সিলেটে ঐক্যফ্রন্টের মহাসমাবেশে নেতাদের ঘোষণা- হাসিনার অধীনে নিবার্চন নয়: সুষ্ঠু নির্বাচন এবং ক্ষমতায় যাওয়ার প্রত্যয় নেতাদের

বিনা ভোটে এমপি হতে চেয়ে শেখ হাসিনার ৫ জানুয়ারী নির্বাচনকে নতুন করে লজ্জায় ফেললেন যুবলীগ নেতা আবুল হোসেন!

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন গাজীপুরের কাজী আবুল হোসেন মাস্টার। একাদশ জাতীয় সংসদে গাজীপুর-৩ আসনের এমপি হতে চান তিনি। একই উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী ও সিইসির কাছে চিঠি লিখেছেন তিনি। চিঠিতে নিজেকে গাজীপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি দাবি করেছেন আবুল হোসেন মাস্টার। চিঠির সঙ্গে নির্বাচনী ইশতেহারও যুক্ত করেছেন। এমপি হওয়ার আগ্রহের কারণ জানতে চাইলে আবুল হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার শখ এমপি হবেন। তিনি জানতে পেরেছেন গতবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনেকেই এমপি হয়েছেন। তাই এবার ভোটের আগে তিনি প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

আবুল হোসেন জানান, গতকাল পর্যন্ত তার আবেদনের বিষয়ে কারও পক্ষ থেকে সাড়া পাননি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুর সদর উপজেলা যুবলীগের কোনো কমিটি নেই। জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। ১৭ই অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হওয়ার জন্য কি প্রয়োজন তা জানতে চেয়েছেন আবুল হোসেন। এর আগে ১৫ই অক্টোবরের চিঠিতে তিনি ব্যক্তিগত কাজে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চান। আর বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আবেদন করেছেন আবুল হোসেন। ওই আবেদনে তিনি লিখেছেন, বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছেন সিইসি বরাবর আবেদন করলে এমপি হওয়া যাবে। কাজী আবুল হোসেন মাস্টার নিজেকে গাজীপুরের জয়দেবপুরের মৃত আলহাজ মো. ইসলাম উদ্দিন কাজীর ছেলে বলে পরিচয় দিয়েছেন চিঠিতে। আবেদনের সঙ্গে নির্বাচনী ইশতেহারও যুক্ত করেছেন আবুল হোসেন মাস্টার। নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি লিখেছেন, পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে যুব উন্নয়নে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশে পরিবেশবান্ধব ও সেবামূলক কাজ করার মাধ্যমে নিজেকে পরিচিত করেছেন তিনি। বর্তমান কর্মপরিকল্পনায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষা, শান্তি, যোগাযোগ অবকাঠামো প্রণয়ন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের কাজে নিজেকে উপস্থিত রাখেন তিনি। তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে, দেশের মানুষের অধিকার রক্ষা, স্বাধীন জীবন যাপন, কারিগরি শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্য সেবা, খাদ্য ও বাসস্থান নিশ্চিত করা, সমাজের প্রতি দৃষ্টি রাখা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়া, যোগাযোগ ব্যবস্থা গতিশীল করা, বাণিজ্য ক্ষেত্রে ব্যাংকিং সহযোগিতা, শিল্পায়ন স্থাপন, বেকার সমস্যা দূর করাসহ আরো অনেক কিছু। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি গাজীপুর-৩ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি হতে চান।

/মানবজমিন

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন হাইটেনশনের, তবে সংলাপ সম্ভব!


20 Oct, 2018

আন্দোলন ও নির্বাচন ২ প্রস্তুতিতেই বিএনপি

আন্দোলন ও নির্বাচনের দ্বিমুখী প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। সরকারবিরোধী নবগঠিত বৃহত্তর প্লাটফর্ম জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমেই শুরু হয়েছে এ তৎপরতা। ফ্রন্টের নেতারা একদিকে আন্দোলন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে কাজ করছেন, অন্যদিকে নির্বাচনী আসন ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে সার্বিক পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্যসংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংগৃহীত তথ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে চূড়ান্ত করা হবে প্রার্থী মনোনয়ন। এসব কর্মতৎপতা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব দলের নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হবে একাধিক টিম। বিএনপির পক্ষ থেকে বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফেরানো ও নিষ্ক্রিয়দের সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একের পর এক জরিপ করা হচ্ছে আসনভিত্তিক। সেই সঙ্গে আন্দোলন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্ধেক নির্বাচনী প্রস্তুতি সেরে নিতে চায় বিএনপি।

এদিকে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে যখন জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে তখন ২০ দলীয় জোট ছেড়ে গেছে দুটি শরিক দল। বিষয়টিকে জাতীয় ঐক্য বিনষ্টে সরকারের ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছে বিএনপি। তবে ২০ দলের সঙ্গে থাকার ঘোষণা দিয়েছে দল দুটির একাংশ। তার পরও নির্বাচনী আসন নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর করতে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন বিএনপি নেতারা। বাস্তবতাসাপেক্ষে প্রতিটি দলকে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাসও দিচ্ছে জোটের শীর্ষ দল বিএনপি। যদিও কৌশলগত কারণে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি এখনই প্রকাশ্যে আনতে চায় না বিএনপি।

বিএনপি সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফেরানোর একটি উদ্যোগ নিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। তারই অংশ হিসেবে বহিষ্কারের কারণ, এলাকার জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতার সার্বিক তথ্যসহ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। সে তালিকার অনেক নেতার সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সক্রিয়ভাবে দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের নির্দেশনাও দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এ ছাড়া বিভিন্ন নির্বাচনী আসনে নেতাদের দ্বন্দ্ব-কোন্দল মেটাতে কাজ করছেন একটি টিম। বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসনভিত্তিক একাধিক জরিপ করেছে বিএনপি। আলাদা আলাদা সে জরিপের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মার্কিং করছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। এ ছাড়া দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে মহাসচিবসহ যাদের আসনে জটিলতা নেই তারা নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছেন। সম্প্রতি এলাকায় গিয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ কয়েক দফায় ক্ষমতাসীনদের রোষানলেও পড়েছেন। এদিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে প্রার্থিতার সবুজ সংকেত না পেলেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নেতারা এলাকায় কাজ করছেন। তারা নানা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাচ্ছেন। ঘরোয়া বৈঠক, অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় ও ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানে দান-অনুদান দিচ্ছেন। কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, বড় ও গণতান্ত্রিক দল হিসাবে সব সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বিএনপি।

এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এ প্লাটফর্মের কর্মতৎপরতা। তারই অংশ হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। বৈঠকের পর ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে প্রথম কর্মসূচি হিসেবে আজ বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিকাল ৩টায় গুলশানের হোটেল লেকশোরে এ মতবিনিময় করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মতবিনিময় সভায় কূটনীতিকদের সামনে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি সংক্ষেপে তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে আগামী জাতীয় নির্বাচন কেন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের প্রয়োজন রয়েছে এবং দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল এই দাবির পক্ষে, তা কূটনীতিকদের জানানো হবে। ঐক্যফ্রন্টের ঘোষিত ৭ দফা দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হবে। সেই সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের ১১ লক্ষ্য ব্যাখ্যা করা হবে। বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকারের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন তারই একটি রূপমাত্র। এর বাইরেও বামজোটসহ অনেক দল সরকারের বিপক্ষে এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষে স্বতন্ত্র অবস্থান থেকে আন্দোলনে সোচ্চার হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের বাইরে পেশাজীবী ও সুশীল সমাজও ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এই ঐক্যের প্রক্রিয়া দিনকে দিন জোরদার হবে। ঐক্যের মাধ্যমে সারা দেশে সরকারবিরোধী জনমত সংগঠিত হবে। সেই জনমতের চাপে সরকার দাবি পূরণে বাধ্য হবে। নেতারা বলছেন, আন্দোলন কেবল রাজপথেই হয় না। রাজপথের বাইরেও আন্দোলন রয়েছে। প্রচলিত ধারার আন্দোলন কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে শান্তিপূর্ণ ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে পথ চলবে ঐক্যফ্রন্ট।

বিএনপির দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতা জানান, এখন তাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুইটি বিষয়- আন্দোলন ও নির্বাচন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা ঘোষিত সাত দফা দাবি আদায়ের কৌশল ও কর্মসূচি প্রণয়ন এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছেন। দফায় দফায় অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে কর্মকৌশল ও কর্মসূচি নিয়ে। তারা সবাই, জনসম্পৃক্ত কিন্তু শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর দেশের মানুষ এবং আন্তর্জাতিক মহলের সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ের পথে হাঁটতে একমত। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে সমাবেশ এবং পেশাজীবীসহ বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তারা সে চাপ সৃষ্টি করতে চান। তবে পরিস্থিতি বাধ্য করলে রাজপথের কড়া কর্মসূচি দিতেও দ্বিধা করবে না জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপি নেতারা জানান, আন্দোলনের পাশাপাশি প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের। সেজন্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও করবেন বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের নিয়ে গঠিত সংশ্লিষ্ট একটি টিম। সেখানে বিএনপির শক্ত ভোটব্যাংকগুলোতে দলের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীকেই বেছে নেয়া হবে। অন্যদিকে যেসব আসনে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান এবং ভোট ব্যাংক তুলনামূলক দুর্বল সেখানে ২০ দলীয় জোটসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের বিবেচনা করা হবে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চলমান আন্দোলন সম্পৃক্ত কোনো পক্ষকেই মনোনয়ন বঞ্চিত বা হতাশ করা হবে না।

বিএনপি নেতারা জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসন বণ্টন ও মূল্যায়নের ব্যাপারে বিএনপির ওপর চাপ তৈরি করে আসছিল কয়েকটি শরিক দল। এই নিয়ে শরিক দলগুলোর মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি, অসন্তোষও ছিল। এসব দল তাদের মূল্যায়নে চাইছিলেন দৃৃশ্যমান আশ্বাস। তবে জোটের ঐক্য ধরে রাখা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আন্দোলনে মনোযোগ ধরে রাখতে তাদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে চাইছিল না বিএনপি। এমনকি নিজ দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্ব কোনো সংকেত দেয়নি। এছাড়া ২০ দলীয় জোট বিদ্যমান থাকা অবস্থায় অন্যান্য দলের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ার ব্যাপারে কিছুটা অস্বস্তি ছিল কয়েকটি শরিক দলের। জাতীয় ঐক্য গড়ার বিষয়টিকে জোটের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়ার ব্যাপারে কিছু নেতার বক্তব্য সেটা তীব্র করে তুলেছিল। ফলে জোটের অনেক শরিক এই ঐক্য গঠনের সমালোচক ছিলেন। তাদের মধ্যে শঙ্কা কাজ করছিল- আগামী নির্বাচনে তাদের থেকে এই ঐক্যকেই বেশি প্রাধান্য দেবে বিএনপি। এ নিয়ে দুয়েকটি শরিক দলের সন্দেহ আর অবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতাসীন মহল ও বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের নানাভাবে প্রলুব্ধ করা হচ্ছিল। যার ফলে বাংলাদেশ ন্যাপ ও এনডিপির একাংশ ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেয়। বিএনপি শুরুতে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনায় শরিক দলগুলোর সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন সিনিয়র নেতারা। বিএনপি স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য বলেন, ২০ দলের কয়েকটি শরিক দলের ওপর ক্ষমতাসীনদের তরফে চাপ ও টোপ রয়েছে। তবে তারা আশা প্রকাশ করেন অন্য কোনো শরিক দল চাপের মাধ্যমে নতি স্বীকার ও লোভের কাছে পরাজিত হবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্য থেকে খোদ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তিনি নিজেই শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নের ব্যাপারে আশ্বস্ত করছেন। বিএনপি নেতারা জানান, গত বৃহস্পতিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে তিন নেতা মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রমের বাসায় যান। এসময়ে তারা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বিএনপির অবস্থান, অতীতের নানা ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেন। সার্বিক বিষয়ে তার পরামর্শও নেন। এছাড়া বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীকের জন্মদিনে তার বাসায় যান বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। একইভাবে প্রবীণ রাজনীতিবিদ বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খানসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। বিএনপি নেতারা জানান, শরিক দলগুলোর আস্থা রক্ষায় নেতারা তাদের বাসায় যাচ্ছেন, আলাদা করে আলোচনা করছেন।

এসব বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর চিন্তাভাবনা থাকে নানা ধরনের। তবে যে দলগুলো গত ১০ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে, তাদের মধ্যে হঠাৎই কেউ বেরিয়ে গেলে দেখতে খারাপ দেখায়। ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, জোটে কোনো ভাঙন নেই। দুটি দলের কিছু নেতা চলে গেছেন। তবে তাদের দলের বড় অংশটি এখনো জোটেই আছেন। জোটের ঐক্য অটুট রয়েছে। অন্য কোনো দলের জোট ছেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি না। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০ দলীয় জোট ভাঙছে না। এখানে দু-একজন নেতা চলে গেছেন। তবে তাদের দল থাকছে। তারা ইতিমধ্যে দলত্যাগীদের বহিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য নষ্ট করতে নানামুখী চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র থাকতে পারে, কিছু মানুষের বৈষয়িক লাভও থাকতে পারে। সব জায়গায় এই রকম কিছু মানুষ ঘাপটি মেরে থাকে। কিছু মানুষ বৈষয়িক প্রশ্নে অনেক সময় আপস করে। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ও এমনটি হয়েছে। এই আপসকামিতা আসলে স্বার্থের কাছে আত্মা বিক্রির নামান্তর। বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ২০ দলীয় জোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট ও শেখ শওকত হোসেন নীলুর নেতৃত্বাধীন এনপিপি। ক্ষমতাসীনদের কোনো ধরনের মূল্যায়ন পাননি নীলু। ইতিমধ্যে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্যদিকে মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী এখন রাজনীতিতে হতাশ এবং নিষ্ক্রিয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিএনপির সঙ্গ ছেড়ে যাওয়া এনডিপি ও বাংলাদেশ ন্যাপের একাংশও রাজনীতিতে সুবিধা করতে পারবে না, হতাশ হবে।

/মানবজমিন

রাজপথেই ফয়সালা হবে সবকিছূ

২১ আগস্টে শেখ হাসিনার মঞ্চকে পাশ কাটিয়ে আ.লীগই হামলা করেছে: বিএনপি

২১ আগস্ট বোমা হামলায় আওয়ামী লীগই দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আজ নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, সব কিছু বিচার বিশ্লেষণে এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ সৃষ্টি হয় যে, ২১ আগস্ট বোমা হামলায় আওয়ামী লীগ বা তাদের শুভাকাঙ্খীরাই দায়ী। যেহেতু তখন সরকার পরিচালনা করেছে বিএনপি সেহেতু নিজের সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হবে, এমন আত্মবিধ্বংসী কাজ বিএনপি কেন করতে যাবে? আওয়ামী লীগের সভার ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা হলে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রতি সাধারণ মানুষের ব্যাপক সহানুভূতির সৃষ্টি হবে এবং বিএনপির বিরুদ্ধে মানুষের আস্থা কমবে। এতে আওয়ামী লীগের লাভ। ঠিক এই উদ্দেশ্য নিয়েই আওয়ামী লীগের সভার ওপর বোমা হামলা করা হয়েছে, শেখ হাসিনার মঞ্চকে পাশ কাটিয়ে।

তিনি বলেন, এই বোমা হামলার আরেকটি উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিএনপি নেতৃত্ত্বাধীন জোট সরকারকে জঙ্গী সরকার বা তার পৃষ্ঠপোষক হিসাবে প্রমাণ করা-সেজন্য পরবর্তিতে শেখ হাসিনা ও তার সহকর্মীরা হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সম্মিলিত কন্ঠস্বরে দেশে-বিদেশে বিএনপি ও জোট সরকারের বিরুদ্ধে অপবাদের কোরাশ গেয়েছেন। অথচ জঙ্গী উৎপাদন করেছে আওয়ামী লীগ, আর তাদেরকে দমন করেছে বিএনপি।

রিজভী বলেন, দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া বিএনপি নেতৃত্ত্বাধীন জোট সরকার এমন হঠকারি কাজ করে নিজেদের পাকা ধানে মই দেয়ার মতো নির্বোধ কাজ করবে, এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। সুতরাং এক ঢিলে কয়েকটা পাখি মারার কাজ নেপথ্যে ও প্রকাশ্যে সম্পন্ন করেছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি কখনোই আওয়ামী লীগের মতো কুটকৌশল ও নিষ্ঠুরতা শিখতে পারেনি।
তিনি বলেন, একইভাবে ২০০৯ সালে বিডিআর সদর দপ্তরের পৈশাচিক হত্যাকান্ড আওয়ামী সরকারের আমলেই ঘটেছে। এর জন্য কেন আওয়ামী সরকার দায়ী নয়? দরবার হলের এধরণের অনুষ্ঠানে সবসময় প্রধান অতিথি থাকেন প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কেন সেদিন যাননি? আওয়ামী মন্ত্রী ও নেতারা যথাক্রমে সাহারা খাতুন, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মির্জা আজম প্রকাশ্যে সদর দপ্তরে ঢুকে ঘাতক বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে দেন-দরবার করেছেন। সদর দপ্তরের বাহিরে হত্যাকারী ঘাতকদের নেতা ডিএডি তৌহিদসহ তার সঙ্গীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নিজের সরকারী বাসভবনে বৈঠক করেন। ফাইভ স্টার হোটেল থেকে সেদিন তাদের জন্য খাবারও আনা হয়েছিল। তৎকালীন সেনাপ্রধান মঈন উদ্দিন দ্রুত বিডিআর সদর দপ্তরে সেনাবাহিনী পাঠানোর নির্দেশ চেয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমান অবৈধ সরকার সেই নির্দেশ দেয়নি। কেন এই বিলম্ব করা হলো ? আর এই বিলম্ব না হলে প্রাণ দিতে হতো না অর্ধ শতাধিক চৌকস সেনা কর্মকর্তাদের। এরজন্য কি আওয়ামী সরকার দায়ী নয়? একজন উর্দ্ধতন সেনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে যে তদন্ত হয়েছিল সেটা স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হলেও কেন তা প্রকাশ করা হয়নি? সে আলোকে কোন ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়নি কেন? এগুলোর জবাব তো একদিন বর্তমান অবৈধ শাসকগোষ্ঠীকে দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনে গোয়েবলসীয় কায়দায় ক্ষমতাসীন দলের নেতারা সারাদিন অপপ্রচারে ব্যস্ত থাকলেও সত্যকে কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে পারবে না। অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর মনে নিত্য ত্রাস আর আশঙ্কার মেঘের আনাগোনা। তাই নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ায় ওবায়দুল কাদের অনবরত মিথ্যা ভাষণ দিয়ে যাচ্ছেন। তার বক্তব্যের বৈশিষ্ট্য ক্রোধপরায়ণতা ও কলহপ্রিয়তা। আওয়ামী লীগের গেম প্ল্যান খুব স্পষ্ট। আইন, আদালত, বিচার তাদের হাতে মুঠোয় থাকায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় একের পর এক সাজা দিয়ে ফাঁকা ময়দানে ইলেকশনের নামে সিলেকশন করে ক্ষমতা ধরে রাখা।  সেজন্যই ছিনতাইবাজ সরকার গণতন্ত্র ছিনতাই করে ফ্যাসিবাদের বিশুদ্ধ শাসন কায়েম করেছে। এরা গণতন্ত্রের শক্তি শুষে নিয়ে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর ওপর নজরদারীর শক্তি বৃদ্ধি করেছে।
ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সাংগঠনিক সহ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, দপ্তর সহ সম্পাদক বেলাল আহমেদ প্রমুখ।
শীর্ষ নিউজ/জে

সকল প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে অবশেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ!

দিনভর নানা নাটকীয়তা শেষে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপি, গণ ফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জাসদ (রব) জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে। তবে এ প্রকৃয়ায় বাদ পড়ে ডা. বি চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা। আর এ খবরে গোটা রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয় নতুন ঢেউ। কুটনৈতিক পাড়া নড়ে চড়ে বসে, উত্তরপাড়া ও সচিবালয়ে ঐক্য নিয়ে আগ্রহ বেড়ে যায়।

ঐক্য গঠন নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে চলা বৈঠক, টেবিল টক, সমঝোতা, দাবী নামা তৈরী ইত্যাদি চলতে থাকে। কিন্তু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আর হচ্ছিল না। মূলত বিকল্প ধারার নেতা মাহি বি চৌধুরী কতৃক নতুন নতুন শর্ত আরোপ করে বিএনপির সাথে এই ঐক্য গঠনে বাধা দেয়া হয় এবং সময় ক্ষেপণ চলছিল। বিকল্প ধারা দাবী তোলে, নির্বাচনে বিজয়ী হলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে, নির্বাচনে বিএনপিকে ১৫০ আসন ছাড়তে হবে, এবং সেই সাথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পূর্শবর্ত হিসাবে বিএনপির নিজস্ব ২০ দলীয় জোট থেকে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দিতে হবে। কিন্তু এ বিষয়ে অন্যান্য দল, বিশেষ করে ড. কামাল হোসেন, আসম রব, এবং মাহমুদুর রহমান মান্না একটি সহনীয় অবস্থান গ্রহন করেন। কিন্তু বিকল্প ধারা এমনভাবে বাড়াবাড়ি করতে থাকে, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, তারা হয় ঐক্য করতে দিবেনা, অথবা দীর্ঘসূত্রিতায় ফেলে ঐক্যের কার্যকারিতা নষ্ট করতে তৎপর। আর এটা যে বর্তমান সরকারের স্বার্থে করছে, তা নানান মাধ্যমে প্রচারিত হতে থাকে।

গোয়েন্দা সুত্রের খবর মতে, আ’লীগ সরকারের দেয়া ভিওআইপি ব্যবসা থেকে মাহি বি চৌধুরী প্রতি মাসে নগদ পান ৮ কোটি টাকা, তাতে লাভ লোকসান যাই হোক না কেনো। অর্থাৎ বছরে তার ফিক্সড ইনকাম ১০০ কোটি টাকা। খালাত বোন শমীর স্বামী আরাফাতের সাথে ছ’শ কোটি টাকার ব্যবসা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পুত্র জয় টোপ দিয়েছেন, ঐক্যজোট থামিয়ে দেয়ার ইনাম হিসাবে দু’টো টেলিভিশন কেন্দ্রের মালিকানা দেয়া হবে, আরও পাবে নগদ ক্যাশ। গোয়েন্দারা মাহিকে চাপ দেয়, যেকোনো মুল্যে ঐক্য ভাঙতে হবে। তাছাড়া মাহির নারীঘটিত কেলেঙ্কারীর বহু অডিও ভিডিও প্রমানাদি রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে। এছাড়াও বিকল্প ধারার সেক্রেটারী মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকান্ডের তথ্যপ্রমান সরকারের হাতে রয়েছে। হাজার কোটি টাকার ঋনখেলাপী মান্নানকে দুদকে ডাকা হয়েছে। সরকারের কথা না শুনলে তার জেলে যাওয়া, ব্যবসা হারানো সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এ অবস্থায় গত ১১ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের বাসভবনে ঐক্য গঠনের চুড়ান্ত সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঐদিনই রাজধানীর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হঠাৎ ঘিরে ফেলে গোয়েন্দা পুলিশ, ঐক্যের অন্যতম সমন্বয়কারী ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরীর আটক করার চেষ্টা করা হয়। ডা. জাফরউল্লাহকে আটক না করলেও স্থগিত হয়ে যায় কামাল হোসেনের বাসভবনের মিটিং। পরিবর্তে রাতে আ স ম আবদুর রবের বাসায় ঐক্যজোটের লিয়াঁজো কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিদ্ধান্ত হয়, শনিবারে ড. কামাল হোসেনের বাসায় ঐক্যজোটের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এদিন কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসভবনে বৈঠকে যোগ দিতে আসেন বি চৌধুরি। এই বৈঠক নিয়ে এসব দলের মধ্যে দিনভর নানা গুঞ্জন চলতে থাকে। ঐক্যের একাধিক নেতা সকাল থেকেই এ বৈঠক নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। কিন্তু বাসভবনে বৈঠকের আগেই ‍ড. কামাল হোসেন চলে যান তার মতিঝিলের অফিসে। এর পেছনে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসনের মেসেজ, লন্ডন থেকে আসা ফোন মেসেজ, মান্না এবং ব্যরিষ্টার মাইনুল হোসেনের তৎপরতা ক্রিয়াশীল ছিল বলে সূত্রে প্রকাশ। কামাল হোসেনের চেম্বারে বিএনপি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জাসদ (রব) নেতারা বৈঠকে বসে ৭ দফা দাবী ও ১১ লক্ষ স্থির করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন। সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আনু্ষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। অবশেষে এই ঐক্য থেকে বাদ পড়েন বি চৌধুরী এবং তার পুত্র মাহি।

মানবাধিকারের সুরক্ষা ও গুণগত মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য পদের ‘অযোগ্য’ ঘোষিত বাংলাদেশ!

১২ অক্টোবর শুক্রবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্যপদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জেনেভা ভিত্তিক এই সংস্থার এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে সদস্য হওয়ার জন্য নির্বাচন করছে বাংলাদেশ, বাহরাইন, ফিজি, ভারত ও ফিলিপাইন।

এদিকে মঙ্গলবার ইউএন ওয়াচ, হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন ও র‌্যাওয়েল ওয়ালেনবার্গ সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটসের প্রকাশিত যৌথ প্রতিবেদনে সদস্যপ্রার্থী দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশ, বাহরাইন, ফিলিপাইন, ক্যামেরুন, ইরিত্রিয়া ও সোমালিয়াকে ‘অযোগ্য’ বলে মন্তব্য করা হয়।

তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬০/২৫১নং রেজ্যুলেশন অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোর মানবাধিকারের সুরক্ষা ও গুণগত মান বজায় রাখা প্রয়োজন। এই প্রতিবেদনে ভারত, টোগো, ফিজি ও বুরকিনা ফাসোর মানবাধিকার পরিস্থিতিকে ‘সমস্যাগ্রস্ত’ বলে উল্লেখ করে এটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। শুধুমাত্র ৮টি দেশ ‘আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, বাহামা, বুলগেরিয়া, চেক রিপাবলিক, ডেনমার্ক, ইতালি ও উরুগুয়েকে মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্যপ্রার্থীতার যোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়।

১২ অক্টোবরের সদস্যপ্রার্থীতায় এশিয়ান গ্রুপে কাজাকস্তান, মঙ্গোলিয়া, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থানে লড়বে বাহরাইন, বাংলাদেশ, ফিজি, ভারত ও ফিলিপাইন। এর মধ্যে যৌথ সংস্থার প্রতিবেদন বাহরাইন, বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনকে ইউএনএইচআরসি এর সদস্যপদের অযোগ্য বলে মন্তব্য করা হয় ও ফিজি ও ভারতের সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

প্রসঙ্গত, ইউএনএইচআরসি এর ২০১৯-২১ সালের মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হতে জাতিসংঘের সদস্যভূক্ত ১৯৩টি দেশের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন হবে বাংলাদেশের। এর আগে বাংলাদেশ ২০০৭-০৯, ২০১০-১২ এবং ২০১৫-১৭ মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছিল।
/আমাদের  সময়

২১শে আগস্টের রায় নিয়ে খালেদা জিয়ার কাছে প্রস্তাব পাঠিয়ে হতাশ হাসিনা!

বিশেষ সংবাদদাতা
আগামী কাল ১০ই অক্টোবর একটি মামলার রায় নিয়ে দেশের রাজনীতি ও রাজধানীতে যখন টান টান উত্তেজনা, এরই মাঝখানে শেখ হাসিনা তার দূত পাঠান বিএসএমএমইউতে (পিজি হাসপাতালে) ভর্তি কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণার ঠিক আগে আগে এ বিষয়ে টোপ পাঠান শেখ হাসিনা। তার প্রস্তাব কেবল একটাই, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে রাজী হলেই তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দেয়া হবে!

প্রস্তাব শুনে হেসে ফেলেন বেগম জিয়া। বলেন, আর কত নাটক করতে চায় হাসিনা? তাকে বলে দিও, “ফাঁসিই তো দিবে? যা ভালো মনে করে দিতে বলো। জিম্মি করে কোনো আপোষ হবে না। অন্যায়ের শেষ দেখে ছাড়ব।”

হতাশ হয়ে প্রতিনিধি দল ফিরে যায়। এদের একজন খুব অবাক হয়ে বলেন, এত শক্ত! তিনি কোথায় পান এত মনের জোর?

উল্লেখ্য ১০ই অক্টোবর ঐ রায় ঘোষণার একটি বিশেষ কারণ আছে। আর  তা হলো ২০০১ সালের এই দিনে বিএনপি সরকার গঠন করেছিল। সেই দিনে শেখ হাসিনা বিএনপির বিরুদ্ধে একটি সাজানো রায় দিয়ে মনের জ্বালা মিটাতে চান!

বিনা ভোটে নির্বাচনের সর্বশেষ তরিকা: ইভিএমের পরে মোবাইলে থেকে ভোট: কারও আসতে হবে না কেন্দ্রে. কিন্তু ভোট পেয়ে গেছে!

অবশেষে ঘরে বসে মোবাইলে ভোট দিতে পারবে এমন ঘোষণা দিলেন বর্তমান মহাপরাক্রমশালী বিনা ভোটের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা মিয়া! উল্লেখ্য গতকালই তিনি স্বামী ওয়াজেদ মিয়া বাসা থেকে ‘মিয়া’ হয়ে এসেছেন। তারমানে দাড়াচ্ছে, ইভিএমের পরে মোবাইল থেকে ভোট দেয়ার কথা বলছে, এতে কাউকে ভোটকেন্দ্রে আসতে হবে না। বরং কেন্দ্র ফাঁকা থাকলেও শতভাগ ভোট কাস্ট হয়েছে বলে দেয়া সম্ভব!! অথচ এটি পৃথিবীর কোথাও নেই।

উল্লেখ্য, মোবাইল ফোন রেজিষ্ট্রেশন ডাটা ব্যবহার করে ভোট জালিয়তি করা হবে, এমন একটি গুরুত্বপূর্ন খবর বছর দুয়েক আগে ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক মাধ্যমে।
৩০ জুন ২০১৬ ফেসবুকের পোস্টে লেখা হয়েছিল,  মোবাইল সিম রেজিষ্ট্রেশন করতে সরকার যেভাবে নাগরিকদের হাতের ছাপ নেয়া হচ্ছে. আগামী নির্বাচনে তা অপব্যবহার করে নেীকাকে জেতানো হবে!
৪ এপ্রিল ২০১৬ লেখা হয়, “তবে কি নির্বাচনী বৈতরণী পার হতেই হাতের ছাপ নিচ্ছে হাসিনা?”
২৫ জুলাই লেখা হয়- “আগামী নির্বাচন নিয়ে হাসিনার ইলেকশন কমিশন আস্তে আস্তে প্রস্তুতি নিচ্ছে। হাসিনাকে সহজে জিতিয়ে আনার জন্য আবার নিয়ে আসছে বাতিল হওয়া- ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। এরা চাইছে এর সাথে ফিঙ্গারপ্রিন্টকে যুক্ত করতে। আইসিটি মন্ত্রনালেয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, মোবাইল রিভেরিফিকেশনে প্রাপ্ত বায়োমেট্রিক ব্যবহার করে ফলাফল নিজ দখলে নেয়ার একটি ফন্দি নিয়ে আগাচ্ছে আওয়ামীলীগ সরকার ও তাদের আস্থাভাজন নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে তাদের টার্গেট ৬০ ভাগ বায়োমেট্রিক ব্যবহার করা। লোকজন ভোটকেন্দ্রে যাবে, ভোটও দিবে। কিন্তু ফলাফলের সময় তা কোনো কাজে আসবে না, বরং সিস্টেমের কারুকাজ করা ফলাফল কি করে নৌকার পক্ষে প্রকাশ করা যায়, তেমন একটি ফরমুলা বের করার চেষ্টা চলছে।

অবশেষে ২ বছর পরে শেখ হাসিনা ঘোষণা করলেন- ‘আপনাদের ভোট কেন্দ্রে আসতে হবে না। বাসা থেকে মোবাইল টিপবেন। আর আসি ভোট বুঝে নিব!’ বাংলাদেশের ভোট স্বপ্নের চির শান্তি!

1 2 3 4 5 26