হিন্দুদের ওপর সকল হামলার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ!

রংপুরের পীরগঞ্জে জেলেপল্লিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া প্রধান অভিযুক্ত এসএম সৈকত মণ্ডল (২৪) একজন ছাত্রলীগ নেতা। তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজ দর্শন বিভাগ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।

সদ্য ঘটে যাওয়া কুমিল্লার পুজামণ্ডপে হনুমানের মূর্তির পায়ে কুরআন রাখা নিয়ে যে ছেলেটি ফেসবুকে লাইভ করলো তার নাম ফয়েজ! মন্দিরের পাশেই হলো ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের মেয়রের বাসা। ফয়েজ মেয়রের কর্মী হিসেবে পরিচিত। এই ফয়েজের বাসা মন্দির থেকে বেশ দূরে, প্রশ্ন হলো অত সকালে ফয়েজ মন্দিরে কি করছিল? ফয়েজের লাইভ করার সময়ে মেয়রের পিএস বাবু নারায়ে তকবির স্লোগান দিয়ে লোকজন জড়ো হতে আহবান জানান। তো এসব ফ্যাক্টের প্রচার কই? অথচ কোত্থেকে এক পাগল ইকবালকে ধরে এনে ভুয়া সিসিটিভি ফুটেজ বানিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করছে পুলিশ লীগ।

এর আগে ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে ভয়াল হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটতরাজের হামলার নেতৃত্বে ছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কামালুদ্দিন! এই কামালুদ্দিনের কি বিচার হয়েছে?

২০১৬ সালের ২৮-৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাসিরনগরে রসরাজ দাস নামের এক ব্যক্তির ফেসবুকে পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে হিন্দুদের ঘরবাড়ি ও মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে, যার নির্দেশদাতা ছিলেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আঁখি। তাঁর নির্দেশ ও সহায়তায় ১০ থেকে ১৫টি ট্রাকে করে মানুষ হরিপুর থেকে নাসিরনগর সদরে আনা হয়। ওই সব ট্রাকের লোকজন পরে হামলা চালায়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে বেকায়দায় ফেলতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সভাপতি সাংসদ র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর ইন্ধনে স্থানীয় সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. ছায়েদুল হককে কুপোকাত করতেই হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে ভাঙচুর চালানো হয়। সহিংসতার ঘটনায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় তিন নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। তাঁরা হলেন নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক আহম্মেদ, চাপড়তলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরুজ আলী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহপ্রচার সম্পাদক আবুল হাশেম। এ ছাড়া গত ২৭ ডিসেম্বর নাসিরনগরের হিন্দুদের ঘরবাড়ি ও মন্দিরে হামলার ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আবদুল আহাদকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ঐ হামলার ঘটনায় আরও গ্রেফতার হয় আওয়ামী লীগ মনোনীত হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আঁখি। এদের নামে চার্জশিট হয়, মামলা হয় কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো নাসিরনগরে হামলায় জড়িত ঐসব নেতাদেরকেই পরে আবার দলীয় মনোনয়ন দিয়ে পুরষ্কৃত করা হয়। মিডিয়ায় যখন এটা নিয়ে আলোচনায় আসে তখন আবার বাদ দেয়া হয়।

চলতি বছর মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের আগ মুহুর্তে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে যে কথিত ঝুমন দাসের ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনার অভিযোগ উঠেছিল, তখন শতশত মানুষ দলবেধে হামলা করে। সেখানেও ঐ ঘটনার মুল মাস্টারমাইন্ড ছিল স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম স্বাধীন ওরফে স্বাধীন মেম্বার! প্রথমে এটাও ধর্ম অবমাননার হুজুগ তুলে মিডিয়ায় প্রচার করা হলেও সত্য বের হয়ে আসতে সময় নেয়নি।

এভাবেই আওয়ামী লীগ সবসময় হিন্দুদের উপর হামলার নেতৃত্ব দেয়। সংখ্যালঘুরা দেশ ছাড়লে তাদের জায়গাজমি এরাই দখল করে খায়। আর দেশে থেকে গেলে তাদেরকে ভোট ব্যাংক হিসাবে ব্যবহার করে।

পুলিশ নির্ভর আওয়ামী লীগ, নাকি পুলিশ লীগ চালাচ্ছে দেশ?

কুমিল্লায় কোরআন অবমাননা কান্ডের পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সপ্তাহখানেক ধরে চলা  সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে খোদ সরকারের ভেতরেই। কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী এবং রংপুরে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনায় সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের একেবারেই সরকারের সহযোগিতা করেনি, বরং কোথাও কোথাও নিজেরাই হামলাকারী হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, কুমিল্লার ঘটনার পরে হাজীগঞ্জ, চৌমুহনী, সিলেট, চট্টগ্রাম কিংবা পীরগঞ্জের ঘটনার সময় খোদ পুলিশকেও উদাসীন দেখে গেছে, অনেক যায়গাতেই পুলিশ এবং প্রশাসনের প্রায় সবাই হিন্দু হওয়া সত্ত্বেও তারা হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। অবশ্য গত কয়েকদিনের অবস্থা দেখে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, বাংলাদেশের ওপরে দিল্লির চাপ বাড়াতেই কুমিল্লা ঘটনা ঘটিয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। আর তাই দিল্লির অনুগত এবং প্রশাসন ও পুলিশের হিন্দু কর্মকর্তারা এই সাম্প্রদায়িক হামলার সময় নিষ্পৃহ থেকেছে।

ঘটনাদৃষ্টে দেখা গেছে, এবারের দাঙার সময় ঐসব স্থানে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরাও উদাসীন ছিলেন। সাংগঠনিক ভাবে কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি। কোথাও কোথাও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জন্য এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দোষারোপ করেছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারক পর্যায়ে বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন, যেসব এলাকায় এধরনের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে আওয়ামী লীগের আরো সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশিত ছিলো।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, টানা ১৩ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে আওয়ামী লীগ অনেকটাই পুলিশ এবং প্রশাসন নির্ভর হয়ে পড়েছে। বিরোধী দল দমন থেকে শুরু করে দলীয় কর্মসূচী সব কিছুই প্রশাসন এবং পুলিশের পৃষ্ঠপোষকতায় করার কারণে আওয়ামী লীগের নিজস্ব উদ্যোগে যেকোন কর্মসূচী পালনে তীব্র অনীহা দেখা যায়। যার প্রতিফলন সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহে প্রত্যক্ষ করা গেছে। কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনায় দিনভর সংঘর্ষ হয়। এসময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ছিলেন নিরাপদ দূরত্বে। ক্ষমতাসীন দলের এরকম নীরব দর্শকের ভূমিকা এলাকাবাসীকে বিস্মিত করেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেছেন, দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীন কোঁন্দলের কারণে, এখানে আওয়ামী লীগ দিবস ভিত্তিক কর্মসূচী ছাড়া কোন কিছুতেই সক্রিয় না। একই অবস্থা চাঁদপুরে। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পুজামন্ডপে হামলার ঘটনা নিয়ে পল্টাপাল্টি দোষারোপ শুরু করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষ। চাঁদপুরে সহিংসতার পর যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে তারপর আওয়ামী লীগের নেতারা ঘটনাস্থলে যান। রংপুর, এবং নোয়াখালীতেও একই অবস্থা। সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। ১৩ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও যদি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল এরকম পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক উদ্যোগহীন থাকে পুলিশ এবং প্রশাসনের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকে, তাহলে রাজনৈতিক আন্দোলনে কি করবে? যদি কখনো পুলিশ বা প্রশাসন বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা না দেয়, সেক্ষেত্রে কি আওয়ামী লীগ দাঁড়াতে পারবে?আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা এব্যপারে হতাশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের সারা দেশব্যপী বিরোধী দলের আন্দোলনের তেড়ে আওয়ামী লীগ মাঠছাড়া হয়ে গিয়েছিল। তখন বহু স্থানীয় নেতারা বিএনপি জামায়াত নেতাদের হাতে পায়ে ধরে এলাকায় গোপনে থাকত, আর বেশির ভাগই এলাকা ছেড়ে বড় শহরে উঠেছিল।
কেন্দ্রীয় নেতা, এমপি, মন্ত্রীরা মফস্বলে এবং জেলায় যাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল, এমনকি প্রধানমন্ত্রী হুকুম দিয়ে পুলিশ পাহারাতেও পাঠাতে পারেনি। তখন বুঝা গিয়েছিল আওয়ামীলীগের বাস্তব অবস্থাটা কতটা নড়বড়ে এবং পুলিশ নির্ভর।

মাসব্যাপী ইউরোপ সফরে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা!

বাংলাদেশের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১ অক্টোবর লন্ডন যাচ্ছেন। যদিও কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে ২৬তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে যাবেন, এবং সেখানে বক্তব্য রাখবেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি প্রায় মাসখানেক দেশের বাইরে থাকবেন।

কিন্তু এত লম্বা সময়ের জন্য বিদেশে কেনো থাকবেন? তবে কি দেশে এমন কোনো অঘটন বা বিপদাপদ আছে, যার জন্য তিনি দেশে থাকতে চান না এসময়? স্কটল্যান্ড ছাড়াও তার ঘোরাঘুরির তালিকায় রয়েছে যু্ক্তরাজ্য, ফ্রান্স, এবং ফিনল্যান্ড। অবশ্য শোনা যাচ্ছে, গত মাসে আমেরিকায় ব্যর্থ মিশন শেষে দেশে ফিরে ঘাবড়ে গেছেন অবৈধ এ প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা দেশটির কোনো মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ পাননি। যদিও আগে থেকেই বলা হচ্ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালা হারিসের সঙ্গে নিশ্চিত বৈঠক, কিন্তু সে চেষ্টাও সফল হয়নি। এমনকি তার ক্ষমতার মূল শক্তি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তাকে সাক্ষাৎ দেননি, যদিও তিনি ঐ সময়ে নিউ ইয়র্কেই অবস্থান ছিলেন। তাছাড়া ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাসমুহের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের ফলাফলও তার জন্য আশাপ্রদ নয়। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফরটি তার জন্য খুবই হতাশাব্যঞ্জক ও বিব্রতকর অবস্থা ছিল।

কারো কারো মতে, যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে তিনি যে ধারণা নিয়ে দেশে ফিরেছেন তাতে তার রাজত্বের সমাপণী বার্তা রয়েছে, আর এতে প্রতিবেশি দেশের সায় রয়েছে। মূলত ভারত ছেড়ে চীনের বলয়ে ঢোকার খেসারত দিতে হচ্ছে তাকে। আর এ থেকে উত্তরণের জন্য বিদেশী প্রভু খোঁজা, প্রভু ধরা, এবং প্রভু ব্যবহার করাই আসন্ন ইউরোপ সফরের উদ্দেশ্য। গ্লাসগো সম্মেলনের সাইড লাইনে তিনি বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সহ আরও কিছু নেতার সাক্ষাৎ চাইছেন।

দুর্গাপুজার ইতিহাস

কিভাবে এলো দুর্গাপুজা, বিষয়টা সবার জানা দরকার, নইলে যেভাবে যাচ্ছে মুর্তিতো বসেই গেছে, ১ যুগ পরে হয়ত এই দেশেই ’জাতীয় বাবা’ পুজা শুরু হয়ে যাবে। প্রতিবেশি দেশে ইতোমধ্যেই ‘মোদি ঠাকুরের’ নামে মন্দির হয়েছে, তাই এখানেও সতর্ক থাকা জরুরী!

দুর্গা পুজার ইতিহাস নিয়ে Bangladesh Arya Samaj-বাংলাদেশ আর্য সমাজ -চট্রগ্রাম, রাংগুনীয়া শাখার নিবন্ধটি পড়ে দেখা যাক:

দুর্গা পুজার ইতিহাস! দূর্গা পূজার কথা বাল্মীকি রামায়ণে নেই, তারপরও আমরা বাঙ্গালীরা এর পেছনে ছুটছি অবলীলায়! এখন প্রশ্ন হল কখন থেকে দুর্গা পূজা এই বঙ্গে চালু হল? চলুন দেখি। দুর্গা পূজা বাঙ্গালীদের সৃষ্টি, আর ভারতের সর্বত্র এই পূজাকে মূলত আমরাই জনপ্রিয় করে তুলেছি। ১৫৮০ সালে রাজশাহীর তাহেরপুরের রাজা ছিলেন কংস নারায়ন খাঁ (সূত্রঃ বঙ্গভাষা ও সাহিত্য -ডঃ দীনেশ সেন)। তিনি যজ্ঞ করতে মন স্থির করলেন, তার পুরোহিত এবং সভাপন্ডিত রামেশ চন্দ্র শাস্ত্রী তাকে জানালেন- “চার রকমের যজ্ঞ আছে যথাঃ ১. রাজসূয় ২. রাজপেয় ৩. বিশ্বজীৎ ও ৪. অশ্বমেদ যজ্ঞ। এর মধ্যে ১ম তিনটা চক্রবর্তী রাজাদের করণীয়, আর অশ্বমেধ যজ্ঞ কলিতে চলেনা। তবে আপনার ইচ্ছা পূরণের জন্য ঐসব যজ্ঞেরই মত এক মহা আড়ম্বরময় মহাপূজার ব্যবস্থা আমি করে দেব।” এই বলে তিনি বর্তমানে প্রচলিত দুর্গা পূজার সমস্ত পদ্ধতি, মন্ত্র ও নিয়ম তৈরি করে দিলেন! রাজা কংসনারায়ন খাঁর ঐই দুর্গা পূজায় তখনকার দিনেই প্রায় আট লক্ষ টাকা খরচ করেছিলেন (উক্ত রাজার বংশধর কাশী ধর্ম মহামন্ডলের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক রাজা শশি শেখরেশ্বর রায়ও প্রাচীন দলিল ও কাগজপত্র দেখিয়ে এই কথা সমর্থন করেছেন)।

সারা বাংলাতেই ঐ মহাপুজার সংবাদ বায়ুর বেগে ছড়িয়ে পড়ল, আর এই দিকে অন্য রাজারাও নিজেদের ঐশ্বয্য, আড়ম্বর ও পৌরুষ দেখাবার জন্য এই ব্যয়বহুল পূজার অনুষ্ঠান করতে লাগলেন। মহাকবি কৃত্তিবাস ছিলেন ঐ কংস নারায়ণ রাজারই সভাকবি। তিনি তার রচিত রামায়ণে তার অদ্ভূত কল্পনা এবং কবিত্বের বর্ণাঢ্য আলোকসম্পাতে রামচন্দ্রকে দিয়ে অকালবোধন ইত্যাদি কল্পকাহিনী রচনা করেন। সারা দেশে যেখানে দূর্ভিক্ষে মানুষ খেতে পায় না, সেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে এই মুর্ত্তিপুজা করাটা কতটা শুভ বুদ্ধির পরিচয় বহন করে??? রাস্তার পাশেই দেখা যায় ভাতের অভাবে দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করছে জীবন্ত মাতারা, আর আমরা প্রাণহীন একটা মুর্তিকে মা মা বলে ওনার সামনে সাজিয়ে রাখি হরেক রকম খাবার! গলিতে গলিতে চাঁদা তুলে (আমাদের বাসায় এসেও মাতৃপূজারী সংঘ ৫০০টাকা নিয়ে গেছে ! প্রতি দিন এমন আরো অনেক আসছে।) জড়মুর্তি পুজার নামে আনন্দময়ীর আবাহনের প্রহসন করে চলছে! কী নিষ্ঠুর পরিহাস! . তথাকথিত ব্রাহ্মণরা এসে চন্ডীমন্ডপে উচ্চঃস্বরে পাঠ করেন- “যা দেবী সর্বভূতেষু ক্ষুধারূপেণ সংস্থিতা, নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমস্তসৈ নমো নমঃ”, আর তোমরা পুজারীরা অশ্রুর বন্যায় ভাসীয়ে দাও পূজা মন্ডপ! দেখে মনে হয় … । কিন্তু অদূরেই ছিন্নবস্ত্রে ছোট কঙ্কালসার শিশুকে বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন যে রক্তমাংসে গড়া ক্ষুদারূপী মাতৃমুর্তি! আর তার ব্যাথায় তোমাদের চোখের জল আসে না! বরং পুজা মন্ডপের পবিত্রতা যাতে রক্ষা পায় তার জন্য তাকে বাইরে আটকে রাখার জন্য প্রহরী রাখা হয়!!! অথচ এই মুর্তিপুজারীরাই (প্রায়ই) এক একটা মদ খেয়ে মাতাল হয়ে দুর্গা মাকে তুষ্ট করার জন্য পাগলের মত নাচে পুজা মন্ডবের সামনে!!! আর আমরা সকলেই সেই নৃত্য দেখি দাঁড়িয়ে! বাহ, কি দরুণ!!! . ধন্য মুর্ত্তিপুজারীরা, ধন্য!!
https://www.facebook.com/1715670705313282/posts/1759288557618163/

এ সম্পর্কে ভাবনা (Thoughts) গ্রুপে Sankarshan Upadhyay লেখা:

পলাশীর যুদ্ধ শেষ হয়ে গেল। সিরাজ হেরে গেলেন, জিতল ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। বাংলার ধনসম্পদ নিজেদের মধ‍্যে ভাগ করে নিল লুটেরারা। এদের অন‍্যতম নবকৃষ্ণ দেব। The Corporation That Changed the World: How the East India Company Shaped the Modern Multinational’ শীর্ষক বইয়ে লেখক নিক রবিনস লিখেছেন সিরাজের রাজত্বের পতনের পর বাংলার তোষাখানা লুট করতে ব্রিটিশদের সাহায্য করেন নবকৃষ্ণ। রাতারাতি “৮০০ কোটি টাকা মূল্যের সোনা, রুপো, এবং গয়নাগাঁটি” ভাগ করে নেন তাঁরা নিজেদের মধ‍্যে। ইংরেজদের পক্ষ নেওয়ার জন্য পেলেন নবকৃষ্ণ পেলেন ‘রাজা বাহাদুর’ খেতাব; অতঃপর ১৭৬৬ সালে ‘মহারাজা বাহাদুর’। সবথেকে বড়ো কথা, গোটা সুতানুটি অঞ্চলের তালুকদার হয়ে গেলেন তিনি। সামান্য মুনশী থেকে বিশাল সাম্রাজ্য ও ধন-দৌলতের মালিক— এমনই চমকপ্রদ উত্থান রাজা নবকৃষ্ণ দেবের।
https://www.facebook.com/groups/2000118743332714/posts/5088514317826459


১৯৯৭-এর ৫ই অক্টোবর কলকাতার আনন্দবাজার’ পত্রিকার রবিবাসরীয়তে ‘ক্লাইভের দুর্গোৎসব’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক নির্মল কর উল্লেখ করেছেন : “নবকৃষ্ণ দেব ছিল ইংরেজদের চাকর। কোনো সময় ছিল ওয়ারেন হেস্টিংসের প্রাইভেট টিউটর। উন্নতি করে হয়েছিল তালুকদার, চার হাজারি মনসবদার। পলাশীতে সিরাজের পতনে যারা সবচেয়ে বেশি উল্লসিত হয়েছিল তাদের মধ্যে ছিল নদীয়ার কৃষ্ণচন্দ্র আর কলকাতার নবকৃষ্ণ দেব।” অঢেল টাকা এসেছে , এবার চাই খানিকটা সম্মানও। ক্লাইভ নবকৃষ্ণকে বোঝালেন কলকাতায় একটি বিজয় উৎসব করার জন্য। ‘হিন্দু ভাবাবেগ’ রক্ষা পেয়েছে বলে কথা! নবকৃষ্ণ তখনই বাংলার বাসন্তীপূজোকে এগিয়ে এনে লাগিয়ে দিলেন “দুর্গাপূজা”।

এর আগে শরৎকালে নবপত্রিকার পূজো প্রচলিত ছিল। রাজা শশাঙ্কের রাজত্বকালে বাংলায় শিব পুজোর প্রচলন ছিল, দুর্গা পুজোর উল্লেখ পাওয়া যায় না। পাল যুগে বাংলায় বৌদ্ধ প্রভাব বিস্তৃত হলে এখানে মূর্তি পুজো কমে যায়। পরে সেনযুগে আবার এর বাড়বাড়ন্ত হলে রণরঙ্গিনী নানা দেবী পূজিতা হন দস‍্যু তস্কর ও নিষ্ঠুর জমিদারদের দ্বারা। দেখতে দেখতে গড়ে উঠলো একচালা প্রতিমা। প্রতিমার গা ভর্তি সোনার গয়না ঝলমল করে উঠলো। দুর্গার কেশদামে গুঁজে দেয়া হলো ২৬টি স্বর্ণনির্মিত স্বর্ণচাঁপা। নাকে ৩০টি নথ। মাথায় সোনার মুকুট। তারপর তোপধ্বনির পর সন্ধিপূজোর শুরু। দৈনিক নৈবেদ্য দেওয়া হল ২৩ মণ চালের। সাহেব মেমরা ত বটেই, ওয়ারেন হেস্টিংস পর্যন্ত হাতীতে চড়ে এসেছিলেন সেই পূজায়। ক্লাইভ দক্ষিণা দিয়েছিলেন ১০১ টাকা। সাহেবসুবোরা মৌজ করে দেখলেন বাঈজী নাচ, এছাড়াও পানভোজন ও মনোরঞ্জনের নানা উপচার তো ছিলই। এই পুজোর বিপুল সাফল্য অনুপ্রেরণা জোগায় অন্যান্য ধনী ব্যবসায়ীদের, যাঁরা স্ব স্ব গৃহে ধুমধাম সহকারে চালু করে দেন দুর্গাপূজা। বাড়ির পুজোয় কোনও ইউরোপীয়ের, বিশেষ করে ব্রিটিশের উপস্থিতি, হয়ে ওঠে অর্থ, সামাজিক প্রতিষ্ঠা, এবং কোম্পানির সঙ্গে সান্নিধ্যের প্রতীক।

উইকিপিডিয়ার শেষ আপডেট অনুযায়ী, বিশ্বে বাঙালী মুসলমান হল ১৮৫ মিলিয়ন এবং বাঙালী হিন্দুর সংখ্যা হল ৮০ মিলিয়ন। তাহলে দুর্গা পূজা সর্বজনীন হয় কিভাবে? আর বাঙালীর সেরা উৎসবই বা হয় কিভাবে? এছাড়া বাংলার মুলনিবাসী ও আদিবাসীরা দুর্গা পুজাকে তাদের পরাজয়ের প্রতীক বলে মনে করে। যে দুর্গাকে অসুর হত্যার কারণে হিন্দু সম্প্রদায় পূজা করে সেই অসুরকেই নিজেদের রাজা বলে বাংলার মূলনিবাসী ও আদিবাসীরা পূজা করে এবং দুর্গাপুজাকে তারা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করে। দুর্গাপুজোর দিনগুলোতে তারা বুক চাপড়ে কাঁদে। এই হল দুর্গাপূজার ইতিহাস।

কোরআর অবমাননার প্রতিবাদে বাইতুল মোকাররমে নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল, সংঘর্ষ, পুলিশের গুলি

কুমিল্লায় পুজামন্ডপে ‘কোরআন অবমাননার’ ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কয়েক হাজার মুসল্লি। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়েছে।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার সেল ছোড়ে। মিছিল থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

মিছিলটি রাজধানীর কাকরাইল নাইটিঙ্গেল মোড়ে এলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫ পুলিশ আহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

খালেদা জিয়ার মামলার রায় প্রদানকারী বিচারক আখতারুজ্জামানের সম্বন্ধী-কন্যা সুস্মিতা ব্যাংকের টাকা চুরির মামলায় নিউইয়র্কে গ্রেফতার

যুক্তরাষ্ট্রে জনতা ব্যাংকের ডলার চুরি করে গ্রেফতার হলেন বাংলাদেশের আপীল বিভাগের সদ্য অবসরে যাওয়া বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকীর কন্যা সুস্মিতা তাবাসসুম। সুস্মিতার চাচা হাসান ফয়েজ সিদ্দিকও আপিল বিভাগের বিচারপতি, আর তার ফুপা হলেন আরেক বিচারক ড. আখতারুজ্জামান, যিনি এখন হাইকোর্টের বিচারক, তবে তিনি কুখ্যাত হয়ে আছেন বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে দুটি বিতর্কিত মামলায় চাপিয়ে দেয়া রায় প্রকাশের পরে পুরষ্কার হিসাবে (জুনিয়র জজ হাওয়া সত্ত্বেও) হাইকোর্ট বিভাগে নিয়োগ লাভ করে।

জানা গেছে বিচারক আবু বকর সিদ্দিকী কন্যা সুস্মিতা তাবাসসুম আমেরিকার নিউইয়র্কে জনতা ব্যাংক ফরেন একচেঞ্জ থেকে ৬ লাখ ৩ হাজার ৯ শত ৪৭ মার্কিন ডলার চুরি করে নিয়ে গেছে, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি ১৩ লক্ষ টাকার সমান। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জনতা ব্যাংকের ‘জনতা এক্সচেঞ্জ কোম্পানি আইএনসি’ নামে একটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি রয়েছে, সংক্ষেপে এটি ‘জেইসিআই, ইউএসএ’ নামে পরিচিত। আর জেইসিআইয়ের ঐ অর্থ চুরির সাথে জড়িত সুস্মিতা তাবাসসুম নামের টেলিফোন অপারেটর কাম টেলার।

জেইসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ছিলেন জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই যিনি অবসরে গেছেন। তাঁর অবসরে যাওয়ার পর জনতা ব্যাংক ঢাকা থেকে মাহবুবুর রহমান নামের একজনকে জেইসিআইয়ের নতুন সিইও হিসেবে নিয়োগ দেয়। কিন্তু মাহবুবুর রহমানের ভিসা পেতে দেরি হচ্ছিল বলে জনতা ব্যাংক জেইসিআইয়ের টেলিফোন অপারেটর কাম টেলার সুস্মিতা তাবাসসুমকে কাজ চালিয়ে যেতে বলে। ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেইসিআইয়ের দায়িত্ব পালন করেন সুস্মিতা তাবাসসুম। এই ফাঁকেই ঐ অর্থ চুরির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সুস্মিতাকে ধরা হলে তিনি ঐ অর্থ হাবিব ব্যাংকে জমা দিয়েছেন বললেও এ সংক্রান্তে তার দাখিল করা টাকা জমার রশিদ ছিল জাল।

এই চুরির ঘটনা নিয়ে নিউইয়র্কের আদালতে ক্রিমিনাল মামলা হয়। কিন্তু সুস্মিতা পালিয়ে বাংলাদেশে চলে যান। কয়েক মাস পরে ফেসবুক আইডি সহ অনেকে তথ্য গোপন করে গত ১৫ মার্চ নিউ ইয়র্কে ঢোকার সময় জেএফকে বিমান বন্দরে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির হাতে ধরা পড়ে সুস্মিতা তাবাসসুম। এরপরে তার জামিনে মুক্ত হয়। ছয় মাসের মধ্যে মামলার বিচার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

পদ্মাসেতু এলাকায় আটক ভারতীয় গুপ্তচর ৬ দিনের রিমান্ডে

মুন্সীগঞ্জ প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা সেতুর নির্মাণাধীন এলাকায় অবৈধ প্রবেশের চেষ্টাকালে আটক ভারতীয় নাগরিক উপেন্দ্র বিহারের (৪৫) ছয় দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।বৃহস্পতিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ আমলি আদালত ৬-এর বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাতুল রাকিব এই আদেশ দেন।বুধবার দুপুরে ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড আবেদনসহ তাকে মুন্সীগঞ্জ আদালতে পাঠায় লৌহজং থানা পুলিশ।এর আগে মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে তাকে পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের সদস্যরা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লৌহজং থানার এসআই রাসেল জানান, ‘বেশ কয়েক দিন যাবত উপেন্দ্র পদ্মাসেতু এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশে অন্তর্ঘাত তৎপরতা চালাতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বহু লোকদের ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।তাকে বারবার ওই এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে বারণ করলেও সে গত সোমবার পদ্মাসেতু এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় পদ্মাসেতুর নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। জিজ্ঞাসাবাদে সে তার নাম উপেন্দ্র বিহার, বাবার নাম বিন্দাশ্রী বিহার ও সে বিহার অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে।মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) সুমন দেব জানান, পদ্মাসেতুতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের সদস্যরা তাকে আটক করে লৌহজং থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ আইনে মামলা করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর জামাল উদ্দিন জানান, তার ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

শেখ হাসিনার মেয়ের জামাই পুতুলের স্বামী মিতুর আমিরাতের গ্রেফতার প্রসঙ্গ

মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি
————————————
বাংলাদেশের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একমাত্র মেয়ের জামাই খন্দকার মাসরুর হোসাইন মিতু সংযুক্ত আর আমিরাতের শারাজায় মানিলন্ডারিং ও মাদকদ্রব্য রাখার অপরাধে গ্রেফতার হন। পরে ডিপ্লোমেটিক চেষ্টায় বন্ড দিয়ে জামিনে বের করে আনা হয়।

উল্লেখ্য, খন্দকার মাসরুর হোসাইন মিতু তার স্ত্রী সায়মা ওয়াজেদ পুতুল (শেখ হাসিনার কন্যা) সহ কানাডা থাকাকালীন ২০১২ সালে অর্থ পাচারের অভিযোগে সে দেশের পাসপোর্ট বাতিল হয়। তারা কানাডা থেকে পালিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস শুরু করেন। বাংলাদেশ থেকে লুট করা টাকায় আবুধাবীর জাহিদ সিটিতে একটি আলিশান প্যালেস কিনে বাস করতে থাকেন। অবৈধ প্রধানমন্ত্রী হাসিনা কিছুদিন পর পর এখানেই দেখতে যান তার মেয়ের সংসার।

অন্যদিকে শারজাহ শহরের বুহাইরা এলাকায় আল নাসির-৫ টাওয়ারে ৩০১৩ নম্বর এপার্টমেন্ট কিনে অফিস-কাম-বাসা তৈরি করে বাংলাদেশ থেকে শ্বাশুড়ি ও পুতুলের কমিশন আদায় করে, এমনকি নগদ ডলারের সুটকেসও আনা নেয়া করে। ঐ সব অর্থ ব্যাংকে রাখা, বিনিয়োগ করা, এবং বিভিন্ন জনের সাথে অর্থ আদান প্রদান ও হুন্ডির মূল হোতা সহ বিভিন্ন অবৈধ কাজ করে থাকেন মিতু।
এরই ধারাবাহিকতায় কিছুদিন আগে হঠাৎ কাতার থেকে সাড়ে ৪ কোটি দিরহাম (যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা) অর্থ এডিসিবি ব্যাংকে জমা হয় মিতুর ব্যক্তিগত একাউন্টে। কাতার থেকে এত মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের হিসাব দেখে আরব আমিরাত নড়েচড়ে বসে- মানি লন্ডারিং ইউনিটকে কাজে নামানো হয়। কারণ সাম্প্রতিক কাতারের সাথে আরব আমিরাতের সকল সম্পর্ক ছিন্ন, সকল প্রকার চুক্তি বাতিল করে আরব আমিরাত।


শারজার পুলিশ মিতুর সন্দেহজনক লেনদেন নিয়ে তদন্ত শুরু করে, এবং প্রথমে মিতুর পাসপোর্ট জব্দ করে। গত শনিবার মিতুর শারজাহের ফ্লাটে তল্লাশি চালায় (আল নাসির প্লাজা রুম নং ৩০১৩)। তল্লাশির সময় মিতু উপস্থিত ছিলেন না। কেবল তার কেয়ারটেকার মোঃ শফি ছিলেন। শফির বাড়ি ফরিদপুর জেলা সদরপুর থানায়। তল্লাশির সময় বাসা থেকে যা উদ্ধার হয়:

১. পাঁচটি ল্যাপটপ,

২. একটি ম্যাক পিসি,

৩. তিনটি আইপ্যাড,

৪. ৯টি মোবাইল ফোন ও ১৭টি সিমকার্ড,

৫. বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১২৭ পিস মদের বোতল ও

৬. ৪৮ ক্যান বিয়ার উদ্ধার করে।

তাৎক্ষণিকভাবে ঐ ফ্লাট থেকে কেয়ারটেকার মোঃ শফিকে আটক করে, এবং মিতুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

আজ সোমবার ভোর ৫টার দিকে আবুধাবির মোহাম্মদ বিন জাহিদ সিটি নিজ বাসভবন থেকে পুলিশ মিতুকে আটক করে এবং পরে শারজাহে বুহাইরা পুলিশ স্টেশনে নিয়ে আসে। আটকের খবরে আয়ামীলীগ সরকারের আবুধাবীর রাষ্ট্রদূত ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের লোকজনে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে যায়। অবশেষে আজ রাতে ৪ জনের ব্যক্তিগত বন্ড (একটি ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট ও তিনটি সাধারণ পাসপোর্ট) জমা দিয়ে “মিতু পালিয়ে যাবে না” এমন জিম্মাদারী রেখে প্রাথমিক ভাবে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। তার আইনজীবি হিসাবে মামলা পরিচালনায় ছিলেন এডভোকেট Abdelaziz Al Zaabi, ফোন নম্বর: +971554852340.

তবে কেয়ারটেকার মোঃ শফি মুক্ত হতে পারেনি, কারণ তার ভিসা Al Sarh Al Areq Construction L.L.C কোম্পানির, যার মালিক হলো মিশরীয়। ঘটনায় শফির যোগসূত্রতা কতটুকু এবং নির্দোষ কি না, তা নিয়ে সন্দেহমুক্ত না হওয়ায় আল শারাহ কোম্পানী তার দায়িত্ব নেয়নি। ফলে শফিকে কারাগারে যেতে হয়েছে।

তবে পাসপোর্ট জিম্মাদারিতে মিতু জামিনে বের হলেও বিচার কার্যক্রম চলতে থাকবে আইন অনুযায়ী। শারজাহ পুলিশ সুত্রে তার একটি সুইস ব্যাংকের একাউন্ট সম্বন্ধে জানা গেছে, যাতে বর্তমানে ৬৮০ মিলিয়ন ইউরো জমা রয়েছে:একাউন্ট নম্বর: 012840BSB034705,একাউন্ট কোডিং নম্বর: MT104, MT910,

MT103/202.U.S Public Law 106-229, (Electronic commerce agreement (ECE/TRADE/257), (European Community Directive No: 95/46/EEC.

মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আবুধাবীতে নেশাদ্রব্য সহ গ্রেফতার হয়েছেন হাসিনার মেয়ের জামাই মিতু !

মানি লন্ডারিং ও মাদকদ্রব্য রাখার দায়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে পুতুলের জামাই খন্দকার মাসরুর হোসাইন মিতুকে গ্রেফকার করেছে আরব আমিরাত পুলিশ।

জানা গেছে, আবুধাবীর মোহাম্মদ বিন জাহিদ সিটির নিজ বাসভবন থেকে আটক করার পরে আজ সকালে তাকে শারজাহতে নিয়ে যাওয়া হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গ্রেফতারকৃতকে বুহাইরা পুলিশ স্টেশনে রাখা হয়।

উল্লেখ্য, মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মিতুর বুহাইরা ক্রোনিকের আল নাসির প্লাজা-৫ এর নম্বর ৩০১৩ নম্বর এপার্টমেন্টে গত শানিবার তল্লাশি চালায় শারজাহ পুলিশ। তল্লাশিকালে এই ফ্ল্যাট থেকে মদ ও বিয়ার উদ্ধার করে। এর পরপরই খন্দকার মাসরুর হোসাইন মিতুর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে শারজাহ আদালত। শারজাহে মাদক ও নেশাদ্রব্য ব্যবহার ও বিক্রয় করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এই আইন অমান্য করার শাস্তি কঠিন শাস্তি।

এর আগে কাতার থেকে ১০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ পাচার করে আরব আমিরাতে নিজের একাউন্টে নিতে গিয়ে শারজাহ পুলিশের তদন্তের জালে আটকা পড়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ের জামাই খন্দকার মাশরুর হোসাইন মিতু। তার পাসপোর্ট আটক করে নজরবন্দী করে রাখা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং সহ নানাবিধ অপরাধের তদন্ত চলছিল। শনিবার শারজাহর কেন্দ্রস্থলে আল নাসির প্লাজায় মিতুর বাসায় তল্লাশি চালায় পুলিশ।

ফরিদপুরের কুখ্যাত নুরু রাজাকারের নাতি ও আ’লীগের সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পুত্র খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু বেশ কয়েক বছর যাবৎ স্ত্রী পুতুল সহ আরব আমিরাতে বসবাস করছেন। মুলত বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রজেক্ট থেকে দুর্নীতিলব্ধ এবং শেখ হাসিনা ও পুতুলের কমিশন বাবদ প্রাপ্ত মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার পাচার করে এনে ব্যাংকে রাখা, বিভিন্ন ব্যবসায় লগ্নি করা মিতুর কাজ। তার ব্যবসার মধ্যে রয়েছে হুন্ডি ব্যবসা, বিভিন্ন দেশ থেকে কালো টাকা আদান-প্রদান।

গত মাসে চীনা একটি মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকার বেশি একটি ফান্ড মাসরুরের একাউন্টে আসে কাতার থেকে। আবুধাবী কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ADCB) শারজাহ শাখায় অবস্থিত মিতুর ব্যক্তিগত একাউন্টে এই টাকা আসে। কাতার নিয়ে চলমান সংকটের ফলে আরব আমিরাতের সাথে দেশটির ব্যবসা বানিজ্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। আর সেই কাতার থেকেই মোটা অংকের টাকা অনলাইন ট্রানজেকশনের মাধ্যমে আসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মেয়ের জামাই খন্দকার মাসরুর হোসের পারসোনাল একাউন্টে। সন্দেহজনক এই লেনদেন নিয়ে তদন্ত শুরু করে শারজাহর AML ইউনিট। সেখান থেকে বিষয়টি শারজাহ পুলিশের কাছে আসে। মিতুর বাংলাদেশী পাসপোর্ট আটক করে তার পালানো আটকে দেয় পুলিশ। শেষে তল্লাশি শেষে ঘটে এই গ্রেফতার।

আরব আমিরাতের ৭টি আমিরাতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই শারজাহ আমিরাতে চলে নিজস্ব আইন কানুন। এখানে পবিত্র কোরআনের আইন কার্যকর। তাছাড়া ২০১৮ সালে নতুন এন্টি মানি লন্ডারিং আইন (AML) কার্যকর করার পর থেকে দেশটিতে মানি লন্ডারিং ড্রাইভ জোরদার হয়। সেই বিপদেই পড়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মেয়ের জামাই।

ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত সোর্স ছাড়াও সেনা গোয়েন্দা সোর্স এবং ঢাকাস্থ আরব আমিরাত সূত্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মেয়ের জামাইর গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করেছে।

মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে হাসিনার মেয়ের জামাই মিতুর পাসপোর্ট আটক: বাসা তল্লাশি


মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি
—————————
কাতার থেকে ১০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ পাচার করে আরব আমিরাতে নিজের একাউন্টে নিতে গিয়ে শারজাহ পুলিশের তদন্তের জালে আটকা পড়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ের জামাই খন্দকার মাশরুর হোসাইন মিতু। ইতোমধ্যে তার পাসপোর্ট আটক করে নজরবন্দী করে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং সহ নানাবিধ অপরাধের তদন্ত চলছে। শারজাহর কেন্দ্রস্থলে আল নাসের প্লাজার ৩০১৩ নম্বর এপার্টমেন্টের মিতুর বাসা আজ তল্লাশি করছে পুলিশ। সূত্র জানিয়েছে, তদন্তে অনেক কিছু বের হচ্ছে।

ফরিদপুরের কুখ্যাত নুরু রাজাকারের নাতি ও আ’লীগের সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পুত্র খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু বেশ কয়েক বছর যাবৎ স্ত্রী পুতুল সহ আরব আমিরাতে বসবাস করছেন। মুলত বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রজেক্ট থেকে দুর্নীতিলব্ধ এবং শেখ হাসিনা ও পুতুলের কমিশন বাবদ প্রাপ্ত মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার পাচার করে এনে ব্যাংকে রাখা, বিভিন্ন ব্যবসায় লগ্নি করা মিতুর কাজ। তার ব্যবসার মধ্যে রয়েছে হুন্ডি ব্যবসা, বিভিন্ন দেশ থেকে কালো টাকা আদান-প্রদান।

গত মাসে চীনা একটি মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকার বেশি একটি ফান্ড মাসরুরের একাউন্টে আসে কাতার থেকে। আবুধাবী কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ADCB) শারজাহ শাখায় অবস্থিত মিতুর ব্যক্তিগত একাউন্টে এই টাকা আসে। কাতার নিয়ে চলমান সংকটের ফলে আরব আমিরাতের সাথে দেশটির ব্যবসা বানিজ্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। আর সেই কাতার থেকেই মোটা অংকের টাকা অনলাইন ট্রানজেকশনের মাধ্যমে আসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মেয়ের জামাই খন্দকার মাসরুর হোসের পারসোনাল একাউন্টে। সন্দেহজনক এই লেনদেন নিয়ে তদন্ত শুরু করে শারজাহর AML ইউনিট। সেখান থেকে বিষয়টি শারজাহ পুলিশের কাছে আসে। মিতুর বাংলাদেশী পাসপোর্ট আটক করে তার পালানো আটকে দেয় পুলিশ।

আরব আমিরাতের ৭টি আমিরাতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই শারজাহ আমিরাতে চলে নিজস্ব আইন কানুন। এখানে পবিত্র কোরআনের আইন কার্যকর। তাছাড়া ২০১৮ সালে নতুন এন্টি মানি লন্ডারিং আইন (AML) কার্যকর করার পর থেকে দেশটিতে মানি লন্ডারিং ড্রাইভ জোরদার হয়। সেই বিপদেই পড়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মেয়ের জামাই। সূত্র জানায় যেভাবে আটকেছে পুতুলের জামাই, এখান থেকে বের হতে পারবে না। উল্টো তদন্তে আরো অনেক জটিল সমস্যায় আটকে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

মেয়ের জামাইকে ছাড়ানোর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হঠাৎ আরব আমিরাতে যাচ্ছেন ১১ জানুয়ারী। কিন্তু শারজাহ কড়া আইন কানুনের উপরে তদবীর চালাতে গেলে ফেঁসে যেতে পারে মিতু। একেতো শারজাহর কাসেমী শাসক খুব কড়া এবং কোরআনী আইন, দ্বিতীয়ত শারজাহ শাসকের সাথে দুবাইর শাসকের সম্পর্ক ভালো না। ফলে শেখ হাসিনা দুবাই শাসকের মাধ্যমে তদবীর চালাতে গেলে জামাইর কপালে বিপদ বাড়তে পারে। বাড়াবাড়ি করতে গেলে চরম দন্ড পেতে পারে- দেশটির সিস্টেম অনুযায়ী হয়ত শুট আউট বা ইনজেকশন দিয়ে ডিজেবল করে ছেড়ে দিতে পারে।

1 2 3 4 5 9