্গেল ডায়নামিকস’ সৃষ্টি করেছে, বিশ্বব্যাপী তার গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশ যেহেতু ভারত ও চীন উভয়ের সাথেই ঘনিষ্ঠ, তাই সে দেশের ওপর এবারের দিল্লি সমঝোতার একটা প্রভাব পড়তে বাধ্য।
এখন দেখার বিষয় হলো- বাংলাদেশের রাজনীতি, নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে সে প্রভাব কতখানি পড়ে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকেও সেটি প্রভাবিত করে কি না।
ঠিক যেসময় আবরারকে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছিল, ঠিক একই সময়ে বাংলাদেশ সরকারের এক সচিবের সাথে দুই উর্ধতন সেনা কর্মকর্তার খোশগল্প হচ্ছিল। সচিবটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, অল্প কিছুদিন আগে পদোন্নতি পেয়েছেন। তারা পূর্বপরিচিত ছিল।
একটি জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্র সোর্স জানিয়েছে, আমরা এদেশে যতই মুসলমান-হিন্দু মিলে মিশে থাকতে চাইনা কেনো, সবচেয়ে এলার্মিং বিষয় হচ্ছে–ইসকনরা বাংলাদেশে হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে তলে তলে বহুপথ এগিয়েছে। পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন প্রায় দখলে নিয়েছে ইসকন গ্রুপ। বাংলাদেশের প্রশাসনে, পুলিশের উর্ধতন মহলে, জজ ও বিচারপতিদের মধ্যে বহু হিন্দু কর্মকর্তারা গোপনে ইসকনে নাম লিখিয়েছে। তারা ইসকনকে নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। তাদের অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা গিয়েছিলেন, পুলিশের হিন্দু কর্মকর্তারা পোষাক পড়েই চলে যান মন্ডপে মন্ডিরে গিয়ে পুজাও দেন পদক নেন, এসব করে ওদের খুনখারাবির সাহসও বাড়িয়ে দিয়ে আসেন। যে অবস্থা চলছে, তাতে সরকারি অফিস আদালত, ক্যাডার সার্ভিস, বেসরকারী চাকরি, পুলিশ, ব্যাংক, বীমা, সরকারি স্কুলগুলো হিন্দু দিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের প্রমোশন হয় সবার আগে, পোস্টিং হয় ভালো ভালো। স্কুলগুলোতে মুসলিম টিচার খুঁজে পাওয়া কঠিন, কিন্তু হিন্দু টিচার দিয়ে ভর্তি, এমনকি আজকাল ইসলাম ধর্ম পড়ায় হিন্দু শিক্ষকরা! চাকরি বাকরিতে ধীরে ধীরে মুসলমানরা সংখ্যালঘু হবার পথে!
একজন সেনা অফিসার কথা শুরু করেন- কি সচিব সাহেব, সব তো দিয়ে এলেন, দেশের একটা দিক ওপেন ছিল, সেই কোস্টাল বেল্টটা না দিলে হতো না? #সচিব সাহেব চনমন করে উঠলেন। বলছেন কি ভাই, ওটা তো আমাদের নিরাপত্তার জন্য! #সেনা অফিসার: নিরাপত্তা? আমাদের নিরাপত্তায় ভারত রাডার বসাবে কেনো? #সচিব: আমরা যেহেতু পারছি না, তাই আমাদের প্রতিবেশীরা সাহায্য করছে! নিতে দোষ কি? #সেনা অফিসার: আমরা তো এখন মধ্যম আয়ের দেশ, রাডার লাগলে আমরা কি বসাতে পারি না? আসলে এটা যে অন্যরকম ধান্দা, তা বুদ্ধিমান মাত্রই বুঝবে! দেশের প্রতিরক্ষাই আমাদের সাবজেক্ট। খবর তো আর গোপন থাকে না, কিভাবে প্রমোশন জোগাড় করেছেন সেটাও তো আমাদের অজানা নয়, আপনারা দিল্লি কানেকশনটা তো আর অজানা নয়! তা সচিব সাহেব, রিটায়ারমেন্টের আর কত বাকী? কোলকাতায় বাড়িঘর করছেন নি? #সচিব: কোলকাতায় আর বাড়ি ঘর লাগবে না। যে সিস্টেম করা হইছে, এরপর কোলকাতা থেকেই লোকজন এসে এখানে বাড়ি করবে! #সেনা অফিসার: তাই নাকি? বিষয়টা কি? #সচিব: কেনো, প্রিয়া সাহার বক্তব্য মনে নাই? যারা ওপারে চলে গেছে তারা এসে দখল নেয়ার এটাইতো সময়। প্রশাসন পুলিশ সব রেডি করা হয়েছে। #সেনা অফিসার: বলছেন কি! তাহলে দেশ জুড়ে অনাসৃষ্টি বাঁধাবেন নাকি? #সচিব: বাঁধলে বাঁধবে। আমরা অনেক বছর অপেক্ষায় ছিলাম। #সেনা অফিসার: কিন্তু ভাই, কাজটা তো অত সহজ না। ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ১৬ কোটিই মুসলমান, আরো না হয় ২ কোটি আপনাদের সমর্থক বাদ দিলাম। ১৪ কোটি মানুষের সাথে আপনারা কুলাবেন কি করে? #সচিব: কেনো ভাই, প্রশাসন আছে না? দেখছেন না, আমাদের কোথাও কোনো সমস্যা হচ্ছে না- চাকরি বাকরিতে উন্নতি, যেকোনো সমস্যায় পরলে প্রশাসন থানা পুলিশ মিডিয়া সবাই কি রকম অস্থির হয়ে ওঠে! #সেনা অফিসার: ওরে ভাই, এই অবস্খা থাকবে না, এটা একটা কৃত্রিম পরিস্থিতি। একটা নড়চড় হলে কোথায় যে হারিয়ে যাবে এই সুখ। এদেশের মানুষ কিরকম জানেন নিশ্চয়- সামান্য কারণে গণপিটুনি দিতে এরা দেরী করে না। এত কিছু লাগবে না, কেবল যদি মহিলারা ঝাড়ু নিয়া নামে তবে প্রশাসন ট্রাশসন সব উড়ে যাবে যাবে! ——————————- উপরের কথপোকথন একটা নজির মাত্র। বুয়েটে আবরার হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা হচ্ছিল এক সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতির সাথে। তিনি যা বললেন, শেখ হাসিনার এমন নাজুক সময়ে ছাত্রলীগ এই খুন করতেই পারে না, এটা শিওর ভারতীয় চরদের বা ইসকনের কাজ! দেখেন না, অমিত সাহাকে খুনের মামলা থেকে বাদ দিল এবং তাকে বহিষ্কারও করেনি ছাত্রলীগ। তার মানে, এটা ভারতীয় দূতাবাসের নির্দেশেই করা হয়েছে। লক্ষ করুন- ভারতের বিরুদ্ধে লেখালেখি করার কারনে আবরারকে হুমকি দিয়েছিল অমিত সাহা, ধরে এনে তার রুমে মারপিট শুরু করে, ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি লেখক ভট্টাচার্যের হাতে ইসকনের ব্যান্ড, আবরারকে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার সময় অমিত সাহা বার বার ফোন করে লেখক ভট্টাচার্যকে জানাচ্ছিল আপডেট, সেই অমিত সাহাকে মামলা না দিয়ে পালিয়ে যেতে দেয়া হলো! আর এই কাজটা সারাদিন বুয়েটে থেকে সম্পাদন করেছে ঢাকা মেট্র পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়। কিন্তু কে এই কৃষ্ণপদ? পুলিশের ১৫ বিসিএসের কৃষ্ণপদ মাত্র ১ মাস আগেই ইসকনের পক্ষ থেকে ‘ক্ষত্রিয় রাজ’ উপাধি পেয়েছেন! আর সেই ক্ষত্রিয় রাজকেই পাঠানো হয় বুয়েটের আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে অপমৃত্যু বানাতে, খুনি ইসকন কর্মী অমিতকে ছেড়ে দিতে! কি সাংঘাতিক কানেকশন! তিনি চেয়েছিলেন সিসিটিভি ফুটেজ মুছতে, শেষে সাধারণ ছাত্রদের চাপে বাধ্য হয়েছে খানিকটা ফুটেজ দিতে। তার মানে দাড়াচ্ছে, ভারতের বিরুদ্ধে লেখার কারণে আবরারকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে ইসকন কর্মী অমিত সাহা, আরেক ইসকন কর্মী লেখক ভট্টাচার্য এতে সহায়তা দিয়েছে, আর হত্যার পরে ইসকনের সমর্থক ‘ক্ষত্রিয় রাজ’ পুলিশ কর্মকর্তা কৃষ্ণপদ খুনি অমিতকে পার করে দেয়! এ এক ভয়াবহ চক্র! মানুষ কিন্তু ভোলেনি, এই কৃষ্ণপদ রায়ের হাতেই নিহত হয়েছিল খিলগাঁও ছাত্রদল নেতা তানুরুজ্জামান জনি।
কে এই কৃষ্ণপদ? পুলিশের ১৫ বিসিএসের কৃষ্ণপদ মাত্র ১ মাস আগেই ইসকনের পক্ষ থেকে ‘ক্ষত্রিয় রাজ’ উপাধি পেয়েছেন! আর সেই ক্ষত্রিয় রাজকেই পাঠানো হয় বুয়েটের আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে অপমৃত্যু বানাতে, খুনি ইসকন কর্মী অমিতকে ছেড়ে দিতে! কি সাংঘাতিক কানেকশন! তিনি চেয়েছিলেন সিসিটিভি ফুটেজ মুছতে, শেষে সাধারণ ছাত্রদের চাপে বাধ্য হয়েছে খানিকটা ফুটেজ দিতে। তার মানে দাড়াচ্ছে, ভারতের বিরুদ্ধে লেখার কারণে আবরারকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে ইসকন কর্মী অমিত সাহা, আরেক ইসকন কর্মী লেখক ভট্টাচার্য এতে সহায়তা দিয়েছে, আর হত্যার পরে ইসকনের সমর্থক ‘ক্ষত্রিয় রাজ’ পুলিশ কর্মকর্তা কৃষ্ণপদ খুনি অমিতকে পার করে দেয়! এ এক ভয়াবহ চক্র! মানুষ কিন্তু ভোলেনি, এই কৃষ্ণপদ রায়ের হাতেই নিহত হয়েছিল খিলগাঁও ছাত্রদল নেতা তানুরুজ্জামান জনি।
‘ক্ষত্রিয় রাজ’ কৃষ্ণপদ রায়কে জানতে চাওয়া হোক, উনি কোনটা রাখবেন, পুলিশের সরকারী চাকরি, নাকি ইসকনের নেতাগিরি? এদের দিয়ে বাংলাদেশের কোনো কাজ হবে না, বরং ভারত মাতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করে দিবে।
‘ক্ষত্রিয় রাজ’ কৃষ্ণপদ রায়কে জানতে চাওয়া হোক, উনি কোনটা রাখবেন, পুলিশের সরকারী চাকরি, নাকি ইসকনের নেতাগিরি? এদের দিয়ে বাংলাদেশের কোনো কাজ হবে না, বরং ভারত মাতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করে দিবে। ——————————- একটি জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্র সোর্স জানিয়েছে, আমরা এদেশে যতই মুসলমান-হিন্দু মিলে মিশে থাকতে চাইনা কেনো, সবচেয়ে এলার্মিং বিষয় হচ্ছে–ইসকনরা বাংলাদেশে হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে তলে তলে বহুপথ এগিয়েছে। পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন প্রায় দখলে নিয়েছে ইসকন গ্রুপ। বাংলাদেশের প্রশাসনে, পুলিশের উর্ধতন মহলে, জজ ও বিচারপতিদের মধ্যে বহু হিন্দু কর্মকর্তারা গোপনে ইসকনে নাম লিখিয়েছে। তারা ইসকনকে নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। তাদের অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা গিয়েছিলেন, পুলিশের হিন্দু কর্মকর্তারা পোষাক পড়েই চলে যান মন্ডপে মন্ডিরে গিয়ে পুজাও দেন পদক নেন, এসব করে ওদের খুনখারাবির সাহসও বাড়িয়ে দিয়ে আসেন। যে অবস্থা চলছে, তাতে সরকারি অফিস আদালত, ক্যাডার সার্ভিস, বেসরকারী চাকরি, পুলিশ, ব্যাংক, বীমা, সরকারি স্কুলগুলো হিন্দু দিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের প্রমোশন হয় সবার আগে, পোস্টিং হয় ভালো ভালো। স্কুলগুলোতে মুসলিম টিচার খুঁজে পাওয়া কঠিন, কিন্তু হিন্দু টিচার দিয়ে ভর্তি, এমনকি আজকাল ইসলাম ধর্ম পড়ায় হিন্দু শিক্ষকরা! চাকরি বাকরিতে ধীরে ধীরে মুসলমানরা সংখ্যালঘু হবার পথে! ——————————- কিছুদিন আগেও দেখা গেছে, হিন্দু সংগঠন ইসকনের প্রসাদ ও পুজার ভোগ মুসলমান শিশুদের মধ্যে বিতরণ করে ‘হরে কৃষ্ণ’ বলিয়ে ঈমান আকীদা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তারা বাধা দিয়ে মসজিদের আজান বন্ধ করে দিচ্ছে, তারাবিহ বন্ধ করে দিচ্ছে, গরু জবাই করতে বাধা দিচ্ছে! এভাবে উগ্র হিন্দু সংগঠন ইসকন বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় উস্কানিসহ নানাভাবে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে চলেছে।
ইসকন কিন্তু বাংলাদেশের কোনো সংগঠন নয়। এর সদর দফতর ভারতের নদীয়া জেলায় অবস্থিত। তারপরেও বিদেশী একটি সংগঠন বাংলাদেশে অনাসৃষ্টি বাধাচ্ছে কোন অধিকার বলে? তাদের কি এদেশে কাজ করার অনুমতি আছে? এদের কাছ থেকে বাংলাদেশের পুলিশ পদক নেয় কি করে? এদের আর বাড়তে দেয়া যাবে না, এখনই থামাতে হবে। সাবধান। দেশ বাঁচাতে বাংলাদেশে ইসকন নিষিদ্ধ করতে হবে।
We use cookies on our website to give you the most relevant experience by remembering your preferences and repeat visits. By clicking “Accept”, you consent to the use of ALL the cookies.
This website uses cookies to improve your experience while you navigate through the website. Out of these, the cookies that are categorized as necessary are stored on your browser as they are essential for the working of basic functionalities of the website. We also use third-party cookies that help us analyze and understand how you use this website. These cookies will be stored in your browser only with your consent. You also have the option to opt-out of these cookies. But opting out of some of these cookies may affect your browsing experience.
Necessary cookies are absolutely essential for the website to function properly. These cookies ensure basic functionalities and security features of the website, anonymously.
Cookie
Duration
Description
cookielawinfo-checkbox-analytics
11 months
This cookie is set by GDPR Cookie Consent plugin. The cookie is used to store the user consent for the cookies in the category "Analytics".
cookielawinfo-checkbox-functional
11 months
The cookie is set by GDPR cookie consent to record the user consent for the cookies in the category "Functional".
cookielawinfo-checkbox-necessary
11 months
This cookie is set by GDPR Cookie Consent plugin. The cookies is used to store the user consent for the cookies in the category "Necessary".
cookielawinfo-checkbox-others
11 months
This cookie is set by GDPR Cookie Consent plugin. The cookie is used to store the user consent for the cookies in the category "Other.
cookielawinfo-checkbox-performance
11 months
This cookie is set by GDPR Cookie Consent plugin. The cookie is used to store the user consent for the cookies in the category "Performance".
viewed_cookie_policy
11 months
The cookie is set by the GDPR Cookie Consent plugin and is used to store whether or not user has consented to the use of cookies. It does not store any personal data.
Functional cookies help to perform certain functionalities like sharing the content of the website on social media platforms, collect feedbacks, and other third-party features.
Performance cookies are used to understand and analyze the key performance indexes of the website which helps in delivering a better user experience for the visitors.
Analytical cookies are used to understand how visitors interact with the website. These cookies help provide information on metrics the number of visitors, bounce rate, traffic source, etc.
Advertisement cookies are used to provide visitors with relevant ads and marketing campaigns. These cookies track visitors across websites and collect information to provide customized ads.