Tag: military
“ম্যায় রাজা বনুঙা!”
/ফেসবুক
একজন ‘সামান্য মেজর’ – অসামান্য এক জীবন
শিবলী সোহায়েল
[১]
সামান্য মোজা
সামান্য ঘড়ি ও পরিবার
আওয়ামী লীগের মন্ত্রী চট্টগ্রামের ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তার ‘ফেলে আসা দিনগুলি’ বইয়ে জিয়াকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিখেছেন – “………অতীতের অনেক কথাই মনে পড়ছে। আপনার (জিয়া) সাথে আমার অনেক স্মৃতি আছে, অনেক মিল আছে। অাপনি যুদ্ধের সময় যে ঘড়িটা ব্যবহার করতেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হয়েও সে ঘড়িটা হাতে আছে। ……তখন যুদ্ধ করা, হানাদারদের আঘাত করা, দেশের স্বাধীনতা অর্জন করা ছাড়া অন্য কোন ব্যাপার আমাদের মাথায় ছিল না। সেসময় ভাবীদের কি অবস্থা হবে, তারা কোথায় থাকবে, ভারতে চলে আসবে কিনা – এসব ব্যাপার নিয়ে যখন কথা বলছিলেন তখন আমি আপনার সামনে ছিলাম। আপনি তাদেরকে বলেছিলেন –‘তারা কোথায় থাকবে, কি করবে সে বিষয়ে ভাববার অবকাশ নেই। তাদেরকে তাদের মত করে সেভ থাকতে বলো। …”
উপরের এ উক্তির কোন ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই, তবে সামান্য দু’টো বিষয়ের মধ্যে দুইটি অসামান্য শিক্ষা আছে।এক, তিনি জানতেন রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদার সাথে বিলাসবহুল ঘড়ি বা পোশাক-পরিচ্ছেদের কোন সম্পর্ক নেই। আর দ্বিতীয়টি হল দেশের প্রয়োজনকে পরিবারের উপরে স্থান দেওয়া। মুখে বলতে পারলেও বাস্তবে সবাই এ কাজ পারেনা আর তাই এই ছোট ছোট সামান্য কাজগুলোই তাকে আরও অসামান্য করে তুলেছে।
এছাড়া পরিবারের কথা যখন চলে এলো তখন তাঁর পরিবারের আরেকটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। দুই হাজার সতেরো সালের নভেম্বর মাসে উনার ছোট ভাই আহমেদ কামাল নীরবে চলে গেলেন নাফেরার দেশে। কোথাও তেমন কোন সাড়া শব্দ শুনতে পেলাম না। পারিবারিক বন্দনার যুগে যখন একজন রাষ্ট্র প্রধানের নাতিপুতিরাও রাষ্ট্রীয় খরচে নিরাপত্তা ও নানা সুযোগ সুবিধা ভোগ করে তখন একজন রাষ্ট্রপ্রধানের আপন ভাই ছিলেন এতোটাই অপরিচিত!
সামান্য খাবার
একজন রাষ্ট্রপ্রধান বিলাসবহুল জীবন যাপন করবে, তার সঙ্গে একসাথে খাবার খেয়ে এসে মানুষ সেই খাবারের গল্প করবে জীবনভর, এমনটাই আমরা সবসময় দেখে আসছি। কিন্তু নিচের দু’টো ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম।
সাংবাদিক এ বি এম মূসার বর্ণনায় আমরা দেখতে পাই –
“একটু পরে জিয়া গোসল করে এলেন। আমরা চারজন খেতে বসলাম। খাবারের পরিমাণ ও রকম দেখে একটুখানি দুশ্চিন্তাও দেখা দিল। বুঝলাম জিয়া অত্যন্ত স্বল্পাহারী, আমার ভাগ্যেও অর্ধাহার। তিনি এককাপ স্যুপ, দু’তিন চামচ ভাত, দু’টুকরা মুরগির গোস্ত, এক চামচ সবজী নিলেন। তাঁর দেখাদেখি আকবর, দাউদ ও আমিও তাই নিলাম। জিয়া চেয়ে দেখলেন, কিছু বললেন না, তবে মনে হল একটুখানি মুচকি হাসলেন।”
বিশিষ্ট লেখিকা হেলেনা খানের বর্ণনা থেকে আমরা জানতে পারি –
“রোজার মাস।ময়মনসিংহ সার্কিট হাউসে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে এফতারি করার দাওয়াতে স্বামীসহ আমি শরিক হই। শুধুমাত্র সামান্য কাঁচা ছোলা, আটার মোটা রুটি ও ঘি-বিহীন বুটের ডালসহ গরুর গোশত অতি সাধারণ আয়োজন! শুনেছিলাম প্রেসিডেন্ট সাহেব ব্যক্তিগত সব ব্যাপারেই স্বল্প ব্যয়ের পক্ষপাতী ছিলেন। তাঁর ইচ্ছাতেই সেদিনের ইফতারির ওই আয়োজন।”
এভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাজারো অসংখ্য ঘটনা আছে, যা একসাথে করলে একটি বই হতে পারে। পরিমিত জীবনের তথ্য ছাড়াও তাঁর সেনানায়ক হিসেবে ভূমিকা, মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসী পদক্ষেপ, রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দেশ পূনর্গঠনের প্রচেষ্টা ও পরিকল্পনা, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রজ্ঞা যেকোনো রাজনৈতিক নেতা, সেনাপ্রধান এবং প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীদের জন্য শিক্ষণীয় হওয়ার কথা।
কিন্তু দুঃখের বিষয় এসবই এখন সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলার জন্য পরিকল্পিত এবং সংগঠিত একপ্রচেষ্টা করা হচ্ছে বাংলাদেশে। তাঁর অসামান্য কাজগুলোকে অস্বীকার করে তাকে এখন তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বলা হচ্ছে, “সামান্য এক মেজর”!
[২]
“সামান্য এক মেজর”- কথাটি আজকাল প্রায়শ শুনতে পাওয়া যায়। এ মন্তব্য কি শুধুই তাকে ছোট করার জন্য? নাকি এর গভীরে আরো অন্য কোন উদ্দেশ্য রয়েছে? কথাটি আমি প্রথম শুনি দুই হাজার দুই অথবা তিন সালের দিকে, সিডনীতে অনুষ্ঠিত এক সম্মাণনা প্রদান অনুষ্ঠানে সেখানে এক বক্তা সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক ভাবে হঠাৎ করে চিৎকার করেই বলে উঠেন, “কোন এক সামান্য মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এটা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়!” আমি মনে মনে ভাবলাম, উনি কি বলতে চাইছেন যে আরব থেকে “উঁচা-লম্বা ফর্সা” কোন শায়খ অথবা ভারতের রাজবংশের কেউ স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে উনার জন্য মেনে নেওয়া সহজ হতো? সামান্য মেজরের অসামান্য কাজ মেনে নিতে কি খুব কষ্ট হচ্ছে?
প্রথম দিকে আমি ভেবেছিলাম এটা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করার একটা কৌশল মাত্র। কিন্তু কিছুদিন বিষয়টি একটু মনযোগ দিয়ে লক্ষ করে দেখালাম এর সাথে আরো কিছু যুক্ত আছে। শুধু তাঁকে খাটো করাই হচ্ছে না, বরং মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ধীরে ধীরে বিতর্কিত করে তোলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আর কাজটা জোরালো ভাবে শুরু হয়েছে দুই হাজার নয় সালের পর থেকে যদিও এর পরিকল্পনা হয়েছিলো উনিশ‘শ একাশি সালের মে মাসের দিকে মতিয়ূর রহমান রেন্টুর “আমার ফাঁসি চাই” বই থেকে জানা যায়, জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকতে পরিকল্পনাটা ছিলো এরকম যে- প্রচার করতে হবে “এই জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া নয়।” সেই পরিকল্পনারই ধারাবাহিকতায় আজকে তাকে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর গুপ্তচরও বলা হচ্ছে। কিন্তু কেন? শুধুই কি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা? না, তা নয়। দৃশ্যপটের ভেতরে আরও যে গভীর ষড়যন্ত্র আছে তা আমাদেরকে বুঝতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় অথবা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই যদি তাঁর ভূমিকা নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠতো তাহলে তা ভিন্ন বিষয় ছিলো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সেসময় কোন বিতর্ক তো দুরের কথা বরং স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকাকে মূল্যায়ন করে সেসময় তাকে ‘বীর উত্তম’ উপাধি দেওয়া হয়। এ নিয়ে খুব বেশী তর্কের দরকার পড়েনা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের বক্তব্য থেকেই এটা পরিস্কার হয়ে যায়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ১১ এপ্রিল ১৯৭১ সালে তাজউদ্দীন আহমদ তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন –
“… চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলের সমর পরিচালনার ভার পড়েছে মেজর জিয়াউর রহমানের ওপর। নৌ, স্থল ও বিমান বাহিনীর আক্রমণের মুখে চট্টগ্রাম শহরে যে প্রতিরোধব্যুহ গড়ে উঠেছে এবং আমাদের মুক্তিবাহিনী ও বীর চট্টলার ভাই-বোনেরা যে সাহসিকতার সাথে শত্রুর মোকাবেলা করেছেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এই প্রতিরোধ স্ট্যালিনগ্রাদের পাশে স্থান পাবে এই সাহসিকতাপূর্ণ প্রতিরোধের জন্য চট্টগ্রাম আজও শত্রুর কবল-মুক্ত রয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের কিছু অংশ ছাড়া চট্টগ্রাম ও সম্পূর্ণ নোয়াখালী জেলাকে “মুক্ত এলাকা” বলে ঘোষণা করা হয়েছে।”
স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর সাহসী ভূমিকার কথা সামরিক-বেসামরিক অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিতেই উঠে এসেছে। এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠে এক সামান্য মেজরের অসামান্য অবদানের কথা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম অপপ্রচার শুরু হয় স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে। একটু পেছন ফিরে এই বিতর্কের ভিত্তিটাও একটু দেখে নেই।
বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় নবগঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দক্ষিণ চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক আবদুশ শাকুর তাঁর আত্মজীবনী “কাঁটাতে গোলাপও থাকে” বইতে উল্লেখ করেছেন – “…হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে টিকোজি থেকে পানি ঢেলে চা বানানোর নামে এটা সেটা নাড়াচাড়াই করতে থাকলাম আনমনে। এমনি সময় টেবিলের ‘এগারো ব্যান্ড স্যানিও রেডিও’তে আচমকা শ্রুত হল সেই ঐতিহাসিক ঘোষণাঃ “আমি মেজর জিয়া বলছি।” লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়ে দু’জনে প্রাণভরে কোলাকুলি করলাম, যেন পুনরুজ্জীবিত দুই মৃত সৈনিক।”
কর্নেল (অবঃ) কাজী-নুর-উজ্জামান তাঁর “একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধঃ একজন সেক্টর কমান্ডারের স্মৃতিকথা” গ্রন্থে লিখেছেন, “৭১-এ এপ্রিলের শেষ দিকে তাজউদ্দীনের সঙ্গে আমি মেজর জলিলের নয় নম্বর সেক্টর পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। যাত্রী আমরা দুজনই ছিলাম। …তাজউদ্দীন সাহেব আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আপনি একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর হয়ে কেমন করে কখন মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করলেন?’ জবাবে আমি জিয়াউর রহমানের ঘোষণার কথা বলি। জিয়া কর্তৃক নিজেকে প্রেসিডেন্ট বলে পরিচয় দেওয়ার কথা উল্লেখ করি। আমার জবাবে তিনি নিরুত্তর ছিলেন এবং অন্য প্রসঙ্গে চলে যান। …জিয়াউর রহমানের ঘোষণা শুনেই আমি ও আমার মতো হাজার হাজার সেনা, ইপিআর, পুলিশ, আনসার বাহিনীর সদস্য প্রেরণা পেয়েছিল। জিয়া ছিলেন ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অফিসার। তাঁর প্রেসিডেন্ট পদের দাবি করা আমাদের মনে প্রভাব ফেলেনি। তবে তাঁর স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ডাক আমাদের সকলকে অনুপ্রাণিত করেছিল।”
এ ব্যাপারে এমন আরও অসংখ্য তথ্য-প্রমাণ দেওয়া যেতে পারে। তবে বিষয়টি এমন না যে এই তথ্যগুলো তাদের কাছে নেই। এসব কিছু জানা থাকার পরেও তারা গোয়েবলসের নীতি অনুসরণ করে ধীরে ধীরে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ঠিক যেভাবে উনিশশ পঁচাশি সাল থেকে অপপ্রচার আরম্ভ করে তারা মওলানা দেলোয়ার হোসেন সাইদীকে বাংলাদেশের দিয়েছে। এ অপপ্রচারকে কেবলমাত্র সাধারণ রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ভাবলে মারাত্মক ভুল হবে। এই অপপ্রচার শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে নয় এর পেছনে রয়েছে গভীর এক নীলনকশা, রয়েছে আমাদের জাতিস্বত্তাকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশী জাতিস্বত্তার স্থপতি ও নির্মাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন ছিলেন এবং সবসময় সুকৌশলে তা প্রতিহত করেছিলেন। তাই আজ এই জাতির নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য ও সার্বভৌম স্বত্তাকে ভুলিয়ে দিতে হলে যে কোন ভাবেই হোক জিয়াউর রহমানের আদর্শকে মুছে ফেলতে হবে।
এই ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যায় উনিশশ সাতচল্লিশ সালের দেশভাগের পরপরই। সেসময় সেপ্টেম্বর মাসে বম্বেতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের CWC) এক সভায় সাতচল্লিশের দেশ বিভাগ নিয়ে একটি রেজুলিউশন গ্রহণ করা হয়। সেই রেজুলুশনে বলা হয়, “We hereby decide to accept the present partition for the time being”। এখানে “ফর দি টাইম বিং” কথাটার মাধ্যমে আমাদের প্রতিবেশীরা মূলত তাদের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে দিয়েছিল। এবং এ সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্যের অংশ হিসেবেই তারা একে একে হায়দারাবাদ, সিকিম ও ও কাশ্মীরকে গিলে ফেলেছে।
আশার বিষয় হচ্ছে আমারা সিকিম নই, আমরা হায়দারাবাদ কিংবা কাশ্মীরও নই। সেই আদি যুগ থেকেই এ অঞ্চলের মানুষ স্বাধীনচেতা। এই অঞ্চলের মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিল মহাপরাক্রমশালী মহারাজ আশোকার বিরুদ্ধে। তারা ঢুকতে দেয়নি দখলদার যুদ্ধবাজ মানসিংহদেরকে। ইংরেজদের দুই’শ বছরের শাসনকাল কেটেছে এই অঞ্চলের তিতুমির, ফকির মজনু শাহ, নুরুলদিন, বাকের মোহাম্মদ জং এবং সুর্যসেনদের বিদ্রোহ-সংগ্রাম দমন করার চেষ্টায়। উর্দুভাষী পাকিস্তানও পারেনি আমাদের পদানত করতে। সুতরাং দিল্লীও পারবেনা। কারণ এই দেশে রয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতই সামান্য অনেক মানুষ যারা ফ্যাসিবাদের মুখে দাঁড়িয়ে শোষকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অসামান্য তীতিক্ষার সম্ভাবনা ও মহত্তম মুক্ত মানুষের সাহসকে ধারণ করে বলে উঠতে পারে, “উই রিভল্ট!”
তথ্যসূত্রঃ
১। ইনাম আহমেদ চৌধুরী, ভাবনায় বাংলাদেশ, হাসি প্রকাশনী, মে ২০০৯, পৃঃ ১৪৯।
২। ইঞ্জি: মোশাররফ হোসেন, ফেলে আসা দিনগুলি, তৃপ্তি প্রকাশ কুঠি, জুন ২০১১, পৃঃ ১৪৯-১৭২।
৩। এবিএম মূসা, জিয়ার দর্শন ও বাংলাদেশ, সম্পাদনাঃ কাজী সিরাজ, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন, ফেব্রুয়ারি ২০০৪, পৃঃ ১৯-২৫।
৪। হেলেনা খান, ঊষা থেকে গোধূলির স্মৃতি, মীরা প্রকাশন, মার্চ ২০০৯, পৃঃ ২৬০।
৫। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে ১১ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে প্রচারিত প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের ভাষণ।
৬। আবদুশ শাকুর, কাঁটাতে গোলাপও থাকে, ঐতিহ্য, ফেব্রুয়ারি ২০০৮, পৃঃ ১৭৫-১৭৭।
৭। কর্নেল (অবঃ) কাজী-নুর-উজ্জামান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধঃ একজন সেক্টর কমান্ডারের স্মৃতিকথা, অবসর প্রকাশনা সংস্থা, ফেব্রুয়ারী ২০০৯, পৃঃ ১৩-১৫।
*লেখক শিবলী সোহায়েল -শিক্ষক ও গবেষক, চার্লস ষ্টার্ট ইউনিভার্সিটি, অষ্ট্রেলিয়া।
সেনানিবাসে ব্যাংক ডাকাতি এবং অপরাপর প্রসঙ্গ
ঢাকা সেনানিবাসের অত্যন্ত স্পর্শকাতর স্থানে অবস্থিত একটি বেসরকারী ব্যাংকের বুথে নিরপত্তা প্রহরীকে হত্যা করে সব টাকা লুট হয়েছে! বিষয়টি দেশবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে! সেনাভবনের পার্শ্বে, পুরাতন ডিজিএফআই হোডকোয়ার্টারের বিপরীতে, সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট ব্রাঞ্চের পার্শ্বে এহেন দুর্ধর্ষ ঘটনা জানান দিচ্ছে- সেনাবাহিনী ও সেনানিবাসের নিরাপত্তা ঠিকঠাক মত কাজ করছে না। সেনাভবন অর্থাৎ, সেনাবাহিনীপ্রধানের বাসভবনের আশে পাশে কড়া পাহারা, তথা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকার কথা। কেতাবে লেখা থাকলে বাস্তবে নিশ্চয়ই সিস্টেমে বড় ধরনের গোলমাল আছে। আগে ধরে নেয় হতো, ক্যান্টনমেন্ট এমন একটি যায়গা, যেখানে আর যাই হোক, নিরাপত্তার কোনো সংকট নেই। চোর ডাকাত দূরের কথা, কোথাও কিছু রাস্তায় পরে থাকলেও কেউ তুলে নিবে না। অবস্থা দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে- সেযুগ হয়েছে বাসী।
ঢাকা সেনানিবাসের ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকায় দীর্ঘকাল বসবাস করায় এর অলিগলি সব চেনা, মুখগুলোও পরিচিত।সেনানিবাসে ঢুকতে বেরুতে সিভিলিয়ানদের যে কী হাঙ্গামা, তা ভুক্তভোগিমাত্রই জানেন বুঝেন। তদুপরি সিসিটিভি ও লেটেস্ট যোগাযোগের এই যুগে অস্ত্রশস্ত্রসহ ডাকাত ঢুকে সেনাপ্রধানের বাড়ির কাছে পৌছে অপারেশন চালিয়ে খুনাখারাবি করে ব্যাংকের টাকা লুট করে কোনো ধরা পড়া ব্যতিরেকেই নিশ্চিন্তে বাইরে চলে যেত পারার ঘটনা বলে দিচ্ছে, জাতীয় নিরাপত্তা বলতে আর কিছু নাই। সেনানিবাসও এখন নিরাপদ নয়। আরও বড় কোনো ঘটনা ঘটার আলামত নয় তো? যদিও এখন দেখা যাবে, আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের এবং এমপি ইউনিটের কিছু ছেলেদের রগরানো হচ্ছে, কিছু এক্সট্রা টাইট, কয়েকদিন পরে আবার যেই সেই।
একটা ঘটনার কথা বলি। কয়েকদিন আগে এক ভদ্রলোক মতিঝিল থেকে একটা উবার ভাড়া করলেন। ভাঙা বাংলায় বলেন- ক্যান্টনমেন্ট চলো। ড্রাইভার রাজী হয় না। বলে- ক্যান্টনমেন্টের পাশ নাই। যাত্রী বিরক্ত হয়ে বলে, ‘তোর পাশের দরকার হবে না, আমি আছি তো, দ্যাখ কি করি।’ পথে টুকটাক কিছু আলাপে বোঝা গেলো, তিনি কোলকাতার মানুষ, এবং ভারতীয়। গাড়িটি ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ জাহাঙ্গীর গেটের কাছাকাছি আসলে আরোহী বললেন, ‘সোজা যাও অর্থাৎ, ফ্লাগ কার লাইন দিয়ে!’ ড্রাইভার ভয় পেয়ে বলে, ‘স্যার, বলেন কি আপনি? তা সম্ভব নয়। আমার বিপদ হবে।’ আরেহী আশ্বস্ত করে বলে, ‘তুমি যাও, কোনো সমস্যা হবে না, দেখো আমি কি করি!’ মিলিটারী পুলিশ (এমপি) সদস্য যথারীতি ফ্লাগ লাইনে গাড়িটি থামায়, ছুটে আসে সিকিউরিটি ইিউনিট, ডিজিএফআইর সদস্যরা এবং পরিচয় জানতে চায়। আরোহী তার পকেট থেকে একটা ভিজিটিং কার্ডের মত কাগজ বের করে দেখায় (ওটাতে কোনো ছবি ছিল না, বা আইডি কার্ডও নয়)। এমনকি আরোহী গাড়ির কাঁচও নামিয়ে কথা বলেনি। ওটা দেখেই এমপি গাড়ি ছেড়ে দিলো। ড্রাইভার এবার বুঝে গেলো আরোহি হোমড়া চোমড়া কেউ হবে। এবার ক্যান্টনমেন্টের নির্দিষ্ট বাড়ির সামনে পৌছলে দেখা যায় কয়েকজন সেনা অফিসার তাকে রিসিভ করতে দাড়িয়ে আছে। এই হলো সেনানিবাসের বর্তমান সিকিউরিটির হাল!
ঢাকা সেনানিবাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোথায় এসে ঠেকেছে, তা বুঝতে এই একটি ঘটনাই যথেষ্ট। এর বাইরে, বেশ কয়েকবছর ধরে নানা মাধ্যমে খবর বের হয়েছে, ক্যান্টনমেন্টগুলিতে প্রতিবেশি দেশের গেয়েন্দা সংস্থা র-য়ের অবাধ বিচরণ। কচুক্ষেতের ডিজিএফআই অফিসের একটি ফ্লোরে ভারতীয় বাহিনীর মেজর জেনারেল সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েক ডজন অফিসার বসে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার আগামাথা ঠিক করে থাকেন। বাংলাদেশ আর্মি অনেক অগেই কর্পোরেট আর্মিতে পরিণত হয়েছে। এদেশের সেনাবাহিনীর সাধারণ থেকে নীতিগত বিষয়ে প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা ও সেনারা ভূমিকা রেখে থেকে। এমনকি সেনাবাহিনীর গতিবিধি সংক্রান্তে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হয় বাংলাদেশ বাহিনীর কর্তাদের। গত দু’টার্ম ধরে আর্মিতে চলা ক্লিনজিং মিশনে ভারতীয় বাহিনীর লোকেরা সশরীরে উপস্থিত থাকে। মেজর জিয়াউল হক, লে. কর্নেল যায়েদী, লে. কর্নেল হাসিনুরের মত কয়েকডজন সার্ভিং সেনা অফিসারকে অপহরণ, মাসের পর মাস আটক, এবং জিজ্ঞাসাবারে নামে টর্চারের সময় উপস্থিত থাকে হিন্দিভাষী ভারতীয় গোয়েন্দারা!
বাংলাদেশে সেনাবাহিনী বলতে যে কঠোর কঠিন সার্ভিসকে বোঝাতো, সেখানে এখন স্থান দখল করেছে অঢেল টাকা পয়সার ছড়াছড়ি, হাইরাইজ মাল্টিস্টেরেড ভবন, নানা উপায়ে বিত্ত বৈভবের ব্যবস্থা, ব্যক্তিগত আরাম আয়েশ, মোটা চাকার পাজেরো গাড়িতে পারিবার নিয়ে হৈ হল্লা, আড্ডাবাজি, পার্টি, চাকরির পরে ব্যবসা বানিজ্যের হাতছানি ইত্যাদি। এখনকার কান্টনমেন্টে গেলে মনে হয় কোনো বাহিনীর এলাকা নয়, বরং হয় কোনো পর্যটনকেন্দ্র বা সেভেনস্টার হোটেলের আঙিনা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সেনাবাহিনী এবং সেনানিবাসের এই দশা হঠাৎ করে হয়নি। খুব পরিকল্পিতভাবে ধীরে ধীরে করা হয়েছে। পিলখানা ম্যাসাকার পরবর্তী সেনাবাহিনীর ভেতরে অনেকেই দেখছেন অপেশাদারী একটি মেরুদন্ডহীন ডিপার্টমেন্ট। আজকাল পুলিশের হাতে সেনা অফিসার ও সদস্যদের পথ ঘাটে প্রহার খাওয়ার যে প্রবণতা, তা একই সূত্রে গাথা। বাংলাদেশের একটি আতেল শ্রেণী আছেন, যারা জোরেসোরেই প্রচার করে থাকেন, বাংলাদেশে সেনাবাহিনীরই দরকার নাই। আবার সরকারী দলের আজন্ম ক্ষোভ- তাদের জনকের হত্যাকারী বাহিনী হলো সেনাবাহিনী। কাজেই এই বাহিনীকে যেকোনো ভাবে দমন করে রাখতে হবে, পারলে বিলুপ্ত করো। সেনাবাহিনীতে যতই পরিবর্তন বা রক্ত বদলাক না কেনো, বিনা ভোটের প্রধানমন্ত্রী এখনও তাদের ভয়েই ঠিকমত ঘুমাতে পারেন না!
আজকের ঘটনার পরে প্রশ্ন উঠতে পারে, কালকের ঘটনা কি কেবল একটি ডাকাতি? নাকি বড় কোনো ঘটনার পূর্বাভাস? এরপরে সেনাসদরের ভেতরে অফিসাররা খুন হলেও বা পিলখানার মত কোনো ঘটনা ঘটলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। হু ইজ নেস্কড? ইজ ইট অ্যা ফুল ড্রেস রিহার্সাল? গত এক দশকের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে প্রতিবেশিদের অনেক টেনশন হ্রাস পেলেও এবারে ৫০০ কোটি টাকার পুরোনো অস্ত্রের ভাগাড় বানিয়ে এসব পালিশ করার কাজে ব্যস্ত রাখার এক মহৎ পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই হাতে নেয়া হয়েছে। দরকার হলে এর জন্য ট্রেনিং নিতেও যেতে হবে প্রতিবেশীরই কাছে, বাইরে যাওয়ার পথ রুদ্ধ। প্রতিরক্ষা চুক্তির নামে বেঁধে ফেলা হয়েছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে। কেবল বাকী আছে এটিকে তাদের সাবসার্ভিয়েন্ট বাহিনী হিসাবে অফিসিয়াল ঘোষণা!
প্রায় নিরাপত্তাহীন দেশ। এ অবস্খায় দেশ ও জাতীয় সেনাবাহিনীকে বাঁচাতে হলে আর দেরী নয়, এখনই সময়। উঠে দাড়ান।
লে.জে. আজিজ পরবর্তী সেনাপ্রধান?
লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ আহমেদকে পরবর্তী সেনাপ্রধান নির্বাচন করেছেনে শেখ হাসিনা! খবর বিশ্বস্ত সুত্রের।
এবার সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ও সেনা সদস্যকে পুলিশের পিটুনি!
সেনাবাহিনীর মেজরকে পুলিশের মারপিটের ঘটনার উত্তেজনার মধ্যেই এবার রাজশাহীতে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার এবং সৈনিককে লাঞ্ছিত করে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা দশটার দিকে ঘাটাইল সেনানিবাসে ৯০২ কেন্দ্রীয় ওয়ার্কশপে কর্মরত ওয়ারেন্ট অফিসার শাহআলম এবং তার পুত্র সৈনিক আমিনুল তাদের বাড়ি চারঘাটে থেকে মোটর সাইকেলে করে রাজশাহীর দিকে যাচ্ছিল। পতিমধ্যে মতিহার থানা পুলিশ তাদের থামিয়ে হেলমেট না পড়ার কারনে আটক করে এবং পরে মামলা দেয়। সেনাসদস্য পিতা পুত্র তাদের পরিচয় দিলে পুলিশের এএসআই আশরাফ গালাগালি করে। এমনকি এক পর্যায়ে তুই তোকারি করে বলে- আর্মির মেজর পিটাইলেই কিছু হয় না, আর এ তো সৈনিক! সেনা সদস্য আমিনুল এর প্রতিবাদ করলে এক পর্যায়ে এএসআই আশরাফ তাকে চড় থাপ্পড় শুরু করে, পরে শুরু করে মারপিট। অন্য পুলিশ সদস্যরাও এতে সামিল হয়। থামাতে গিয়ে পিতা শাহ আলমও প্রহারের শিকার হয়।
ঘটনাস্থল থেকে বিষয়টি সেনাবাহিনীর উর্ধতন মহলে জানানো হয়। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা অকুস্থলে পৌছে। পরে ঘাটাইল সেনানিবাস থেকে মিলিটারী পুলিশ গিয়ে আহত ওয়ারেন্ট অফিসার এবং সৈনিককে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
পুলিশের হাতে একের পর এক সেনা নিগ্রহের ঘটনায় সেনা বাহিনীর মধ্যে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা, ও উত্তেজনা বেড়েই চলছে।
সেনাবাহিনীর কর্মরত মেজরকে পিটিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ!
গত রবিবার রাতে ঢাকা বগুড়া হাইওয়েতে চন্দ্রার কাছাকাছি ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যাম হলে দুই ট্রাফিক পুলিশ উল্টো দিক থেকে কিছু গাড়িকে প্রবেশ করতে দিলে জ্যামে আটকাপড়া সেনাবাহিনীর ১৯তম ডিভিশনের মেজর মুনিরের সাথে ঐ দুই পুলিশের বচসা হয়। এক পর্যায়ে মেজর মুনিরকে পিটিয়ে পুলিশদ্বয় তাকে থানায় নিয়ে যায় এবং সেখানেও নির্মমভাবে পেটানো হয়।
মেজর মুনির এএসসির একজন অফিসার। বর্তমানে এমআইএসটিতে কর্মরত। তার স্ত্রীও সেনা কর্মকর্তা। ঘটনার রাতে তিনি ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট থেকে ঢাকা ফিরছিলেন।
খবর পেয়ে মিলিটারি পুলিশের কম্যান্ডিং অফিসার তাৎক্ষণিক সেই স্পটে চলে যান এবং ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত দুই পুলিশকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে আসার জন্যে একটি মিলিটারি গাড়িতে ওঠানো হয়। তখন ১৫ জন পুলিশ মিলিটারি পুলিশদেরকে বাধা দিলে আরো ১৪ জন মিলিটারী পুলিশ এবং ৩ জন কাউন্টার টেররিজম সদস্য অস্ত্র শস্ত্র সহ ঘটনাস্থলে পৌছায়। দুই বাহিনী মুখোমুখি অবস্থায় পৌছলে আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল অাকবরের কাছে টেলিফোন করে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দেন। ডিআইজি ঢাকা রেঞ্জকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। আইজিপির কথার প্রতি সম্মান দেখিয়ে অভিযুক্ত দু’পুলিশকে রেখে আর্মি প্রভোস্ট মেজর মুনিরকে নিয়ে ফেরত আসে।
এরপর সেনাবাহিনী প্রধান, ৯ ডিভিশনের জিওসি এবং পুলিশের আইজিপির মধ্যে দফায় দফায় টেলিফোন আলাপ হয়।আজ সোমবার ঢাকার ডিআইজি আবদুল্লাহ আল-মামুন কয়েকবার সাভারের জিওসির সাথে দেখা করার জন্যে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তাকে সময় দেয়া হয়নি। বরং মিলিটারি পুলিশ অফিস-২ এর সাথে বসার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত দুই পুলিশকে নিকস্থ পুলিশ ফাড়িতে ক্লোজ করা হয়েছে। ভিকটিম অফিসারকে কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য আইজিপি নিজে ফোন করে সুযোগ পাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে সেনাবাহিনীর ভেতরে চরম হতাশা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। জুনিয়র সেনা অফিসাররা খুবই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।
একটি প্রমাদ সংশোধনী: পিলখানা ষড়যন্ত্রে জড়িত ৪৪ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্নেল শামস সঠিক আবিস্কার!
বাংলাদেশ সেনাবাহীনির বর্তমান ব্রিগেডিয়ার শামসুল আলম চৌধুরী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৪ লং কোর্সের অফিসার। ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় যারা ভিতর থেকে ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তার অন্যতম ছিলেন বিডিআরের ৪৪ রাইফেল’এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেনেন্ট কর্নেল শামস। এই ৪৪ রাইফেলের সৈনিকরাই পিলখানায় সেদিন প্রথম বিদ্রোহ করে এবং মূল হত্যাযজ্ঞ চালায়। পিলখানায় দরবার হলে আটক শতাধিক অফিসারের মধ্যে শামসও একজন ছিলেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে পরে অক্ষত অবস্খায় ফিরে আসেন। উদ্ধার হওয়ার পরে তার মুখে সন্দেহজনক কথাবার্তা শুনে সেনাঅফিসাররা ধারনা করেছিলেন, শামস বিদ্রোহের খবর আগেই জানত। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শামসের কাজে খুশি হয়ে তাকে পদোন্নতি দিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের পোস্টিং শেষ করে তাকে পাঠানো হয় ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে কাভার পোস্টিংয়ে- মিনিষ্টার কনস্যুলার পদে কর্মরত ছিলেন চার বছর। পাসপোর্ট ভিসা কেলেঙ্কারী করে অবৈধ অর্থ আয়, এমনকি স্থানীয় বাংলাদেশীদের ব্যবসায়ীদের সাথে আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। ওয়াশিংটনে থাকাকালে প্রবাসী ব্যবসায়ীদেরকে বাংলাদেশে ব্যবসা পাইয়ে দিবে (বিশেষ করে আইটি খাতের) বলে অনেকের ব্যবসার শেয়ার হোল্ডার হন। তার ক্ষমতার উৎস হিসাবে দাবী করেন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে, তিনি নাকি তার ভার্জিনিয়ার বাড়িতে যাওয়া আসা করেন। পার্টনারশীপ থেকে কোনো ব্যবসায়ীকে ব্যবসা থেকে আউট করতে চাইলে শেষে তারা নিজেদের ক্ষতি স্বীকার করেও শামসের হাত থেকে মুক্তি নেন। শামস নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে ওয়াশিংটন থেকে দেশে ফিরতে চাননি। প্রচুর অর্থ খরচ করে আমেরিকায় এডযাস্ট হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বিদেশ পোস্টিং শেষ করে এসে ব্রিগেডিয়ার পদোন্নতি, এবং এনএসআইতে পোস্টিং। এখানেও বিরোধী দলের নেতাকর্মী অত্যাচার নির্যাতনের সাথে জড়িত হয়ে পড়েন শামস।
তবে এতকাল ধরে একটি ভুল তথ্য প্রচার হয়েছিল, আর তা হচ্ছে- এই বিডিআরের ৪৪ রাইফেলসের শামস হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল ব্রিগেডিয়ার শামসুজ্জামানকে, যিনি ১৩ লংকোর্সের অফিসার। এর মূল কারন ছিল ব্রিগেডিয়ার শামসুজ্জামান এবং কর্নেল শামসুল আলম চৌধুরী দু’জনে একই সময়ে ওয়াশিংটন দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। দু’জনেই ‘শামস’ লিখতেন। তবে ১৩ লংয়ের শামস ছিলেন ব্রিগেডিয়ার এবং মিলিটারী এটাশে হওয়ার কারনে- বেশি এক্সপোজড! অন্যদিকে ১৪ লংয়ের শামস ছিলেন কর্নেল, ডিজিএফআইর কাভার পোস্টিংয়ে মিনিস্টার কনস্যুলার। তিনি থাকতেন সিভিলে। কর্নেল শামস তার সামরিক র্যাংক পরিচয় উল্লেখ করতেন না, ফলে অনেকে তাকে সিভিলিয়ান অফিসার হিসাবে ভ্রম করতো। তেমনই ভ্রমাত্মকভাবে অনেকেই ১৪ লংয়ের শামসের দায় ১৩ লংয়ের শামস এর উপর চাপিয়ে দিয়ে বসে আছেন। ১৩ লংয়ের শামসুজ্জামান এখন মেজর জেনারেল।
মানবাধিকার লংঘনের দায়ে বাংলাদেশ সরকারের মনোনীত ডিফেন্স এটাশের নিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের অসম্মতি!
বাংলাদেশে গুম খুন ভয়াবহ মানবাধিকার লংঘনের দায়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট খুব কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলকে ডিফেন্স এটাশে হিসাবে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে পদায়নের প্রস্তাব দিলে স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে জানানো হয়- ঐ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘনের সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাই তাকে যুক্তরাষ্ট্র ঐ পদে গ্রহন করবে না। বিষয়টি বাংলাদেশ সরকার এবং সেনাবাহিনীর জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে!
২০১৭ সালের মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কান্ট্রি রিপোর্টে বাংলাদেশ সরকারে বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ড নিয়ে ব্যাপক তথ্য তুলে ধরা হয় এবং বিভিন্ন বাহিনী নির্যাতন ও মানবাধিকার লংঘন করেও পার পেয়ে যায় মন্তব্য করা হয়েছে।
কেবল যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনই নয়, জাতিসংঘ সদর দফতর জানতে পেরেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনেক কর্মকর্তা র্যাব এবং বিভিন্ন অবস্থানে থেকে খুন, গুম ও মানবাধিকার লংঘনে জড়িত থাকার পরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দলে যোগ দিয়ে তাদের অপরাধ লুকানোর চেষ্টা করে। এসংক্রান্তে একাধিক লিখিত অভিযোগের পরে শান্তিরক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেস্ক থেকে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া র্যাবের বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড নিয়ে সুইডিস রেডিওর দীর্ঘ প্রতিবেদনের পরে বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ফলে মানবাধিকার লংঘনের নানা অভিযোগে বাংলাদেশের পুলিশের সাথে সাথে সেনাবাহিনীকেও শান্তিরক্ষা বাহিনীতে নিয়োগের ওপরে নিষেধাজ্ঞায় আওতার আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া মানবাধিকার লংঘনের দায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে নিয়োগ বন্ধ করে তদস্থলে ভারতীয়দের কোটা বাড়ানোর জন্য ভারত সরকার অনেক আগে থেকে জাতিসংঘে চেষ্টা করে যাচ্ছে।
গভীর রাতে বিজিবি মহাপরিচালক বদলী! জনমনে শংকা- আবার পিলখানা ম্যাসকারের আলামত নয় তো?
